ভূপৃষ্ঠ এবং তার নিকটস্থ বস্তুর তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে ভাসমান জলীয়বাষ্প সরাসরি বরফ কণায় পরিণত হয়ে ভূপৃষ্ঠে পতিত হয়, এটিই তুষারপাত।
শুষ্ক মৌসুমে একটানা দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাতহীন অবস্থাই খরা। খরা ফসলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ অবস্থায় বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে। এ সময় তাপমাত্রা বেশি ও সূর্যালোক প্রখর থাকায় ফসলের জন্য মাটিতে প্রয়োজনীয় রসের ঘাটতি থাকে। ফলে ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খরার কারণে জমিতে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাওয়ায় উদ্ভিদ কোষস্থ পানির পরিমাণ কমে যাবার অবস্থা পরিবর্তনের কৌশল সম্পর্কে সজীব জানতে চায়। এর জবাবে স্যার উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তরের স্বল্প পানির সাম্যতা নিয়ে টিকে থাকার ক্ষমতা বা খরা সহ্যকরণ সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। খরা সহ্যকরণে উদ্ভিদ নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে-
i. কোষের পানিশূন্যতা রোধকরণে উদ্ভিদ কোষাভ্যন্তরে প্রচুর পানি জমা রাখে। ফলে কোষের অভিস্রবনিক চাপ বজায় থাকে। কোষ চুপসে যায় না। তুলা উদ্ভিদ এভাবে খরা সহ্য করে।
ii. কোষে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া ও কোষপ্রাচীর মোটা হওয়ার কারণে কোষ নেতিয়ে পড়ে না।
iii. কোষ গহ্বরে তরল পদার্থ সঞ্চিত থাকে, যা উদ্ভিদকে খরা সহ্যকরণে সহায়তা করে। এজন্য পত্রমুকুল খরা সহ্য করতে পারে।
iv. অনেক বহুবর্ষী উদ্ভিদ খরার সময় উপরের পাতা শুকিয়ে ফেলে। কিন্তু মাটির নিচে কন্দ, বাল্ব অথবা রাইজোম গঠন করে সুপ্তাবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে এগুলো অঙ্কুরিত হয়।
সজীবের প্রশ্নের জবাবে শামীম স্যার উদ্ভিদের এভাবে খরা সহ্য করার কৌশল সম্পর্কে বললেন।
উদ্ভিদের অভিযোজন সম্পর্কিত শামীম স্যারের বক্তব্যটি হলো, প্রস্বেদন হার কমিয়ে উদ্ভিদ খরা মোকাবেলায় অভিযোজিত হতে পারে। নিম্নলিখিত উপায়ে প্রস্বেদন হার কমিয়ে উদ্ভিদ খরা মোকাবেলা করে-
i. পত্ররন্দ্র খোলা থাকলে প্রস্বেদন বৃদ্ধি পায় আর পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকলে প্রস্বেদন কমে। প্রস্বেদন হার কমাতে প্রয়োজনে উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে দেয়।
ii. পাতার ওপর লিপিড বা মোমের আস্তরণ থাকলে প্রস্বেদন হার কমে। যেমন: সয়াবিন উদ্ভিদ প্রভাবে অভিযোজিত হয়।
iii. পাতার আকার হ্রাস পেলে পাতায় পত্ররন্দ্রের পরিমাণ কমে। ফলে প্রস্বেদন হার কমে। যেমন- গোমটর।
iv. খরার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনেক উদ্ভিদ নিচ থেকে পাতা ঝরিয়ে ফেলে। এতে পত্ররন্দ্রের পরিমাণ কমে এবং প্রস্বেদন হার হ্রাস পায়। যেমন- তুলা, চিনাবাদাম ইত্যাদি।
প্রস্বেদন হার কমলে উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তরের পানির অপচয় হ্রাস পায়। ফলে উদ্ভিদ খরার সময়েও অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারে। তাই শামীম স্যারের বক্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allজিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।
কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।
বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।
তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
i. স্বল্প দিবস ফসল
ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও
iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।
যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!