কবি বাহ্যদৃশ্যে ভুলতে নিষেধ করেছেন।
যথাসময়ে কাজ করে অর্পিত দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে 'ভবের' উন্নতি করা যায়।
সংসার এক সমরাঙ্গন। এখানে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক রেখে কাজ করতে হবে। কাজের মাধ্যমে জগৎ-সংসারের উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি আমাদের জীবনের নানা স্বপ্ন, প্রেম-ভালোবাসা, পরিবার গঠন, সংসারের নানা যন্ত্রণায় কাতরতা ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। আর এগুলো থেকে পরিত্রাণের জন্য মহাজ্ঞানী কর্মবীরদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, আপন আপন কর্তব্য যথার্থভাবে পালন করে জীবন সার্থক করে তুলতে বলেছেন। কারণ মানবজনম অত্যন্ত মূল্যবান। নিয়মিত নিজের কাজ সম্পন্ন করতে পারলেই ভবের উন্নতি সম্ভব।
পরাজয়ের গ্লানি রবার্ট ব্রুসের মনের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে সেটি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় জীবনযুদ্ধে ভীত না হয়ে নিরন্তর চেষ্টা করে ভবের উন্নতি করার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়েই মানুষের জীবন। সাফল্যের কাছে পৌঁছতে হলে পথে নানা সমস্যা, সংকট অতিক্রম করতে হয়। ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে কোনো কাজ থেকে দূরে থাকলে সাফল্যের মুখ দেখা সম্ভব নয়। তাই ব্যর্থতা এলেও হীনবল হয়ে হাল ছেড়ে বসে থাকলে চলবে না। ব্যর্থতার ভয়ে দূরে সরে গেলে সাফল্যও দূরে চলে যাবে। তাই জীবনকে যথার্থ পরিচর্যা করা উচিত।
উদ্দীপকে একজন বীরের বারবার যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার গ্লানিকর অবস্থা এবং তা থেকে উত্তরণের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে দৃঢ়সংকল্প এবং বারবার চেষ্টার ফলে যে শেষ পর্যন্ত সফলতা আসে সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যুদ্ধে ছয়বার পরাজিত হয়ে হতাশ হয়ে বনে চলে যান রবার্ট ব্রুস। সেখানে একটি মাকড়সাকে ছয়বার ব্যর্থ হয়ে সাতবারের সময় জাল বুনতে সক্ষম হতে দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন এবং সপ্তমবার চেষ্টা করে যুদ্ধে জয়লাভ করেন। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় বর্ণিত জীবনযুদ্ধে ভীত না হয়ে নিরন্তর যুদ্ধ করে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছার অনুপ্রেরণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানেও কবি দৃঢ়সংকল্প নিয়ে, যথার্থ কর্মের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে বলেছেন। সাময়িক বাধা, সমস্যা, সংকট, কষ্ট-যন্ত্রণা উপেক্ষা করেই মানুষকে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে হয়।
'হতাশা নয় বরং সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যই মানুষের জীবনে চরম সাফল্য বয়ে আনে।'- মন্তব্যটি যথার্থ ' ।
মানবজীবন এত সহজ নয়। প্রতিনিয়ত মানুষকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। এই পৃথিবীতে কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাধারণভাবে কোনোকিছু অর্জন করা যায় না। কাজেই মানুষের উচিত দুঃখ-যন্ত্রণা-অলসতা দূর করে জগতে টিকে থাকার কাজে আত্মনিয়োগ করা। কোনো কাজে অস্থির ও অধৈর্য হলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয় না।
উদ্দীপকে রবার্ট ব্রুসের অধৈর্য হয়ে ব্যর্থ মনোরথে বনে চলে যাওয়া এবং সাধারণ একটি মাকড়সার ধৈর্য ও অদম্য চেষ্টায় সফলতার দিক তুলে ধরা হয়েছে। ঘটনাক্রমে রবার্ট ব্রুস ছয়বার যুদ্ধে পরাজতি হয়েছিলেন। আর মাকড়সা ছয়বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে জাল তৈরি থেকে বিরত হয়নি, বরং চেষ্টা চালিয়েছে এবং সমপ্তমবারের সময় সে সফল হয়েছে। এই দৃশ্য দেখে রবার্ট ব্রুস অনুপ্রাণিত হন এবং তিনিও সপ্তমবারের চেষ্টায় যুদ্ধে জয়লাভ করেন। এভাবে উদ্দীপকের মূল চেতনা এবং 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় প্রতিফলিত জীবনের সমস্ত হতাশা ভুলে গিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে করে সফলতা অর্জনের চেতনা একসূত্রে গাঁথা।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি আমাদের জীবনের নানা স্বপ্ন, প্রেম-ভালোবাসা, পরিবার গঠন, সংসারের নানা যন্ত্রণাকাতরতা ও হতাশার কথা বলেছেন। তিনি সংসারে টিকে থাকার জন্য আমাদের বিভিন্ন চেষ্টা ও সংগ্রামের কথা বলেছেন। সেই সংগ্রামে অধৈর্য হলে জীবন কীভাবে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তা ব্যাখ্যা করেছেন। উদ্দীপকে মাকড়সা ছয়বার পরাজিত হয়ে সপ্তমবারে সফল হয়েছে। আর সেই বিষয়টি রবার্ট ব্রুসকে পুনরায় যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। ফলে তিনি সপ্তমবারের চেষ্টায় সফল হয়েছেন। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা হয়েছে যে, 'হতাশা নয় বরং সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যই মানুষের জীবনে চরম সাফল্য বয়ে আনে।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!