কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বক্তৃতায় নবীনদের উদ্দেশ্যে বললেন, সুশিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তোমাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই উন্নয়ন সম্ভব। কেননা তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ ও দেশ বিনির্মাণে অগ্রযাত্রার সৈনিক। 

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

বিবর্তনবাদী মতবাদের প্রবক্তা হার্বার্ট স্পেন্সার বিবর্তনের চারটি ধরনের কথা বলেছেন।

উত্তরঃ

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিশ্বায়ন বলতে মূলত কোনো কিছুর স্থানিক থেকে বৈশ্বিক রূপ লাভ করাকে বোঝায়। বিশ্বায়নের ফলে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের একটি অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে। ইন্টারনেটের ভূমিকা লক্ষণীয়। যার ফলে বিশ্বব্যাপী পণ্যের উন্মুক্ত বাজার সৃষ্টি হয়েছে, মুদ্রা চলাচল ও বিনিময় প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বহুস্তর বিশিষ্ট রাজনীতির জন্ম হয়েছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তি ও গণতন্ত্রায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বোপরি জনসংখ্যা এবং স্থানান্তর গমনও বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত এগুলোই বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিককে নির্দেশ করে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে চলার প্রত্যয়টি বলতে এখানে প্রগতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। সামাজিক পরিবর্তনের একটি বিশেষ ধরন হলো প্রগতি। প্রগতি শব্দটি ল্যাটিন শব্দ 'Pro-gredio' শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ হলো To step forward বা সামনে চলা। প্রগতির মৌলিক অর্থ হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সামনে এগিয়ে চলা। যেমন- শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রগতি। অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত বা বাঞ্ছিত পরিবর্তনই প্রগতি। আবার মানুষের জ্ঞানের যথাযথ ব্যবহার এবং পরিকল্পনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে একটি বিশেষ অবস্থা থেকে আরেকটি বিশেষ অবস্থায় সামাজিক উত্তরণকে প্রগতি বলা যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে যদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তিত করা যায় তবে সেটিই হবে প্রগতি।

উদ্দীপকে দেখা যায়, কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, সুশিক্ষার মাধ্যমেই জাতির ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তোমাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই উন্নয়ন সম্ভব। সভাপতির এ বক্তব্য সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রত্যয় প্রগতিকেই বোঝানো হয়েছে। উপরের আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি প্রগতিকেই নির্দেশ করে এবং এটি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়।

উত্তরঃ

উন্নয়ন প্রত্যয়টি সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়। প্রত্যয়টি সমাজবিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা হলো-

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন শব্দটির অর্থ হচ্ছে জন্মলগ্ন থেকে কোনো কিছুর ক্রমশ বিকাশ বা পরিপূর্ণতা লাভ। উন্নয়ন একটি বহুমুখী ধারণা যা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি বিষয়কে একত্রীভূত করে। উন্নয়ন প্রসঙ্গে সমাজতত্ত্ববিদ টি.বি. বটোমোর (T.B. Bottomore) বলেন, সাধারণ অর্থে উন্নয়ন বলতে বোঝায় ক্রমাগত প্রসার, কোনো কিছু ক্ষুদ্র অংশের পূর্ণতার বিকাশ; বীজের মধ্যে যা নিহিত তার ক্রমোন্নতি। উন্নয়ন প্রসঙ্গে Myrdal বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে পশ্চাৎপদ অবস্থা থেকে ক্রমশ বর্তমান, সংখ্যাবাচক এবং গুণবাচক পরিবর্তন যা ইতিবাচক রূপান্তরকে নির্দেশ করে। অতএব উন্নয়ন বলতে ইতিবাচক পরিবর্তনকে বোঝায়।

উন্নয়ন হচ্ছে একটি সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। এ পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। মূল্যেবোধের আলোকে সামাজিক পরিবর্তন বলতে বোঝায় বহুবিধ আন্তঃসম্পর্কের পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া। অর্থাৎ সমাজকাঠামো, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তথা সার্বিকভাবে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মুক্তির প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, উন্নয়ন সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচিত প্রত্যয় যা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনকে নিদেশ করে।

253

Related Question

View All
উত্তরঃ

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।

340
উত্তরঃ

পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়। 

পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।

399
উত্তরঃ

উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।

উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।

258
উত্তরঃ

'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।

মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।

দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।

উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।

278
উত্তরঃ

লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।

1.4k
উত্তরঃ

সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি । 

মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।

418
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews