'বৃষ্টি' কবিতায় পদ্মা ও মেঘনা নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এবং ফসলের সম্ভারে ভরিয়ে দিতেই রৌদ্র-দগ্ধ ধানখেত আজ বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায়।
গ্রীষ্মের প্রচন্ড উত্তাপে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে যেন আগুন ধরে যায়। গাছপালা, লতাপাতা ও খেতের নবীন ফসল দুঃসহ তাপে ঝিমিয়ে পড়ে। তখন বৃষ্টির স্পর্শে রৌদ্র-দন্ধে ঝিমিয়ে পড়া গাছপালা, লতাপাতা ও ধানখেত নতুন প্রাণ পেয়ে সতেজ, সবুজ ও পুষ্ট 'হয়ে ওঠে। এ কারণেই রৌদ্র-দগ্ধ ধানখেত আজ বৃষ্টির স্পর্শ পেতে চায়।
উদ্দীপকের শেষ পঙ্ক্তির সঙ্গে 'বৃষ্টি' কবিতার শেষের চার চরণের মিল রয়েছে।
বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানবমনেও এক অনির্বচনীয় অনুভূতি জাগে। নওল বৃষ্টিধারায় স্নাত বন-বনানীর সাথে সুদূরের ভাবনায় জেগে ওঠে মানুষের মন। বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীল মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে রসসিক্ত হয়ে আন্দোলিত হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নিভৃত পল্লির মানুষের মন বর্ষাস্নাত একটি দিনের চিত্রালেখ্য অঙ্কিত হয়েছে। ঘনঘোর বৃষ্টিতে পল্লিবা অবসর পেয়ে কেউবা নকশিকাঁথায় গভীর অনুরাগে রঙিন ফুল তোলে। বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন সুতার টানে যেন ভাষা পায়। বাইরে অঝোর ধারায় অবিরল বর্ষণ চলে। সেইই বর্ষণে বাঁশবন নুয়ে পড়ে। এমন দিনে প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে যায়। 'বৃষ্টি' কবিতায়ও বর্ষার প্রথম অবিরল বৃষ্টিপাতে প্রকৃতি ও মানুষের এমনই কর্মপ্রবাহ ও মনোবৃত্তি অঙ্কিত হয়েছে। বৃষ্টির দিনে তৃষিত বনবনানীর রসসিক্ততার মতো সংবেদনশীল মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। তার মনে পড়ে সুখময় অতীতে স্মৃতি, আর সেই ভালো লাগার আলপনা আঁকে মনে মনে। এ বৃষ্টিধারা কখনো মনকে বিষণ্ণও করে, একাকী জীবনের বিরহ-বেদনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
"উদ্দীপকটি 'বৃষ্টি' কবিতার একটা বিশেষ ভাব প্রকাশ করে মাত্র, সমগ্র ভাব নয়"- মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত।
পল্লি প্রকৃতিতে বৃষ্টিধারা নিয়ে আসে যৌবনের উদ্দামতা। অবিশ্রান্ত বর্ষণে মাঠ-ঘাট, খাল-বিল, নদী-নালা ভরে ওঠে। বিভিন্ন ফুলের বিচিত্র বর্ণ-গন্ধের উৎসবে মেতে ওঠে বাংলার প্রকৃতি। মানুষের হৃদয়-দ্বার যেন খুলে যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ঘনঘোর বর্ষায় পল্লিবধূরা অবসর পেয়ে কেউবা নকশিকাঁথায় গভীর অনুরাগে বুনছে রঙিন ফুল। বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন সুতার টানে তা যেন ভাষা পাচ্ছে। বাইরে অঝোর ধারায় বর্ষণ হচ্ছে। সেই বর্ষণে বাঁশবন নুয়ে পড়ছে। এমন দিনে প্রিয়জনের কথা মনে পড়ছে। 'বৃষ্টি' কবিতার শেষ চারটি চরণেও উদ্দীপকের এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
'বৃষ্টি' কবিতায় বৃষ্টিধারায় স্নাত বাংলার সামগ্রিক জীবন ও প্রকৃতি অঙ্কিত হয়েছে। সেখানে বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতে পদ্মা-মেঘনার বাংলাদেশে বন্যার প্রাণচাঞ্চল্য এবং আবাদি জমিতে গৌরবের ফসল ফলে। আকাশের সর্বত্র মেঘ ও বিদ্যুৎ, রূপসী-পরিদের খেলা দেখা যায়। বর্ষার ফুল ফুটলে সর্বত্র মোহিত হয়। রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। 'বৃষ্টি' কবিতার উপর্যুক্ত সব বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে বৃষ্টিধারায় প্রকৃতি ও মানবমনের এক বিশেষ অনুভূতি অঙ্কিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View AllAnswer
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!