সংবিধানে উল্লেখিত যেসব আইন দ্বারা সরকার গঠিত ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয় তাই সাংবিধানিক আইন।
ধর্ম বা ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে।
প্রত্যেক ধর্মের কিছু অনুশাসন আছে যা ঐ ধর্মের অনুসারীরা মেনে চলে। এসব অনুশাসন সমাজ জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত করতে সহায়তা করে। ফলে এসব ধর্মীয় অনুশাসনের অনেক কিছুই পরবর্তীকালে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। যেমন- মুসলিম আইন, হিন্দু আইন। আমাদের দেশের পারিবারিক ও সম্পত্তি আইনের অনেক বিষয় উল্লিখিত দুটি ধর্ম থেকে এসেছে।
উদ্দীপকে আরজুর বক্তব্যে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ প্রতিফলিত হয়নি।
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো কাজ করাকে বোঝায়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা বলতে এ ধরনের অবাধ স্বাধীনতাকে বোঝায় না। কারণ সীমাহীন স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারের নামান্তর এবং এতে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাই পৌরনীতিতে স্বাধীনতা বলতে বোঝায়, অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করা। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো এমন সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ, যেখানে কেউ কারও ক্ষতি না করে নিজের অধিকার ভোগ করে।
উদ্দীপকের আরজু সরকার ঘোষিত 'নো মাস্ক নো সার্ভিস' নীতি অমান্য করে মাস্ক ছাড়া সরকারি অফিসে প্রবেশকে নিজের স্বাধীনতা বলে দাবি করে। কিন্তু আরজুর দাবিকৃত এমন স্বাধীনতা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ মাস্কবিহীন চলাফেরা যেকোনো সময় যে কাউকে করোনায় আক্রান্ত করতে পারে। অর্থাৎ আরজুর মাস্কবিহীন অফিসে প্রবেশের স্বাধীনতা অন্যের ক্ষতির কারণ বিধায় তাকে প্রকৃত স্বাধীনতা বলা যায় না। তাই একথা সত্য যে, উদ্দীপকে আরজুর বক্তব্যে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ প্রতিফলিত হয়নি।
'আইন সবার জন্য সমান'- উদ্দীপকে উল্লেখিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উক্ত উক্তিটি যথার্থ।
নাগরিক জীবন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে প্রয়োজন আইনের শাসন। আর আইনের 'শাসনের মূল কথা হলো আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সকলে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করবে। আইনের শাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। আইন না থাকলে সমাজে অনাচার-অরাজকতা সৃষ্টি হয়। সবল দুর্বলের অধিকার হরণ করে।- আইনের শাসন না থাকলে সমাজে স্বাধীনতা ও সাম্য থাকে না।
উদ্দীপকে প্রভাবশালী নেতা আরজু সরকার ঘোষিত 'নো মাস্ক নো সার্ভিস' নীতি লঙ্ঘন করে মাস্ক না পরেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জোর করে প্রবেশ করতে চায়। জনাব আরজুর এমন কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়, সে যেন আইনের ঊর্ধ্বে। কিন্তু আইনের শাসনের মূল কথা হলো আইন সকলের জন্য সমান। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরজুর এমন আচরণ দেখে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, আইনের শাসনের মূল কথা হলো আইন সকলের জন্য সমান। এখানে ধনী-দরিদ্র বলে কোনো পার্থক্য নেই। তাই উদ্দীপকের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View All'কমেনটরিজ অন দ্যা লজ অব ইংল্যান্ড' গ্রন্থটি ব্রিটিশ আইনজ্ঞ স্যার উইলিয়াম ব্লাকস্টোনের (Sir William Blackstone)।
এক রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক রক্ষার জন্য যে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়, তাকে আন্তর্জাতিক আইন বলে।
বিভিন্ন রাষ্ট্র পরস্পরের সাথে কেমন আচরণ করবে, এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কীভাবে আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধান করা হবে তা আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।
জনাব শ্যামল মিত্র যেখানে বিল উত্থাপন করেন তা আইনের প্রধান উৎস আইনসভাকে নির্দেশ করে।
জনাব শ্যামল মিত্র একজন সংসদ সদস্য। তিনি তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে একটি বিল উত্থাপন করলে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আর জাতীয় সংসদ হলো বাংলাদেশের আইনসভা। আধুনিককালে আইনের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহত্তম উৎস হচ্ছে আইনসভা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং প্রয়োজনবোধে আইনের রদবদল ও সংশোধন করে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভার অপ্রতিহত ক্ষমতা রয়েছে। তার প্রভার সর্বত্র বিদ্যমান। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শ্যামল মিত্র তার এলাকার ইভটিজিং সমস্যা সমাধানের জন্য আইনসভায় বিল উত্থাপন করেন।
জনাব অর্ক 'বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস- উক্তিটি যথার্থ।
বিচারকের রায় আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারকগণ সাধারণত দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার করেন। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করার জন্য প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকগণ তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নতুন আইন তৈরি করে উক্ত মামলার রায় দেন এবং প্রয়োজনবোধে ঐ আইনের ব্যাখ্যা দেন। পরবর্তীকালে অন্যান্য বিচারকগণ সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। এভাবে বিচারকের রায় আইনে পরিণত হয়। যেমন: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল (John Marshall) ও চার্লস হিউজেস (Charles Evans Hughes) বহু নতুন আইন সৃষ্টি করেছেন।
উদ্দীপকের জনাব অর্ক বড়ুয়ার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই, তিনি একটি দেশের উচ্চ আদালতের প্রধান। একটি মামলায় অপরাধীর সাজা নির্ধারণের সময় প্রচলিত আইনের সাথে মিল না পেয়ে তিনি তার প্রজ্ঞা ও বিচার-বুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে সাজা নির্ধারণ করেন। বিচারক অর্ক বড়ুয়ার এ কাজের সাথে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বিচারকের রায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, অর্ক বড়ুয়ার বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান পদ্ধতিটি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
সাম্যকে ছয় ভাগে ভাগ করা যায়।
আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাই আইনের অধীন।
আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রাপ্তির সুযোগকে আইনের শাসন বলে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এর অর্থ জাতি-ধর্ম-বর্ণ- লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে আইনের সমান আশ্রয় লাভ করাকে বোঝায়। এ বিষয়টি সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!