উত্তরঃ
বিষয়: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতি, চিত্র ও লেখা নিয়ে পিতা ও কন্যার সংলাপ।
স্থান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি রাস্তা, যার দুপাশের দেয়ালগুলো নানা রঙের গ্রাফিতি ও চিত্রায়নে সাজানো।
চরিত্র: রফিকুল ইসলাম (বাবা) ও অনন্যা (কন্যা)।
অনন্যা: বাবা, একটু দাঁড়িয়ে এই দেয়ালটার দিকে তাকাও তো! লাল, হলুদ আর কালো রঙের এই চিত্রটাতে কী অদ্ভুত এক প্রতিবাদ আর সংকল্প ফুটে উঠেছে, তাই না?
বাবা: হ্যাঁ রে মা! সত্যিই অসাধারণ। ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণ প্রজন্ম যেভাবে রঙের তুলিতে তাদের ক্ষোভ, দাবি আর স্বপ্নকে এই ইট-পাথরের দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছে, তা কেবল শিল্প নয়—ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।
অনন্যা: এই দেখো বাবা, এখানে লেখা—'বিকল্প কে? আমি, তুমি, আমরা!' আবার অন্য এক জায়গায় লেখা, 'দেশটা কারো বাপের নয়'। এসব স্লোগান আর চিত্রকর্মগুলো কি কেবল ছাত্র-জনতার আন্দোলনকেই নির্দেশ করে?
বাবা: না মা, এগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের আন্দোলন নয়; এগুলো আমাদের বাকস্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। স্বৈরাচার আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ কীভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, এই গ্রাফিতিগুলো সেটাই প্রতিনিয়ত স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
অনন্যা: ঠিক বলেছ বাবা। বিশেষ করে শহীদদের স্মৃতি নিয়ে আঁকা চিত্রগুলো দেখে সত্যি চোখ ভিজে আসে। ঐ যে দেখো, 'পানি লাগবে পানি?' লেখাটির পাশে মুগ্ধর আঁকা ছবি কিংবা আবু সাঈদের দুহাত প্রসারিত বীরত্বগাথার চিত্রায়ণ—এগুলো তো শুধু দেয়ালচিত্র নয়, এক একটি রক্তের আখরে লেখা ইতিহাস।
বাবা: একদম ঠিক বলেছিস। দেয়ালগুলো এতদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা সেগুলোকে কথা বলার শক্তি দিয়েছে। রাজনৈতিক চেতনা, সামাজিক সংস্কার, এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের বার্তাগুলো চিত্রকলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে গেছে।
অনন্যা: আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে এই দেয়ালগুলোর নান্দনিক রূপ। আগে যেখানে অপরিচ্ছন্নতা আর নানা ধরনের বিজ্ঞাপন থাকত, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা আর স্বাধীনতার বার্তা। তরুণদের এই সৃজনশীলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
বাবা: এটাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল শক্তি অনন্যা। রঙ আর তুলির এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, বুলেট বা ভয় দেখিয়ে কোনো জাতির চেতনাকে দাবিয়ে রাখা যায় না। এই গ্রাফিতিগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে অনুপ্রাণিত করবে।
অনন্যা: সত্যিই বাবা, এই গ্রাফিতিগুলো দেখে মনে হয়—আমরা যেন এক নতুন বাংলাদেশের রাজপথে হেঁটে বেড়াচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব এই চেতনাকে রক্ষা করা।
বাবা: যথার্থই বলেছিস মা। চল, আরো কয়েকটি দেয়ালচিত্র ঘুরে দেখি এবং এগুলোর বার্তা নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করি।