বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি করে।
যখন কোনো দেশ তার উৎপাদিত পণ্য অর্থের বিনিময়ে বিদেশে প্রেরণ করে তখন তাকে রপ্তানি বাণিজ্য বলে। যেমন- বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। রপ্তানি বাণিজ্যের দুটি সুবিধা হলো- মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' সংস্থাটি বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা WTO
(World Trade Organization).
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষ্ঠু, সুন্দর ও বাধাহীনভাবে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।
বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে GATT (General Agreement on Tariffs and Trade)-এর উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি এ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান এর সদস্য সংস্থা ১৫৩। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় এর সদর দপ্তর অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) পর ১৯৪৭ সালে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন নতুন বাজার দখল এবং সর্বোপরি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর একটা প্রচ্ছন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষে GATT-এর কার্যক্রম শুরু হয়। মূলত GATT চুক্তি বাস্তবায়নের আদেশনামা নিয়ে এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বাংলাদেশের উন্নয়নে উদ্দীপকের WTO সংস্থাটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুষ্ঠু, সুন্দর ও বাধাহীনভাবে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। বাংলাদেশ WTO সংস্থাটির সদস্য দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উন্নয়নেও সংস্থাটি সহায়তা করে আসছে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ও পরিচালনা করে। ফলে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানি এবং অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি বিষয়ে চুক্তি সম্পাদন করে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা। সম্পাদিত চুক্তি পরিচালনার দায়িত্বও পালন করে এই সংস্থাটি। বাণিজ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে অন্যদেশের বাণিজ্য আলোচনার ফোরাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এ সংস্থা। আবার বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দেশের মধ্যে অনেক সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়, বাণিজ্যিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে যা বাধার সৃষ্টি করে, অর্থাৎ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এসব ক্ষেত্রে সংস্থাটি দুই দেশের মধ্যস্থকারী হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের সাথে অনাদেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিরোধ সৃষ্টি হলে তা নিষ্পত্তি করে এ সংস্থা। অর্থাৎ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা বাণিজ্যসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকরণে দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া সংস্থাটি বাংলাদেশকে কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাণিজ্যনীতি-সংক্রান্ত বিষয়াবলিতে সাহায্য করে।
সুতরাং বাংলাদেশের বাণিজ্যক উন্নয়নে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার অবদান অনস্বীকার্য
Related Question
View AllWTO এর পূর্ণরূপ হলো World Trade Organization.
শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
যেকোনো দেশের শিল্প স্থাপিত হলে সেখানে প্রচুর জনবল নিয়োগ হয়। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর শ্রমিক কাজ করে। বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন যোগ্যতার জনবল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে। অর্থাৎ যে অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেশি সে অঞ্চলে কাজের সুযোগও বেশি থাকে।
তাই বলা যায় শিল্প কর্মসংস্থানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষিজদ্রব্য, পাট, চা, চিংড়ি, তামাক প্রভৃতি। তবে বর্তমানে তৈরি পোশাক, কাগজ, রেয়ন প্রভৃতি দ্রব্যের মতো শিল্পজাত পণ্যও রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যের ৭৫ ভাগই শিল্প পণ্য, খনিজ তেল, ঘড়ি, ফ্রিজ, ক্যালকুলেটর প্রভৃতি। এদেশের রপ্তানির চেয়ে আমদানি পণ্যের আধিক্যই বেশি। তাই বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য সর্বদাই প্রতিকূল অবস্থায় থাকে। এদেশের নিজস্ব বিমান ব্যবস্থা ও জাহাজ কম থাকায় বৈদেশিক বিমান কোম্পানি ও জাহাজের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।
বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে চীন, মায়ানমার, ভারত, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি হিসেবে বাংলাদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্যের গতি, বাণিজ্য এলাকার বিস্তৃতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা যেমন কম তেমনি উৎপাদনও আশানুরূপ নয়। বাংলাদেশের অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে খ্যাতি লাভ করেছে। তৈরি পোশাকের আইটেমের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের সংযোজন ঘটিয়ে এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করে এর রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। চিংড়ি বাংলাদেশের আরেকটি রপ্তানি পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, হংকং প্রভৃতি দেশে বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিবিড় চাষ পদ্ধতি ও সঠিক ভূমিনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এদেশে চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় দেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল, পান, গোল আলু প্রভৃতি দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব দ্রব্যের রপ্তানি কাড়ানো সম্ভব। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পজাত পণ্যদ্রব্য ক্রমশ সুনাম অর্জন করে চলছে এবং এগুলোর বাজার প্রসারিত হচ্ছে। বাঁশ, বেত, রশি, পাট, বিভিন্ন প্রকার ধাতব পদার্থ, কাঠ প্রভৃতি দ্বারা তৈরি নানা প্রকার শৌখিন হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিগত প্রায় দুই দশক যাবৎ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গঠন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। অপ্রচলিত পণ্যদ্রব্যের প্রাধান্য ও রপ্তানি সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক বাজার ও দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে এসব রপ্তানি পণ্যদ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে রপ্তানি বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।
দুইটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যয়বহুল।
পার্বত্য এলাকা ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর। আর এ ধরনের ভূ-প্রকৃতিতে যেকোনো ধরনের পরিবহন পথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয় বহুল। বাংলাদেশে স্থল পরিবহনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রেলপথ ও সড়কপথ। আর এ দুই ধরনের পথের জন্য সমতল ভূমি উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা উঁচু-নিচু ও পর্বতময় হওয়ায় সেখানে পরিবহন ব্যয়বহুল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!