কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লুটায়।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে জীবন সংগ্রাম করে সংকট থেকে নতুন জীবন লাভ করার কথা বলা হয়েছে।
আমরা চলার পথে জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হই। জীবনে চলার পথে নানা রকম বিপদে পড়ি। আবার সংকট কাটিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি। বন্ধু খুঁজি, এক সঙ্গে বাস করি। তাই কবি বলতে চেয়েছেন আমরা বিপদে পড়ি আবার সমাধান পেলে বিপদ থেকে উদ্ধার হয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকটি 'মানুষ জাতি' কবিতার জাতভেদের দিকটিরপ্রতিনিধিত্ব করেছে।
মানুষ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। আর ভেদাভেদ মানুষের সৃষ্টি। প্রকৃত বিচারে মানুষের মাঝে কোনো রকম ভেদাভেদ কাম্য হতে পারে না। মানুষের বড় পরিচয় সে মানুষ।
উদ্দীপকে জাতি-বর্ণভেদের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। সব মানুষই একই উৎস থেকে আগত, আবার একই দিকে ধাবিত। কিন্তু ধর্ম-বর্ণের বৈষম্য মানুষকে মানুষের বড় পরিচয় থেকে সংকীর্ণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা একজন প্রকৃত মানুষের কখনই কাম্য হতে পারে না। 'মানুষ জাতি' কবিতায়ও জাতি-বর্ণভেদের বিষয়টি উঠে এসেছে মানুষের কৃত্রিম পরিচয় যেমন, জাত-বর্ণ-সম্প্রদায় ইত্যাদি মানুষের পরিচয়কে সংকীর্ণ করছে। এ ধরনের কৃত্রিম পরিচয়েই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব অমর্যাদার ধুলায় লুটায়। সুতরাং উদ্দীপকটি 'মানুষ জাতি' কবিতার জাতভেদের দিকটির প্রতিনিধিত্ব করেছে।
"উদ্দীপকটির ভাবার্থ এবং 'মানুষ জাতি' কবিতার ভাবার্থের মিল থাকলেও সম্পূর্ণ ভাবের ধারক নয়।"- মন্তব্যটি যথাযথ।
সব মানুষের সুখ-দুঃখ, ক্ষুধা-তৃষ্ণার অনুভূতি একই ধরনের, রক্তের রংও এক। এতে পার্থক্য না থাকলেও মানুষ কৃত্রিম পরিচয় নিজেদের মধ্যে তৈরি করে পার্থক্য সৃষ্টি করেছে।
উদ্দীপকে মানুষের কৃত্রিম পরিচয় তথা জাতভেদের বিষয়টি বিবৃত হয়েছে। মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে তখন জাতের চিহ্ন কারও গায়ে লেখা থাকে না। 'মানুষ জাতি' কবিতায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক মানুষ পৃথিবীর আলো-বাতাসে লালিত হচ্ছে। মানুষের অনুভূতি ও রক্তের রং একই ধরনের। কিন্তু জাতিভেদ মানুষের মাঝে সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে চলেছে।
উদ্দীপকে শুধু জাতভেদের বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া যায়। কিন্তু 'মানুষ জাতি' কবিতায় জাতভেদের পাশাপাশি মানুষের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও পাওয়া যায়। সেখানে সবাই একই পৃথিবীর সন্তান; সবাই ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালা সমানভাবে অনুভব করে ইত্যাদি বিষয় প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!