কে আসে সঙ্গে দেখ দেখ চেয়ে আজ: 

কারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক, 

উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মাল্লাদল, 

এবং কামার কুমোর তাঁতি। এরাতো সবাই সেই 

মেহনতের প্রভু, আনুগত্যে 

শাণিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে, 

তোমার শিরাময় সারা পথে পথে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ করতলে উদ্যত বৈঠা ছিল।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত মানুষ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় বর্ণিত পূর্বপুরুষ উভয়েই শ্রমজীবী, সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীর প্রতীক, যারা সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করে এবং সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাদের নিরন্তর শ্রম ও অবদানই মানব সমাজের অগ্রগতি ও বিকাশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

উদ্দীপকে 'কারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক, উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মাল্লাদল, এবং কামার কুমোর তাঁতি'—এইসব মানুষের কথা বলা হয়েছে। এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রমী, যারা উৎপাদন ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, দক্ষতার সাথে কাজ করে সমাজের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে এবং সভ্যতাকে সচল রাখে। তাদের 'মেহনতের প্রভু' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা তাদের শ্রমের মর্যাদা ও অপরিহার্যতাকে বোঝায়।

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ আমাদের পূর্বপুরুষদের শ্রম ও সৃষ্টির মহিমাকে তুলে ধরেছেন। কবিতার পূর্বপুরুষরা ছিলেন সেই সব মানুষ যারা লাঙল দিয়ে মাটি চষেছে, ফসল ফলিয়েছে, ঘর নির্মাণ করেছে, শিল্প সৃষ্টি করেছে এবং নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করেছে। উদ্দীপকের শ্রমজীবী মানুষগুলো সেই পূর্বপুরুষদেরই আধুনিক প্রতিচ্ছবি। উভয় ক্ষেত্রেই, শ্রম, সৃষ্টিশীলতা এবং জীবনের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা মানুষের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার মূল কারণ। তাদের রক্ত ও ঘামেই সমাজের ধারা প্রবাহিত হয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জাতির অস্তিত্ব ও অগ্রগতির প্রাণস্বরূপ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

“উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলবক্তব্যেরই ধারক” - মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি যে সম্মান ও তাদের অবদানকে মহিমান্বিত করা হয়েছে, তা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূল সুরের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। কবিতাটি শ্রম, ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষের অবদানকে স্মরণ করে মানবসভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের কথা বলে, যা উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে একাত্ম।

উদ্দীপকের শুরুতেই 'কারখানার রাজা, লাঙ্গলের নাবিক, উত্তাল ঢেউয়ের শাসক উদ্যত বৈঠাহাতে মাল্লাদল, এবং কামার কুমোর তাঁতি'র মতো শ্রমজীবী মানুষদের কথা বলা হয়েছে। তাদের 'মেহনতের প্রভু' এবং 'আনুগত্যে শাণিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে, তোমার শিরাময় সারা পথে পথে' বলে তাদের শ্রমের গুরুত্ব ও তাদের আত্মত্যাগকেই বোঝানো হয়েছে। এই শ্রমজীবী মানুষেরাই সভ্যতার কারিগর, তারাই সমাজ ও জাতির প্রাণশক্তি, যাদের অবদান ছাড়া কোনো সভ্যতা টিকে থাকতে পারে না। উদ্দীপকে এই মানুষগুলোর অপরিহার্য ভূমিকা অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি বারবার শ্রমজীবী ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহকদের কথা বলেছেন। এই কবিতা মানুষের মুখে ভাষা, হাতে লাঙল, জমিতে ফসলের বীজ বোনার মধ্য দিয়ে সভ্যতার উন্মোচন ও ক্রমবিকাশের কথা বলে। যারা নিরন্তর শ্রমে নিজেদের ও সমাজকে টিকিয়ে রেখেছে, কবি তাদেরই 'কিংবদন্তি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কবিতায় বলা হয়েছে, 'আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি। তাদের করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল। তাদের পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।' এ কথাগুলো উদ্দীপকের 'মেহনতের প্রভু' ও 'শাণিত রক্তে ঢল হয়ে যায় বয়ে' পংক্তিগুলোর সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত, যা শ্রমিকের ত্যাগ ও সৃষ্টির মহিমাকে প্রতিষ্ঠা করে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটি প্রকৃতপক্ষে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূল সুরকে ধারণ করেছে। উভয়ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা, তাদের নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং সভ্যতা বিনির্মাণে তাদের অনবদ্য অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে। শ্রমের মাধ্যমে জীবনের জয়গান গাওয়া এবং ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতাই উদ্দীপক ও কবিতার মূলভিত্তি, যা তাদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
104

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল 

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল /

তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন

অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন

পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন

তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন ।

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা 

কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে ।

আমি উচ্চারিত সত্যের মতো

স্বপ্নের কথা বলছি ।

উনোনের আগুনে আলোকিত

একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি । 

আমি আমার মায়ের কথা বলছি,

তিনি বলতেন প্রবহমান নদী

যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে নদীতে ভাসতে পারে না

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি

গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি

আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি । 

ভালোবাসা দিলে মা মরে যায় / *

যুদ্ধ আসে ভালোবেসে

মায়ের ছেলেরা চলে যায়,

আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না ।

যে কবিতা শুনতে জানে না

সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না ।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি ।

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল

কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন ।

যে কর্ষণ করে

শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।

যে মৎস্য লালন করে

প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।

যে গাভীর পরিচর্যা করে

জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে ।

যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে ।

দীর্ঘদেহ পুত্রগণ

আমি তোমাদের বলছি ।

আমি আমার মায়ের কথা বলছি

বোনের মৃত্যুর কথা বলছি

যুদ্ধের কথা বলছি

আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি ।

আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি ।

 সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা

সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা

জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা

রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা ।

আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো

আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো ।

[সংক্ষেপিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

“তার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল” উক্তিটি জাহানারা ইমাম রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থে শহীদ রুমিকে পাক-হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রুমিকে আটক করে তার উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল। এই নির্যাতনের ফলে রুমির পিঠে তীব্র লালচে রঙের গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, যা রক্তজবার তীব্র লাল রঙের সঙ্গে তুলনীয়।

এই উপমাটি পাকিস্তানি বাহিনীর অমানবিক পাশবিকতা এবং মুক্তিকামী বাঙালির উপর তাদের সীমাহীন অত্যাচারের প্রতীকী প্রকাশ। রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল রুমির আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার এক মর্মান্তিক দলিল। এটি একদিকে যেমন পাকিস্তানি সৈন্যদের বর্বরতাকে ফুটিয়ে তোলে, তেমনি অন্যদিকে রুমির মতো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার আত্মদান ও অকথ্য যন্ত্রণাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা স্বাধীনতার জন্য অপরিহার্য ছিল।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews