যথাসময়ে কাজ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে 'ভবের' উন্নতি করা যায়।
সংসার এক সমরাঙ্গন। এখানে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। কাজের মাধ্যমে জগৎ-সংসারের উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি আমাদের জীবনের নানা স্বপ্ন, প্রেম-ভালোবাসা, পরিবার গঠন, সংসারের নানা যন্ত্রণায় কাতরতা ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। আর এগুলো থেকে পরিত্রাণের জন্য মহাজ্ঞানী কর্মবীরদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, আপন আপন কর্তব্য যথার্থভাবে পালন করে জীবন সার্থক করে তুলতে বলেছেন। কারণ মানবজনম অত্যন্ত মূল্যবান। নিয়মিত নিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই ভবের উন্নতি সম্ভব।
বলো না কাতর স্বরে বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্ৰন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়
ওহে জীব কর আকিঞ্চন ।
করো না সুখের আশ, পরো না দুখের ফাঁস
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ, করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয় ।
দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়,
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল, সকলি ঘুচায় কাল,
আয়ু যেন শৈবালের নীর ।
সংসার-সমরাঙ্গনে যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,
ভয়ে ভীত হইও না মানব;
কর যুদ্ধ বীর্যবান, যায় যাবে যাক প্ৰাণ
মহিমাই জগতে দুর্লভ।
মনোহর মূর্তি হেরে, ওহে জীব অন্ধকারে,
ভবিষ্যতে করো না নির্ভর
অতীত সুখের দিনে, পুনঃ আর ডেকে এনে,
চিন্তা করে হইও না কাতর ।
মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে
আমরাও হব বরণীয়
সমর-সাগর-তীরে, পদাঙ্ক অঙ্কিত করে
আমরাও হব হে অমর;
সেই চিহ্ন লক্ষ করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর ।
করো না মানবগণ, বৃথা ক্ষয় এ জীবন,
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;
সঙ্কল্প করেছ যাহা, সাধন করহ তাহা,
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!