মধ্যমস্তিষ্কের পিছনে অবস্থিত নলাকৃতি বৃহৎ অংশের নামই হলো পনস।
প্রাকৃতিক প্রধান ফাইটোহরমোন অক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসিসিক এসিড, ইথিলিন ইত্যাদি ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি। এদের পস্টুলেটেড হরমোন বলে। এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। যেমন- ফ্লোরিজেন ও ভার্নালিন।
উদ্দীপকে বর্ণিত উপাদানটি হলো উদ্ভিদ হরমোন বা ফাইটোহরমোন। বাগান কর্মীর কার্যক্রমকে ত্বরান্বিতকরণে ফাইটোহরমোনের ভূমিকা নিচে বর্ণনা করা হলো-
অক্সিন: অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায় ও ফলের অকাল ঝরে পড়া রোধ হয়। এছাড়াও অভিস্রবণ ও শ্বসন ক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায়। বীজহীন ফল উৎপাদনে এর ব্যবহার রয়েছে।
জিবেরেলিনঃ এর প্রভাবে, উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। ফলে উদ্ভিদের কাণ্ড দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ফুল ফোটাতে এবং বীজের সুপ্তাবস্থার দৈর্ঘ্য কমাতে এবং অঙ্কুরোদগমে এর কার্যকারিতা রয়েছে।
সাইটোকাইনিন: কোষের বৃদ্ধি, অঙ্গের বিকাশ সাধন, বীজ ও অঙ্গের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গকরণে ও বার্ধক্য বিলম্বিতকরণে সাইটোকাইনিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইথিলিন: এটি ফল পাকাতে সাহায্য করে এবং ফুল ও ফল সৃষ্টির সূচনা করে।
আমরা জানি, মানব প্রজননে বিভিন্ন ধরনের হরমোনের প্রভাব রয়েছে। আমাদের দেহে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে। যেমন – ১. পিটুইটারি গ্রন্থি ২. থাইরয়েড গ্রন্থি ৩. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি ৪. শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি ৫. ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি এবং ৬. অমরা।
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বিভিন্ন ধরনের বৃদ্ধি উদ্দীপক হরমোন ও উৎপাদক হরমোন নিঃসৃত হয়। এ হরমোনগুলো জননগ্রন্থি বৃদ্ধি, ক্ষরণ' ও কাজ নিয়ন্ত্রণ, মাতৃদেহে স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ও দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাছাড়া এগুলো জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নিঃসৃত হয়। এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি, যৌনলক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন যৌনাঙ্গ বৃদ্ধি ও যৌনলক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। শুক্রাশয় থেকে নিঃসৃত টেস্টোস্টেরন ও অ্যান্ড্রোজেন; যারা শুক্রাণু উৎপাদন, দাঁড়ি গোফ গজানো, গলার স্বর পরিবর্তন ইত্যাদি যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। ডিম্বাশয় থেকে নিঃসৃত ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও রিলাক্সিন হরমোন, যারা মেয়েদের নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ, অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অমরা থেকে নিঃসৃত গোনাডোট্রপিক ও প্রোজেস্টেরন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে ও স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি কর্মকর্তার উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allউদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দই হলো বায়োলজিক্যাল ক্লক।
উদ্ভিদে পুষ্প সৃষ্টিতে উষ্ণতার প্রভাবকে ভার্নালাইজেশন বলে। শীতের গম গরমকালে লাগালে ফুল আসতে বহু দেরী হয়। কিন্তু, বীজ রোপনের পূর্বে ২০-৫০ সে. উষ্ণতা প্রয়োগ করলে উদ্ভিদে স্বাভাবিক পুষ্প প্রস্ফুটন ঘটে। এ পদ্ধতিটি হলো প্রকৃতপক্ষে ভার্নালাইজেশন।
উদ্ভিদের ফুল ফোটা কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন- নিরবিচ্ছিন্ন আলোক দৈর্ঘ্য। উদ্দীপকের ফলজ গাছগুলো হয়তো তার প্রয়োজনীয় নিরবিচ্ছিন্ন আলো পায়নি। অর্থাৎ ফলজ গাছগুলো বড় দিনের হলেও তাদের হয়তো ছোট দিনে লাগানো হয়েছিল। তাই এই সময়ে ফলজ গাছগুলোতে ফুল ফোটেনি।
এছাড়া ফুল ফোটার জন্য উদ্ভিদদেহে তৈরি হয় কিছু হরমোন। যেমন- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন। ফ্লোরিজেন পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে প্রস্ফুটিত করে। ভার্নালিনও পুষ্প প্রস্ফুটনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের ফলজ গাছগুলোতে উপরে বর্ণিত পুষ্প উদ্দীপক হরমোন দুটি অর্থাৎ ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন-এর কোনটিই তৈরি হয়নি বলে ফলজ গাছগুলোতে ফুল ফোটেনি।
ফলজ গাছগুলোতে আরেকটি সমস্যা ছিল ছোট অবস্থায় ফল ঝরে পড়া। উদ্ভিদদেহে কিছু হরমোন তৈরি হয় যা পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি ঝরাতে সাহায্য করে। এ হরমোনগুলোর মধ্যে অ্যাবসিসিক এসিড এবং ইথিলিন প্রধান। উদ্দীপকের ফলজ উদ্ভিদগুলোর ছোট ফলের বোটায় অ্যাবসিসিক এসিড বা ইথিলিন অধিক তৈরি হওয়ায় ছোট অবস্থায়। ফলগুলো ঝরে পড়েছিল।
কৃষি খামারে খামারীরা ঠাণ্ডা ঘরের ভেতর ছোট ছোট চারা রেখেছিল যেখানে একটি আলো জ্বালানো ছিল। খামারীরা লাভবান হওয়ার জন্য ফসলী উদ্ভিদে আগাম ফুল, ফল ধারণের লক্ষ্যে এমন পরিবেশে গাছগুলোকে রেখেছিল। উদ্ভিদে ফুল ধারণ অনেক সময় নির্ভর করে নিরবিচ্ছিন্ন আলোেক দৈর্ঘ্যের উপর। আবার আলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ এবং শাখা-প্রশাখা তৈরীতে ভূমিকা রাখে। উপযুক্ত বৃদ্ধি, বিকশিত ও শাখান্বিত উদ্ভিদে অধিক ফুল ও ফল ধারণ করে। উদ্দীপকের ঘরটিতে রাখা আলো এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ছোট ছোট চারাগাছগুলোকে ঠান্ডা ঘরে রাখা হয়েছিল। শৈত্য বা ঠান্ডা প্রদানের মাধ্যমে ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ভার্নালাইজেশন। ভার্নালাইজেশনের কারণে উদ্ভিদ ভূণের অগ্রভাগে 'ভার্নালিন' নামক এক প্রকার পুষ্প উদ্দীপক হরমোন তৈরি হয়। এই ভার্নালিন পুষ্প প্রস্ফুটনে তথা ফল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
সুতরাং অহনার দেখা গাছগুলোকে খামারীরা উক্ত পরিবেশে রেখেছিল অধিক ও আগাম ফুল-ফল ধরানোর লক্ষ্যে। এতে খামারীরা লাভবান হবে।
যে সব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুম্না কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাই প্রতিবর্তী ক্রিয়া।
নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এক ধরনের রসকে বলা হয় প্রাণরস বা হরমোন। প্রাণরস রক্তস্রোতের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য কোষে পৌঁছে কোষের প্রাণরাসায়নিক কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে এবং জৈবিক কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
