'তফাত' শব্দের অর্থ পার্থক্য।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে, এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। গর্ভধারিণী মায়ের দুধ পান করে সন্তান যেমন বড় হয়ে ওঠে, তেমনই পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে 'মানুষ জাতি' কবিতার মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
বিবেকী শক্তি দ্বারা যদি মানুষ ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-জাতি ইত্যাদি সবার মাঝে পার্থক্য দূর করে তাহলে মানুষ মনুষ্যত্বের মর্যাদা দিতে পারবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মানবিক গুণটির বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে সমাজ বা দেশের মাঝে শান্তির পূর্ণতা থাকবে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের বাঙালি জাতির সাম্যবাদী চেতনা নিয়ে বসবাসের বিবরণ পাওয়া যায়। এদেশে অনেক জাতি-বর্ণ-গোত্র ও ধর্মের মানুষ রয়েছে। তারা ধর্মের ও বর্ণের পরিচয়ে মানুষের বিচার করে না, বরং একই দেশের নাগরিক এটিই তাদের বড় পরিচয়। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, পৃথিবীতে অসংখ্য জাতি, বর্ণ ও গোত্র রয়েছে। এগুলো মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে না। বরং পৃথিবীতে সব মানুষ সমান স্নেহে পৃথিবী নামক মায়ের কাছে লালিত হচ্ছে। সুতরাং উদ্দীপকে 'মানুষ জাতি' কবিতায় মানুষের সমতা বা সাম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
"মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর ভিন্নভাবে উদ্দীপকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।"- মন্তব্যটি সঠিক।
সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করার আনন্দ তখনই আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে যখন মানুষের মাঝে জাতিভেদ থাকে না। এ রকম সুন্দর সমাজ বা রাষ্ট্র গঠন করার জন্য সবাইকে এক হওয়া উচিত।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বর্ণ-গোত্র ও জাতের মিলেমিশে বাস করার চিত্রটি পাওয়া যায়। এভাবেই এদেশের মানুষ সবার সাথে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে আনন্দের সঙ্গে বাস করছে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় পৃথিবীর সমস্ত মানুষের একে অপরের সঙ্গে বৈষম্যহীনতার কথা বর্ণিত হয়েছে। সুনিয়ার সব মানুষ একই পৃথিবীর আলো-বাতাস এবং অন্যান্য উপকরণে লালিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি দেশে সকল মানুষের পরিচয় ফুটে উঠেছে সেই দেশের নাগরিক হিসেবে। জাতি-বর্ণ-গোত্র ভেদাভেদের কোনো স্থান নেই সেখানে। অনুরূপভাবে 'মানুষ জাতি' কবিতাতেও বলা হয়েছে, সব মানুষ পৃথিবীতে একইভাবে একই সূর্য ও চাঁদের আলোতে লালিত হওয়ার কারণে জাতি-বর্ণ-গোত্র ইত্যাদির পার্থক্য থাকাটা অনুচিত। সুতরাং 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর উদ্দীপকে ভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!