বায়ুর উপাদানগুলোর (নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি) মধ্যকার ভারসাম্যহীনতাই বায়ু দূষণ।
পরিবেশে বিদ্যমান বাস্তুসংস্থানগুলোর (Ecosystem) ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থাকে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা বলে।
পরিবেশের উপাদানগুলোর স্বাভাবিক অবস্থা বিঘ্নিত হওয়াই পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। যেমন- পরিবেশের অজৈব উপাদান (বায়ু, পানি, মাটি) দূষিত হলে প্রাণিকুলের (উদ্ভিদ, জীবজন্তু) জীবনযাত্রার উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে বিদ্যমান বাস্তুসংস্থান অস্থিতিশীল হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খল (Food chain) ভেঙে পড়ে। মানুষের অপরিণমাদর্শী কর্মকাণ্ড তথা সম্পদের অধিক ব্যবহারের ফলে এই বাস্তুসংস্থানগুলো (জলজ, স্থলজ ও বনজ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলশ্রুতিতে পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়।
কনক ও কার্কনের চোখ জ্বালাপোড়া করার অন্যতম কারণ আমিন | বাজার এলাকার দূষিত বায়ু।
আমিন বাজার এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে অনেক ইটভাটা।
এগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুতে মিশছে। এর ফলে বায়ুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও CFC (ক্লোরোফ্লোরো কার্বন) গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে আমিন বাজার এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে। উপরিউক্ত দূষিত বায়ুর বিভিন্ন বিষাক্ত কনা চোখের ভিতরে প্রবেশ করায়
কনক ও কাকনের চোখ জ্বালাপোড়া করছে।
উদ্দীপকে আমিন বাজার এলাকায় ইটভাটা গড়ে ওঠার ফলে ঐ এলাকার বায়ু দূষিত হচ্ছে।
বায়ু দূষণের ফলে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার (Green house effect) সৃষ্টি হচ্ছে। এতে উক্ত এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরোক্ষভাবে
বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। মাটি অধিক তাপমাত্রা গ্রহণ করছে। ফলে অনেক স্থান উদ্ভিদহীন হয়ে পড়ছে।
ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহৃত হয়। ফলে ঐ এলাকায় গাছ কাটার প্রবণতা দেখা যায়। গৃহ ও আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য মানুষ প্রতিনিয়ত বনভূমির গাছ কেটে ফেলছে। ইটের ভাটায় কাঠ পোড়ানোসহ গৃহস্থালির জ্বালানির কাজে মানুষ বনভূমির গাছ কাটছে। ফলে বনজ সম্পদ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়াও এর প্রভাবে ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ তথা বনভূমির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বনের সাথে সম্পর্কিত পশুপাখি ও জীবজন্তুর (বিভিন্ন পাখি, বানর, শিয়াল, বেজি, সাপ প্রভৃতি) আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সার্বিক পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!