উত্তরঃ

উদ্দীপকে মৃত্যুঞ্জয় নামক কোনো চরিত্রের উল্লেখ নেই।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।' কথাটির মাধ্যমে প্রচলিত অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের অসারতা এবং বৈজ্ঞানিক চেতনার উন্মোচন বোঝানো হয়েছে। এখানে 'বিষহরির দোহাই' বলতে সনাতন, অলৌকিক বিশ্বাস বা উপায়ের প্রতি নির্ভরশীলতাকে বোঝানো হয়েছে, যা কোনো বাস্তব সমস্যা সমাধানে বা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফলপ্রসূ নয়।

এই উক্তিটির তাৎপর্য হলো, সমাজ যখন প্রগতি ও আধুনিকতার দিকে ধাবিত হয়, তখন প্রাচীন, ভিত্তিহীন বিশ্বাস ও কুসংস্কারগুলো তাদের কার্যকারিতা হারায়। মানুষ যুক্তি ও বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করলে অলৌকিক বা ধর্মীয় দোহাইয়ের উপর থেকে নির্ভরতা কমে যায়, যা একটি মননশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজের ইঙ্গিত দেয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজ এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের সমাজ ব্যবস্থার মূল সাদৃশ্য হলো উভয় সমাজেই কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি এবং জাতিভেদ প্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। উভয় সমাজেই মানবিকতার চেয়ে প্রথা ও লোকাচারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, যা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করত।

উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজা রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজে 'গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথা' প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে 'সতীদাহ প্রথা'র মতো অমানবিক প্রথাও বিদ্যমান ছিল। রামমোহন রায় একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের জন্য এসব ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই বিবরণ থেকে স্পষ্ট যে, তৎকালীন সমাজ ছিল প্রথাবদ্ধ, অমানবিক এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন, যেখানে যুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের চেয়ে প্রাচীন প্রথাই ছিল প্রধান।

'বিলাসী' গল্পেও আমরা রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের মতোই অন্ধবিশ্বাস, জাতিভেদ প্রথা এবং সামাজিক গোঁড়ামির কঠোর চিত্র দেখতে পাই। গল্পে মৃত্যুঞ্জয় এবং বিলাসীর ভালোবাসার সম্পর্ক সমাজের জাতিভেদ প্রথার কারণে প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হয়। মৃত্যুঞ্জয়কে নিম্নবর্ণের বিলাসীকে ভালোবাসার অপরাধে সমাজচ্যুত হতে হয় এবং তার সমস্ত সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলি সমাজের প্রথাসর্বস্বতা, অমানবিকতা এবং কুসংস্কারের গভীর প্রভাবকে তুলে ধরে, যা উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সময়ের কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের সঙ্গে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায়ের যে মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছে, তা যদি সমাজে প্রতিষ্ঠিত থাকত, তাহলে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের মতো চরিত্রদের জীবনে করুণ পরিণতি আসত না। সামাজিক গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও জাতিভেদ প্রথার বিরুদ্ধেই ছিল রামমোহনের আজীবন সংগ্রাম, যা বিলাসী-মৃত্যুঞ্জয়ের ট্র্যাজেডির মূল কারণ।

উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায়কে ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ বলা হয়েছে, যিনি গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তিনি একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু 'বিলাসী' গল্পে আমরা ঠিক এর বিপরীত চিত্র দেখি। গল্পটি এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে কুসংস্কার, জাতিভেদ প্রথা এবং সামাজিক গোঁড়ামি এতটাই প্রবল যে, তা মানুষের জীবন কেড়ে নিতেও দ্বিধা করে না। মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার অভাব এবং বিলাসীকে তার জাতের কারণে সেবা না করতে দেওয়া সমাজের অন্ধবিশ্বাসেরই ফল।

বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের করুণ পরিণতির মূলে ছিল সমাজের প্রচলিত জাতিভেদ প্রথা ও কুসংস্কার। উচ্চবংশীয় মৃত্যুঞ্জয় এক সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে ভালোবাসে বিয়ে করায় সমাজ তাদের একঘরে করে দেয়। মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার সময় বিলাসী তার যথাসাধ্য সেবা করলেও, সমাজের গোঁড়ামির কারণে সে মৃত্যুঞ্জয়কে বাঁচাতে পারেনি এবং মৃত্যুঞ্জয়ের সৎকারের সময়ও তাদের একঘরে করে রাখা হয়। পরে বিলাসীও আত্মহত্যা করে। রামমোহন যদি তার কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন, যেখানে মানবিকতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা প্রাধান্য পেত এবং জাতিভেদ প্রথা বিলুপ্ত হতো, তাহলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের ভালোবাসাকে সমাজ মেনে নিত। মৃত্যুঞ্জয় বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পেত এবং সুস্থ হয়ে উঠত, আর বিলাসীকে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হতো না।

বস্তুত, রামমোহন রায় যে সমাজ চেয়েছিলেন, তা ছিল উদার, মানবিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক। বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের গল্পে আমরা দেখি এই আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত এক সমাজ। তাই, যদি রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হতো, যেখানে প্রেম-ভালোবাসা জাতিভেদের ঊর্ধ্বে স্থান পেত এবং বিজ্ঞানমনস্কতা কুসংস্কারকে জয় করত, তাহলে নিঃসন্দেহে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটত না। উদ্দীপকের মন্তব্যটি তাই যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো"—এই উক্তিটি দ্বারা অন্যায়, অসত্য ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন দৃঢ়তার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এটি কাপুরুষোচিত বিনয় নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার এক সুদৃঢ় মনোভাবের প্রকাশ।

বস্তুত, যেখানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে বিনয়ী হওয়া অর্থহীন, সেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা এবং আত্মসম্মান নিয়ে দাঁড়ানোই প্রকৃত পৌরুষ। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে, বিদ্রোহ করতে হলে সকল অনিয়ম, অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং কোনো অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। এই দৃঢ়তাই উক্তির মূল প্রতিপাদ্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহের মাধ্যমে অন্যায়, অনিয়ম ও অসত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়ানোর যে আহ্বান, তা কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় অটল থাকার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, যা স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক।

'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিন্ন করে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে নিজেদের পথ নিজে তৈরি করার কথা বলেছেন। উদ্দীপকেও "সকল অনিয়ম, অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে" এবং "আমি কোনো অসত্যের কাছে মাথা নত করব না"—এই উক্তিগুলোর মাধ্যমে অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের প্রকাশ ঘটেছে। এটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের 'আমার সত্য' কে আশ্রয় করে নির্ভয়ে চলার নীতিরই প্রতিধ্বনি, যেখানে ব্যক্তি তার আত্মশক্তিকে প্রধান করে তোলে।

তবে, উদ্দীপকে বিদ্রোহের একটি দিক—অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্যের প্রতি অবিচল থাকা—প্রতিফলিত হলেও 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের সম্পূর্ণ মনোভাব এখানে অনুপস্থিত। নজরুল তার প্রবন্ধে শুধুমাত্র বিদ্রোহের কথা বলেননি, বরং নিজেকে চিনতে পারা, মিথ্যা ভয়ের ঊর্ধ্বে ওঠা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সকল প্রকার ভণ্ডামি ও পরাধীনতা থেকে মুক্তির এক সুদূরপ্রসারী দার্শনিক ভাবনা তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের ভাবনাটি প্রবন্ধের গভীর আত্মজাগরণ ও আত্মপ্রকাশের সার্বিক দিকটিকে পুরোপুরি ধারণ করে না, বরং একটি নির্দিষ্ট প্রতিবাদী অংশকে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি সত্যের জয়, আত্মনির্ভরশীলতা এবং ভণ্ডামি ও অসত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের এক বলিষ্ঠ ইশতেহার। এই প্রবন্ধে লেখক নিজের ভেতরের সত্যকে একমাত্র পথপ্রদর্শক হিসেবে মেনে চলার কথা বলেছেন এবং যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও মিথ্যার বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্দীপকে বিদ্রোহের একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, "বিদ্রোহ স্বতঃস্ফূর্ত, স্বতোৎসারিত, সর্বগ্রাসী ও সংক্রামক।" এবং "সকল অনিয়ম, অন্যায়, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।" এটি 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল চেতনার একটি অংশ, যেখানে নজরুল অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার কথা বলেছেন। "আমি কোনো অসত্যের কাছে মাথা নত করব না" - এই বাক্যটি নজরুলের দৃঢ়চিত্ততার সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ। এদিক থেকে উদ্দীপকে লেখকের মনোভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

তবে, 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের সম্পূর্ণ মনোভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। নজরুল শুধু বাইরের বিদ্রোহের কথা বলেননি, তিনি আত্ম-অনুশাসন, আত্মশুদ্ধি এবং নিজের ভেতরের সত্যকে চেনার ও সেই পথে চলার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে পথ হলো সত্যের পথ, যা নিজেই তার পাথেয়। 'আমার পথ' প্রবন্ধে তিনি নিজেকে সকল ভুল ও মিথ্যার ঊর্ধ্বে রেখে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন এবং নিজের ভেতরের মিথ্যাকে দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন। উদ্দীপকে মূলত বাহ্যিক বিদ্রোহের ধারণাটি প্রাধান্য পেলেও, নজরুলের প্রবন্ধের মূল দর্শন—আত্মসত্যের উন্মোচন, আত্মনির্ভরশীল নেতৃত্ব ও সেই সত্যের মাধ্যমে সমাজের পথ দেখানো—এই গভীর দিকগুলো অনুপস্থিত।

সুতরাং, উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের লেখকের প্রতিবাদী ও বিদ্রোহীর মনোভাবের একটি খণ্ডচিত্র উপস্থাপিত হলেও, তাঁর সম্পূর্ণ দার্শনিক ও আত্মিক মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেনি। প্রবন্ধের মূল কথা হলো, বাইরের অসত্যকে দূর করার আগে ভেতরের অসত্যকে ধ্বংস করা এবং নিজের সত্যকে অনুসরণ করে পথচলা। এই গভীরতা উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয় না। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

মনীষা অর্থ হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলা হয়, যাতে তাদের আর অপরের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এটি কেবল সাময়িক দান-খয়রাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া।

এই সোপানের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। যখন মানুষ নিজেদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সক্ষমতা অর্জন করে, তখন তারা পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মমর্যাদাশীল জীবনযাপন করতে পারে। এটিই প্রকৃত মানব-কল্যাণের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের ধারণা অনুযায়ী মানুষের মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত কল্যাণ। এটি সাময়িক দান-খয়রাত বা সাহায্যের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি ও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষকে অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে না হয়, বরং তারা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের জীবন ও জীবিকার নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই গ্রহণ করতে পারে।

উদ্দীপকের কালাম সাহেব হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। তার এই কাজটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ, যা মানুষের তাৎক্ষণিক কষ্ট লাঘব করে। কিন্তু এই দান-খয়রাত গ্রামের জলাবদ্ধতার মূল সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। কালাম সাহেবের সাহায্য ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকরী ছিল যতক্ষণ তিনি তা প্রদান করছিলেন, কিন্তু এটি গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকার মূল সংকটকে দূর করতে পারেনি এবং তাদের পরনির্ভরশীলতা বজায় রেখেছিল। ফলে, এটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মানব-কল্যাণের ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলে হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী অবসান ঘটান। এর ফলে গ্রামের মানুষ সারা বছর চাষাবাদ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হয় এবং তাদের আর আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। জামাল সাহেবের এই উদ্যোগটি গ্রামের মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত প্রকৃত মানব-কল্যাণের দৃষ্টান্ত। এর বিপরীতে কালাম সাহেবের দান-খয়রাত ছিল কেবল সাময়িক উপশম, যা মূল সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছিল এবং মানুষের পরনির্ভরশীলতা দূর করতে পারেনি। তাই কালাম সাহেবের দান-খয়রাত 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল মানব-কল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা ও মর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলার মধ্যে, যা দয়ার দান বা সাময়িক সাহায্যে সম্ভব নয়। লেখক দান-খয়রাতের পরিবর্তে এমন স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন, যা মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুলে দেয়।

উদ্দীপকে হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। কালাম সাহেব গ্রামের মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করে সাময়িক উপশমের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে গ্রামে নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন, যা জলাবদ্ধতার মূল সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করে। এর ফলস্বরূপ গ্রামের মানুষ সারা বছর চাষাবাদ করতে সক্ষম হয় এবং তাদের আর আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে না।

জামাল সাহেবের এই কর্মকাণ্ড 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার সরাসরি প্রতিফলন। লেখক আবুল ফজল কর্মহীন, অসহায় ও পরনির্ভরশীল মানুষকে দান-খয়রাত বা দয়া দেখিয়ে আরও পরনির্ভরশীল করে তোলার বিরোধী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন সব উদ্যোগ যা মানুষকে কর্মমুখী করে তুলবে, তাদের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেবে এবং সমাজ থেকে পরমুখাপেক্ষিতা দূর করবে। জামাল সাহেব হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করে গ্রামবাসীকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন, যা তাদের আর কারও মুখাপোপেক্খী করে রাখেনি। এটি কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং স্থায়ী একটি সমাধান যা গ্রামের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করেছে।

অতএব, উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কার্যক্রম কেবল দান-খয়রাত বা করুণার প্রকাশ নয়, বরং তা মানুষের সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করে তাদের আত্মমর্যাদা ও কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনার একটি দৃষ্টান্ত। এই অর্থে, "উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ 'রেইনকোট' গল্পের উর্দুর প্রফেসরের নাম আকবর সাজিদ।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

আলোচ্য উক্তিটি এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নির্দেশ করে যিনি তাঁর কর্মকাণ্ড, সততা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করেছেন। সমাজে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ‍্যতা এতটাই বেশি যে, সবাই তাঁকে যেমন চেনে, তেমনি যেকোনো পরিস্থিতিতে তাঁর ওপর ভরসা রাখতে দ্বিধা করে না।

এই উক্তিটি মূলত বোঝায় যে, কোনো ব্যক্তি যখন তার নিঃস্বার্থ সেবা, বিচক্ষণতা এবং মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে নিজেকে মানুষের কাছে অপরিহার্য করে তোলেন, তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাদের মনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস জন্ম নেয়। এই বিশ্বাসই তাঁকে সকলের কাছে নির্ভরযোগ্য ও আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, যার ফলে মানুষ তাঁর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তকে সহজেই মেনে নেয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের রাতের গণহত্যার ভয়াবহতা বর্ণনা করা হয়েছে। ছাব্বিশে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকায় আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ইঙ্গিত বহন করে। কারফিউ সত্ত্বেও মানুষ দলে দলে পালাতে শুরু করে এবং পুরো ঢাকায় মৃতদেহের ছড়াছড়ি ও ধ্বংসের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর বর্বরতার এক নিষ্ঠুর প্রারম্ভিক চিত্র।

অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত ঢাকা শহরের মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ আরও সুসংগঠিত এবং বিভীষিকাময় রূপ লাভ করে। গল্পে কলেজের প্রিন্সিপাল কক্ষকে টর্চার সেলে রূপান্তর, শহীদ মিনারের ভাঙচুর, নিরীহ শিক্ষকদের নির্যাতন ও হত্যা, অসংখ্য মৃতদেহ পড়ে থাকা এবং পাকবাহিনীর নির্বিচার গোলাবর্ষণ ও হত্যার চিত্র ফুটে ওঠে। বৃষ্টির জলকে যেন শহীদের রক্তের সাথে একীভূত করে গণহত্যার বীভৎসতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে, উদ্দীপকের চিত্রটি ২৫-২৬ মার্চের গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে, যেখানে আগুনের কুণ্ডলী, ব্যাপক পলায়ন ও মৃতদেহের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। এটি ছিল আকস্মিক ধ্বংসের চিত্র। এর বিপরীতে 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে ঢাকা শহরের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের একটি দীর্ঘস্থায়ী, সুপরিকল্পিত এবং মনস্তাত্ত্বিক দিক উন্মোচন করা হয়েছে, যেখানে পাকবাহিনী শুধু হত্যাই করেনি, বরং মানুষের আত্মসম্মানবোধ ও বাঙালির সংস্কৃতিকেও আঘাত করতে চেয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ঢাকা শহরকে মৃত্যুপুরী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, তবে উদ্দীপক প্রাথমিক বর্বরতা এবং 'রেইনকোট' সেই বর্বরতার দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংগঠিত রূপের প্রকাশ ঘটায়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

"রেইনকোট" গল্পটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি কালজয়ী সৃষ্টি যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত। উদ্দীপকে পঁচিশে মার্চের গণহত্যার পরের দিনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানুষের পালানোর দৃশ্য বিদ্যমান। কিন্তু এই মন্তব্যটি যথার্থ যে, উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সমগ্রভাব ধারণ করেনি।

উদ্দীপকটি মূলত ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের গণহত্যার অব্যবহিত পরের দিনের একটি বাস্তব ও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকায় আগুনের কুণ্ডলী এবং মানুষের পলায়নপরতা যুদ্ধের প্রাথমিক ধ্বংসাত্মক রূপটিকে প্রকাশ করে। এটি গল্পের পটভূমি হিসেবে যুদ্ধের হিংস্রতা ও ভীতিকর পরিবেশকে নির্দেশ করে। কিন্তু 'রেইনকোট' গল্পের মূল ভাব শুধু এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি গভীরতর মানবিক অনুভূতি, প্রতিরোধের স্পৃহা ও প্রতীকী অর্থ বহন করে।

'রেইনকোট' গল্পে শুধু বাহ্যিক ধ্বংসযজ্ঞ নয়, বরং যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব, ভয় ও সাহসের দ্বৈরথ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে জেগে ওঠা দেশপ্রেমের চিত্রও ফুটে ওঠে। গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদার মধ্যে তার শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটের প্রভাবে যে অলৌকিক পরিবর্তন আসে, ভয় থেকে সাহসিকতার দিকে তার যাত্রা, এবং রেইনকোটের মাধ্যমে মিন্টুর বিপ্লবী চেতনার প্রতীকী সঞ্চারণ—এগুলো গল্পের মূল নির্যাস। উদ্দীপকে সেই প্রতীকী গভীরতা, চরিত্র রূপান্তর এবং নীরব প্রতিরোধের বিষয়টি অনুপস্থিত, যা 'রেইনকোট' গল্পকে অনন্য করে তুলেছে। উদ্দীপকটি কেবল যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে, কিন্তু গল্পের মূল চালিকাশক্তি, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ভেতরের প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের স্পৃহা, যা রেইনকোটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তার ইঙ্গিত দেয়নি।

সুতরাং, উদ্দীপকের বর্ণনা রেইনকোট গল্পের প্রেক্ষাপটের একটি অংশ মাত্র। এটি গল্পের ভেতরের সংগ্রাম, প্রতীকী অর্থ এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারেনি। 'রেইনকোট' গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের কেবল বাহ্যিক চিত্রই নয়, বরং এর গভীর মানবিক ও আত্মিক সংগ্রামকেও সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, যা উদ্দীপকের সীমিত পরিসরে প্রকাশ সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
174


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

উদ্দীপকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা, পাশবিকতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের সন্দেহপ্রবণ মনোভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে।

'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরতা ও নির্বিচার গণহত্যার একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা সাধারণ মানুষদের মুক্তি সন্দেহে ধরে নিয়ে নির্যাতন করত এবং বিনা বিচারে হত্যা করত। তারা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের মধ্যে মুক্তি বাহিনীর প্রতি এক গভীর বিদ্বেষ এবং সন্দেহপ্রবণতা কাজ করত, যা তাদের আরও উন্মত্ত করে তুলত।

উদ্দীপকে দেখা যায়, চকচকে রোদে একজন কিশোর তার গরু নিয়ে মাঠ থেকে ফিরছে। কলিমুদ্দি দফাদার তাকে রাখাল হিসেবে চিনলেও, সৈনিকরা তাকে 'মুক্তি' আখ্যা দিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এখানে পাকিস্তানি সৈনিকদের যুক্তিহীন সন্দেহ, নৃশংসতা এবং নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা 'রেইনকোট' গল্পের মূল ভাবনারই প্রতিচ্ছবি। তারা একটি সাধারণ কিশোরকে সামান্য অজুহাতে হত্যা করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিল, যা ছিল তাদের দখলদারিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
967
উত্তরঃ ৪৩ বছর বয়সে

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ১৯৪২ সালের দিকে তিনি পিক্‌স ডিজিজ (Pick's disease) নামক এক দুরারোগ্য নিউরোলজিক্যাল ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এই অসুস্থতার কারণে তার সাহিত্য জীবন ৪৩ বছর বয়সেই স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৫ বছর নির্বাক থাকার পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই অসুস্থতা দেশের সাহিত্য অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
430
উত্তরঃ

মানুষ ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয়, কারণ এটি সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে মানবতা, পরোপকার, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে স্থান দেয়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও কল্যাণ করাই এর মূল ভিত্তি।

প্রকৃত ধর্ম মানুষকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং বিপদে পাশে দাঁড়াতে শেখায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হলো মানবধর্মের সারকথা। তাই সব ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবসেবাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
671
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews