মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের 'আখেটি খণ্ড' বা 'কালকেতু উপাখ্যান'-এ যেভাবে মানবজীবনের দুঃখ, দারিদ্র্য ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। আলোচ্য উক্তিটি এই উপাখ্যানের মূল সুরকেই নির্দেশ করে। মুকুন্দরাম 'কবি কঙ্কণ' উপাধি লাভ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর কাব্যে সুখের চেয়ে দুঃখের চিত্রই অধিক বাস্তব ও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছে, বিশেষত কালকেতু চরিত্রের মধ্য দিয়ে।
কালকেতুর জীবন শুরু থেকেই দুঃখময়। দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত হয়ে সে পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। তার স্ত্রী ফুল্লরার বারোমাস্যা বর্ণনায় তৎকালীন সমাজের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য ও দৈনন্দিন জীবনের কষ্টকর চিত্র জীবন্ত হয়ে ওঠে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—প্রতিটি ঋতুতেই ফুল্লরার দুঃখের শেষ নেই। তাদের ক্ষুধার জ্বালা, জীর্ণ কুটির, সন্তানহীনতার বেদনা, সমাজের অবহেলা—সবই মুকুন্দরাম অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি এখানে কেবল দুঃখের বর্ণনা দেননি, বরং দুঃখকে একটি গভীর সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষিতে স্থাপন করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
কালকেতুর জীবনে দেবীর চণ্ডীর আগমনও প্রথমে তার জন্য সুখের বার্তা নিয়ে আসেনি, বরং তা আরও গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। দেবীর মায়ায় স্বর্ণগোসাপের আগমন, কালকেতুর হাতে সেটি ধরিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তীতে ধনপতি সওদাগর কর্তৃক চুরির অভিযোগ এনে কালকেতুকে কারাগারে নিক্ষেপ করা—এই সবই কালকেতুর দুঃখকে আরও প্রকট করে তোলে। কারাগারে তার অনাহার-অনিদ্রা, অত্যাচার এবং ফুল্লরার তার মুক্তির জন্য আকুতি—এসবই মুকুন্দরামের লেখনীতে পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সুখের চেয়ে দুঃখের চিত্র অঙ্কনে কবির এই অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য আসনে বসিয়েছে।
কালকেতুর এই দুঃখময় জীবনের মধ্য দিয়েই দেবী চণ্ডীর মহিমা প্রকাশিত হয়। যদিও পরিশেষে কালকেতু ধনসম্পদ লাভ করে গুজরাট নগরীর পত্তন করে, কিন্তু কাব্যের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকে তার পূর্বের চরম দারিদ্র্য ও যন্ত্রণার চিত্র। সুখের আগমন ক্ষণস্থায়ী হলেও, দুঃখের বর্ণনাই কাব্যের ব্যাপক অংশ জুড়ে রয়েছে এবং তা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মুকুন্দরামের সহমর্মী দৃষ্টি এবং বাস্তবতার কঠিন চিত্র তুলে ধরার সাহসই তাকে দুঃখের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই কারণেই বলা যায়, কবি কঙ্কণ সুখের কথায় বড় নহেন, দুঃখের কথায় বড়।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন বাংলা গদ্যের জনক এবং তাঁর হাতেই বাংলা গদ্য প্রথম শিল্পিত রূপ লাভ করে। এই উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করতে হলে বিদ্যাসাগরের পূর্ববর্তী বাংলা গদ্যের অবস্থা এবং তাঁর অবদান বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যাসাগরের পূর্বে বাংলা গদ্যের কয়েকটি ধারা লক্ষ্য করা যায়। এক, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের হাতে রচিত পাঠ্যপুস্তক, যা মূলত ইংরেজি অনুবাদ এবং শিক্ষামূলক রচনা। দুই, সমাচারপত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রবন্ধ। তিন, বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ ও ব্যক্তিগত পত্রালাপ। এই গদ্য ছিল প্রধানত ব্যবহারিক, যেখানে বাক্যের গঠন ছিল জটিল, শব্দ প্রয়োগ ছিল অপরিমার্জিত এবং বিরামচিহ্নের ব্যবহার ছিল যথেচ্ছ বা অনুপস্থিত। এই সময়ের গদ্য রচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল তথ্য সরবরাহ বা প্রয়োজন মেটানো, কোনো শিল্পবোধ বা সাহিত্যিক সৌন্দর্যবোধ এতে ছিল না। রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার প্রমুখের রচনায় গদ্যের প্রাথমিক রূপ দেখা গেলেও তা ছিল মূলত সংস্কৃত বা ব্রজবুলির প্রভাবযুক্ত, কাঠিন্যপূর্ণ এবং অমার্জিত।
বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে এক নবদিগন্তের উন্মোচন করেন। তিনি সংস্কৃত কাব্য ও নাটকের সহজবোধ্য অনুবাদ এবং মৌলিক রচনার মাধ্যমে বাংলা গদ্যকে শিল্পিত চেহারায় নিয়ে আসেন। তাঁর রচনায় গদ্য নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ধারণ করে শিল্পোত্তীর্ণ হয়ে ওঠে:
সুষ্ঠু বাক্যবিন্যাস: বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলা গদ্যে সুশৃঙ্খল ও অর্থপূর্ণ বাক্যগঠন প্রণালী প্রবর্তন করেন। দীর্ঘ ও জটিল বাক্যকে তিনি ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে সহজবোধ্য করে তোলেন।
যথাযথ বিরামচিহ্নের ব্যবহার: তিনি বাংলা গদ্যে ইংরেজি রীতির বিরামচিহ্ন (কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ, পূর্ণচ্ছেদ ইত্যাদি) প্রথম সার্থকভাবে ব্যবহার করেন। এর ফলে গদ্যের অর্থ স্পষ্ট হয় এবং পাঠকের পঠনযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
শব্দ প্রয়োগে মুন্সিয়ানা: বিদ্যাসাগর তৎসম শব্দ ব্যবহার করলেও তা ছিল সহজ ও সাবলীল। তিনি অপ্রচলিত ও দুরূহ শব্দ পরিহার করে একটি গতিশীল ও মধুর গদ্যশৈলী তৈরি করেন, যা একইসাথে সংস্কৃতের আভিজাত্য এবং বাংলার স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখে।
ভাব ও ভাষার সুষম সমন্বয়: তাঁর রচনায় ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা আর নিছক মাধ্যম থাকে না, বরং তা নিজেই একটি শিল্প হয়ে ওঠে। তিনি আবেগ, যুক্তি ও বর্ণনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেখানে শব্দ, বাক্য ও অলংকার একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়ায়।
বর্ণনার নৈপুণ্য ও ভাষার লালিত্য: 'বেতাল পঞ্চবিংশতি', 'শকুন্তলা', 'সীতার বনবাস' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বর্ণনাভঙ্গি ছিল মনোজ্ঞ এবং ভাষার লালিত্য ছিল অতুলনীয়। তিনি কাহিনী বর্ণনায় ও চরিত্র চিত্রণে এক নতুন শিল্পরুচির পরিচয় দেন।
এই সমস্ত কারণে, বিদ্যাসাগরের রচনার মাধ্যমেই বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পিত রূপ প্রকাশ পায়। তিনি কেবল একটি নতুন গদ্যধারা তৈরি করেননি, বরং এটিকে সাহিত্যিক মর্যাদা ও নান্দনিক আবেদন দান করে ভবিষ্যৎ বাংলা সাহিত্যের পথ খুলে দিয়েছিলেন। তাই, 'বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পিত রূপ বিদ্যাসাগরের রচনায় পাওয়া যায়' - এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটগল্প রচনার ক্ষেত্রে যে এক সার্থক পথপ্রদর্শক, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও অনস্বীকার্য। বাংলা ছোটগল্পের জনক হিসেবে তিনি একাই এই ধারাটিকে শৈল্পিক পূর্ণতা দান করেছেন এবং এর ভবিষ্যৎ পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছোটগল্প আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি লাভ করে।
রবীন্দ্রনাথের পূর্বে বাংলা সাহিত্যে কথিকা বা আখ্যানমূলক রচনা থাকলেও, আধুনিক ছোটগল্পের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত ছিল। ইউরোপীয় রীতির ছোটগল্প তখনও বাংলা সাহিত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। জীবন ও জগতের এক খণ্ডরূপকে গভীর ব্যঞ্জনা ও শিল্পসম্মত ভঙ্গিতে তুলে ধরার ক্ষমতা তাঁর হাতেই প্রথম প্রকাশ পায়। তিনি ছোটগল্পকে শুধু একটি আখ্যান হিসেবে না দেখে, মানবজীবনের কোনো একটি বিশেষ মুহূর্ত, অনুভূতি বা রহস্যকে উন্মোচনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
তাঁর ছোটগল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হলো "শেষ হইয়াও হইল না শেষ" – এই অনুভূতি। তিনি জীবনের জটিলতা, মানব মনের সূক্ষ্ম অনুভূতি, প্রেম-বিরহ, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ক, গ্রামীণ জীবনের সরলতা ও গভীরতা, তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার ও নারীর অবস্থান – ইত্যাদি বিষয়গুলোকে এমন নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন যা পূর্বে দেখা যায়নি। 'পোস্টমাস্টার', 'ছুটি', 'একরাত্রি', 'নষ্টনীড়', 'হৈমন্তী', 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন', 'অতিথি' প্রভৃতি গল্পে তিনি বাঙালির চিরায়ত জীবন ও সমাজের এক অনবদ্য চিত্র অঙ্কন করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের ভাষা ও শৈলীতেও নতুনত্ব আনেন। তিনি ভাষার সহজতা ও কাব্যময়তার এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়েছেন, যা পাঠকদের হৃদয়ে সরাসরি আবেদন সৃষ্টি করে। চরিত্র চিত্রণে তাঁর গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বাংলা ছোটগল্পকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাঁর গল্পে চরিত্ররা কেবল ঘটনার শিকার নয়, বরং তাদের নিজস্ব মনোজগৎ, দ্বন্দ্ব ও বিবর্তন পাঠককে মুগ্ধ করে।
সুতরাং, বাংলা ছোটগল্পের আঙ্গিক, বিষয়বস্তু, শৈলী ও দর্শনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মৌলিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন, তা তাঁকে এই ধারার সার্থক পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর হাত ধরেই বাংলা ছোটগল্প তার নিজস্ব পরিচয় লাভ করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের লেখকদের জন্য এক সমৃদ্ধ ভূমি তৈরি হয়। এই কারণে আলোচ্য মন্তব্যটি সম্পূর্ণ বিচারসম্মত ও নির্ভুল।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক বিস্ময়কর প্রতিভা, যিনি তার কাব্যকৃতির মাধ্যমে প্রেম ও দ্রোহ উভয় চেতনাকে এক প্রবল রোমান্টিকতার আবরণে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাকে বিদ্রোহী কবি বলা হলেও, তার কাব্যে প্রেমের এক অনন্ত ধারাও সমানভাবে প্রবাহিত। এই উক্তিটি তার সমগ্র কাব্যভাবনার মূল সুরকে ধারণ করে এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।
নজরুলের কাব্যে প্রেম একটি বহুমুখী অনুষঙ্গ। এই প্রেম কেবল নর-নারীর চিরায়ত সম্পর্ককেন্দ্রিক নয়, বরং তা মানবতা, দেশ, প্রকৃতি এবং সর্বোপরি স্রষ্টার প্রতিও প্রসারিত। তার প্রেমের কবিতায় পাওয়া যায় এক উদ্দাম আবেগ, যেখানে বিরহ-মিলন, আশা-নৈরাশ্য এবং আত্মিক অনুভূতির এক তীব্র প্রকাশ দেখা যায়। "বুলবুল", "চক্রবাক" বা "দোলনচাঁপা"-এর মতো কাব্যগ্রন্থগুলোতে প্রেমের স্নিগ্ধ, কোমল এবং কখনো কখনো মায়াবী রূপ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই প্রেম শুধু ব্যক্তিগত অনুরাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দেশপ্রেম, মানবপ্রেম এবং শোষিত মানুষের প্রতি মমত্ববোধেও রূপ নেয়, যা এক মহৎ রোমান্টিক আদর্শের পরিচায়ক।
অন্যদিকে, নজরুলের কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দ্রোহ। তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন, সামাজিক অবিচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কলম ছিল খরগসম। "বিদ্রোহী", "কামাল পাশা" বা "ভাঙার গান"-এর মতো কবিতায় তার দ্রোহী সত্তার প্রকাশ ঘটেছে। এই দ্রোহ কেবল হিংসাত্মক প্রতিবাদ নয়, বরং তা মুক্তি, সাম্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার জন্য এক আবেগপূর্ণ, আদর্শবাদী এবং স্বপ্নচারী সংগ্রাম। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার জন্য তার আহ্বান, শোষিতের পক্ষে তার বজ্রনিনাদ সবই এক রোমান্টিক মুক্তির আকাক্ষা ও বিপ্লবী চেতনার ফসল। এখানেও দেখা যায়, দ্রোহের মূলে রয়েছে এক উচ্চাঙ্গের রোমান্টিকতা, যেখানে কবি অদম্য আত্মবিশ্বাস ও সৌন্দর্যবোধ নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।
বস্তুত, নজরুল ইসলামের কাব্যে প্রেম ও দ্রোহকে আলাদা করা যায় না; বরং তারা একে অপরের পরিপূরক। তার প্রেম যেমন দ্রোহের জন্ম দিয়েছে, তেমনি দ্রোহও প্রেমহীন সমাজকে মেনে নিতে পারেনি। রোমান্টিকতার প্রবল স্রোতধারা এই দুই চেতনাকে একই মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি প্রেম করেছেন এক সুন্দর, সাম্যবাদী পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে, আর দ্রোহ করেছেন সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আসা বাধাগুলো দূর করতে। এই কারণেই তার কাব্যে প্রেম ও দ্রোহ উভয়ই এক প্রবল রোমান্টিকতায় পূর্ণ, যা বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন মাত্রা দান করেছে। তার দ্রোহ ছিল মহৎ ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আর প্রেম ছিল সেই মহত্ত্ব ও সুন্দরের প্রতি অবিচল আস্থা।
ভূমিকা: মীর মশাররফ হোসেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি সাহিত্যিক। তার সাহিত্য প্রতিভার এক অনবদ্য সৃষ্টি হলো 'বিষাদসিন্ধু', যা বাংলা সাহিত্যের একটি ধ্রুপদী মহাকাব্যিক উপন্যাস হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেছে। 'বিষাদসিন্ধু' শুধু তার সেরা কাজ নয়, এটি বাংলা মুসলিম সাহিত্যেরও এক মাইলফলক।
বিষয়বস্তু ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: 'বিষাদসিন্ধু' কারবালার ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত। ৬১ হিজরির ১০ই মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত এবং তাঁর পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া অমানবিক নির্যাতন এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। মীর মশাররফ হোসেন এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে এক মহাকাব্যিক আবহে তুলে ধরেছেন, যেখানে কেবল ইতিহাস নয়, আবেগ, বিশ্বাস এবং মানবিকতার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
সাহিত্যিক মূল্যবোধ ও শিল্পগুণ: 'বিষাদসিন্ধু'র প্রধান আকর্ষণ এর হৃদয়গ্রাহী বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষার সহজবোধ্যতা। লেখক তার অনুপম বর্ণনাশৈলীর মাধ্যমে পাঠককে কারবালার করুণ ইতিহাসের গভীরে নিয়ে যান। উপন্যাসের ভাষা কাব্যময়, অলঙ্কারপূর্ণ এবং একই সাথে মর্মস্পর্শী। চরিত্র চিত্রণে তিনি ছিলেন অসাধারণ দক্ষ। ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন, জয়নাল আবেদীন, ফাতিমা, এমনকি ইয়াযিদ ও শিমরের মতো চরিত্রগুলো তাঁর লেখনীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিটি চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ এবং তাদের নৈতিক দ্বন্দ্বে লেখক মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
মানবতাবাদ ও চিরন্তন আবেদন: 'বিষাদসিন্ধু' শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির বর্ণনা নয়, এটি মানবতাবাদের এক অনন্য দলিল। এখানে ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে অন্যায়, অবিচার, লোভ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে। কারবালার ঘটনাকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা শুধু মুসলিম সমাজের নয়, সমগ্র মানবজাতির হৃদয়কে নাড়া দেয়। এর আবেদন তাই দেশ, কাল ও ধর্মের সীমানা ছাড়িয়ে চিরন্তন হয়ে উঠেছে।
উপসংহার: মীর মশাররফ হোসেনের অন্যান্য রচনা, যেমন 'জমীদার দর্পণ', 'গাজী মিয়ার বস্তানী' প্রভৃতি তার বহুমুখী প্রতিভার পরিচায়ক হলেও 'বিষাদসিন্ধু' তার সাহিত্য সাধনার এক চূড়ান্ত পরিণতি। এর বিপুল জনপ্রিয়তা, সাহিত্যিক গভীরতা, এবং অসামান্য শিল্পগুণ এটিকে তার সাহিত্য প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'বিষাদসিন্ধু' এক অক্ষয় সৃষ্টি, যা মীর মশাররফ হোসেনকে অমরত্ব দান করেছে।
বিবিসির জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় ৮ম স্থান প্রাপ্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, গদ্যকার, মানবতাবাদ, কর্মবাদ ও ইহলৌকিক চিন্তা-চেতনার প্রতি আস্থাশীল একজন ক্ষণজন্মা বাঙালি। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে অর্থবহ করে তোলেন। বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৮২০ সালে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মাতা ভগবতী দেবী।
ঈশ্বরচন্দ্রের পারিবারিক উপাধি- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি মাত্র ১৯ বছর বয়সে সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ করেন।
তিনি ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৪১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিত হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
তার সম্পাদিত পত্রিকা 'সর্বশুভকরী' (১৮৫০)।
তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরাম চিহ্নের প্রথম ব্যবহার করেন
২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে কলকাতায় মারা যান।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন । তিনি 'বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব' (১৮৫৫), 'বহুবিবাহ রহিয় হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক বিচার' (১৮৭১,৭৩) প্রভৃতি গ্রন্থের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের শাস্ত্রীয়তা এবং বহুবিবাহর প্রথার অশাস্ত্রীয়তা প্রমাণ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় 'বিধব বিবাহ আইন' পাশ হয় ২৬ জুলাই, ১৮৫৬ সালে। এ বছরই ৭ ডিসেম্বর প্রথম কলকাতায় বিধবা বিবাহ হয় সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সাথে কালীমতী দেবীর। তিনি এ বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করেন। ১৮৭০ সালে তাঁর পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সাথে ভবসুন্দরী দেবী নামে এক বিধবার বিবাহ দেন।
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গ্রন্থের নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' (১৮৬৩): এটি একটি শোঁকগাথা। বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর মৃত্যুশোকে তিনি এটি রচনা করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'বেতালপঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭): এটি তাঁর প্রথম মুদ্রিত এই এবং এটির প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন যুগের সূচনা ঘটে। এটি হিন্দি ভাষায় লাল্লুজি রচিত 'বৈতাল পচ্চীসী' থেকে অনূদিত। এতে তিনি প্রথম যতি/বিরাম চিহ্নের সফল প্রয়োগ ঘটান।
শকুন্তলাঃ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কালিদাসের সংস্কৃত ভাষার 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নাটকটি অনূদিত করে রচনা করেন 'শকুন্তলা' (১৮৫৪)। এটি অনুবাদ গ্রন্থ হলেও বিদ্যাসাগর কাহিনি নির্মাণ ও ভাষা ব্যবহারে স্বাধীন মত গ্রহণ করে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গী প্রয়োগ করেন। চন্দ্রবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত তপোবনে শিকারে এসে মহর্ষি বিশ্বামিত্রের কন্যা শকুন্তলার প্রণয়ী হন এবং বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। রাজা চিহ্ন হিসেবে শকুন্তলাকে আংটি দিয়ে রাজ্যে ফিরে যান। শকুন্তলার গর্ভে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, নাম রাখা হয় ভরত। রাজা রাজকার্যে ব্যস্ত থাকার কারণে শকুন্তলাকে ভুলে যান। পরবর্তীতে দৈব বাণীতে রাজা সব অবগত হয়ে বৃদ্ধ বয়সে ভরতকে রাজ্যশাসনের ভার অর্পণ করেন। গদ্যে রচিত এমন সরল কাহিনি তৎকালে ছিল বিরল, যা বাংলা গদ্যে সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে এক অসামান্য ভূমিকা পালন করে।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থগুলোর নামঃ
'জীবনচরিত' (১৮৪৯): এটি চেম্বার্সের বায়োগ্রাফির বঙ্গানুবাদ।
'শকুন্তলা' (১৮৫৪): এটি কালিদাসের সংস্কৃত ভাষার নাটক 'অভিজ্ঞানশকুন্তলম' এর উপাখ্যান ভাগের বাংলা অনুবাদ।
'সীতার বনবাস' (১৮৬০): এটি ভবভূতির 'উত্তররামচরিত' নাটকের প্রথম অঙ্ক ও রামায়ণের উত্তর কাণ্ডের অনুবাদ।
'ভ্রান্তিবিলাস' (১৮৬৯): শেক্সপিয়রের 'Commedy of Errors' এর বাংলা রূপ।
'বাঙালার ইতিহাস' (১৮৭৮): গ্রন্থটি তিনি মার্সম্যানের 'History of Bengal' অবলম্বনে রচনা করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র রচিত শিশুদের জন্য পাঠ্য বই গুলোর নামঃ
'বর্ণপরিচয়' (১ম ও ২য় ভাগ- ১৮৫৫): এটি ক্ল্যাসিকের মর্যাদা লাভ করে।
'বোধোদয়' (১৮৫১): এটি চেম্বার্সের Rudiments of Knowledge অবলম্বনে রচিত।
'কথামালা' (১৮৫৬): এটি ঈশপের Fables অবলম্বনে রচিত।
'আখ্যানমঞ্জরী' (১৮৬৩): এ গ্রন্থের ২য় ভাগ 'প্রত্যুপকার'।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় কারণ তিনি বাংলা গদ্যকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপ ও শৃঙ্খলা দান করেন। এর আগে বাংলা গদ্যে তেমন কোনো নিয়মশৃঙ্খলা ছিল না এবং এটি সাধু ভাষার কঠোরতা ও সংস্কৃতের প্রভাবযুক্ত ছিল।
তিনি বাংলা গদ্যে যেসব উল্লেখযোগ্য সংযোজন করেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো:
বিরামচিহ্নের প্রবর্তন ও সঠিক ব্যবহার: আধুনিক বাংলা গদ্যে কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি ইত্যাদি বিরামচিহ্নের ব্যবহার তিনিই প্রথম সুসংবদ্ধভাবে চালু করেন, যা গদ্যের অর্থ ও পঠনযোগ্যতা বৃদ্ধি করে।
সরল ও প্রাঞ্জল বাক্যবিন্যাস: বিদ্যাসাগর কঠিন ও জটিল বাক্যকে সহজ-সরল ও সুপাঠ্য বাক্যবিন্যাসে রূপান্তরিত করেন, যা সাধারণ পাঠকের জন্য গদ্যকে সহজলভ্য করে তোলে।
গদ্যের শৈল্পিকতা ও গতিশীলতা: তিনি বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতের প্রভাবমুক্ত করে এক নতুন শিল্পরূপ দেন। তাঁর গদ্য ছিল সাবলীল, গতিময় ও সুমধুর।
নির্দিষ্ট কাঠামো ও রূপ: তাঁর হাতেই বাংলা গদ্য প্রথম একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও শৈলী লাভ করে, যা পরবর্তী গদ্য লেখকদের জন্য পথপ্রদর্শক হয়।
তাঁর রচিত 'বেতাল পঞ্চবিংশতি', 'শকুন্তলা', 'সীতার বনবাস' ইত্যাদি গ্রন্থগুলি বাংলা গদ্যের বিকাশে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কারবালার বিষাদময় ঘটনা অবলম্বনে মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ইংরেজ আমলে 'বিষাদ সিন্ধু' মহাকাব্য রচনা করেন। এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ শোকগাথা। গ্রন্থটি মূলত তিনটি খণ্ডে বিভক্ত:
প্রথম খণ্ড: মহরম পর্ব (১৮৮৫)
দ্বিতীয় খণ্ড: উদ্ধার পর্ব (১৮৮৭)
তৃতীয় খণ্ড: এজিদ বধ পর্ব (১৮৯১)
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে কল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়ে লেখক কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী রূপে উপস্থাপন করেছেন, যা বাংলা সাহিত্য ও মুসলিম সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৯৩১ সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে প্রেম, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে উপজীব্য করা হয়েছে। এটি নজরুলের বিপ্লবী চেতনা ও রোমান্টিক ভাবধারার এক অনবদ্য মিশ্রণ।
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ এবং দার্শনিক। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, যে কারণে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে সমধিক পরিচিত। তার সাহিত্যে সাম্য, মানবতা এবং বিদ্রোহের বাণী প্রবলভাবে উচ্চারিত হয়েছে।
ভানুসিংহ ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছদ্মনাম। তিনি এই ছদ্মনামে "ভানুসিংহের পদাবলী" নামক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এই কাব্যগ্রন্থটি মূলত বৈষ্ণব পদাবলীর ঢঙে লেখা একগুচ্ছ কবিতা নিয়ে গঠিত। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কৈশোরকালে বৈষ্ণব সাহিত্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই কবিতাগুলো লেখেন, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা, বিরহ ও মিলনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। এটি বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রাথমিক কাব্যপ্রতিভার এক অনন্য নিদর্শন এবং একটি স্বতন্ত্র সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি বিখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের একটি অংশ। এই গল্পে দরিদ্র কৃষক গফুরের একমাত্র অবলম্বন ছিল তার প্রিয় বলদ মহেশ। গফুর মহেশকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতো এবং মহেশও ছিল গফুরের অত্যন্ত অনুগত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, বিশেষত খরা ও অভাবের কারণে গফুর মহেশকে ঠিকমতো খেতে দিতে পারছিল না, যার ফলস্বরূপ মহেশকে চূড়ান্ত দুঃখজনক পরিণতির শিকার হতে হয়।
গল্পটি গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, মানুষের প্রতি পশুর নিবিড় ভালোবাসা, জমিদারী প্রথার শোষণ এবং তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরে। এটি শরৎচন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি।