পূজার কতকগুলো মৌলিক উপাদান রয়েছে। যেমন-
আবাহন : দেব-দেবীর আগমনি অনুষ্ঠান।
অর্ঘ প্রদান: দেবীকে আসনস্থিত করে শ্রদ্ধা নিবেদন।
ধ্যান : দেবতার সামনে একমনে দেবতাকে স্মরণ করা।'
পূজামন্ত্র : এক এক দেবতার পূজার জন্য এক একটি মন্ত্র নির্দিষ্ট থাকে।
পুষ্পাঞ্জলি: বিভিন্ন প্রকারের ফুল, বেলপাতা, দুর্বা দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ।
প্রার্থনামন্ত্র : প্রার্থনা করার সময় এ মন্ত্র পাঠ করতে হয়।
প্রণামমন্ত্র : দেবতাকে প্রণাম করার সময় এ মন্ত্র পাঠ করতে হয়। পূজার সময় উপর্যুক্ত উপাদানগুলো অবশ্যই প্রয়োজন হয় তাই এগুলোকে মৌলিক উপাদান বলে।
পূজা হলো বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমার সামনে বসে নির্দিন্ট কিছু মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে বিনীতভাবে ঈশ্বরের কাছে মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রার্থনা করা। সামগ্রিক মঙ্গল লাভের প্রত্যাশায় ঈশ্বরের সাকার রূপের সামনে বসে প্রার্থনা করাকে বলা হয়ে থাকে পূজা। যেমন- দূর্গা পূজা, কালী পূজা ইত্যাদি।
পার্বণ শব্দের অর্থ পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। অর্থাৎ পার্বণ বলতে বোঝায় সেসব পর্ব যা পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন প্রভৃতি।
সরস্বতী দেবী বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে সরস্বতী বাগদেবী, বিরজা, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা প্রভৃতি নামেও পরিচিত। সরস্বতী দেবীর বর্ণ চন্দ্রের কিরণের মতো শুদ্র। তাঁর হাত আছে বীনা ও পুস্তক। রাজহংস তাঁর বাহন।
ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তি যখন আকার পায়, তখন তাঁদের দেব-দেবী বলে। অর্থাৎ দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ। যেমন-ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ প্রভৃতি। তাঁরা সকলেই ঈশ্বরের বিশেষ বিশেষ শক্তি বা গুণের অধিকারী।
ব্রহ্মা সৃষ্টি করেন, পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণু সকল জীবের প্রতিপালন করেন এবং শিব ঠাকুর ধ্বংস করে ভারসাম্য রক্ষা করেন। সরস্বতী বিদ্যার দেবী, গণেশ সফলতা রা সিদ্ধিদাতা।
দেব-দেবী অনেকজন। এ সকল দেব-দেবীর পূজার মাধ্যমে আমরা তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। পূজার মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে বিশেষ বিশেষ গুণ বা শক্তি প্রার্থনা করি। প্রার্থনায় দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের মঙ্গল করেন।
সাধারণ অর্থে পূজা বলতে প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে বোঝায়। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা সাকার উপাসনার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে দেব-দেবীর প্রশংসা বা শ্রদ্ধা করার জন্য তাঁদের সেবা, স্তুতি ও গুণকীর্তন এবং বিভিন্ন উপকরণ, ভোগ্য নৈবেদ্য নিবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে পূজা বলা হয়।
পূজার আচরণগত দিক বলতে পূজা করার রীতিনীতিকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ পূজা কীভাবে করতে হবে, কীভাবে প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে, কীভাবে সেই দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনা করতে হবে, কী কী উপাচারের প্রয়োজন হবে ইত্যাদি বিষয় হচ্ছে পূজার আচরণগত দিক।
দেশ ও অঞ্চলভেদে পূজা পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে। তবে পূজা করার মৌলিক দিকগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আবাহন, অর্ঘ্য প্রদান, ধ্যান, পূজামন্ত্র, পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র ইত্যাদি পূজার বিভিন্ন অঙ্গ।
আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে থাকি। তার মধ্যে কোনো কোনো দেব-দেবীর প্রতিদিন পূজা করি। আবার প্রতি সপ্তাহে, প্রতি মাসে বা বছরের বিশেষ বিশেষ সময়েও বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজার আয়োজন করে থাকি।
দেব-দেবী অনুসারে পূজা পদ্ধতি ও মন্ত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে যেকোনো দেব-দেবীর পূজা করার ক্ষেত্রে কতকগুলো সাধারণ নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হয়। এ নিয়মনীতিগুলোকে সাধারণভাবে পূজাবিধি বলে।
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যেসব পর্ব পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, ঢাক-ঢোল করতাল ইত্যাদি বাদ্যের আয়োজন ইত্যাদি হলো পার্বণের উদাহরণ।
যেসব পর্ব পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে তাই হলো পার্বণ। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, বিভিন্ন বাদ্যের আয়োজন, বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, শঙ্খ, করতাল ইত্যাদি; ভক্তদের সাথে ভাববিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া বিভিন্ন আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি।
সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংগঠিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা-পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। এর ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দের ভাব জাগ্রত হয়।
পূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
যেমন- ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ইত্যাদি। অনেকে স্মরণিকাও প্রকাশ করে থাকেন। পূজা-পার্বণ উপলক্ষ্যে এসব আয়োজন আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়।
পূজা-পার্বণে সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে উন্নত খাবার দাবারের আয়োজন করা হয় এবং ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া হয়। তাই পারিবারিক পুষ্টি সমস্যা সমাধানে পূজা-পার্বণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন পূজায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের অংশবিশেষ প্রয়োজন হয় যাকে পূজা উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর ফলে শিশুরা শৈশব থেকেই বিভিন্ন ধরনের গাছপালার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং উদ্ভিদের গুণাগুণ সম্পর্কে অবহিত হয়।
গণেশদেব সিদ্ধি ও সফলতার দেবতা। গণেশ দেব গণপতি, গজানন, হেরম্ব, বিনায়ক প্রভৃতি নামে পরিচিত। গণেশের শরীর মানুষের মতো। তার ওপর গজ বা হাতির মাথা বসানো। এজন্য তাঁকে গজানন বলা হয়। তাঁর চার হাত, তিন চোখ। লম্বা তাঁর উদর, স্থূল বা মোটা তাঁর শরীর। তিনি একটু বেঁটে। গণেশের বাহন ইঁদুর।
গণেশ দেবকে সিদ্ধি বা সফলতার দেবতা বলা হয়। তিনি সকল বাধাবিপত্তি দূর করে মানুষের সকল প্রচেষ্টায় সফলতা দান করেন। এ কারণে যেকোনো শুভ কাজ আরম্ভের পূর্বে দেবতা গণেশের পূজা করা হয়। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা নববর্ষে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গণেশের পূজা করেন।
দুর্গাপূজা ও বাসন্তীপূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থ তিথিতে বিশেষভাবে গণেশদেবের পূজা করা হয়। এছাড়া যেকোনো পূজা করার আগে গণেশদেবের পূজা করার রীতি রয়েছে।
যেকোনো পূজা করার আগে গণেশদেবের পূজা করা হয়। তবে দুর্গা ও বাসন্তীপূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসে তাঁর বিশেষভাবে পূজা করা হয়। পূজা যথাযথভাবে সমাপ্ত করার জন্য পূজার উপকরণসমূহ সংগ্রহ করতে হয়। পূজা করার বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হয়। গণেশ পূজায় তুলসিপত্র নিষিদ্ধ।
গণেশদেবের প্রণাম মন্ত্র সরলার্থসহ লেখা হলো-
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম্।
সরলার্থ: যিনি এক দাঁত বিশিষ্ট, যাঁর শরীর বিশাল, লম্বা উদর, যিনি গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী, সেই হেরম্বদেব গণেশকে প্রণাম জানাই।
সিদ্ধি শব্দটির অর্থ সাফল্য, পারদর্শিতা বা কৃতকার্যতা। আর সিদ্ধিদাতা শব্দটির অর্থ সফলতাদায়ক। গণেশদেব আমাদের সফলতাদানের দেবতা। তাই তাঁকে সিদ্ধিদাতা বলা হয়। এজন্য বিদ্যালাভ, ব্যবসাসহ সকল কর্মে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশায় গণেশদেবের পূজা করা হয়।
আমরা বিদ্যালাভ, ব্যবসাসহ সকল কর্মে সফলতা লাভের প্রত্যাশায় গণেশদেবের পূজা করি। এ পূজার শিক্ষা হলো ভক্তিতে সাফল্যলাভ। এই ডক্তির মূলে রয়েছে শুদ্ধতা, একাগ্রতা, সংযম ও শৃঙ্খলা। তাই জীবনের সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ মনে মঙ্গল কামনা, কর্মে একাগ্রতা, ধৈর্য ও শৃঙ্খলা। গণেশদেবের পূজা থেকে আমরা এই শিক্ষা লাভ করি।
দেবী সরস্বতী বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী। তাঁর হাতে আছে বীণা ও পুস্তক। তাঁর বর্ণ চন্দ্রের কিরণের মতো শুভ্র। রাজহংস তাঁর বাহন। সাদা পদ্মফুল তাঁর আসন। দেবী সরস্বতী শুভ্র বসন পরিহিতা। পলাশ ফুল দেবী সরস্বতীর প্রিয় ফুল।
দেবী সরস্বতী বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী। তবে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি অনেক নামে পরিচিত। তাঁর কয়েকটি নাম-বাগদেবী, বিরজা, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা প্রভৃতি।
মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাড়ম্বরে সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়।
পূজার পদ্ধতি হিসেবে মন্ডপ সাজানো, পূজা উপকরণ সংগ্রহ, সংকল্প গ্রহণ, প্রতিমার মধ্যে প্রাণপ্রতিষ্ঠা, বসার আসন প্রদান, পা ধোয়ার জল সমর্পণ, হাত ধোয়ার জল সমর্পণ, আচমন প্রভৃতি সাধারণ পূজাবিধি অনুসারে দেবী সরস্বতীর পূজা সম্পাদিত হয়।
বিদ্যার দেবী সরস্বতী। তিনি সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও দেরী। নানা পূজা উপকরণের মধ্যে ফুলও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বিভিন্ন দেবতাদের প্রিয় ফুল রয়েছে। তবে দেবী সরস্বতীর প্রিয় ফুল হলো পলাশ ফুল। কিন্তু পুষ্পাঞ্জলির জন্য লাল রঙের ফুলের প্রয়োজন হয়।
দেবী সরস্বতীর প্রণামমন্ত্র সরলার্থসহ লেখা হলো-
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।
সরলার্থ : হে মহীয়সী বিদ্যাদেবী সরস্বতী, পদ্মা ফুলের মতো তোমার চক্ষু, তুমি বিশ্বরূপা। হে বিশাল চক্ষুধারণকারী দেবী, তুমি বিদ্যা দান কর। তোমাকে প্রণাম করি।
সরস্বতী বিদ্যার দেবী। তিনি সকলকে বিদ্যা দান করেন। এছাড়া তিনি সংস্কৃতি ও শিল্পকলারও জ্ঞান বা বিদ্যা দান করেন। তাই আমাদের মনের অজ্ঞানতা দূর করার জন্য এবং জ্ঞান বিকাশের জন্য দেবী সরস্বতীর পূজা করি।
আধ্যাত্মিক দিক থেকে সরস্বতী পূজার মাধ্যমে পূজারিদের মধ্যে বিদ্যা অর্জনের একাগ্রতা ও মনোবল অনেকটা বৃদ্ধি পায় এবং তা একজন পূজারির নৈতিকতাকে যেমন সমৃদ্ধ করে তেমনি ভবিষ্যতের স্বপ্ন অর্জনের শক্তি যোগায়।
সামাজিক প্রেক্ষাপটে সরস্বতী পূজার মাধ্যমে সমাজের সকল শ্রেণির পূজারিরা বিভিন্ন পূজামন্ডপে পুষ্পাঞ্জলি 'দেয়ার জন্য একত্রিত হন। তখন নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন যা জ্ঞান বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সরস্বতী পূজার সময় সবাই যখন একত্রিত হয়, তখন তাদের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও পারিবারিক এবং সামাজিক পর্যায়ে সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি পায়। আর এ সুসম্পর্ক সমাজকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতেও সহায়তা করে।
পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা।
দেব-দেবী ঈশ্বরের সাকার রূপ।
শিব ধ্বংস করে ভারসাম্য রক্ষা করেন।
সরস্বতী হলেন বিদ্যার দেবী।
গণেশ হলেন সফলতার দেবতা।
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো- পর্ব বা উৎসব।
গণেশকে গজানন বলা হয়।
গণেশের বাহন হলো ইঁদুর।
মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়।
সরস্বতী দেবীর প্রিয় ফুল পলাশ।
পূজা হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন। আমাদের ভিতরে যে আত্মা আছে তাকে পবিত্র করা, মনকে সুন্দর করা এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি মনের একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করতে আমরা পূজা করে থাকি।
ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তি যখন আকার পায়, তখন তাঁদেরকে দেব-দেবী বলে। অর্থাৎ দেব-দেবীরা ঈশ্বরের সাকার রূপ। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, দুর্গা, সরস্বতী; লক্ষ্মী, গণেশ প্রভৃতি সকলেই দেব-দেবী হিসেবে খ্যাত।
দেব-দেবীদের নিকট থেকে আমরা বিশেষ বিশেষ গুণ বা শক্তি প্রার্থনা করি। প্রার্থনায় দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হন। আমাদের মঙ্গল করেন। আর তাই পূজার মধ্য দিয়ে আমরা দেব-দেবীদের শ্রদ্ধা জানাই।
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। আর উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। অতএব পূজা-পার্বণ বলতে বোঝায় সেসব পর্ব যেগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো ইত্যাদি।
পূজা-পার্বণে সামাজিক ও পারিবারিক পর্যায়ে উন্নত খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন ফলমূলও খাওয়া হয়। ফলে পারিবারিক পুষ্টি সমস্যা সমাধানে পূজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ঈশ্বরের সাকার রূপকে দেব-দেবী বলে। যেমন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা, কালী ইত্যাদি। এ সকল দেব- দেবী ঈশ্বরের বিশেষগুণ ও ক্ষমতার অধিকারী। এই শক্তি বা গুণ লাভ করার জন্য আমরা দেব-দেবীর পূজা করি।

পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা করা। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। পূজা বলতে বোঝায় ঈশ্বরের প্রতীক বা তাঁর কোনো রূপকে ফুল ও নানা উপকরণ দিয়ে স্তুতি করা এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা। পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দ। অর্থাৎ যে উৎসবগুলো পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে, এমন ধরনের অনুষ্ঠানকে পার্বণ বলে অভিহিত করে থাকি। এ অধ্যায়ে দেব-দেবীর ধারণা, পূজা-পার্বণের ধারণা, পূজার গুরুত্ব, গণেশ দেব ও সরস্বতী দেবীর পূজা পদ্ধতি, পূজার শিক্ষা ও প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- দেব-দেবী সম্পর্কে ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- পূজা-পার্বণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
- দেব-দেবীর পূজার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
- গণেশ দেবের পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- গণেশ দেবের প্রণাম মন্ত্রসহ সরলার্থ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
- জীবনাচরণে গণেশ দেবের পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- সরস্বতী দেবীর পরিচয় ও পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব
- সরস্বতী পূজার প্রণাম ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র সরলার্থসহ বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব
- সমাজ ও নিজ জীবনে সরস্বতী পূজার শিক্ষা ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব
- গণেশ ও সরস্বতী পূজায় উদ্বুদ্ধ হব।
Related Question
View Allপূজা শব্দের অর্থ হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করা।
পূজা হচ্ছে প্রশংসা বা শ্রদ্ধা নিবেদন। আমাদের ভিতরে যে আত্মা আছে তাকে পবিত্র করা, মনকে সুন্দর করা এবং অভীষ্ট দেবতার প্রতি মনের একাগ্রতা ও ভক্তি জাগ্রত করতে আমরা পূজা করে থাকি।
দীপ্তর বাবা গণেশ দেবের পূজা করেন। নিচে গণেশ দেবের পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো-
দুর্গাপূজা ও বাসন্তী পূজার সময় এবং ভাদ্র ও মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী, তিথিতে বিশেষভাবে গণেশ দেবের পূজা করা হয়। এছাড়া যেকোনো পূজা করার আগে গণেশ দেবের পূজা করার রীতি রয়েছে। পূজা যথাযথভাবে সমাপ্ত করার জন্য পূজার উপকরণ না হয়ে করতেহয়। পূজা করার বিধিসমূহ অনুসরণ করতে হয়। গণেশ পূজায় তুলসীপত্র নিষিদ্ধ।
গণেশ দেবের প্রণামমন্ত্রটি হলো-
একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননম্।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণামাম্যহম্।
দীপ্ত তার বিদ্যায় সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিবছর প্রতিমা নির্মাণ করে দেবী সরস্বতীর আরাধনায় মত্ত হয়। আর তার বাবা ব্যবসায়ের সাফল্য কামনা এবং সকল বাধাবিঘ্ন দূর করার জন্য গণেশ দেবের পূজায় মত্ত হয়।
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধভাবে বাস করাই মানুষের প্রকৃতি। ধর্ম সমাজকে সুসংঘটিত করে গড়ে তোলে। আধ্যাত্মিক ও আর্থসামাজিক দিক থেকে পূজা-পার্বণ যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। পূজা পার্বণের মাধ্যমে সামাজিক মিলনের সৃষ্টি হয়। সকলে মিলে যখন পূজা করা হয় তখন পূজা হয়ে ওঠে পার্বণ বা উৎসবমুখর। প্রতিমা আনয়ন, পূজার উপকরণ সংগ্রহ, মন্দিরে পূজার সাজসজ্জা, ধূপের গন্ধ, আরতি, প্রসাদ বিতরণ, নতুন পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান প্রভৃতি আমাদের মনে সুন্দর ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি করে। এর lov ফলে আমাদের মনে শুভ্রতা সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের ভাব acti আগ্রত হয়।
পার্বণ শব্দটির অর্থ হচ্ছে পর্ব বা উৎসব।
১১. মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হয়ে থাকে, অন্যদিকে আশ্বিন মাসের শুক্লাপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা হয়। ২. সরস্বতী দেবীর আরাধনা মূলত বিদ্যার আরাধনা অন্যদিকে লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা হচ্ছে সম্পদের আরাধনা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!