উত্তরঃ
কোনো বস্তুকে যদি কোনো মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র থেকে চিরতরে মুক্ত করতে হয়, তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম বেগে নিক্ষেপ করতে হয়, যা মুক্তিবেগ (Escape velocity) নামে পরিচিত। এই বেগের চেয়ে বেশি বেগে নিক্ষেপ করলে বস্তুটি মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে অসীমে চলে যায়। এই প্রশ্নটিতে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপিত কৃত্রিম উপগ্রহের চূড়ান্ত পরিণতি বিশ্লেষণ করতে এর উৎক্ষেপণ বেগ এবং চাঁদের মুক্তিবেগের তুলনা করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য থেকে চাঁদের পরিধি \(C = 10.048 \times 10^6 \text{ m}\) এবং ঘনত্ব \(\rho = 1742.3 \text{ kgm}^{-3}\)।
প্রথমে চাঁদের ব্যাসার্ধ \(R\) নির্ণয় করি:
\(C = 2\pi R\)
\(R = \frac{C}{2\pi} = \frac{10.048 \times 10^6}{2 \times 3.14159} \approx 1.600 \times 10^6 \text{ m}\)
এবার চাঁদের আয়তন \(V\) নির্ণয় করি:
\(V = \frac{4}{3}\pi R^3 = \frac{4}{3} \times 3.14159 \times (1.600 \times 10^6)^3 \approx 1.7107 \times 10^{19} \text{ m}^3\)
চাঁদের ভর \(M\) নির্ণয় করি:
\(M = \rho V = 1742.3 \times 1.7107 \times 10^{19} \approx 2.980 \times 10^{22} \text{ kg}\)
চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে মুক্তিবেগ \(v_e\) নির্ণয় করি:
\(v_e = \sqrt{\frac{2GM}{R}}\)
এখানে, \(G = 6.674 \times 10^{-11} \text{ N m}^2 \text{ kg}^{-2}\) (মহাকর্ষীয় ধ্রুবক)।
\(v_e = \sqrt{\frac{2 \times 6.674 \times 10^{-11} \times 2.980 \times 10^{22}}{1.600 \times 10^6}}\)
\(v_e = \sqrt{\frac{3.9755 \times 10^{12}}{1.600 \times 10^6}} = \sqrt{2.4847 \times 10^6}\)
\(v_e \approx 1576.3 \text{ m/s} = 1.5763 \text{ km/s}\)
প্রশ্নানুযায়ী, কৃত্রিম উপগ্রহটিকে \(1.7538 \text{ kms}^{-1}\) বেগে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এটিই উপগ্রহটির উৎক্ষেপণ বেগ (\(v_L\))।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, উৎক্ষেপণ বেগ \(v_L = 1.7538 \text{ km/s}\) এবং চাঁদের মুক্তিবেগ \(v_e = 1.5763 \text{ km/s}\)। যেহেতু \(v_L > v_e\), অর্থাৎ উৎক্ষেপণ বেগ চাঁদের মুক্তিবেগের চেয়ে বেশি, তাই কৃত্রিম উপগ্রহটি চাঁদের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে চিরতরে অসীমে চলে যাবে। এটি আর চাঁদের দিকে ফিরে আসবে না বা এর কক্ষপথেও ঘুরবে না।
উপসংহারে বলা যায়, চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে \(1.7538 \text{ kms}^{-1}\) বেগে উৎক্ষেপণ করা হলে কৃত্রিম উপগ্রহটি চাঁদের মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র থেকে মুক্ত হয়ে যাবে এবং মহাকাশে তার যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এই বিশ্লেষণ নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র এবং শক্তি সংরক্ষণশীলতার নীতির উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।