নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের উমতাতুর মভেজু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডেসমন্ড টুটু। তিনি ছিলেন অহিংস নীতিতে বিশ্বাসী। সশস্ত্র পথের আন্দোলনকে তিনি কখনই সমর্থন করেননি। নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বাইবেল পড়া সকলের জন্য উচিত বলে তিনি মনে করেন। তার দৃষ্টিতে ধর্মীয় গ্রন্থ মানুষের আত্মাকে জাগ্রত করে। তার আন্দোলন শুধু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তিনি আন্দোলন করছেন এইডসের বিরুদ্ধে, দরিদ্রতার বিরুদ্ধে, যৌনতার বিরুদ্ধে। এ কারণে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিবেক বলা হয়।
উদ্দীপকের জামান সাহেবের কর্মপদ্ধতির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহাত্মা গান্ধীর কর্মপদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে।
আলোচ্য উদ্দীপকে জামান সাহেব সমাজে অশিক্ষা, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সবসময় প্রতিবাদী এবং সোচ্চার। তবে তিনি বিরোধ মীমাংসায় অস্ত্রের ব্যবহার না করে অহিংস পদ্ধতি অনুসরণ করেন। জামান সাহেবের এ চরিত্রের সাথে মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। মহাত্মা গান্ধীর জীবনের লক্ষ্যই ছিল জনসেবা ও গঠনমূলক কাজ। জামান সাহেবের মতো মহাত্মা গান্ধীও অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ইংরেজদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে 'স্বরাজ' আদায়ের লক্ষ্যে তিনি অসহযোগ আন্দোলন, (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) করেন। দাবি আদায়ের ইতিহাসে 'হরতাল' তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবর্তন করেন। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক। বিরোধ মীমাংসায় তাঁর অহিংস নীতি অধিকাংশ দেশে আজ অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে বিরাজমান।
মহাত্মা গান্ধীর সমাজসেবামূলক কাজ এবং অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার অহিংস আন্দোলন তাকে সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত করে তোলে।
মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। 'মহাত্মা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক উপাধি। তার সত্যিকার নাম আজ হারিয়ে গেছে এ বিশাল উপাধির উজ্জ্বলতায়। আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে যারা ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন তাদের মধ্যে অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী একজন। ২১ বছর আফ্রিকায় অবস্থান করে ১৯১৪ খ্রি. ভারতে এসে তিনি সবরমতি নামক স্থানে একটি আশ্রম স্থাপন করে জনসেবা ও মনোনিবেশ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতবর্ষের ব্রিটিশবিরোধী গঠনমূলক কাজে আন্দোলনে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটিশদের উৎখাত করতে তিনি অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০), আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০), ভারত ছাড় আন্দোলন (১৯৪২) সহ বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আহমেদাবাদে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন পরিচালনার প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সারা ভারতবাসী মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় ব্রিটিশদের শাসন-শোষণ ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপী যে জাতীয় চেতনার সৃষ্টি হয়েছিল এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি অবিভক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু থেকে তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীই ছিলেন জাতির আত্মিক ও নৈতিক শক্তির প্রতীক।
উপরিউক্ত আলোচনায় প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজনীতিতে তার অসামান্য অবদানের কারণেই তিনি সমাজসেবী থেকে রাজনীতিবিদে পরিচিতি পান
Related Question
View Allমার্টিন লুথার কিং আমেরিকার মন্টগোমারি রাজ্যের আটলান্টা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
ফ্রান্সের অভিজাতগণ দাবি করেন, অভিজাতরা বহিরাগত বিজেতা জাতি ফ্রাঙ্ক-এর বংশধর। ফ্রাঙ্কিশগণ যেহেতু শ্রেষ্ঠ এবং তাদের দ্বারাই ফ্রান্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু জন্মগতভাবেই তারা তৃতীয় শ্রেণির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এ কারণে সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা, নেতৃত্ব অভিজাতদের প্রাপ্য। তৃতীয় শ্রেণির লোকদের তারা বলে, এরা দাসদের সাথে সংকরায়নের ফলে উদ্ধৃত এজন্য তারা নিকৃষ্ট। আর এভাবে ফ্রান্সে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকের বিষয়টি আমার পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত জুয়েলের গায়ের রং ফর্সা, তমালের গায়ের রং কালো। এ কারণে জুয়েল তমালকে ঘৃণার চোখে দেখে। জুয়েল মনে করে, তমালদের পূর্বপুরুষ নীচু জাতের। এজন্যই তমালের গায়ের রং কালো। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের বর্ণবাদ প্রথার সাদৃশ্য রয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের কারণে বর্ণবাদের ধারণার সৃষ্টি হয়। বর্ণবাদ মানব সমাজে বিদ্যমান একটি ঘৃণ্যপ্রথা। আমেরিকা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এ প্রথা মানবতাকে কলঙ্কিত করেছিল। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের বীজ বপন করে দীর্ঘকাল টিকেছিল। বর্ণবাদের মর্মকথা হলো শ্বেতাঙ্গরা জন্মগতভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের বা অন্যান্য জাতি অপেক্ষা উৎকৃষ্ট এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ওপর কর্তৃত্ব করার অধিকার আছে এবং তাদের প্রতি বৈষম্য আচরণ করা দোষের কিছু নয়।' পরিশেষে বলা যায়, উপনিবেশবাদ ও চরম জাতীয়তাবাদের ধারণা থেকেই বর্ণবাদের সৃষ্টি হয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত ধারণার জন্য অর্থাৎ বর্ণবাদ প্রথার জন্য অনেক দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।
আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বর্ণবাদের কারণে সংঘাত সৃষ্টি * হয়েছিল। আমেরিকা মহাদেশে কৃষিকাজ ও অন্যান্য শ্রম কাজের জন্য আফ্রিকা থেকে নিগ্রোদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো। আফ্রিকার কালো মানুষের প্রতি আমেরিকার শ্বেতাঙ্গরা বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। আমেরিকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রেন, খাবারের দোকান প্রভৃতি ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে বর্ণবাদ নীতি অনুসরণ করত। দক্ষিণ আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসনামলে শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর কর্তৃত্ব করত। কৃষ্ণাঙ্গরা খনি এবং কঠিন কাজে নিয়োগ পেত; কিন্তু মজুরি পেত কম আর শ্বেতাঙ্গরা কম পরিশ্রমে বেশি বেতন পেত। এমনকি আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের অভিবাসী শ্বেতাঙ্গরাও শ্বেতাঙ্গ শাসকদের কাছে পক্ষপাতমূলক আচরণ পেত। স্থানীয় ভারতীয় বিচারকরা ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গদের বিচার করতে পারত না। বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বহুদেশে সংঘাত হয়েছে।পরিশেষে বলা যায়, বর্ণবাদ প্রথার কারণে আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বহু দেশে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
নেলসন ম্যান্ডেলা ২৭ বছর জেল খেটেছিলেন।
১৯১২ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগঠন আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেস সংক্ষেপে ANC প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সংগঠন আফ্রিকানদের সংহতি, যাবতীয় ধরনের বর্ণবৈষম্যবাদের বিরোধিতা করে এবং বর্ণবৈষম্যমুক্ত একীভূত ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ আফ্রিকা প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঘোষণা দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!