স্ত্রীজাতির অবনতি' একটি প্রবন্ধ জাতীয় রচনা।
হযরত মুহাম্মদ (স) কন্যাকুলের রক্ষক হয়েছিলেন। কন্যা সন্তানের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যবস্থা এবং নিজের জীবনে কন্যা পালনের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) আগমনের পূর্ব যুগে আরবের অধিবাসীরা স্ত্রীজাতির উপর অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন চালাত। এমনকি কন্যাসন্তান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের হত্যা করা হতো। এমন পরিস্থিতিতে হযরত মুহাম্মদ (স) কন্যাকুলের রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি স্ত্রীজাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং কন্যা সন্তানদের পরম আদরে লালন-পালনের নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, তিনি কন্যা সন্তান পালনকে নিজের আদর্শ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। যা লক্ষ করা যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কন্যা ফাতেমার প্রতি আচরণের। মধ্য দিয়ে। আর এভাবে হযরত মুহাম্মদ (স) কন্যাকুলের রক্ষক হয়েছিলেন।
মেয়েকে তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ায় উদ্দীপকের ওয়াজেদ চৌধুরী 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উল্লিখিত সম্পত্তি বণ্টনের 'মহম্মদীয় আইন' অমান্য করেছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া বিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর অধিকারহীনতার কথা তুলে ধরেছেন। মুসলিম সমাজে প্রচলিত রয়েছে যে, দুজন নারী একজন পুরুষের সমতুল্য। অর্থাৎ কোনো পরিবারে দুই ভাই ও এক বোন থাকলে তারা মোট আড়াইজন হবে। প্রাবন্ধিক বলেছেন, 'মহম্মদীয় আইনে' পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর অধিকারের যে বিধান রয়েছে তাতে দেখা যায় কন্যা সন্তান পুত্র সন্তানের অর্ধেক ভাগ পাবে। কিন্তু এ বিধানটি কেবল পুস্তকে সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি কোনো ধনবান মুসলমানের সম্পত্তির বিভাগ দেখে কিংবা কোনো জমিদারি পরিদর্শন করে তাহলে সে দেখতে পাবে সেখানে কন্যা সন্তানের ভাগে শূন্য বা খুব সামান্য পরিমাণ সম্পত্তি আছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ওয়াজেদ চৌধুরী হজে যাওয়ার পূর্বে তিনি তাঁর সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। বণ্টনের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি তাঁর মোট পঁচিশ একর সম্পত্তির মধ্যে একমাত্র মেয়েকে মাত্র দুই একর এবং অবশিষ্ট সম্পত্তি দুই ছেলেকে উইল করে দেন। কিন্তু 'মহম্মদীয় আইন' অনুযায়ী কন্যা পৈতৃক সম্পত্তিতে পুত্রের অর্ধেক পাওয়ার কথা থাকলেও ওয়াজেদ চৌধুরী সেটি মানেননি। অর্থাৎ তিনি 'মহম্মদীয় আইন' অমান্য করে তাঁর একমাত্র মেয়েকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের ওয়াজেদ চৌধুরী 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে উল্লিখিত 'মহম্মদীয় আইন' অনুসারে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন না করায় অর্থাৎ মেয়েকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
'অধালী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া তৎকালীন মুসলিম সমাজে নারীর পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতা দেখিয়েছেন পুরুষের নিদারূণ স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষিতে। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে নারীকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।
মহম্মদীয় আইনে পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের অধিকারের কথা স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও তা কেবল পুস্তকে সীমাবদ্ধ। এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয় না। এ কারণে নারী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বদ্যিত হচ্ছে।
উদ্দীপকের ওয়াজেদ চৌধুরী তাঁর সম্পত্তির সিংহভাগ দু পুত্রের নামে উইল করে মাত্র দুই একর সম্পত্তি মেয়েকে দেন। এখানে ওয়াজেদ চৌধুরী কন্যাকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। কন্যা তার ন্যায্য পাওনা না পাওয়ার কারণেই পিতার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। সম্পর্কের এ টানাপোড়েনের মূলে ওয়াজেদ চৌধুরীর বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিই দায়ী।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক ইসলাম ধর্মে নারীর অধিকার নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি কোনো ধনবান মুসলমানের সম্পত্তি ভাগ করা দেখে তাহলে সে দেখবে কন্যা সন্তানকে কীভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের ওয়াজেদ চৌধুরীর প্রচুর সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি মহম্মদীয় আইন অমান্য করে সম্পত্তি ভাগাভাগি করেন। তিনি তাঁর সম্পত্তির সিংহভাগ দু পুত্রের নামে উইল করে মাত্র দুই একর সম্পত্তি মেয়েকে দেন। এখানে ওয়াজেদ চৌধুরী কন্যাকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছেন। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের মতো নিজ কন্যার প্রতি পিতার এ বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেই পিতার সঙ্গে কন্যার সম্পর্ক ভালো নেই।
Related Question
View All'শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে প্রকৃত অর্থেই স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে'পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য শরীরের প্রতিটি অঙ্গই যেমন মূল্যবান, সমাজে নারী-পুরুষও ঠিক তেমনই। পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে 'স্বামী' বা 'প্রভু' শব্দের পরিবর্তে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা নিজেদের পুরুষের সহযোগী ভাবতে পারবে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীর সামাজিক অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা থেকে পুরুষদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নারীর মৌলিক চাহিদাগুলোও অপূর্ণ থাকে। শুধু নারী বলেই তাদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে ছাড়া তাদের কোনো গতি থাকে না।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে বলে রেণুকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্নেহ থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সবখানেই তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁদের মতে, মেয়েদের এত লেখাপড়া শেখার দরকার নেই বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখানো হয়েছে যে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে কম। পুরুষেরা পার্থিব-অপার্থিব সকল সুযোগ-সুবিধা অধিক মাত্রায় ভোগ করতে পারলেও নারীরা তা পারে না।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সমাজে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অসমর্থ। পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারী সদস্যও অন্য নারীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় না। উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিবারের গল্প। গল্পটিতে রেণু-রাজু-দু ভাইবোনের প্রতি তাদের বাবা-মার আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের মা রেণুর চেয়ে রাজুকে বেশি ভালোবাসেন। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি রাজুকেই প্রাধান্য দেন। কোনো অপরাধ করলে ছেলে বলে তার কোনো বিচার হয় না। এমনকি রাজুর লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয় না।
উদ্দীপকে অপরিণত বয়সে রেণুর আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে তার মা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক সবার মতো তিনিও মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখার দরকার নেই। বরং ঘর-গৃহস্থালির কাজকর্ম শিখলে তা তার ভবিষ্যতে কাজে আসবে। মূলত রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে নারীর প্রতি পরিবারের অবহেলার চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরই প্রতিরূপ
অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে'।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে অভিন্ন সত্তা ভাবা হয় না বলে তাদের জীবনযাপন প্রণালিতেও দেখা যায় ব্যাপক বৈসাদৃশ্য। 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের কতিপয় সংলাপের ভেতর দিয়ে এই দৃশ্যই প্রতীয়মান হয়। কবিতা থেকে দেখা যায় যে, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্য সহচরী হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!