করিম সাহেবের চাকরির পাশাপাশি কৃষি খামার আছে। তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে ৮০ লক্ষ টাকা অবসর সুবিধা পান। এ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা পারিবারিক ব্যয়ের জন্য রাখেন। ১৫ লক্ষ টাকায় একটি বাড়ি তৈরি করেন। ২০ লক্ষ টাকায় একটি কাপড়ের দোকান ক্রয় করেন। দোকানে বিক্রয়ের জন্য ১০ লক্ষ টাকার কাপড় ক্রয় করেন। অবশিষ্ট টাকায় তিনি একটি পুকুর ক্রয় করেন। কৃষি খামার বিক্রয় করে ভাড়ায় খাটানোর জন্য তিনি একটি ট্রাক্টর ক্রয় করেন। 

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যেসব মূলধন শুধু একটি বিশেষ ধরনের উৎপাদন কাজে বা অন্য কোনো উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় না, তাকে নিমজ্জমান মূলধন বলে।

উত্তরঃ

অর্থ মূলধন হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে।
মূলধন হচ্ছে উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান, যা পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উৎপাদনের যেকোনো উপাদান, যা উৎপাদনে অবদান রাখে তা-ই মূলধন। এ অর্থে, অর্থ যদি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তবে তাকে মূলধন বলা যায়। আবার, ব্যবহারগত তারতম্যের কারণে এ অর্থকেই আমরা মূলধন বলতে পারি না। যে অর্থ সঞ্চয় করে রাখা হয় অথবা ভোগের জন্য ব্যয় করা হয়, সেই অর্থ মূলধন নয়। অতএব, অর্থ যদি মুনাফা অর্জনে বিনিয়োগ করা হয় বা উৎপাদনে অবদান রাখে, তবে তা মূলধন হিসেবে বিবেচিত হবে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে নিচে করিম সাহেবের স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ নির্ণয় করা হলো:
যেসব মূলধন উৎপাদন কাজে বারবার ব্যবহার করা হলেও এগুলোর কোনো পরিবর্তন হয় না সেগুলোকে স্থায়ী মূলধন বলে। যেমন-কারখানার ঘর, ভারি যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা ইত্যাদি উৎপাদন কাজে বারবার ব্যবহৃত হয় বলে এদেরকে স্থায়ী মূলধন বলে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, করিম সাহেব অবসর ভাতা হিসেবে ৮০ লক্ষ টাকা পান। এ টাকার মধ্যে তিনি ১০ লক্ষ টাকা পারিবারিক ব্যয়ে, ১৫ লক্ষ টাকা বাড়ি তৈরিতে, ২০ লক্ষ টাকা একটি কাপড়ের দোকান ক্রয়ে, ১০ লক্ষ টাকা কাপড় ক্রয়ে এবং বাকি (৮০ (১০ + ১৫+২০+ ১০)। = ২৫ লক্ষ টাকা পুকুর ক্রয়ে ব্যবহার করেন। কাজেই এ সকল ব্যয় থেকে করিম সাহেবের স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ

বাড়ি তৈরির ব্যয় = ১৫ লক্ষ টাকা

দোকান ক্রয়ে ব্যয় = ২০ লক্ষ টাকা

পুকুর ক্রয়ে ব্যয় = ২৫ লক্ষ টাকা

স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ = ৬০ লক্ষ টাকা।

উদ্দীপকে আরো লক্ষ করা যায়, তিনি কৃষি খামার বিক্রি করে একটি ট্রাক্টর ক্রয় করেন। তাই করিম সাহেবের মোট স্থায়ী মূলধনের পরিমাণ হলো ৬০ লক্ষ টাকা ট্রাক্টর ক্রয়ে ব্যবহৃত টাকা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে মূলধনের কারবারগত ও স্তরগত গতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে।
অধিক মুনাফা লাভের আশায় এক শিল্প বা কারবার থেকে অন্য শিল্প বা কারবারে মূলধনের স্থানান্তর ঘটলে তাকে কারবারগত গতিশীলতা বলে। অন্যদিকে একই কারবারের বা শিল্পের এক স্তর হতে অন্য স্তরে মূলধনের স্থানান্তর করা হলে তাকে স্তরগত গতিশীলতা বলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পাটশিল্প থেকে মূলধন গার্মেন্টস শিল্পে স্থানান্তর করা হলে তাকে কারবারগত এবং মূলধন চলতি মূলধন হতে স্থায়ী মূলধনে রূপান্তরিত হলে তাকে স্তরগত গতিশীলতা বলে।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, করিম সাহেবের চাকরির পাশাপাশি কৃষি খামার আছে। তিনি চাকরি হতে অবসর নিয়ে একটি কাপড়ের দোকান ক্রয় করেন। অর্থাৎ তিনি অবসরের পর অন্য পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন। এছাড়াও কৃষি খামারটি বিক্রয় করে তিনি একটি ট্রাক্টর ক্রয় করেন। যা তিনি ভাড়ায় খাটাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সুতরাং বলা যায়, এক্ষেত্রে কারবারগত মূলধনের গতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। আবার করিম সাহেব কৃষি খামার বিক্রি করে ভাড়ায় খাটানোর জন্য একটি ট্রাক্টর ক্রয় করেন, যার মাধ্যমে কৃষি খামারে ব্যবহৃত চলতি মূলধন স্থায়ী মূলধনে রূপান্তরিত হয়েছে। ট্রাক্টর শুধু কৃষি কাজেই ব্যবহৃত হয় বলে এক্ষেত্রে মূলধনের স্তরগত গতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে।

222
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

যেসব মূলধন উৎপাদন কাজে বারবার ব্যবহার করা হলেও এদের কোনো ক্ষতি বা পরিবর্তন হয় না, তাকে স্থায়ী মূলধন বলা হয়।

331
উত্তরঃ

মূলধন হলো মানুষ কর্তৃক উৎপাদিত উৎপাদনের একমাত্র উপকরণ, যা উৎপাদন বা আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
মানুষের শ্রমে উৎপন্ন সম্পদের যে অংশ সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় অধিকতর উৎপাদনের কাজে লাগে তাই হলো মূলধন। এ অর্থে কারখানা, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, গুদামঘর ইত্যাদি হলো মূলধন। কারণ এগুলো মনুষ্যসৃষ্ট এবং এগুলো সরাসরি ভোগ করা যায় না; তবে মানুষ তার বুদ্ধি খাটিয়ে ও পরিশ্রম করে এগুলোকে অধিক উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে পারে। প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ মূলধন নয়; এটি তখনই মূলধনে রূপান্তরিত হবে যখন মানুষ চেষ্টা ও পরিশ্রম দ্বারা তাকে অধিক উৎপাদনের উপযোগী করে তুলবে।

321
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত তপনের পক্ষে তৃতীয় বছরের কাঙ্ক্ষিত মূলধন জোগাড় করা সম্ভব হবে, যদি সে তার সঞ্চয়পত্রের অর্থ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে।
একজন সংগঠক তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন উৎস হতে তার কাঙ্ক্ষিত মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এ উৎসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ব্যক্তিগত সঞ্চয়, নিট মূলধন আয়, ব্যাংক ঋণ ইত্যাদি। যেমন ব্যক্তিগতভাবে সঞ্চিত অর্থকে বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধনী দ্রব্যে রূপান্তর করা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, তপন ছাত্রজীবনে সঞ্চিত ৩ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনে এবং ২ লাখ টাকা দিয়ে হাঁস ও ভেড়ার খামার শুরু করে। ব্যবসা ভালো হওয়ায় সে তৃতীয় বছরে তার খামারের মূলধন ১৫ লাখ টাকায় উন্নীত করতে চায়। এক্ষেত্রে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় বছর নিট মূলধন আয় হয় ৯ লাখ টাকা এবং ব্যাংক ঋণ পায় ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ তার মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় (৯+৫) বা ১৪ লাখ টাকা। তাই কাঙ্ক্ষিত মূলধন ১৫ লাখ টাকার জন্য প্রয়োজন আরো ১ লাখ টাকা। যা সে তার সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গিয়ে সংগ্রহ করতে পারে। উল্লেখ্য, তপনের ১ম বছরে ১ লাখ এবং ২য় বছরে ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী তপন তৃতীয় বছরে তার কাঙ্ক্ষিত মূলধন জোগাড় করতে পারবে।

228
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সহায়তাসমূহ বলতে প্রশিক্ষণ প্রদান, জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক ঋণকে বোঝানো হয়েছে, যা মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি তথা মূলধন গঠন নির্ভর করে বিনিয়োগের পরিবেশ ও পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহের সুযোগের ওপর। আবার, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবশক্তি উৎপাদন বৃদ্ধিতে অধিক ভূমিকা রাখে। এর ফলে বিনিয়োগকারী অধিক বিনিয়োগে আগ্রহী হয়। বাংলাদেশে অনেক যুবক আছে যারা উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে চায় কিন্তু যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে সেভাবে পারে না। সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারলে তাদের কাজগুলো আরও ফলপ্রসূ হবে। ফলে মূলধন গঠন বৃদ্ধি পাবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তপন লেখাপড়া শেষে যুব উন্নয়ন কেন্দ্র হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাঁস ও ভেড়া পালনের একটি খামার শুরু করে। সে যেহেতু শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত, সেহেতু সে তার ব্যবসায় উত্তরোত্তর উন্নতি লাভ করে। অর্থাৎ, প্রতি বছর তার ব্যবসায় নিট মূলধন আয় বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে তার ব্যবসায় মোট মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, তপন ১ম ও ২য় বছর যথাক্রমে ১ লাখ ও ২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে। যা ভাঙ্গিয়ে সে নির্দিষ্ট হারে সুদ পায়। এর ফলেও তার মূলধন বাড়ে। তাছাড়া, ব্যাংক ঋণও তপনের মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। উদ্দীপকে তপন তৃতীয় বছর তার ব্যবসার মূলধন ১৫ লাখ টাকায় উন্নীত করতে চায়। যার ৫ লাখ টাকা সে ব্যাংক ঋণ হিসেবে পেয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরের উল্লিখিত সহায়তাগুলো তপনের মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

276
উত্তরঃ

যেসব মূলধন উৎপাদন কাজে বারবার ব্যবহার করা হলেও এদের কোনো ক্ষতি বা পরিবর্তন হয় না তাকে স্থায়ী মূলধন বলা হয়।

289
উত্তরঃ

অর্থ মূলধন হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।
অর্থ হচ্ছে বিনিময়ের মাধ্যম, সঞ্চয়ের বাহন ও মূল্যের পরিমাপক। অন্যদিকে, মূলধন হচ্ছে উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান, যা পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, উৎপাদনের যেকোনো উপাদান, যা উৎপাদনে অবদান রাখে তা-ই মূলধন। সেই অর্থে, অর্থ যদি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তবে তাকে মূলধন বলা যায়। এছাড়া উৎপাদনকে গতিশীল রাখতে অর্থের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অর্থ সরাসরি ভূমিকা রাখছে। তাই অর্থ এখানে মূলধন। ব্যবহারগত তারতম্যের কারণে এ অর্থকে আবার আমরা মূলধন বলতে পারি না। যে অর্থ সঞ্চয় করে রাখা হয় অথবা ভোগের জন্য ব্যয় করা হয়, সেই অর্থ মূলধন নয়। অতএব, অর্থ যদি মুনাফা অর্জনে বিনিয়োগ করা হয় তবে তা মূলধন হিসেবে গণ্য হবে।

600
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews