বর্তমান সময়ের এক ভয়াবহ সামাজিক সমস্যার নাম কিশোর গ্যাং। অল্পবয়সি কিশোররাই এ সকল গ্যাং বা গ্রুপের সদস্য। নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে গিয়ে এ সকল গ্রুপের সদস্যরা ঝগড়া, মারামারি দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সন্ত্রাস, মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ অতিমারির দুঃসময়ে কিশোর অপরাধের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা কেবল বড়ো বড়ো শহরগুলোতেই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ঘটে চলছে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাংকে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্যমতে, সেখানে অবস্থানরত কিশোরদের ২০ শতাংশ হত্যা এবং ২৪ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। এছাড়াও দেশের মোট ৪ কোটি শিশু-কিশোরের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এদের পক্ষে সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তুত, আমাদের দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দারিদ্র্য, বাবা-মায়ের নিয়ন্ত্রণহীনতা, অরুচিকর বিনোদন ও হিংসাত্মক ভিডিও চিত্র দেখা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি এ অপসংস্কৃতি বিস্তারের কারণ। তাই পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই অপরাধী ও তাদের উৎসাহদাতাদের কঠোর আইনের আওতায় - আনতে হবে। অপরাধী কিশোরদের সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায়, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!