সূর্য-ঝলকে! মৌসুমী ফুল ফুটে
স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে
পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে
দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে।
আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ
নিতি লভে নব জীবনের সন্ধান
এখানে প্লাবনে নুহের কিতি ভাসে
শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে।
জেগেছে নতুন চর
সেই চরে ফের মানুষেরা সব পাশাপাশি বাঁধে ঘর।
নব অঙ্কুর জাগে—
প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তর অনুরাগে
আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান ।
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা
আমার দেশ নদীতে নদীতে মিলে হেথা গিয়ে ধায় সাগরের পানে
মানুষে মানুষে মিলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে
সূর্য চন্দ্র করে
মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি ভরে ভরে
আপন দেশের মাটিতে দাঁড়ায়ে হাসে
সূর্য-ঝলকে ! জীবনের ডাক আসে
সেই ডাকে দেয় সাড়া
নদী-প্রান্তর পার হয়ে আসে লক্ষ প্রাণের ধারা
মিলিতে সবার সনে
আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে
আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে
সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময় আশে
সূর্য-আলোকে আবার এদেশে হাসে
নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে ।
Related Question
View All'কিশ্তি' শব্দের অর্থ নৌকা।
'শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে'- এ পঙ্ক্তি দ্বারা কবি দেশের মানুষের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনয়নের দিকটিকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'আমার দেশ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু এবং এদেশের মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতার দিকটি তুলে ধরেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, খরা, মহামারি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতিতে সবাই মিলেমিশে কাজ করে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির জন্য কাজ করে। সবাই সম্মিলিতভাবে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই লড়াই করে। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে এ ভাবটিই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতায় বর্ণিত ফুলের সৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ফুল আনন্দ ও ভালোবাসার প্রতীক। ফুল মানুষের মনে প্রফুল্লতা ও স্নিগ্ধতার অনুভূতি আনে। ফুলের সৌন্দর্য ও সুগন্ধে আমরা বিমোহিত হই। ফুল প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজানোর পাশাপাশি মানবমনেও আনন্দের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
উদ্দীপকে ঝিঙে ফুলের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। 'ঝিঙে ফুল' আমাদের অতি পরিচিত একটি ফুল। পৌষের শেষে এ ফুল ফুটতে দেখা যায়। সবুজ পাতার আড়াল থেকে জাফরানি রঙের এ ফুল ফুটে ঝিঙে মাচার ওপর দুলতে থাকে। 'আমার দেশ' কবিতায় সহনীয় জলবায়ুতে ফোটা বিভিন্ন ফুলের কথা বলা হয়েছে। সূর্য-ঝলকে মৌসুমি ফুল ফোটার কথা এবং মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরিয়ে তোলার কথা রয়েছে। মূলত ফুলের সৌন্দর্য অনুভবের মাধ্যমে স্বদেশপ্রেমের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে বর্ণিত ফুলের প্রতি অনুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ সুন্দরের পূজারি। ফুল সেই সৌন্দর্যের উৎস। প্রকৃতিতে বিচিত্র বর্ণের ফুল দেখা যায়। ফুল মানুষকে অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে তোলে। ফুলের সৌন্দর্য ও পবিত্রতায় উদ্বেলিত হয়ে মানুষ হিংসা-দ্বেষ ভুলে গিয়ে পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হয়।
উদ্দীপকে ঝিঙে ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। ঝিঙে ফুলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতির চিত্রটি ফুটে উঠেছে। এখানে গ্রাম্য প্রকৃতির সৌন্দর্য প্রকাশের চেতনাটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু 'আমার দেশ' কবিতায় মৌসুমি ফুলের এ সৌন্দর্যচেতনার বাইরেও বাংলাদেশের জলবায়ু, প্রকৃতি, পরিবেশ, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, শান্তি রক্ষায় ও শান্তি স্থাপনে মানবতাবোধ, মানুষের কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'আমাদের দেশ' কবিতায় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু এবং এদেশের মানুষের ঐক্য ও সহমর্মিতার চেতনাটি প্রকাশ পেয়েছে। এদেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বমানবতাবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ, স্বদেশানুরাগ এবং স্বদেশের মানুষের সঙ্গে মহামিলন, বন্ধন ইত্যাদি দিক প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার এই চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকটির পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কারণ সেখানে এ ধরনের কোনো চেতনার কথা নেই। তাই বলা যায় যে, বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও 'আমার দেশ' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।
প্লাবনে নুহের কিস্তি ভাসে।
'জীবনের ডাক আসে' বলতে মানুষের মাঝে প্রীতি বন্ধনকে বোঝানো হয়েছে, কারণ এ বন্ধনের কারণেই মানুষ মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়।
বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সহানুভূতিপরায়ণ। এই হৃদ্যতার কারণে পরস্পরের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মানুষ মানুষকে। ভালোবাসে মন দিয়ে। ফলে দেশ যেন হয়ে ওঠে একটা প্রাণের মিলনমেলা। ঘোষণা করে সাম্য আর মৈত্রীর জয়গান। এই দারুণ মিলনমেলা সৃষ্টিতে মানুষের যে আগ্রহ, এই আগ্রহকেই কবি জীবনের ডাক বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!