'সততা' মানব চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। 'সৎ' শব্দ থেকে 'সততা' শব্দের উৎপত্তি। 'সততা' আসলে কোনো একক গুণ নয়। কতকগুলো গুণের সমষ্টি মাত্র। কোনো অন্যায় বা অবৈধ কাজ না করার নামই 'সততা'। যিনি সত্যের পূজারী, সত্য কথা বলেন, সৎ পথে চলেন, কখনও সত্যকে গোপন করেন না, মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেন না তিনি 'সততা' গুণে গুণান্বিত। সততা ধর্মের অঙ্গ। সততার দুটি উদাহরণ হচ্ছে- সত্যনিষ্ঠা এবং স্পষ্টবাদিতা।
পিতার সত্য রক্ষা করতে রাম বনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন। তিনি রাজ্য ভোগ ত্যাগ করে, পোশাক ত্যাগ করে বল্কল পরিধান করে বনে রওয়ানা হলেন। সীতাও সঙ্গী হলেন। অগাধ ভ্রাতৃপ্রেমে লক্ষ্মণও কারও বাধা না মেনে রামের সাথে বনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। শেষে রাম সীতার সাথে লক্ষ্মাণও বনে গেলেন।
রাজা দশরথ একবার অসুস্থ হলে কৈকেয়ীর সেবাযত্নে খুশি হয়ে দুটি বর দিতে চাইলে। রামের রাজ্যাভিষেকের অনুষ্ঠানের সময় মন্থরার পরামর্শে রাণী কৈকেয়ী তার বর দুটি চাইলেন। এক বরে রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবে আর এক বরে তার পুত্র ভরত রাজা হবে। মূলত কৈকেয়ীর ছেলে ভরত রাজা হওয়াই ছিল বর দুটির চাওয়ার কারণ।
সততা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ মহৎ গুণ। 'সৎ' শব্দ থেকে 'সততা' শব্দের উৎপত্তি। এ গুণ যাঁর থাকে তিনি সমাজে বিশেষভাবে পরিচিত হন। সততা কতকগুলো গুণের সমষ্টি। এসব গুণের মধ্যে আছে সত্যনিষ্ঠা, আন্তরিকতা, স্পষ্টবাদিতা, সদাচার, লোভহীনতা প্রভৃতি। যিনি সত্যের পূজারি, সত্য কথা বলেন, সৎ পথে চলেন তিনি 'সততা' গুণে গুণান্বিত।
ধর্মগ্রন্থে সততার কথা বলা হয়েছে। সততাই মানুষকে অন্য মানুষের নিকট বিশ্বস্ত করে তুলে। সততা মানবজীবনে শান্তি ও স্বস্তি এনে জীবনকে করে তোলে আলোকিত ও মহিমান্বিত। সততা মানুষকে নিয়ে যায় মর্যাদার পথে, গৌরবময় স্থানে। ধর্মগ্রন্থে তাই মানুষকে সৎ থাকতে বলা হয়েছে। সততা মানব চরিত্রের অলংকার।
তৃণীর তার সততার পুরস্কার পেয়েছে। জীবনকে সার্থক করে গড়ে তোলার জন্য সততা একটি উৎকৃষ্ট পথ। সততা না থাকলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। সততা মানুষকে, ভালোমন্দের পার্থক্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সৎ মানুষকে সকলেই শ্রদ্ধা করে ও ভালোবাসে।
সৎ-এর বিপরীত হলো অসৎ। যিনি অসৎ তিনি সত্যকে গোপন করেন। সাময়িকভাবে তিনি সমাজে প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও তা কখনো চিরস্থায়ী হয় না। কারণ মিথ্যা ক্ষণস্থায়ী। মানুষ তাকে কখনো ভালোবাসে না, শ্রদ্ধার চোখে দেখে না। সকলেই তাকে ঘৃণা করে, এড়িয়ে চলতে চায়। কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।
যার যে কাজের দায়িত্ব তাকে সে কাজ করতে হবেই। একেই বলে কর্তব্য। আর কর্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও গভীর মনোযোগ থাকাকে বলে কর্তব্যনিষ্ঠা। সুতরাং 'কর্তব্যনিষ্ঠা' শব্দটির মানে হলো নিজের করণীয় কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ। কর্তব্যনিষ্ঠা একটি নৈতিক গুণ এবং ধর্মের অঙ্গ।
আরুণি তার গুরু ঋষি ধৌম্য-এর আদেশ পালন করতে জমিতে আল বাঁধতে না পেরে নিজেই শুয়ে পড়ে জলের তোড় ঠেকালেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এভাবে করেই জমির ভেতর জল ঢোকা বন্ধ করেছেন। আরুণির এ কাজে তার মধ্যে কর্তব্যনিষ্ঠার গুণটি ফুটে উঠেছে। আরুণির কাজের প্রতি যে মনোযোগ, এরই নাম কর্তব্যনিষ্ঠা। কর্তব্যনিষ্ঠা ব্যক্তির চরিত্রকে মহৎ করে। তার মঙ্গল করে।
ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া। নিজের সুখ বা লাভের চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকেই ত্যাগ বলে। ত্যাগ মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। ত্যাগ ধর্মেরও অঙ্গ। ত্যাগী ব্যক্তি সমাজে আদরণীয়। ত্যাগ ছাড়া ধর্ম হয় না।
তিতিক্ষা ও ত্যাগের মতো আরেকটি বিশেষ গুণ। তিতিক্ষা বলতে বোঝায় সহিষ্ণুতা। তিতিক্ষাও ধর্মের অঙ্গ। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিতিক্ষা সমাজে শান্তি আনয়ন করে। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে গড়ে তোলে সৌহার্দের মনোভাব। সকলে মিলে পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করেছে।
তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হতে পারে। জীবনে তিতিক্ষা বা সহিষ্ণুতার গুরুত্ব অপরিসীম। সহিষ্ণুতা কারো মাঝে না থাকলে তার ত্যাগের কোনো ফল লাভ হয় না। কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা না থাকলে ব্যক্তিজীবনেও উন্নতি করা যায় না। ত্যাগের পাশাপাশি সহিষ্ণুতা বা তিতিক্ষার কথা একই সাথে উচ্চারিত হয়ে থাকে। তাই বলা যায়, ত্যাগ ও তিতিক্ষা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
মানুষ হয়েও চরিত্রগুণে দেবতার স্তরে উন্নীত হওয়া যায় শ্রীরামচন্দ্র সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শ্রীরামচন্দ্র ত্রেতা যুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মহাবীর হয়েও তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল। মহত্ত্ব, উদারতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ত্যাগ-তিতিক্ষা প্রভৃতি ছিল তাঁর চরিত্রের বিশেষ গুণ।
পিতৃআজ্ঞা পালন করতে শ্রীরামচন্দ্র বনবাসে গিয়েছিল। শ্রীরামচন্দ্রের পিতা দশরথ তার স্ত্রী কৈকেয়ীকে দুটি বর দিতে চেয়েছিলেন। কৈকেয়ী চাইলেন যে রাম চৌদ্দ বৎসের জন্য বনে যাবে। পিতার দেওয়া সত্য রক্ষা করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র রাজ্য ত্যাগ করে, রাজ পোশাক ত্যাগ করে বল্কল পরিধান করে চৌদ্দ বৎসরের জন্য বনে যান।
মহাপুরুষদের ত্যাগ-তিতিক্ষার দৃষ্টান্তমূলক কাহিনি আমাদের ত্যাগ-তিতিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে। ত্যাগ-তিতিক্ষার গুণে মানুষ দেবতার স্তরে উন্নীত হতে পারে। যেসব নৈতিক গুণ মানুষকে সমাজে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সেগুলোর মধ্যে ত্যাগ-তিতিক্ষা অন্যতম। ত্যাগ-তিতিক্ষা মানুষকে নিয়ে যায় মর্যাদার পথে, গৌরবময় স্থানে।
সৎ মানুষ কখনো কারো ক্ষতি করতে পারে না। সে তার আলোকিত জীবন দিয়ে সকলের মনের অন্ধকার দূর করে। সমাজে অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য তার নিজের জীবন বাজি রেখে কাজ করে থাকে। স্নেহ দয়া, মায়া-মমতা দ্বারা সকলের মঙ্গল করতে চেষ্টা করে। সমাজ থেকে যাতে অন্যায় অবিচার দূর হয়, সবল যাতে দুর্বলের উপর অত্যাচার করতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতন থাকে।
মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে সৎ, সুজন বা দুর্জন ইত্যাদি কোনো গুণাবলি নিয়েই জন্মগ্রহণ করে না। জন্মের পর পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন গুণের সমাবেশ ঘটে। পরিবারের কর্তাব্যক্তি যদি সদ্গুণের অধিকারী হন তাহলে অন্যান্য সদস্যরাও সদ্গুণের অধিকারী হয়। পরিবারকে বলা হয় সমাজের প্রথম স্তর।
মানব চরিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে সততা। আমাদের সকলের মঙ্গলের জন্য সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যে সততা থাকা একান্ত প্রয়োজন। কেননা সৎ জীবনযাপনের মাধ্যমে সকলের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন করা যায়।
সাধারণত ত্যাগ বলতে কোনো কিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া। অর্থাৎ নিজের সুখ বা লাভের চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ত্যাগ মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ। এটি ধর্মেরও অঙ্গস্বরূপ।
যুবরাজ হিসেবে রামের অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে বিমাতা কৈকেয়ীর কাছ থেকে বাধা আসে। একবার রাজা দশরথ অসুস্থ হলে কৈকেয়ীর সেবাযত্নে তিনি সুস্থ হন। তখন দশরথ খুশি হয়ে দুটি বর দিতে চাইলে কৈকেয়ী তা নেন নি। কিন্তু এখন কৈকেয়ী চাইলেন এক বরে রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবে এবং অন্য বরে তার পুত্র ভরত রাজা হবে। তাই যুবরাজ হিসেবে রামের অভিষেক অনুষ্ঠান হয় নি।
রাজা দশরথ তাঁর বড় ছেলে রামকে যুবরাজ পদে অভিষিক্ত করবেন। কিন্তু কৈকেয়ী বাধা হয়ে দাঁড়ালেন। রাজা দশরথের পূর্বপ্রস্তুতি মোতাবেক কৈকেয়ী দুটি বর চাইলেন যার একটি হলো রাম চৌদ্দ বছরের জন্য বনে যাবে আর অন্যটি হলো তার পুত্র ভরত রাজা হবে। তাই রাম পিতার সত্য রক্ষা করতে বনে গেলেন।
কারও কষ্ট দেখলে মন কাঁদে। তার কষ্ট দূর করে দিতে ইচ্ছা হয়। মনের এ ভাবকে বলা হয় দয়া। অর্থাৎ অপরের কষ্ট দূর করার নাম দয়া। দয়া একটি নৈতিক গুণ। তাছাড়া সমাজের জন্য এটি একটি প্রবৃত্তিও বটে।
জীবনকে সার্থক করে গড়ে তোলার জন্য সততা একটি উৎকৃষ্ট পথ। সততা না থাকলে মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। সততা মানুষের ভালো মন্দের পার্থক্য চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সৎ মানুষকে সকলেই শ্রদ্ধা করে ভালোবাসে। এ বিশ্বের যত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁরা সকলেই সততার ধারক ও বাহক। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সততাই সর্বাৎকৃষ্ট পন্থা।
সৎ-জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই প্রধান। কেননা পরিবারের কর্তা ব্যক্তি যদি সদগুণের অধিকারী হন তাহলে অন্যান্য সদস্যরাও সদগুণের অধিকারী হয়। যেহেতু পরিবারকে বলা হয় সমাজের প্রথম স্তর তাই পরিবার থেকেই মানুষ ধৈর্য, সংযম, সহনশীলতা, ক্ষমা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে থাকে। তাই বলা যায়, সৎ জীবন পরিচালনায় পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
ধর্মগ্রন্থ তত্ত্ব ও তথ্যের মাধ্যমে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। উপাখ্যানের মাধ্যমে সেই শিক্ষার প্রয়োগের দৃষ্টান্তও দেয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী শ্রেণিতে আমরা ধর্মীয় উপাখ্যানের সাথে নৈতিক শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। সত্যবাদিতা, ক্ষমা, জীবসেবা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ভ্রাতৃপ্রেম ইত্যাদি নৈতিক শিক্ষার ধারণা এবং এ সম্পর্কিত দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান ও তার শিক্ষা সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষা – এ নৈতিক মূল্যবোধের ধারণা এবং প্রাসঙ্গিক ধর্মীয় উপাখ্যান ও তার শিক্ষা সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- হিন্দুধর্মের আলোকে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার দৃষ্টান্তমূলক উপাখ্যান বর্ণনা করতে পারব
- উপাখ্যানে বর্ণিত ঘটনার শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
- সৎ জীবন পরিচালনার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব
- সৎ জীবন প্রণালীর অভ্যাস গঠনে পরিবারের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব
- ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সৎ জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হব
Related Question
View Allরামায়ণের প্রধান চরিত্র শ্রীরামচন্দ্র।
তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠত। সকলে মিলে, পরস্পর পরস্পরের মতের ও চিন্তার প্রতি সহিষ্ণু হয়েই মানুষ সমাজ গঠন করে। তাই তিতিক্ষা না থাকলে ব্যক্তিজীবনে উন্নতি করা যায় না। তিতিক্ষা না থাকলে ত্যাগের ফল বিনষ্ট হয়। নৈতিকতা গঠনে তিতিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেজন্য বলা হয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিতিক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
দীননাথের চরিত্রের সাথে রামচন্দ্রের ত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ত্যাগ বলতে কেনোকিছু বর্জন বা পরিহার করা বোঝায়। কিন্তু বিশেষভাবে ত্যাগ বলতে বোঝায় নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া।
রামচন্দ্র ছিলেন বিষ্ণুর অবতার। তিনি ত্রেতাযুগে মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতৃসত্য রক্ষা করার জন্য বনে গমন করেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে। রাজপোশাক পরিত্যাগ করে কম্বল পরিধান করে বনে গমন করেন। এটা ছিল ত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের দীননাথের চরিত্রে রামচন্দ্রের ত্যাগের যথেষ্ট মিল রয়েছে। কারণ দীননাথ তার নিজের সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে সেরূপ এক ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
যদীননাথ তার সন্তানকে মনোরমার কোলে তুলে দিয়ে ত্যাগের এক মহা নজির স্থাপন করে।
ভোগ বা সুখের ইচ্ছা পরিহার করাকে ত্যাগ বলে। ত্যাগ হচ্ছে মানব চরিত্রের একটি বিশেষ নৈতিক দিক। ত্যাগ মানুষকে করে মহান, সমাজ সংসারে এনে দেয় শান্তির পরশ। সেরূপ এক শান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছিল মনোরমার। নীলরতন ও মনোরমার সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শান্তি ছিল না। কারণ তাদের কোনো সন্তান ছিল না। এজন্য তাদের দুজনের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজ করত। বাড়ির কর্মচারী দীননাথ এ বিষয়টি লক্ষ করে। তার দুটি সন্তান। দীননাথ তার স্ত্রীকে রাজি করিয়ে তার একটি সন্তানকে মনোরমার কোনে তুলে দেয়। তাদের সংসারে শান্তির আবহ বিরাজ করে। কিন্তু তাদের এ শান্তির মূলে ছিল দীননাথের ভূমিকা। কারণ সে তার প্রাণপ্রিয় সন্তানকে মনোরমার কোলে দিয়ে যে ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তা সত্যিই বিরল।
শ্রীরামচন্দ্রের পিতার নাম রাজা দশরথ।
আামানচন্দ্র ছিলেন পিতৃতজ্ঞ। লিভার আত ছিল তার অসাব ভক্তি। পিতার আজ্ঞা ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। তাই পিতার আজ্ঞা পালন করার জন্য শ্রীরামচন্দ্র বনে গিয়েছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!