ইঞ্জিন ওভারহলিং কী?
(Engine overhauling)
ইঞ্জিন ওভারহলিং বলতে এমন একটি পদ্ধতিকে বুঝায়, যার মাধ্যমে ইঞ্জিন ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ কিলোমিটার চলার পর এটার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষয় ও অকেজো হলে অথবা দুর্ঘটনার কারণে কোনো যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে গেলে, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ খোলা, পরীক্ষা, পরিবর্তন ও পুনঃসংযোজন করে পুনঃকার্যোপযোগী করা হয়।
উন্নত দেশের সভ্যতায় ইঞ্জিন ওভারহলিং কথাটির তেমন প্রচলন নেই। কারণ একটি ইঞ্জিনের কার্যকাল শেষ হবার পূর্বেই সে
দেশের লোক সে গাড়ি বা ইঞ্জিন পরিত্যাগ করে নতুন বা আধুনিক মোটরযান ক্রয় করে থাকে। আর তাদের পরিত্যক্ত যানগুলো
আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের ব্যবসায়ী বা লোকেরা সেগুলো কম বা নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে রিকন্ডিশনিং মোটরযান
(Reconditioning vehicle) হিসেবে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে থাকে। অবশ্য বিদেশ থেকে শুধু এই ধরনের গাড়িই আসে না, নতুন
গাড়িও আসে।
পুরাতন ইঞ্জিনগুলোকে নির্দিষ্ট বা সমস্ত পদ্ধতির যন্ত্রাংশগুলো খুলে তা মেরামত, পরিবর্তন ও পুনঃসংযোজন করতে সে যান
প্রস্তুতকারকের নির্দেশাবলি বা ম্যানুয়েল (Mantial) অনুসরণ করতে হয়। তাহলে ইঞ্জিন ওভারহলিং-এর ভালো ফলাফল পাওয়া যায়
এবং সে যান আরও অনেকদিন প্রায় নতুন যানের মতোই কাজ করতে পারে।
ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ (Engine inspection) : মোটরযানের নতুন ইঞ্জিন চলার সময় সুন্দর শব্দ থাকে। কিন্তু এটা বেশিদিন চললে
বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি (Wear and tears) -ও-ঘর্ষণ বেড়ে যাওয়া প্রভৃতি কারণে এতে কালো ধোঁয়া বেরুনো, নীলাভ ধোঁয়া
ব্রেরুনো, ঘট ঘট আওয়াজ করা, ইঞ্জিন অত্যধিক উত্তপ্ত হওয়া প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দেয়। তখনই এটার বিভিন্ন পদ্ধতিতে
পরীক্ষানিরীক্ষা করে দোষত্রুটি ধরতে এবং সেভাবে মেরামতের পদক্ষেপ নিতে হয়, এই পদ্ধতিকেই ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ বলে।
ইঞ্জিন পর্যবেক্ষণ প্রধানত দুই প্রকার, যথা-
(ক) চোখে দেখে পর্যবেক্ষণ (Visual inspection) : সাইলেন্সার পাইপে বেরুনো ধোঁয়া, ইঞ্জিন ওভারহিট, গতিবেগ প্রভৃতি
দেখে পর্যবেক্ষণ এটার উদাহরণ।
(খ) সূক্ষ্ম যন্ত্রাদি দ্বারা পর্যবেক্ষণ (Inspection by precision instruments) : স্পিডোমিটার, জ্বালানি গেজ, ডায়াল গেজ,
ফিলার গেজ, বায়ুশূন্যতা গেজ, নির্গমন গ্যাস পরীক্ষণ যন্ত্র প্রভৃতি সূক্ষ্ম পরীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা ইঞ্জিনের গতিবেগ, জ্বালানি খরচের মাত্রা,
সিলিন্ডার ক্রয়ের মাত্রা প্রভৃতি নিরীক্ষণ হলো এই পর্যবেক্ষণের উদাহরণ।
ওভারহলিং-এর প্রকারভেদ (Types of overhauling) :
ইঞ্জিন মেরামতের ধরন ও মাত্রার উপর এর প্রকারভেদ নির্ধারিত হয়। ওভারহলিং সাধারণত তিন প্রকার, যথা-
(ক) টপ ওভারহলিং (Top overhauling),
(খ) মাইনর ওভারহলিং (Minor overhauling) এবং
(গ) মেজর ওভারহলিং (Major overhauling)।
এগুলোর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নরূপ-
(ক) টপ ওভারহলিং (Top overhauling) : ইঞ্জিনকে মাউন্টিং-এর উপর রেখে এটার হেড বিয়োজন করে কার্বন পরিষ্কার, ভালভ
ফেস ও সিট মেরামত প্রভৃতি কার্যাবলিকে টপ ওভারহলিং বলে। এই কাজের সময় ইঞ্জিনের হেড গ্যাসকেট পরিবর্তন করতে হয়।
(খ) মাইনর ওভারহলিং (Minor overhauling) : টপ ওভারহলিং-এর কাজসহ ইঞ্জিনকে চেসিসে রেখে এটার বিয়ারিং
পরিবর্তন, কানেকটিং রড মেরামত, পিস্টন রিং পরিবর্তন, টাইমিং গিয়ার অথবা চেইন পরিবর্তন, অয়েল সিল পরিবর্তন প্রভৃতি
কার্যাবলিকে মাইনর ওভারহলিং বলে ।
(গ) মেজর ওভারহলিং (Major overhauling) : ইঞ্জিনকে চেসিস থেকে নামিয়ে এটার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খোলা, পরিষ্কার,
পরিবর্তন, মেরামত, পরীক্ষানিরীক্ষা, পুনঃসংযোজন ও কার্যকারিতা পরীক্ষা প্রভৃতি কার্যাবলিকে মেজর ওভারহলিং বলে।
ওভারহলিং-এর উপসর্গের তালিকা (Symptoms of overhauling) :
নিম্নবর্ণিত উপসর্গগুলো দৃষ্ট হলে ইঞ্জিনকে ওভারহলিং করার প্রয়োজন হয়, যেমন-
১। ইঞ্জিনের সাইলেন্সার পাইপ দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরুলে,
২। ইঞ্জিন ওভারহিট (Overheat) হলে,
৩। ইঞ্জিনের ঘূর্ণনগতি কমে গেলে,
৪। জ্বালানি খরচ অত্যধিক বেশি হলে,
৫। অত্যধিক পিচ্ছিলকরণ তেল খরচ হলে,
৬। ইঞ্জিনের বোঝা বহন ক্ষমতা কমে গেলে,
৭। ইঞ্জিনে চলমান শব্দের মাত্রা বেড়ে গেলে,
৮। সংকোচন লিক করা (Compression leakage),
৯। সিলিন্ডার মিস করা (Cylinder misses) প্রভৃতি ।
Related Question
View Allপ্রশ্নে বলা হচ্ছে, একটি ভগ্নাংশের লব 200% এবং হর 350% বাড়ানো হলে ভগ্নাংশটি হয় মূল ভগ্নাংশটি কত?
ধরি, ভগ্নাংশটির লব x এবং হর y
অতএব, ভগ্নাংশটি
প্রশ্নমতে,
অতএব, মূল ভগ্নাংশটি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!