ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় আমাদের চেতনার রং একুশের কৃষ্ণচূড়া।
এখানে মূলত ভাষা শহিদদের বাঙালি জাতিসত্তার প্রাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনার চিত্র ফুটে উঠেছে। আলোচ্য কবিতায় কবির কাছে মনে হয়েছে ভাষা শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে শহরের পথে পথে ফুটে আছে। কৃষ্ণচূড়ার লাল রং যে বাঙালি জাতির চেতনার রং। ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন সেই বীরের রক্তে, সন্তানহারা মায়ের চোখের জলে যে চেতনাদীপ্ত ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ।
সংগ্রামী চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে যে গণ আন্দোলন সূচিত হয়েছিল, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি সেই গণজাগরণের পটভূমিতে রচিত। দেশকে ভালোবেসে মানুষের আত্মদান ও আত্মাহুতির প্রেরণা এ কবিতায় কবি গভীর মমতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মাহুতির মাহাত্ম্যে প্রগাঢ়তা লাভ করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আমাদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলনে আত্মদানকারী শহিদগণের কথা ফুটে উঠেছে। তাঁরা সংখ্যায় চল্লিশজন বা তারও বেশি বলে কবি দাবি করেছেন। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী, যারা মূলত এহেন হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, তাদের বিচার চেয়েছেন কবি। শহিদদের চেতনা চিরজাগ্রত বলেও কবি ঘোষণা করেন। এই সংগ্রামী চেতনাই যেন সংক্রমিত হয়েছে ১৯৬৯-এ এসে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় যে গণজাগরণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তার প্রেরণা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকেই পাওয়া। এদিক থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের-কবিতাংশ এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় মূলত একই জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং সংগ্রামী মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে বলে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটিতে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের চিত্র ফুটে উঠলেও তা যেন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা মাত্র। কবির বর্ণনা মতে, জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এদেশের সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ১৯৬৯-এ। প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয় ঢাকার রাজপথে। মূলত ১৯৫২ সালে প্রাপ্ত জাতীয়তাবাদী চেতনাই এই আন্দোলনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছিল।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য আত্মদানকারী শহিদদের কথা, বর্ণিত হয়েছে। বাংলা ভাষা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলনে ৪০ জন বা তারও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী। শহিদরা জীবন দিয়ে যে সংগ্রামের বীজ বপন করে গিয়েছেন, তা সমগ্র বাঙালি অন্তরে ধারণ করেছে। ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটিও সেই একই চেতনার বিচ্ছুরণ। এ কারণে ফেব্রুয়ারি এলেই যেন বাঙালি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
উদ্দীপক ও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বর্ণিত সময়কাল ভিন্ন হলেও উভয়ক্ষেত্রে একই চেতনা কাজ করেছে। উভয় স্থানেই বাঙালির দুর্মর সংগ্রামী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হচ্ছে। আর তাই ফেব্রুয়ারি মাস এলেই' বাঙালি স্বাধিকার চেতনায় উজ্জীবিত হয়। কেননা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালির মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ ঘটে আর, এ চেতনাই ১৯৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার শিল্পরূপ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!