কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। সে তার খালার বাসায় থেকে পড়ালেখা করছে। তার খালু একজন সরকারি চাকরিজীবী'। একদিন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কবির তুমি কোন বিষয়ে পড়ালেখা করছো? কবির উত্তর দিল আমি এমন একটি বিষয়ে পড়ালেখা করছি যা মানুষের চালচলন, আচার-আচরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান' উক্তিটি- ফরাসি সমাজবিজ্ঞানের জনক এমিল ডুর্খেইমের।

উত্তরঃ

মানব জ্ঞানের ক্রমোন্নতি এবং সমাজের উন্নতি ও ক্রমবিকাশ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁৎ যে তত্ত্ব প্রদান করেন, তা ত্রয়স্তর সূত্র নামে পরিচিত।

অগাস্ট কোঁৎ-এর মতে, মানুষের চিন্তাভাবনা, ধ্যানধারণাসমূহ, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখা এবং পৃথিবীর সব সমাজ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে তিনটি স্তর অতিক্রম করে এসেছে। কোঁৎ-এর সমাজ বিকাশের এই তিনটি স্তরই 'ত্রয়স্তর' নামে পরিচিত। এয়স্তরের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- মানুষের মৌলিক ধারণা ধর্মীয় যুগের স্তর, অধিবিদ্যা সম্বন্ধীয় স্তর ও দৃষ্টবাদ এ তিনটি বিবর্তনিক পর্যায় অতিক্রান্ত করেছে। অর্থাৎ মানুষের জ্ঞান ও বুদ্ধি প্রথমে ধর্মীয় বা Theological ধারণা থেকে উৎপন্ন হয়ে Metaphysical বা অধিবিদ্যাগত হয়ে Positivism বা দৃষ্টবাদে আসে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Sociology'। শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ল্যাটিন শব্দ 'Socius' এবং গ্রিক শব্দ 'Logos'-এর সমন্বয়ে। 'Socius' শব্দের অর্থ সমাজ এবং 'Logos' শব্দের অর্থ জ্ঞান। অর্থাৎ উৎপত্তিগত অর্থে সমাজবিজ্ঞান বলতে বোঝায়, সমাজের জ্ঞান।

যে শাস্ত্র সমাজ সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ বা বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা করে তাই সমাজবিজ্ঞান। তবে সমাজবিজ্ঞানের সর্বজনস্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা নেই। তথাপি কোনো কোনো সমাজবিজ্ঞানী বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজবিজ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন, সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডুর্খেইম বলেন, "সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান।" সমাজবিজ্ঞানী আর.টি. শেফার তার 'Sociology' গ্রন্থে বলেন, "সমাজবিজ্ঞান হলো সামাজিক আচরণ ও সামাজিক গোষ্ঠীসমূহের সুশৃঙ্খল পাঠ।" মোটকথা সমাজ ও সমাজের মানুষের সাথে জড়িত সব ধরনের বিষয় নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাই সমাজবিজ্ঞান।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কবিরের খালু কবিরকে কোন বিষয়ে লেখাপড়া করছে জিজ্ঞাসা করলে কবির বলে, আমি এমন একটি বিষয়ে লেখাপড়া করছি যা মানুষের চালচলন, আচার-আচরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। উপরে প্রদত্ত সমাজবিজ্ঞানের প্রামাণ্য সংজ্ঞার প্রেক্ষিতে বোঝা যায় যে, কবিরের এ বক্তব্য সমাজবিজ্ঞানকেই নির্দেশ করে।

উত্তরঃ

সমাজকে সামগ্রিক এবং ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করে বলে সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়। এ প্রসঙ্গে উদ্দীপকের আলোকে আমার মতামত যুক্তিসহ আলোচনা করা হলো- সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের সঙ্গে জড়িত সব বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। অর্থাৎ, সমাজের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে তার প্রত্যেকটি বিষয় সমাজবিজ্ঞান পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়ন করে। সমাজ, সংঘ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সমাজকাঠামো, সামাজিক স্তরবিন্যাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক ইতিহাস, সামাজিক উন্নয়ন ইত্যকার বিষয়গুলো সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার আওতাভুক্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত সব বিষয় নিয়েই সমাজবিজ্ঞান গভীরভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে। সামাজিক বিজ্ঞানের শাখাসমূহ যেমন- রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজকল্যাণ, নৃবিজ্ঞান ইত্যাদি মূলত সমাজের এক একটি বিশেষ দিক নিয়ে আলোচনা করে। অর্থাৎ সামাজিক বিজ্ঞানের উক্ত শাখাসমূহের কোনোটাই সমাজ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ অধ্যয়নের দাবি করতে পারে না। পক্ষান্তরে, গোটা সমাজই সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় বা ক্ষেত্র। মূলত এ কারণেই সমাজবিজ্ঞানকে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ বলা হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির এমন একটি বিষয়ে লেখাপড়া করছে, যে বিষয়টি মানুষের চালচলন, আচার-আচরণ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। আর এ বিষয়গুলো কেবল সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্যসূচির অংশ। এ কারণেই বলা হয় যে, সমাজবিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ।

432
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

আচার-আচরণের পশ্চাতে মানসিক কারণ ছাড়া অর্থনৈতিক, র ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি শক্তির প্রভাব রয়েছে।

711
উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে যে কয়েকজন ব্যক্তির অবদান স্বীকার্যক তার মধ্যে ম্যাকিয়াভেলি অন্যতম। সমাজদর্শন প্রচার করতে গিয়ে তিনি বাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ম্যাকিয়াভেলি নি সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার The Prince গ্রন্থে আলোচনা করেন। তার সমাজ আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল মানব প্রকৃতি ও মানব মনোভাব। তৎকালীন সময়ে সমাজের মানুষ যে নৈরাজ্যকর অবস্থায় ছিল ম্যাকিয়াভেলি তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেন যা সমাজবিজ্ঞান বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

675
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো ধর্ম। কারণ ধর্ম হচ্ছে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস। ধর্মে জ্ঞান, অনুভূতি ও ক্রিয়ার এক সার্থক সমন্বয় দেখা দেয়। এছাড়া মানুষ পার্থিব ও অপার্থিব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় এ শক্তিতে বিশ্বাস করে। ধর্ম সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।

সমাজজীবনে ধর্মের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে জাতি ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য এবং শ্রেণিবিভাজন পরিলক্ষিত হয়। ধর্ম মানুষের আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমাজ বা গোষ্ঠীগত স্বকীয়তা দান করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ধর্মের উৎপত্তি ও এর বিকাশ, ধর্মের গুরুত্ব, ধর্মের প্রভাব, ধর্মের প্রকারভেদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এর কার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

সুতরাং আমরা যথার্থই বলতে পারি যে, স্যারের আলোচিত ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।

593
উত্তরঃ

ধর্ম ছাড়াও সকল সামাজিক ঘটনাই সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। প্রতিনিয়ত সমাজবিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখার উদ্ভব ঘটছে। নিচে সমাজবিজ্ঞানের শাখাসমূহ উল্লেখ করা হলো- মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতো। সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পরিবারের সমাজবিজ্ঞান।

ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানে প্রাচীন সমাজ, সমাজের উদ্ভব, বিকাশ এবং বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা হয়।

সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম উপাদান হচ্ছে জনসংখ্যা। জনগণই  সমাজের গোড়াপত্তন করে। সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হলে জনসংখ্যার কাঠামো, বণ্টন, বয়ঃকাঠামো, আদমশুমারি, জনসংখ্যা তত্ত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।

অপরাধ, অপরাধপ্রবণতা, দারিদ্র্য, কিশোর অপরাধ, অপরাধের কারণ, অপরাধের স্বরূপ প্রভৃতি নিয়ে অপরাধ সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়াদির সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী তথা নাগরিকের সম্পর্ক নিরূপণ করে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।

485
উত্তরঃ

'ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মালিকানা সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং শোষণের মূল'- উক্তিটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কস-এর। 

654
উত্তরঃ

সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে আমেরিকান আইনবিদ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গান অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

ইরোকুয়া ইন্ডিয়ান নৃগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করে হেনরি মর্গান ১৮৭৭ সালে রচনা করেন 'Ancient Society', যেখানে তিনি সমাজ বিবর্তনের তিনটি ধাপ চিহ্নিত করেন; যথা- বন্যদশা, বর্বরদশা ও সভ্যতা। এছাড়া মর্গান আদিম পরিবারব্যবস্থা, বিবাহ এবং সম্পত্তির বিকাশ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন, যা সামাজিক নৃবিজ্ঞানের ভিত্তিমূল হিসেবে বিবেচিত হয়। বস্তুত নতুন একটি বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পথচলায় লুইস হেনরি মর্গানের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

737
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews