কাইয়ুম সাহেবের বক্তব্যই রাষ্ট্রের উৎপত্তির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতবাদ- বিশ্লেষণ করো।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

রাষ্ট্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ হচ্ছে বিবর্তনমূলক মতবাদ। উদ্দীপকের কাইয়ুম সাহেবের বক্তব্যে এ মতবাদেরই সমর্থন পাওয়া যায়। কারণ তিনি মনে করেন রাষ্ট্র একদিনে হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। সময়ের প্রয়োজনে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে।

রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত অনুমানমূলক মতবাদগুলো বর্তমান যুগে আর গ্রহণীয় নয়। ঐতিহাসিক জ্ঞানের বিকাশ, সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব এবং বিবর্তন নীতি স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কে একটি সন্তোষজনক মতবাদ দাঁড় করানো সম্ভব হয়েছে যা বিবর্তনমূলক মতবাদ' নামে পরিচিত। এ মতবাদ অনুসারে যুগ যুগ ধরে রাষ্ট্র বিবর্তিত হতে হতে আজকের পর্যায়ে গৌঁছেছে। আর এ বিবর্তনের মূলে যেসব উপাদান কাজ করেছে তার মধ্যে রক্ত-সম্বন্দ্ব, ধর্ম, বল প্রয়োগ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, রাজনৈতিক চেতনা অন্যতম।

বিবর্তনমূলক তত্ত্ব অনুসারে, রক্ত-সম্বন্দ্ব ছিল আদিম মানবসমাজে যোগসূত্র স্থাপনের পন্থা। এর ওপর ভিত্তি করেই পরিবার গড়ে ওঠে। আর রাষ্ট্রের ভিত্তি পরিবারেই নিহিত। পরিবার বর্ধিত যাওয়ার ধারায় যখন বৃহত্তর সমাজের সৃষ্টি হয়, তখন আত্মীয়তার বন্দন দুর্বল হয়ে ধর্মীয় বন্ধন গুরুত্ব পেতে থাকে। ধর্ম তখন সমাজ সংগঠনের ভিত্তিতে পরিণত হয়। সমাজে ব্যক্তি মালিকানার উজ্জব ঘটলে মালিক ও শ্রমিক দুই শ্রেণির অস্তিত্ব অনিবার্য হয়ে ঘঠে। এরই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় শ্রেণির অর্থাৎ শাসকের প্রয়োজন যায়, যে নিঃস্বার্থভাবে ব্যক্তিকে অন্যের শোষণের হাত থেকে রক্ষা করবে। আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্ভব সেই সময় থেকেই, যখন মানুষ জৈনৈতিক সচেতনতা অনুভব করতে থাকে এবং গভীরভাবে সাধারণ কর্তৃত্বের প্রয়োজনবোধ করে। মূলত সমাজের সাধারণ সচেতনতা যখন যথার্থ মাত্রায় পৌঁছায় তখনই রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আধুনিক জ্ঞান ও চিন্তা- ধারার বিকাশের ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি সংক্রান্ত মতবাদগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো 'বিবর্তনমূলক মতবাদ'। এতে বলা হয়, রাষ্ট্র ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনে গড়ে উঠেছে।

399
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।

অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।

7.4k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।

উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

328
উত্তরঃ

মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।

ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।

277
উত্তরঃ

মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।

291
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews