যার যে কাজের দায়িত্ব তাকে সে কাজ করতে হবেই। একেই বলে কর্তব্য। আর কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর মনোযোগ থাকাকে বলে কর্তব্যনিষ্ঠা। সুতরাং 'কর্তব্যনিষ্ঠা' শব্দটির মানে হলো নিজের করণীয় কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ। কর্তব্যনিষ্ঠা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মের অঙ্গ।
ধর্মগ্রন্থ তত্ত্ব ও তথ্যের মাধ্যমে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। উপাখ্যানের মাধ্যমে সেই শিক্ষার প্রয়োগের দৃষ্টান্তও দেয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী শ্রেণিতে আমরা ধর্মীয় উপাখ্যানের সাথে নৈতিক শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। সত্যবাদিতা, ক্ষমা, জীবসেবা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ভ্রাতৃপ্রেম ইত্যাদি নৈতিক শিক্ষার ধারণা এবং এ সম্পর্কিত দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান ও তার শিক্ষা সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষা – এ নৈতিক মূল্যবোধের ধারণা এবং প্রাসঙ্গিক ধর্মীয় উপাখ্যান ও তার শিক্ষা সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- হিন্দুধর্মের আলোকে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান বর্ণনা করতে পারব
- উপাখ্যানে বর্ণিত ঘটনার শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
- সৎ জীবন পরিচালনার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব
- সৎ জীবন প্রণালীর অভ্যাস গঠনে পরিবারের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সৎ জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হব
Related Question
View Allরামায়ণের প্রধান চরিত্র শ্রীরামচন্দ্র।
তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। সকলে মিলে, পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করে। তাই তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিজীবনে উন্নতি করা যায় না। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হয়। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বলা হয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিতিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
দীননাথের চরিত্রের সাথে রামচন্দ্রের ত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ত্যাগ বলতে কেনোকিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
রামচন্দ্র ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। তিনি ত্রেতাযুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃসত্য রক্ষা করার জন্য বনে গমন করেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে। রাজপোশাক পরিত্যাগ করে কম্বল পরিধান করে বনে গমন করেন। এটা ছিল ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের দীননাথের চরিত্রে রামচন্দ্রের ত্যাগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ দীননাথ তার নিজের সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে সেরূপ এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
যদীননাথ তার সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে ত্যাগের এক মহা নজির স্থাপন করে।
ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ হচ্ছে মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক দিক। ত্যাগ মানুষকে করে মহান, সমাজ সংসারে এনে দেয় শান্তির পরশ। সেরূপ এক শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছিল মনোরমার। নীলরতন ও মনোরমার সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শান্তি ছিল না। কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিল না। এজন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করত। বাড়ির কর্মচারী দীননাথ এ বিষয়টি লক্ষ করে। তার দুটি সন্তান। দীননাথ তার স্ত্রীকে রাজি করিয়ে তার একটি সন্তানকে মনোরমার কোনে তুলে দেয়। তাদের সংসারে শান্তির আবহ বিরাজ করে। কিন্তু তাদের এ শান্তির মূলে ছিল দীননাথের ভূমিকা। কারণ সে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মনোরমার কোলে দিয়ে যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সত্যিই বিরল।
শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!