জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হরিপুর গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী কালাম সাহেব গ্রামের মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। গ্রামের আরেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। এতে গ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার অবসান ঘটে। সারা বছর চাষাবাদ করা সম্ভব হয় বলে এখন আর হরিপুর গ্রামের মানুষের আর্থিক সাহায্য গ্রহণের প্রয়োজন হয় না।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

মনীষা অর্থ হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলা হয়, যাতে তাদের আর অপরের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে না হয়। এটি কেবল সাময়িক দান-খয়রাতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার একটি স্থায়ী প্রক্রিয়া।

এই সোপানের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। যখন মানুষ নিজেদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সক্ষমতা অর্জন করে, তখন তারা পরাধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মমর্যাদাশীল জীবনযাপন করতে পারে। এটিই প্রকৃত মানব-কল্যাণের দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের ধারণা অনুযায়ী মানুষের মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত কল্যাণ। এটি সাময়িক দান-খয়রাত বা সাহায্যের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি ও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে মানুষকে অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে না হয়, বরং তারা স্বাবলম্বী হয়ে নিজেদের জীবন ও জীবিকার নিয়ন্ত্রণ নিজেরাই গ্রহণ করতে পারে।

উদ্দীপকের কালাম সাহেব হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করেন। তার এই কাজটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক উদ্যোগ, যা মানুষের তাৎক্ষণিক কষ্ট লাঘব করে। কিন্তু এই দান-খয়রাত গ্রামের জলাবদ্ধতার মূল সমস্যাটির কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। কালাম সাহেবের সাহায্য ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকরী ছিল যতক্ষণ তিনি তা প্রদান করছিলেন, কিন্তু এটি গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকার মূল সংকটকে দূর করতে পারেনি এবং তাদের পরনির্ভরশীলতা বজায় রেখেছিল। ফলে, এটি 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মানব-কল্যাণের ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলে হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী অবসান ঘটান। এর ফলে গ্রামের মানুষ সারা বছর চাষাবাদ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হয় এবং তাদের আর আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। জামাল সাহেবের এই উদ্যোগটি গ্রামের মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত প্রকৃত মানব-কল্যাণের দৃষ্টান্ত। এর বিপরীতে কালাম সাহেবের দান-খয়রাত ছিল কেবল সাময়িক উপশম, যা মূল সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছিল এবং মানুষের পরনির্ভরশীলতা দূর করতে পারেনি। তাই কালাম সাহেবের দান-খয়রাত 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানব-কল্যাণের ধারণার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল মানব-কল্যাণের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত কল্যাণ নিহিত রয়েছে মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা ও মর্যাদাবোধ জাগিয়ে তোলার মধ্যে, যা দয়ার দান বা সাময়িক সাহায্যে সম্ভব নয়। লেখক দান-খয়রাতের পরিবর্তে এমন স্থায়ী সমাধানের কথা বলেছেন, যা মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুলে দেয়।

উদ্দীপকে হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা গ্রামের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। কালাম সাহেব গ্রামের মানুষকে নিয়মিত দান-খয়রাত ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করে সাময়িক উপশমের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু জামাল সাহেব নিজস্ব অর্থে একটি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে গ্রামে নতুন পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন, যা জলাবদ্ধতার মূল সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করে। এর ফলস্বরূপ গ্রামের মানুষ সারা বছর চাষাবাদ করতে সক্ষম হয় এবং তাদের আর আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে না।

জামাল সাহেবের এই কর্মকাণ্ড 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার সরাসরি প্রতিফলন। লেখক আবুল ফজল কর্মহীন, অসহায় ও পরনির্ভরশীল মানুষকে দান-খয়রাত বা দয়া দেখিয়ে আরও পরনির্ভরশীল করে তোলার বিরোধী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন সব উদ্যোগ যা মানুষকে কর্মমুখী করে তুলবে, তাদের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেবে এবং সমাজ থেকে পরমুখাপেক্ষিতা দূর করবে। জামাল সাহেব হরিপুর গ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করে গ্রামবাসীকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন, যা তাদের আর কারও মুখাপোপেক্খী করে রাখেনি। এটি কেবল সাময়িক সাহায্য নয়, বরং স্থায়ী একটি সমাধান যা গ্রামের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করেছে।

অতএব, উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কার্যক্রম কেবল দান-খয়রাত বা করুণার প্রকাশ নয়, বরং তা মানুষের সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করে তাদের আত্মমর্যাদা ও কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনার একটি দৃষ্টান্ত। এই অর্থে, "উদ্দীপকের জামাল সাহেবের কর্মকাণ্ডে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের লেখকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে" মন্তব্যটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
58

মানব-কল্যাণ— এ শিরোনাম আমার দেওয়া নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানব-কল্যাণ
কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে । একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও আমরা মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি । মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে এতে যে ক্ষুণ্ণ করা হয় তা সাধারণত উপলব্ধি করা হয় না ।
ইসলামের নবি বলেছেন, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। নিচের হাত মানে যে মানুষ হাত পেতে গ্রহণ করে, ওপরের হাত মানে দাতা- যে হাত তুলে ওপর থেকে অনুগ্রহ বর্ষণ করে। দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা তার সর্ব অবয়বে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তার বীভৎস দৃশ্য কার না নজরে পড়েছে? মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। এ কথা
ব্যক্তির বেলায় যেমন সত্য, তেমনি দেশ আর রাষ্ট্রের বেলায় বরং অধিকতর সত্য। কারণ, রাষ্ট্র জাতির যৌথ
জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসন চালানোই নয়, জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব । যে রাষ্ট্র হাতপাতা আর চাটুকারিতাকে দেয় প্রশ্রয়, সে রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না ।
তাই মানব-কল্যাণ অর্থে আমি দয়া বা করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাতকে মনে করি না। মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না। মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত। একদিন এক ব্যক্তি ইসলামের নবির কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল । নবি তাকে একখানা কুড়াল কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এটি দিয়ে তুমি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা রোজগার করো গে। এভাবে তিনি লোকটিতে শুধু স্বাবলম্বনের পথ দেখাননি, সে সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মর্যাদাবান হওয়ার, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের উপায়ও ।
মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং মানবিক-বৃত্তির বিকাশের পথেই বেড়ে উঠতে হবে আর তার যথাযথ ক্ষেত্র রচনাই মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান। সে সোপান রচনাই সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট পরিবার— সে পরিবারকেও পালন করতে হয় এ দায়িত্ব। কারণ, মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা সেখান থেকেই। ধীরে ধীরে ব্যাপকতর পরিধিতে যখন মানুষের বিচরণ হয় শুরু, তখন সে পরিধিতে যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে— তা শিক্ষা কিংবা জীবিকা সংক্রান্ত যা হোক না তখন সে দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়। তবে তা অনেকখানি নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র গড়ে তোলার ওপর।
মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না । প্রতিটি মানুষ যেমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি তার কল্যাণও সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত। উপলব্ধি ছাড়া মানব-কল্যাণ স্রেফ দান-খয়রাত আর কাঙালি ভোজনের মতো মানব-মর্যাদার অবমাননাকর এক পদ্ধতি না হয়ে যায় না, যা আমাদের দেশ আর সমাজে হয়েছে। এসবকে বাহবা দেওয়ার এবং এসব করে বাহবা কুড়োবার লোকেরও অভাব নেই দেশে ।
আসল কথা, মানুষের মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল এ ধরনের মানব-কল্যাণ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হতে পারে না। এ হেন মানব-কল্যাণের কুৎসিত ছবি দেখার জন্য দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের আশে-পাশে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলেই তা দেখা যায় ।
বর্তমানে মানব-কল্যাণ অর্থে আমরা যা বুঝি তার প্রধানতম অন্তরায় রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা— যা মানুষকে মেলায় না, করে বিভক্ত। বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না । করা যায় একমাত্র সমতা আর সহযোগ-সহযোগিতার পথে।
সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি। বিদ্যাপতি চীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাইতো মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক উক্তি : “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।
এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিম্নলিখিত উক্তিটিও স্মরণীয় : “Relationship is the fundamental truth of the world of appearance.” কবি এ উক্তিটি করেছিলেন তাঁর হিবার্ট বক্তৃতামালায়। অন্তর-জগতের বাইরে যে জগৎকে আমরা অহরহ দেখতে পাই তার মৌলিক সত্য পারস্পরিক সংযোগ-সহযোগিতা, কবি যাকে Relationship বলেছেন। সে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়।
মানব-কল্যাণ অলৌকিক কিছু নয়— এ এক জাগতিক মানবধর্ম। তাই এর সাথে মানব-মর্যাদার তথা Human dignity-র সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আজ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলে কী দেখতে পাই? দেখতে পাই দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে রিলিফ, রিহেবিলিটেশন ইত্যাদি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। রেডক্রস ইত্যাদি সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধিই কি প্রমাণ করে না মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ মানব-অপমানে পরিণত হয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদার স্বীকৃতি আর প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত না হয়ে পারে না ।
কালের বিবর্তনে আমরা এখন আর tribe বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব নই— বৃহত্তর মানবতার অংশ। তাই Go of humanity-কে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিংবা খতিভাবে দেখা বা নেওয়া যায় না। তেমনি নেওয়া যায় না তার কল্যাণকর্মকেও খণ্ডিত করে। দেখতে মানুষও অন্য একটা প্রাণী মাত্র, কিন্তু ভেতরে মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যে সম্ভাবনার স্ফুরণ-স্ফুটনের সুযোগ দেওয়া, ক্ষেত্র রচনা আর তাতে সাহায্য করাই শ্রেষ্ঠতম মানব-কল্যাণ। সেটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথে হতে পারে না। হালে যে দর্শনকে অস্তিত্ববাদ নামে অভিহিত করা হয়, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Existentialism তারও মূল কথা ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দান ।
বল প্রয়োগ কিংবা সামরিক শাসন দিয়ে মানুষকে তাঁবেদার কিংবা চাটুকার বানাতে পারা যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করা যায় না মানব-মর্যাদার আসনে। সব কর্মের সাথে শুধু যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে তা নয়, তার সামাজিক পরিণতি তথা Social consequence-ও অবিচ্ছিন্ন। যেহেতু সব মানুষই সমাজের অঙ্গ, তাই সব রকম কল্যাণ-কর্মেরও রয়েছে সামাজিক পরিণতি। এ সত্যটা অনেক সময় ভুলে থাকা হয়। বিশেষত যখন দৃষ্টি থাকে ঊর্ধ্ব দিকে তথা পরলোকের পানে ।
স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। সব ধর্ম আর ধর্ম-প্রবর্তকেরা বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের ভালো করো, মানুষের কল্যাণ করো, সুখ-শান্তি দান করো মানুষকে । এমনকি সর্বজীবে হিতের কথাও বলা হয়েছে। অতএব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। নতুন পদ্ধতিতে— যা হবে বৈজ্ঞানিক, র‍্যাশনাল ও সুবুদ্ধি-নিয়ন্ত্রিত। সমস্যা যত বড় আর যত ব্যাপকই হোক না তার মোকাবেলা করতে হবে সাহস আর বুদ্ধিমত্তার সাথে। এড়িয়ে গিয়ে কিংবা জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায় না।
আমাদের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব। একমাত্র মুক্ত বিচারবুদ্ধির সাহায্যেই বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারকে ধ্বংসের পরিবর্তে সৃজনশীল মানবিক কর্মে করা যায় নিয়োগ। তা করা হলেই মানব-কল্যাণ হয়ে উঠবে মানব-মর্যাদার সহায়ক।
[সংক্ষেপিত]
 

Related Question

View All
139
উত্তরঃ

আপনার উক্তিটি সঠিক, "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।" কথাটি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন।

বিস্তারিত:

  • উপরের হাত এবং নিচের হাত এই উক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে সাহায্যকারী এবং সহায়তাপ্রাপ্তকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে। এখানে "উপরের হাত" বোঝায় সাহায্য প্রদানকারী এবং "নিচের হাত" বোঝায় সাহায্য গ্রহণকারী।
  • নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দান এবং সহায়তার গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। যারা সাহায্য করে তাদের মর্যাদা বেশি এবং তাদের সাহায্যের মানে বড় বলে উল্লেখ করেছেন।

এই উক্তিটি মানবিকতা ও দানের গুরুত্বকে নির্দেশ করে এবং সমাজে সাহায্য এবং সহানুভূতির মূল্য বৃদ্ধি করে।

127
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews