ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
বৃষ্টি কবিতায় 'বিষণ্ণ মেদুর' বলতে রুক্ষ প্রকৃতির প্রাণ ফিরে পাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
বৃষ্টিবিহীন প্রকৃতির রুক্ষতা বৃষ্টির আগমনে দূরীভূত হয়েছে। প্রকৃতি তাই স্নিগ্ধকোমল হয়ে চারদিক প্রাণোচ্ছল করে তুলেছে। প্রকৃতিতে বৃষ্টি না থাকলে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক প্রাণোচ্ছলতা হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতির সবকিছু বিষণ্ণ মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে যখন বৃষ্টির ছোঁয়া লাগে, তখন প্রকৃতি হারানো প্রাণ ফিরে পায়। সবকিছু সতেজ-সবল হয়ে ওঠে। আলোচ্য কবিতায় 'বিষণ্ণ মেদুর' বলতে প্রকৃতির সেই প্রাণ ফিরে পাওয়াকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টিস্নাত দিনে মানবমনে যে অনুভব-অনুভূতির সৃষ্টি হয় সেই দিকটি ফুটে উঠেছে।
বৃষ্টিমুখর দিনে প্রকৃতির সাথে সাথে মানবমনেও এক অনির্বচনীয় অনুভূতি জাগে। সংবেদনশীল মানুষ প্রকৃতির সাথে সাথে রসসিক্ত হয়ে ওঠে। প্রিয়জনের কথা ভেবে মন ব্যাকুল হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের বর্ষাস্নাত দিনে নিভৃত পল্লির মানুষের মন কেমন হয় তা প্রকাশ পেয়েছে। ঘনঘোর বৃষ্টিতে পল্লিবা হৃদয়ের মায়া-মমতা দিয়ে নকশিকাঁথা সেলাই করে। তাঁদের বুকের মাঝে যে স্বপ্ন থাকে তা সুতার টানে ভাষা দেয়। বাইরের অঝোর বর্ষণ মানুষের মনকে বিরহকাতর করে তোলে। এমন দিনে প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও বর্ষার প্রথম অবিরল বৃষ্টি ধারায় প্রকৃতি ও মানুষের এমনই কর্মপ্রবাহ ও মনোবৃত্তি অঙ্কিত হয়েছে। বৃষ্টির দিনে তৃষিত বনবনানীর রসসিক্ততার মতো সংবেদনশীল মানুষের মনও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। মানুষের মনে পড়ে সুখময় অতীত স্মৃতি; আর সেই ভালো লাগার আলপনা আঁকে মনে মনে। বৃষ্টির ধারা মানুষের একাকী জীবনের বেদনা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'বৃষ্টি' কবিতার বৃষ্টিস্নাত দিনে মানবমনে যে অনুভব-অনুভূতির সৃষ্টি হয় সেই দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার আংশিক প্রতিফলন মাত্র- মন্তব্যটি যথার্থ।
রূপসী বাংলার বুকে গ্রীষ্মের পর আসে শ্যামল সরস সজল নবীন বর্ষার বৃষ্টিপাত। পল্লি প্রকৃতিতে বর্ষার বৃষ্টিধারা নিয়ে আসে যৌবনের উদ্দামতা। অবিশ্রান্ত বর্ষণে মাঠ-ঘাট, খাল-বিল, নদী-নালা ভরে যায়। মাটির কঠিন শাসন ভেদ করে নবীন শস্যশিশুর দল বেরিয়ে আসে নবজীবনের জয়যাত্রায়। বিভিন্ন ফুলের বিচিত্র বর্ণ-গন্ধের উৎসবে মেতে ওঠে বাংলার প্রকৃতি। মানুষের হৃদয়-দ্বার যেন খুলে যায়।
উদ্দীপকে বর্ষার সময় বৃষ্টিমুখর দিনে পল্লিবধূরা গভীর অনুরাগে নকশিকাঁথায় রঙিন ফুল তুলছে। তাদের বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন যেন সুতার টানে ভাষা পাচ্ছে। বাইরে অঝোর ধারায় বর্ষণ হচ্ছে। সেই বর্ষণে বাঁশবন নুয়ে পড়ছে। এমন দিনে প্রিয়জনের কথা মনে পড়ছে। 'বৃষ্টি' কবিতার শেষ চারটি চরণেও উদ্দীপকের এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তৃষিত বনের সাথে জেগে ওঠে তৃষাতপ্ত মন। উদ্দীপকের সঙ্গে 'বৃষ্টি' কবিতার শেষ চারটি চরণের এ মিলটুকু ছাড়া আর কোনো মিল দেখা যায় না।
'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টিধারায় স্নাত বাংলার সামগ্রিক জীবন ও প্রকৃতি অঙ্কিত হয়েছে। সেখানে বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতে পদ্মা-মেঘনার বাংলাদেশে বন্যার প্রাণচাঞ্চল্য এবং আবাদি জমিতে গৌরবের ফসল ফলে। আকাশের সর্বত্র মেঘ ও বিদ্যুৎ রূপসী-পরিদের খেলা দেখা যায়। বর্ষার ফুল ফুটলে সর্বত্র মোহিত হয়। রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। 'বৃষ্টি' কবিতার উপর্যুক্ত সব বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে বৃষ্টিধারায় প্রকৃতি ও মানবমনের এক বিশেষ অনুভূতি অঙ্কিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View AllAnswer
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!