পণ্যশীলের প্রথম শীলটি জীব হত্যা থেকে নিবৃত্ত থাকার শিক্ষা দেয়।
পঞ্চম শীলটি সূরা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে নিবৃত্ত থাকার শিক্ষা দেয়। মাদকদ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়; বিবেক, বুদ্ধি এবং হিতাহিত জ্ঞান থাকে না; স্বাস্থ্য, ধনসম্পদ এবং সম্মান নষ্ট হয়। মাদক গ্রহণকারী নানারকম পাপকর্মে লিপ্ত থেকে মানুষকে ক্ষতিসাধন করে। ফলে দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারায় এবং মাদক গ্রহণকারীকে কেউ পছন্দ করে না। তারা ইহকালে যেমন কষ্ট পায় তেমনি মৃত্যুর পর নরক-যন্ত্রণা ভোগ। মাদকদ্রব্যের মতো ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই সকলের মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও ধূমপান থেকে বিরত থাকা উচিত।
অকুশলকর্মের ফল অত্যন্ত দুঃখজনক। এ কর্মের পাপক্রিয়াতে ব্যক্তিকে অনন্তকাল দুঃখ ভোগ করতে হয়। বৃদ্ধ কর্মবিভঙ্গ সূত্রে অকুশলকর্মের ফল প্রদর্শন করতে গিয়ে দরিদ্রতা, মূর্খ, রোগী, অল্পায়ু, কুশ্রী, নীচকুল জাত ও সবার, ঘৃণার পাত্র হওয়ার কারণে ব্যক্তির অকুশলকর্মকে দায়ী করেছেন। বুদ্ধ বলেছেন, অসৎ কর্ম থেকেই তার দুঃখ আসে। সুতরাং সবার অকুশলকর্ম ত্যাগ করা উচিত এবং অকুশলকর্ম সম্পর্কে ধারণা দিয়ে কমলেশ মুৎসুদ্দীকে এ থেকে পরিত্রাণ করা যায়।
জাতকে দীর্ঘায়ু কুমারের একটি কাহিনী আছে। বারানসী রাজা দীর্ঘায়ু কুমারের মা-বাবাকে হত্যা করেছিলেন। দীর্ঘায়ু কুমার একবার সুযোগ পেয়েছিলেন রাজাকে হত্যা করার। কিন্তু সৎ কর্মের প্রভাবে তিনি রাজাকে হত্যা না করে বললেন, মহারাজ আমি আপনার অনিষ্ট করব না। বরং আপনিই আমাকে বধ করুন। তা না হলে আপনার শত্রু পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। রাজাও দীর্ঘায়ু কুমারকে বললেন, আমিও আপনার অনিষ্ট করব না। এভাবে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি মন্দ কর্ম জন্মলাভের সুযোগ থাকলেও তা ঘটল না কুশল চিন্তার জন্য।
সুকৃতির জন্য জন্মে জন্মে ক্ষেমা কয়েকজন বৃদ্ধের দেখা পেয়েছিলেন। ক্ষেমার জীবনচরিতে এর বিস্তারিত বিবরণ আছে। পূর্বের এক জন্মে তিনি তিনটি মিষ্টি পিঠা দান করে যে পুণ্য সঞ্চয় করেছিলেন তার প্রভাবে তিনি বুদ্ধগণের দেখা পেয়েছিলেন। কাজেই কুশলকর্মের ফল জন্ম-জন্মান্তরে ভোগ করা যায়। মৃত্যুর সময় মানুষের সঙ্গে কিছুই যায় না। কুশলকর্মই একমাত্র সঙ্গে যায়। একমাত্র কর্মই মানুষের পরলোকের সঙ্গী হয়।
Related Question
View All'শীল' শব্দের অর্থ স্বভাব বা চরিত্র। শীলের আরও অনেক অর্থ আছে। যেমন- নিয়ম, রীতি, সংযম, সদাচার ইত্যাদি। নৈতিক জীবন গঠনের জন্য শীল পালন অপরিহার্য। বুদ্ধ সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য শীল পালনের নিয়ম প্রবর্তন করেন।
যে শীলগুলো প্রতিদিন পালন করতে হয় সেগুলোকে পঞ্চশীল বা নিত্যপালনীয় শীল বলে। এগুলো পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা স্থান নেই। সবসময় সর্বত্র পালন করা হয়।
শীল হচ্ছে নিয়মশৃঙ্খলার ভিত্তি। সুন্দর ও পবিত্র জীবন গঠনের জন্য শীল পালন করতে হয়। আর যে শীলগুলো প্রতিদিন পালন করতে হয়, সেগুলোকে নিত্যপালনীয় শীল বলা হয়। পঞ্চশীল হলো নিত্যপালনীয় শীল, যা পালনের নির্দিষ্ট সময় বা স্থান নেই। সবসময় সর্বত্র পালন করা যায়।
পঞ্চশীল অর্থাৎ পাঁচটি নিয়মনীতির শিক্ষা। যার প্রথম শীলটি প্রাণী হত্যা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। দ্বিতীয়টি চুরি বা অদত্ত বস্তু গ্রহণ থেকে বিরত থাকা, তৃতীয়টি কামাচার বা ব্যভিচার থেকে বিরত থাকা, চতুর্থটি মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা ও পঞ্চমটি সুরা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।
'শীল' শব্দের অর্থ হচ্ছে স্বভাব বা চরিত্র। শীলের আরও অর্থ আছে। যেমন- নিয়ম, নীতি সংযম, সদাচার, আশ্রয়, শৃঙ্খলা ইত্যাদি। আর কায়িক, বাচনকি ও মানসিক সংযমকে বলা হয় শীল। শীল নিয়মশৃঙ্খলার ভিত্তি। বৌদ্ধধর্মের অনুসারীদের শীল পালন করা একান্ত কর্তব্য।
বৌদ্ধধর্মে নানারকম শীল রয়েছে। তার মধ্যে পঞ্চশীল গৃহীরা পালন করেন। যারা উপোসথ গ্রহণ করেন, তারা অষ্টশীল পালন করেন। তাই অষ্টশীলকে উপোসথ শীলও বলা হয়। শ্রমণগণ দশশীল পালন করেন। এজন্য দশশীলকে প্রব্রজ্যা শীল বলা হয়ে থাকে। শীল পালনকারীদের বলা হয় শীলবান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!