সরস্বতী বিদ্যার দেবী। তিনি সকলকে বিদ্যা দান করেন। এছাড়া তিনি সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও জ্ঞান বা বিদ্যা দান করেন। তাই আমাদের মনের অজ্ঞানতা দূর করার জন্য এবং জ্ঞান বিকাশের জন্য দেবী সরস্বতীর পূজা করি।
ঈশ্বরের সাকার রূপকে দেব-দেবী বলে। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা, কালী ইত্যাদি। এ সকল দেব- দেবী ঈশ্বরের বিশেষগুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। এই শক্তি বা গুণ লাভ করার জন্য আমরা দেব-দেবীর পূজা করি।

পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বা তাঁর কোনো রূপকে ফুল ও নানা উপকরণ দিয়ে স্তুতি করা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা। পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দ। অর্থাৎ যে উৎসবগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে, এমন ধরনের অনুষ্ঠানকে পার্বণ বলে অভিহিত করে থাকি। এ অধ্যায়ে দেব-দেবীর ধারণা, পূজা-পার্বণের ধারণা, পূজার গুরুত্ব, গণেশ দেব ও সরস্বতী দেবীর পূজা পদ্ধতি, পূজার শিক্ষা ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- দেব-দেবী সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- পূজা-পার্বণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- দেব-দেবীর পূজার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
- গণেশ দেবের পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- গণেশ দেবের প্রণাম মন্ত্রসহ সরলার্থ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
- জীবনাচরণে গণেশ দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- সরস্বতী দেবীর পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- সরস্বতী পূজার প্রণাম ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র সরলার্থসহ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
- সমাজ ও নিজ জীবনে সরস্বতী পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- গণেশ ও সরস্বতী পূজায় উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allপূজা শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
পূজা হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন। আমাদের ভিতরে যে আত্মা আছে তাকে পবিত্র করা, মনকে সুন্দর করা এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি মনের একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করতে আমরা পূজা করে থাকি।
দীপ্তর বাবা গণেশ দেবের পূজা করেন। নিচে গণেশ দেবের পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
দুর্গাপূজা ও বাসন্তী পূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী, তিথিতে বিশেষভাবে গণেশ দেবের পূজা করা হয়। এছাড়া যেকোনো পূজা করার আগে গণেশ দেবের পূজা করার রীতি রয়েছে। পূজা যথাযথভাবে সমাপ্ত করার জন্য পূজার উপকরণ না হয়ে করতেহয়। পূজা করার বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হয়। গণেশ পূজায় তুলসীপত্র নিষিদ্ধ।
গণেশ দেবের প্রণামমন্ত্রটি হলো-
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম্।
দীপ্ত তার বিদ্যায় সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিবছর প্রতিমা নির্মাণ করে দেবী সরস্বতীর আরাধনায় মত্ত হয়। আর তার বাবা ব্যবসায়ের সাফল্য কামনা এবং সকল বাধাবিঘ্ন দূর করার জন্য গণেশ দেবের পূজায় মত্ত হয়।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংঘটিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। সকলে মিলে যখন পূজা করা হয় তখন পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসবমুখর। প্রতিমা আনয়ন, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, মন্দিরে পূজার সাজসজ্জা, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান প্রভৃতি আমাদের মনে সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর lov ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের ভাব acti আগ্রত হয়।
পার্বণ শব্দটির অর্থ হচ্ছে পর্ব বা উৎসব।
১১. মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হয়ে থাকে, অন্যদিকে আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা হয়। ২. সরস্বতী দেবীর আরাধনা মূলত বিদ্যার আরাধনা অন্যদিকে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা হচ্ছে সম্পদের আরাধনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!