মাদকাসক্তি একটি ক্ষতিকর বদ-অভ্যাস।
মাদকাসক্তির কুফলগুলো হলো- জ্ঞান ও বুদ্ধি লোপ পাওয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্ষুধামন্দা, হৃদরোগ, চৈতন্য হারিয়ে ফেলা, খাদ্যে অরুচি, শারীরিক শীর্ণতা, অপুষ্টি, ওজন কমে যাওয়া, শ্বাসনালীর ক্ষতি হওয়া ইত্যাদি।
মাদকদ্রব্য বলতে বোঝায় নেশার বস্তু। মানুষ অনেকটা খেয়ালবশত এমন কিছু কাজ করে বসে যা পরবর্তীতে নেশা হয়ে দাঁড়ায়। আবার 'কখনও কখনও পরিবেশ এমনকি সঙ্গদোষের শিকার হয়েও তা করতে বাধ্য হয়। আমরা কালিদাসের জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই খারাপ সঙ্গে পড়ে সে মাদকাসক্ত হয়েছে, তারপর মা-বাবার অবাধ্য হয়ে মাদক গ্রহণ করতে করতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তাই আমি কালিদাসের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, সবসময় সৎ সঙ্গে চলাফেরা করতে হবে। প্রবাদ আছে, "সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।" মা-বাবার অবাধ্য না হয়ে তাদের কথামতো সবসময় চলতে হবে আর অযথা ঘোরাঘুরি না করে নিজের কাজের পাশাপাশি শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার প্রক্রিয়া হিসেবে বিকেলে খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন করতে হবে।
সুস্থ শরীর ও মন ছাড়া ধর্ম পালন করা যায় না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মনে একনিষ্ঠতা আসে না। তাই একনিষ্ঠতার জন্য নেশা পরিহার করাই শ্রেয়। শাস্ত্রে আছে, "শরীরমাদ্যং খলু ধর্মসাধনম্" অর্থাৎ ধর্ম সাধনার প্রধান শর্ত হচ্ছে শরীরকে সুস্থ রাখা। শরীর সুস্থ না থাকলে মনও ভালো থাকে না। মনের স্থিরতা না থাকলে ঈশ্বর আরাধনা হয় না। তাই ধর্মশাস্ত্রে নির্দেশ হচ্ছে সংযম অনুশীলন করে দেহ ও মনকে সাধনার উপযোগী করে তোলা। কাজেই দেহকে সুস্থ ও. স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে শাস্ত্রে 'সুরাপানকে' মহাপাপ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
মনুসংহিতার একাদশ অধ্যায়ে সুরাপানকে পঞ্চ মহাপাতকের অন্যতম বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ সকল পাপ যারা করে তাদের সাথে এক বছর মেলামেশা করলেও একই রকম পাপ হয়। আরও বলা হয়েছে সুরাপান করলে দাঁত কালো হয়ে যায়। সুরাপান করে পাপ করলে নিন্দনীয় লক্ষণযুক্ত হয় বা পশুকূলে জন্মগ্রহণ করে। এ বিষয়ে পদ্মপুরাণেও একই রকম কথা বলা হয়েছে। মহাভারতেও সুরাপানের নিন্দা করা হয়েছে। মৌষল পর্বে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সুরাপান যদুবংশের পতনের কারণ। সুরাপান করে মত্ত অবস্থায় ছিল বলে জগাই-মাধাই প্রভু নিত্যানন্দকে প্রহার করেছিল। উদ্দীপকের কালিদাসের চরিত্রেও আমরা দেখতে পাই, গ্রামের খারাপ ছেলেদের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের প্রায় সময়ই টাকা না পেয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই সর্বাবস্থায় যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্যই পরিত্যাজ্য।
Related Question
View Allধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুযায়ী যা ধারণ করে, তাই ধর্ম। অর্থাৎ যে বিশেষ গুণ, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয় এবং নিজের মোক্ষ লাভ হয়, তাই ধর্ম।
নৈতিকতা বলতে বোঝায় ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য বুঝে ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ না করার মানসিকতা। নৈতিকতা একটি চারিত্রিক গুণ। নৈতিকতা একটি মূল্যবোধ।
কর্তব্যনিষ্ঠা মানুষের একটি নৈতিক গুণ। সবাইকেই কিছু না কিছু কর্ম বা কাজ করতে হয়। কৃতকগুলো অবশ্য পালনীয় কর্ম রয়েছে যেটিকে বলা হয় কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন করা আমাদের প্রত্যেকের উচিত। এটিই করতে হবে নিষ্ঠার সাথে, শ্রদ্ধার সাথে। তবেই কাজটি সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হবে, এটিই হলো কর্তব্যনিষ্ঠা; যেমন- বীরবল তার কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য নিজের পুত্রকে পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছিলেন।
পূজনীয় শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির প্রতি আমাদের প্রাণের যে টান বা অনুরাগ তার নাম ভক্তি। এ শব্দটি আমরা বিভিন্ন জায়গায়, কথায় প্রয়োগ করি; যেমন- মায়ের প্রতি যে ভক্তি, তার নাম মাতৃভক্তি। এ রকম পিতৃভক্তি, গুরুভক্তি ঈশ্বরভক্তি ইত্যাদি। ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসাও ভক্তি।
আমরা জানি, যা ধারণ করে, তাকে ধর্ম বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয়-এবং নিজের মোক্ষলাভ হয়, তার নাম ধর্ম। মানুষের ধর্ম মনুষ্যত্ব, ঠিক যেভাবে আগুনের ধর্ম দহন করা।
'মনুসংহিতা' নায়ক হিন্দুধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে-মানুষের ধর্মের বা মনুষ্যত্বের পাঁচটি বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। যথা- অহিংসা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, দেহ ও মনে শুচি বা পবিত্র থাকা সৎপথে থাকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!