সীতার স্বামীর নাম রামচন্দ্র।
নারীর প্রতি পুরুষদের উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন না করার কারণ হলো তাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীর অধিকার সম্পর্কে 'নারীরাই সচেতন নয়। পুরুষেরাও এ সুযোগে তাদের আধিপত্যকামী মানসিকতাকে কাজে লাগিয়েছে। পুরুষেরা চায় নারীদের প্রতি প্রভুসুলভ আচরণ করতে, তাই তারা নারীদের প্রতি উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শনে অনুদার।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন সামাজিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীর যথাযথ অংশগ্রহণ কামনা করেছেন যা উদ্দীপকে মালতীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মতে, সমাজের বৃহত্তর এ অংশ বাদ দিয়ে সামগ্রিক সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। নারী-পুরুষের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। সমাজ এবং পারিবারিক উন্নয়ন সাধনের জন্য নারী ও পুরুষ দুজনকেই সমানভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
উদ্দীপকে মালতী সামাজিক উন্নতিতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলেছে। তার মতে; নারীকে বাদ দিয়ে সমাজ ও সংসারে উন্নতি আসতে পারে না। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য চায়, তেমনই মেঘও তরুর সাহায্য চায়। ডাক্তার যেমন ব্যারিস্টারের সাহায্য প্রার্থী, তেমনই ব্যারিস্টারও ডাক্তারের সাহায্য চায়। সুতরাং নারীসমাজকে বাদ দিয়ে সমাজের বৃহত্তর উন্নতি হতে পারে না। অতএব উদ্দীপকের মালতীর মন্তব্যটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত পুরুষের পাশাপাশি নারীর সমাজ ও সংসারের উন্নয়নে সমানভাবে অংশগ্রহণের
দিকটিকে ইঙ্গিত করে।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীসমাজের উন্নয়ন সাধনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি উদ্দীপকের মালতীর বক্তব্যে ফুটে উঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের পরাধীন জীবনের চিত্র তুলে ধরে এর জন্য পুরুষসমাজকে যেমন দায়ী করেছেন তেমনি নারীদেরকেও অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আরামপ্রিয়তা ছেড়ে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন। কেননা সমাজের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও সমান ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকের মালতী সমাজের উন্নয়নে নারীর ভূমিকার কথা বলেছে। সে নারী ও পুরুষকে দুই হাতের সঙ্গে তুলনা করেছে। এক হাত না থাকলে আমরা যেমন পূর্ণাজা মানুষ নই, ঠিক তেমনই নারী ছাড়া সমাজের উন্নয়ন অসম্ভব।
উদ্দীপকে নারী ও পুরুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে করিম ও মালতীর মধ্যে বিতর্ক হয়। করিম সব ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগ দেওয়ার বিরোধী। কিন্তু বান্ধবী মালতী করিমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাজের উন্নতির জন্য নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা বলে। সুতরাং উদ্দীপকে করিমের বক্তব্যের বিরোধিতা করে মালতীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমরা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের এ শিক্ষাই লাভ করি যে, নারীদের উন্নয়ন তথা বৃহত্তর সমাজের উন্নয়নে যেমন করিমদের মতো পুরুষদের মানসিকতা পরিবর্তন দরকার, তেমনই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সামাজিক উন্নয়নে নারীর অন্তর্ভুক্ত হওয়াও একান্ত প্রয়োজন।
Related Question
View All'শমস-উল-ওলামা' অর্থ জ্ঞানীদের মধ্যে সূর্য।
স্বামী'র স্থলে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হলে নারীরা নিজেদের দাসী না ভেবে প্রকৃত অর্থেই স্বামীর অর্ধাঙ্গী ভাবতে'পারবে এবং মানসিক দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হবে।
সুস্থভাবে জীবনযাপন করার জন্য শরীরের প্রতিটি অঙ্গই যেমন মূল্যবান, সমাজে নারী-পুরুষও ঠিক তেমনই। পুরুষ যদি নারীর প্রভু হয় তাহলে উন্নয়নের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে 'স্বামী' বা 'প্রভু' শব্দের পরিবর্তে 'অর্ধাঙ্গ' শব্দটি প্রচলিত হওয়া উচিত। তাহলে নারীরা নিজেদের পুরুষের সহযোগী ভাবতে পারবে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পরিবারে মেয়েদের অবহেলিত হওয়ার বাস্তবানুগ চিত্র এঁকেছেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবারের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া নারীর সামাজিক অবস্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষতান্ত্রিক চেতনা থেকে পুরুষদের সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নারীর মৌলিক চাহিদাগুলোও অপূর্ণ থাকে। শুধু নারী বলেই তাদেরকে স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে ছাড়া তাদের কোনো গতি থাকে না।
উদ্দীপকে রেণু ও রাজু একই বাবা-মায়ের সন্তান হলেও মেয়ে বলে রেণুকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়। স্নেহ থেকে শুরু করে পড়াশোনা পর্যন্ত সবখানেই তাকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি বয়ঃপ্রাপ্ত হলে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার বাবা-মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁদের মতে, মেয়েদের এত লেখাপড়া শেখার দরকার নেই বরং তাদের গৃহস্থালির কাজ শেখা উচিত। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও দেখানো হয়েছে যে, আমাদের সমাজে নারীর অবস্থান পুরুষের চেয়ে অনেকাংশে কম। পুরুষেরা পার্থিব-অপার্থিব সকল সুযোগ-সুবিধা অধিক মাত্রায় ভোগ করতে পারলেও নারীরা তা পারে না।
উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে আমাদের সমাজে নারীর প্রতি অবহেলার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে যা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সমাজে নারীদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে অসমর্থ। পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করে। এমনকি পরিবারের একজন নারী সদস্যও অন্য নারীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সচেতন হয় না। উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে একটি পরিবারের গল্প। গল্পটিতে রেণু-রাজু-দু ভাইবোনের প্রতি তাদের বাবা-মার আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। রেণু ও রাজু ভাইবোন হলেও তাদের মা রেণুর চেয়ে রাজুকে বেশি ভালোবাসেন। খাবারের ক্ষেত্রেও তিনি রাজুকেই প্রাধান্য দেন। কোনো অপরাধ করলে ছেলে বলে তার কোনো বিচার হয় না। এমনকি রাজুর লেখাপড়ার জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও রেণুর জন্য তা রাখা হয় না।
উদ্দীপকে অপরিণত বয়সে রেণুর আপত্তি সত্ত্বেও তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠার মধ্য দিয়ে তার মা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক সবার মতো তিনিও মনে করেন মেয়েদের বেশি লেখাপড়া শেখার দরকার নেই। বরং ঘর-গৃহস্থালির কাজকর্ম শিখলে তা তার ভবিষ্যতে কাজে আসবে। মূলত রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। উদ্দীপকে রেণুর মায়ের মনোভাবের মধ্যে নারীর প্রতি পরিবারের অবহেলার চিত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরই প্রতিরূপ
অবরোধ প্রথা হলো অন্তঃপুরে লোকচক্ষুর আড়ালে মেয়েদের আটক রাখার নিয়ম।
সমাজে নারী ও পুরুষের জীবনযাপনের পার্থক্য নির্দেশ করতেই 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতাটি সংযুক্ত করা হয়েছে'।
আমাদের সমাজে পুরুষ ও নারীকে অভিন্ন সত্তা ভাবা হয় না বলে তাদের জীবনযাপন প্রণালিতেও দেখা যায় ব্যাপক বৈসাদৃশ্য। 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' কবিতায় নববিবাহিত বর ও কনের কতিপয় সংলাপের ভেতর দিয়ে এই দৃশ্যই প্রতীয়মান হয়। কবিতা থেকে দেখা যায় যে, কন্যাকে এমন শিক্ষা দেওয়া হয় যাতে সে স্বামীর ছায়াতুল্য সহচরী হতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!