নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে বন্যা।
'বিদ্যুৎ-রূপসী পরী' বলতে কবি ঘন মেঘের মাঝে বিদ্যুৎ চমকানোর রূপসৌন্দর্যকে বুঝিয়েছেন।
রূপকথার মাঝে পরির গল্প রয়েছে। রূপকথা অনুসারে পরিরা চোখের পলকে সুন্দরী নারীরূপ ধারণ করতে পারে, আবার চোখের পলকে মিলিয়েও যেতে পারে। আকাশে যখন বিদ্যুৎ চমকায় তখন তা একপলক দেখা দিয়ে আবার মিলিয়ে যায়। কবি এজন্যই বিদ্যুৎ চমকানোকে রূপসী পরির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
"খুলেছি হৃদয় বাতায়ন ফেলে সব কাজ"- উদ্দীপকের এ মন্তব্যের সাথে 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে সংবেদনশীল মানুষের মন রসসিক্ত হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে মিল রয়েছে।
বৃষ্টি প্রকৃতিতে আনে সজীবতা। বৃষ্টি নদীতে যেমন আনে পূর্ণ জোয়ার তেমনই মানবহৃদয়েও আনে অনাবিল প্রশান্তি। শ্যামল প্রকৃতিতে ফিরে আসে প্রাণস্পন্দন। বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে সাথে মানবমনেও এক অনির্বচনীয় ভালো লাগার অনুভূতির জন্ম দেয়। বৃষ্টিস্নাত বনবনানীর সঙ্গে মানবমন সুদূরের ভাবনায় জেগে ওঠে।
প্রশ্নে উল্লিখিত উদ্দীপকের চরণটিতে বৃষ্টিমুখর দিনে মানবমনের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। গুরু গুরু মেঘের ডাক, চারপাশে অঝোর ধারার বৃষ্টি- এমন সময় নিজেকে হারিয়ে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই তো সব কাজ ফেলে হৃদয়ের জানালা খুলে দিয়ে অন্তরাত্মা সুদূরের ভাবনায় হারিয়ে যায়। এই ভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় 'বৃষ্টি' কবিতায়। সেখানে বলা হয়েছে- বহু প্রতীক্ষিত বৃষ্টি যখন ধরাধামে আবির্ভূত হয় তখন সারা প্রকৃতিতে প্রাণের জোয়ার আসে। বর্ষণমুখর দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়; রুক্ষ মাঠ, আকাশ শোনে সেই বর্ষণের সুর। তখন তৃষিত বনের সঙ্গে জেগে ওঠে তৃষ্ণাতপ্ত মানবমন। এ সময় সংবেদনশীল মানুষ রসসিক্ত হয়ে ওঠে।
তার মনে পড়ে সুখময় অতীত, পুরানো স্মৃতি। উদ্দীপকের চরণের বক্তব্যের সঙ্গে 'বৃষ্টি' কবিতার এখানেই মিল পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাবকে আংশিক ধারণ করেছে। কারণ উদ্দীপকটি শুধু 'বৃষ্টি' কবিতায় উপস্থাপিত মানবমনের ওপর প্রকৃতির প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে।
প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। ঋতুভেদে প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ জীবজগৎ, পরিবেশ তথা মানুষের জীবনাচরণের ওপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির রূপ ও আচরণ মানুষের জীবনের পালাবদলের দ্যোতক।
উদ্দীপকের কবিতাংশে শীতের রাতে কবির অনুভূতির কথা ব্যক্ত হয়েছে। শীতের রিক্ততা তার বেদনাবহ স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে। উতলা বাতাস কবির মনকে ব্যাকুল করেছে; দুঃসহ স্মৃতি তাড়িত কবির চোখের জল শীতের শিশির বিন্দু হয়ে ঝরে পড়েছে। এ ভাবটি 'বৃষ্টি' কবিতায় প্রকাশিত বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানবমনে বিষণ্ণতাকে ধারণ করেছে মাত্র, অন্যান্য বিষয় নয়।
'বৃষ্টি' কবিতায় কবি মানবমনের অনুভূতির পাশাপাশি বর্ষার আগমনে প্রকৃতি জগতের নতুন প্রাণের স্পন্দন, সজীবতা, নতুন জীবনের সঞ্চারের দিক ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। প্রকৃতির রুক্ষতা দূরীভূত করে বর্ষা সমস্ত প্রাণিজগতে নতুন প্রাণের স্পন্দন জাগায়। তৃষিত বনের সঙ্গে মানুষের মনও নতুন প্রাণের উৎসবে জেগে ওঠে। কবিতার এই প্রাণোচ্ছলতার দিকটি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার মূলভাবের অংশিক ধারণ করেছে মাত্র, সম্পূর্ণ ভাবকে নয়।
Related Question
View AllAnswer
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!