বন্দনা পালনের জন্য বেশকিছু নিয়ম-কানুন পালন করতে হয়। বন্দনা বিহারে এবং গৃহে বুদ্ধমূর্তির সামনে সকাল সন্ধ্যা দুবেলা করতে হয়। বন্দনার সময় হাত-মুখ ভালোভাবে ধুয়ে বুদ্ধমূর্তির সামনে হাঁটুভেঙে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করতে হয়। এরপর বন্দনা করতে হয়।
বৌদ্ধধর্মে বন্দনার গুরুত্ব অপরিসীম। বন্দনার প্রকৃত উদ্দেশ্য শ্রদ্ধা নিবেদন করা, গুণীর গুণরাশির স্তুতি বা প্রশংসা করা। ত্রিরত্ন বন্দনায় বুদ্ধরত্ন, ধর্মরত্ন এবং সংঘরত্ন এই তিনটি রত্নের স্তুতি করা হয়। ত্রিরত্নের গুণরাশি স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ত্রিরত্ন বন্দনার বিভিন্ন গাথা আছে। কখনো ছোট গাথায় আবার কখনো বড় গাথায় ত্রিরত্ন বন্দনা করা হয়। এ অধ্যায়ে ছোট গাথায় যে ত্রিরত্ন বন্দনা করা হয় তা পাঠ করব।

বন্দনারত বালক-বালিকা
এ অধ্যায় শেষে আমরা -
- ত্রিরত্ন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ত্রিরত্ন বন্দনা পালি ভাষায় আবৃত্তি করতে পারব।
- ত্রিরত্ন বন্দনার বাংলা বলতে পারব।
Related Question
View All'বন্দনা' শব্দের অর্থ নিবেদন করা, গুণীর গুণরাশির স্তুতি বা প্রশংসা করা।
শ্রাবণী বড়ুয়া ত্রিরত্নের গুণ অনুসরণ করেন। বৌদ্ধধর্মের প্রাত্যহিক ধর্মীয় কর্মের মধ্যে ত্রিরত্ন বন্দনা অন্যতম। বৌদ্ধদের প্রতিটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে ত্রিরত্ন বন্দনা করা হয়। বন্দনার জন্য. বেশকিছু নিয়ম পালন করতে হয়। বন্দনা বিহার এবং গৃহে বুদ্ধমূর্তির সামনে করতে হয়। বন্দনার আগে ভালো করে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে হয়। পবিত্র মনে হাঁটুভেঙে বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে প্রথমে ত্রিশরণসহ পঞ্চশীল গ্রহণ করে তারপর ত্রিরত্ন বন্দনা করতে হয়। ত্রিরত্নে বুদ্ধরত্নের মাধ্যমে বুদ্ধের মহাজ্ঞানের অনন্ত গুণরাশির স্মরণও ভূতি করা হয়। বৌদ্ধধর্মে ভিক্ষুরা শ্রদ্ধা দানের উত্তম পাত্র। তাই সঙ্ঘ বন্দনার মাধ্যমে বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসঙ্ঘের স্তুতি ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। উদ্দীপকে শ্রাবণী উক্ত ত্রিরত্ন গুণ অনুসরণের মাধ্যমে সঠিকভাবে পূজা-অর্চনা করেন।
শ্রাবণী অনুসরণীয় নীতির দ্বারা ইহ ও পরজীবনে ফল লাভ করা সম্ভব।
ত্রিরত্নের মাধ্যমে মহামানব বুদ্ধের অনন্ত গুণরাশির স্মরণ ও স্তুতি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রবিত্র মনে বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি পরজীবনের জন্য কিছু পাথেয় হিসেবে সঞ্চিত হয়। ধর্ম বলতে ধারণ, সদাচার, নৈতিকতা ও সততাকে বোঝায়। ধর্ম বন্দনার মাধ্যমে অর্জিত এসব গুণাবলি ইহ ও পরজীবনের জন্য পরম পাথেয়। উক্ত গুণগুলো উদ্দীপকের মধ্যে থাকলে সে ইহ ও পরজীবনে চরম সুফল লাভকরবে। বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত ভিক্ষুসঙ্ঘে বুদ্ধের নিয়ম-শৃঙ্খলা, আদেশ মেনে লোভ-দ্বেষ-মোহবিহীন, সৎ নৈতিক ও পবিত্র জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। সঠিকভাবে ত্রিরত্ন পাঠ বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ায়। নিয়ম- শৃঙ্খলার মাধ্যমে সৎ ও নৈতিক জীবনযাপন মানুষকে মানবিকতা শেখায়। সৎ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে, যা ইহকালের সাথে পরকালের জন্যও প্রয়োজন।
সুতরাং দেখা যায় যে, উদ্দীপকে শ্রাবণী উক্ত নীতি অনুসরণের ইহ ও পরকালের জন্য সুফল নিয়ে আসবে।
বুদ্ধ, ধর্ম ও সংঘকে একত্রে ত্রিরত্ন বলা হয়।
বৌদ্ধধর্মে বন্দনার গুরুত্ব অপরিসীম। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বন্দনা করা হয়। বন্দনার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো- শ্রদ্ধা নিবেদন করা, গুণীর গুণরাশির স্তুতি বা প্রশংসা করা।
উদ্দীপকে পিম্পু বড়ুয়ার সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনায় বৃদ্ধ বন্দনার গুণটি প্রকাশ পেয়েছে। ত্রিরত্নের মধ্যে অন্যতম রত্ন হলো বুদ্ধরত্ন। বৃদ্ধ অর্থ মহাজ্ঞানী। বুদ্ধ জ্ঞানীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ কারণে বুদ্ধকে বলা হয় মহাজ্ঞানী। তিনি জন্ম-জন্মান্তরে দশ পারমী পূর্ণ করেছিলেন। শেষ জীবনে ছয় বছর কঠোর সাধনা করে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ বুদ্ধরত্নকে আমরা পবিত্র মনে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করি। তার গুণের প্রশংসা করি, তার মহাজ্ঞানের প্রশংসা করি। যে বন্দনার মাধ্যমে মহামানব বুদ্ধের মহাজ্ঞানের অনন্ত গুণরাশির স্মরণ ও স্তুতি করা হয় এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় তাকে বুদ্ধ বন্দনা বলে। উদ্দীপকে পিম্পু বড়ুয়ার সন্ধ্যাকালীন প্রার্থনায় এ বুদ্ধ বন্দনার গুণটিই প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!