কোন ভাষায় লেখা? - দোভাষী পুঁথি সাহিত্যের কয়েকজন রচয়িতার নাম লিখুন।

Updated: 3 years ago
উত্তরঃ বাংলা ও আরবি-ফারসি ভাষার মিশ্রণে লেখা। কয়েকজন রচয়িতা হলেন: সৈয়দ হামজা, শেখ চাঁদ, ফকির গরিবুল্লাহ, মুহম্মদ খাতের, হেয়াত মামুদ।

দোভাষী পুঁথি সাহিত্য হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র ধারা, যা মূলত বাংলা ভাষার সঙ্গে আরবি, ফারসি ও উর্দু ভাষার শব্দ ও বাক্যরীতির মিশ্রণে রচিত হয়েছিল। এই সাহিত্যধারার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস, নীতি-নৈতিকতা এবং লোকপ্রিয় আখ্যানসমূহের প্রচার। আরবি-ফারসি লিপিতে লিখিত হলেও এর মূল ভাষা ছিল বাংলা, তবে তাতে প্রচুর পরিমাণে আরবি, ফারসি ও কিছু হিন্দি শব্দ ব্যবহৃত হতো।

এই ধারার অন্যতম রচয়িতারা হলেন:

        
  • সৈয়দ হামজা: তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে 'মধুমালতী', 'আমির হামজা', 'হাতেম তাই' প্রধান।
  •     
  • শেখ চাঁদ: 'রসমঞ্জুরী' তাঁর বিখ্যাত রচনা।
  •     
  • ফকির গরিবুল্লাহ: তিনি 'ইউসুফ জুলেখা' ও 'আমির হামজা' কাব্যের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত।
  •     
  • মুহম্মদ খাতের: তাঁর 'মধুমালতী' কাব্যও বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
  •     
  • হেয়াত মামুদ: তাঁর রচনার মধ্যে 'জঙ্গনামা', 'সর্বভেদবানী', 'হিতোপদেশ' ইত্যাদি প্রধান।
এই পুঁথি সাহিত্যগুলি শুধু ধর্মীয় অনুপ্রেরণাই যোগায়নি, বরং সমাজিক মূল্যবোধ ও বিনোদনমূলক গল্প বলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা তৎকালীন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
790

অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে আরবি-ফারসি শব্দমিশ্রিত এক ধরনের বিশেষ ভাষারীতিতে যে সব কাব্য রচিত হয়েছিল তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'পুঁথি সাহিত্য' নামে চিহ্নিত। কলকাতার সস্তা ছাপাখানা থেকে মুদ্রিত হয়ে এই ধারার কাব্য দেশময় প্রচারিত হয়েছিল বলে 'বটতলার পুঁথি' নামেও একে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চলেছে। কেউ কেউ এই শ্রেণীর কাব্যকে আরবি-ফারসি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য 'দোভাষী পুঁথি' নামে অভিহিত করেছেন। কিন্তু এতে মাত্র দুটি ভাষার শব্দ নয়, বাংলা-হিন্দি-তুর্কি ভাষার শব্দের সংমিশ্রণও এতে ঘটেছে।

শায়েরদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন:

  • কবি কৃষ্ণরাম দাস: এই ধারায় প্রথম কাব্য রচনা করেন। 'রায়মঙ্গল' তাঁর কাব্যের নাম।
  • ফকির গরীবুল্লাহ: পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ। মিশ্র ভাষারীতিতে তাঁর রচিত কাব্যগুলো হচ্ছে: 'আমীর হামজা' (প্রথম অংশ), 'জঙ্গনামা',
    'ইউসুফ-জোলেখা', 'সোনাভান', 'সত্যপীরের পুঁথি'।
  • সৈয়দ হামজা: মিশ্র ভাষারীতিতে তাঁর রচিত কাব্যগুলো হচ্ছে: 'আমীর হামজা' (২য় অংশ), 'জৈগুনের পুথি', 'হাতেম তাই'। তার 'মধুমালতী' কাব্যটি পুঁথি সাহিত্যের ধারার অনুসারী নয়, কবি সম্ভবত ফারসি কাব্য থেকে বঙ্গানুবাদ করে এ কাব্যের রূপ দেন।
  • মালে মুহম্মদ, মুহম্মদ খাতের, আব্দুর রহিম নামও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

Related Question

View All
উত্তরঃ

দোভাষী পুথি

দোভাষী পুথি হলো কয়েকটি ভাষার শব্দ ব্যবহার করে মিশ্রিত ভাষায় রচিত পুথি। কেউ কেউ আরবি-ফারসি এই দুটি শব্দের প্রাচুর্যপূর্ণ ব্যবহারের জন্য এই পুথিকে 'দোভাষী পুথি' নামে অভিহিত করেছেন। মনে রাখতে হবে দোভাষী পুথি শুধু দুটি ভাষায় রচিত পুথি নয়; বাংলা, হিন্দি, ফারসি, আরবি, তুর্কি ইত্যাদি ভাষার সংমিশ্রণে রচিত পুথিই হলো দোভাষী পুথি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
291
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews