উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পে বর্ণিত মৃত্যুঞ্জয়ের পৈত্রিক বাড়িটি ছিল অত্যন্ত জীর্ণ ও অপরিষ্কার। প্রথমে ধনীর দুলাল মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িটিতে চাকর-দাসী ও আত্মীয়-স্বজনের ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর সব আত্মীয়-স্বজন তাকে ছেড়ে চলে গেলে বাড়িটি শ্রীহীন, অপরিচ্ছন্ন এবং ভূতের বাড়ির মতো নীরব ও জনশূন্য হয়ে পড়েছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির এই পরিবেশ তার একাকীত্ব, অসহায়ত্ব এবং তার প্রতি সমাজের উদাসীনতাকেই ফুটিয়ে তোলে। এককালের সম্পন্ন গৃহটি মৃত্যুঞ্জয়ের অসুস্থতার পর তার ভাগ্যের মতোই দুর্দশাগ্রস্ত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়েছিল, যা বিলাসী গল্পের পটভূমি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রের সাথে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি তুলনীয়। উভয় চরিত্রই সমাজের প্রচলিত জাতিভেদ প্রথা ও পরিবারের উচ্চ বংশমর্যাদা উপেক্ষা করে নিম্নবর্গীয় মেয়ের প্রেমে পড়ে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় একজন উচ্চবংশীয় ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও সাপ খেলা দেখানো বিলাসীকে ভালোবেসেছিল। এই ভালোবাসার জন্য সে তার পরিবার, সমাজ, ঐতিহ্য সবকিছুকে পরিত্যাগ করে বিলাসীকে বিয়ে করে এবং এর ফলস্বরূপ সমাজে পতিত হয়। এমনকি সে তার সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত হয় এবং বিলাসীই তার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায়।

ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের জমিদারপুত্র নদের চাঁদও হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে সমাজের উঁচু-নীচুর দেয়াল ভেঙে দেয়। জমিদার বাবা এই সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় সে পরিবার ও সামাজিক অবস্থান ত্যাগ করে মহুয়ার জন্য আত্মোৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়। উভয় চরিত্রই ভালোবাসার জন্য সমাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে চরম আত্মত্যাগের পথে হেঁটেছে, যা তাদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য তৈরি করেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পটি সমাজ-নির্ধারিত জাতিভেদ প্রথাকে অগ্রাহ্য করে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের এক মর্মস্পর্শী উপাখ্যান। উদ্দীপকের নদের চাঁদ ও মহুয়ার প্রেমকাহিনীতেও আমরা সেই একই ধরনের সামাজিক বাধা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে জমিদারপুত্র নদের চাঁদ ও বেদে কন্যা মহুয়ার প্রেম সমাজের জাত-পাতের বেড়াজাল ভাঙার এক সাহসী পদক্ষেপ। নদের চাঁদ তাঁর জমিদার পিতার বিরোধিতা এবং সামাজিক অসম্মান সত্ত্বেও মহুয়ার প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে। এমনকি ভালোবাসার জন্য সে বাবা-মাকে ছেড়ে মহুয়ার সাথে চলে যায়। জমিদার তার ছেলেকে এই 'নীচু জাত' বেদের মেয়ের সাথে সম্পর্ক মানতে পারেননি এবং হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করেন। অন্যদিকে, 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থতার সময় বিলাসী নামের এক সাপুড়ের মেয়েদের সাহায্য পায় এবং পরে তাকে বিবাহ করে। সমাজ এবং তার স্বজাতি এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি, যার ফলে মৃত্যুঞ্জয়কে একঘরে করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেম সামাজিক ভেদাভেদকে তুচ্ছ করে এক কঠিন সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীকে ভালোবেসে তার সব সামাজিক অবস্থান ত্যাগ করে। বিলাসীর প্রতি তার ভালোবাসা এতটাই গভীর ছিল যে সে সাপুড়েদের গ্রামে বিলাসীকে নিয়ে জীবনযাপন করতে শুরু করে। পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যু হলে বিলাসীও তার স্বামীর শোকে আত্মাহুতি দেয়। অন্যদিকে উদ্দীপকেও নদের চাঁদ মহুয়ার জন্য সব ত্যাগ করে চলে যায়। হুমরাবেদে নদের চাঁদকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ডুরি তুলে দিলেও মহুয়ার নীরবতা তাদের প্রেমের মহিমাকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। উভয় প্রেমই তীব্র সামাজিক বিরোধিতা, আত্মত্যাগ এবং বিয়োগান্তক পরিণতি দ্বারা চিহ্নিত, যা তাদের 'অমর প্রেম'-এর পর্যায়ে উন্নীত করে।

সুতরাং, উদ্দীপকের নদের চাঁদ ও মহুয়ার প্রেমকাহিনীতে 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যানের প্রতিফলন ঘটেছে, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে যৌক্তিক। উভয় গল্পেই ভালোবাসার জন্য সামাজিক বাধা অতিক্রম, চরম আত্মত্যাগ এবং মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি প্রেমের মহিমাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'বিলাসী' গল্পটি প্রথম ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়

 

Fahmida
Fahmida
2 years ago
উত্তরঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত জীর্ণ, শ্রীহীন ও ভীতিপ্রদ। বিশাল বাড়িটি পরিচর্যার অভাবে জঙ্গলে পরিণত হয়েছিল, যেখানে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ছিল। বাড়ির ভেতরেও স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করত এবং এটি প্রায় পরিত্যক্ত ভূমির মতো ছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ের এই জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ির পরিবেশ তার নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতীক ছিল। সমাজের চোখে পতিত, রোগে জর্জরিত মৃত্যুঞ্জয়ের জীবন যেমন ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছিল, তেমনি তার বাড়িটিও ছিল অবহেলিত ও মৃত্যুর প্রতীকী আবাসস্থল, যা তার ভাগ্যাহত জীবনের করুণ পরিণতিকে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের নদের চাঁদ চরিত্রটি 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের সাথে তুলনীয়। উভয় চরিত্রই সামাজিক মর্যাদা, কৌলীন্য এবং পারিবারিক ঐতিহ্য বিসর্জন দিয়ে প্রেমের জন্য আত্মত্যাগ করেছে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটি তার প্রেমের জন্য সমাজের সকল বাধা অতিক্রম করে। সে একজন কুলীন ব্রাহ্মণ হওয়া সত্ত্বেও সর্পাঘাতে মৃতপ্রায় অবস্থায় সাপুড়ে মেয়ে বিলাসীকে বিবাহ করে। সমাজের চোখরাঙানি এবং আত্মীয়-স্বজনের নিন্দা উপেক্ষা করে সে বিলাসীর সাথে সাপুড়েদের পল্লীতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি গ্রহণ করে। মৃত্যুঞ্জয় তার সামাজিক অবস্থান, বিত্ত-বৈভব এবং প্রথাগত সম্মান ত্যাগ করে শুধুমাত্র ভালবাসার জন্য একটি নিচু জাতের মেয়ের সাথে দরিদ্র জীবন বেছে নেয়।

ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের নদের চাঁদও জমিদারপুত্র হয়ে সমাজের উঁচুতলার প্রতিনিধিত্ব করে। কিন্তু সে হুমরাবেদের মেয়ে মহুয়ার প্রেমে পড়ে। তার পিতা জমিদার এই প্রেম মেনে না নেওয়ায় নদের চাঁদ মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাবা-মাকে ছেড়ে যায়। এমনকি হুমরাবেদে তাকে হত্যার জন্য মহুয়ার হাতে বিষলক্ষার ডুরি তুলে দিলেও, নদের চাঁদ তার ভালোবাসার প্রতি অবিচল থাকে এবং মহুয়ার জন্য সকল প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা দেখায়। সামাজিক স্তরবিন্যাস ও শ্রেণি বিভাজনকে উপেক্ষা করে প্রেমের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার দিক থেকে নদের চাঁদ ও মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র দুটি গভীরভাবে তুলনীয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত মহুয়া ও নদের চাঁদের প্রেমের উপাখ্যান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর অমর প্রেমের এক মর্মস্পর্শী প্রতিচ্ছবি। উভয় গল্পেই প্রেম সামাজিক বাধা, বর্ণভেদ এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু দিয়েও অপরাজিত থেকে এক অসাধারণ মহিমা লাভ করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বেদে কন্যা মহুয়ার সাথে জমিদারপুত্র নদের চাঁদের প্রেম সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির পরিপন্থী। জমিদার নদের চাঁদের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি এবং হুমরাবেদের দলকে গ্রামছাড়া করেন। কিন্তু নদের চাঁদ সামাজিক অবস্থান, পারিবারিক বন্ধন ত্যাগ করে মহুয়াকে পাওয়ার আশায় বাড়ি ছাড়ে। এই ত্যাগ তাদের প্রেমের গভীরতা প্রমাণ করে। প্রেমের প্রতি নদের চাঁদের এই অবিচল নিষ্ঠা তাদের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়, যা সামাজিক বৈষম্য ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাদের প্রেমের মহিমাকে অক্ষুণ্ণ রাখে।

'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসীর প্রেমও ছিল সমাজস্বীকৃত প্রথার বিরুদ্ধে এক বিদ্রোহ। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ মৃত্যুঞ্জয় নিম্নবর্ণের সাপুড়ে কন্যা বিলাসীকে ভালোবেসেছিলেন, যার ফলস্বরূপ তিনি সমাজচ্যুত হন। বিলাসী নিঃস্বার্থভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছেন, আর মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর জন্য নিজের সব কিছু ত্যাগ করেছেন। উদ্দীপকের নদের চাঁদ যেমন মহুয়ার জন্য তার বাবা-মা ও সামাজিক অবস্থান ছেড়েছে, তেমনি মৃত্যুঞ্জয়ও বিলাসীর জন্য সমাজের যাবতীয় প্রতিষ্ঠা ও স্বীকৃতি বিসর্জন দিয়েছেন। উভয় ক্ষেত্রেই প্রেম অসাম্প্রদায়িক, আত্মত্যাগী এবং প্রথা-ভাঙা। তাদের প্রেম পরিণতিতে ট্র্যাজিক হলেও, তা অমর হয়ে আছে তাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার গভীরতার জন্য।

সুতরাং, সামাজিক মর্যাদা ও জাতিগত ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করার যে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং দুঃখময় পরিণতি, তা উদ্দীপকের মহুয়া-নদের চাঁদ এবং 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেমে একই সূত্রে গাঁথা। এই দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ যে, উদ্দীপকটি যেন 'বিলাসী' গল্পের মৃত্যুঞ্জয় বিলাসীর অমর প্রেমের উপাখ্যান।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

যারা সত্যের শক্তিতে বলীয়ান নয়, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পায় না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উক্ত বাক্যে অসত্য, অন্যায়, ভীরুতা, পরনির্ভরশীলতা বা বাহ্যিক প্রলোভনের শৃঙ্খল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। এখানে ‘দাসত্ব’ বলতে মূলত আত্মিক ও নৈতিক পরাধীনতা বোঝানো হয়েছে, যা অসত্য বা অন্যায়ের আশ্রয় নিলে ব্যক্তির ওপর চেপে বসে।

উদ্দীপকের মূলভাব অনুযায়ী, সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান এবং এটি মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে। যখন কোনো ব্যক্তি সত্যের সাধনা করে, তখন সে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং মিথ্যাচার, অন্যায়, দুর্বলতা বা অন্যের চাপিয়ে দেওয়া বাধ্যবাধকতা—এই সকল মানসিক ও নৈতিক দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সত্যের যে আত্মশক্তি ও সার্বজনীনতার কথা বলা হয়েছে, তা কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূলভাবের সঙ্গে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে চূড়ান্ত অবলম্বন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা মানবজীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে এবং সকল প্রকার ভীরুতা ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেয়।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম আত্মসত্যকে একমাত্র পথ হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নিজের সত্যকে চিনতে পারাই মানুষের সবচেয়ে বড় আত্মোপলব্ধি এবং এই সত্যের ওপর নির্ভর করেই নির্ভীকভাবে পথ চলতে হয়। তিনি মিথ্যা, ভণ্ডামি ও পরাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্যের জয়গান গেয়েছেন। এই প্রবন্ধে নজরুল সত্যের শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য এবং সকলের জন্য অবশ্যপালনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, “সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।” এই বাক্যটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আত্মনির্ভরশীলতা ও সত্যের স্বকীয় শক্তির ধারণাকে প্রতিফলিত করে। উভয় রচনাতেই সত্যকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা কোনো বাহ্যিক শক্তি বা মিথ্যার কাছে নত হয় না। উদ্দীপকের “সত্যের শক্তি সার্বজনীন” উক্তিটি নজরুলের সত্যের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং এর সর্বজনীন উপযোগিতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সত্যের যে প্রাণশক্তি ও স্বকীয়তা প্রকাশিত হয়েছে, তা কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে বর্ণিত আত্মনির্ভরশীলতা, নির্ভীকতা ও সত্যের জয়গানকে মূর্ত করে তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে চূড়ান্ত শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মানুষকে পথ দেখায় এবং সমস্ত জীর্ণতা ও মিথ্যাকে দূর করে এক নবজীবনের বার্তা দেয়।

উদ্দীপকের মূলভাব হলো, সত্য স্বীয় শক্তিতে বলীয়ান এবং এটি কারো উপর নির্ভরশীল নয়। সত্যের এই অসীম শক্তিই পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে লুকিয়ে থাকা অসত্যকে প্রকাশিত হতে বাধা দেয়। বাস্তব জীবনে সত্যের সাধনাই জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে। অর্থাৎ, এখানে সত্যকে এক আত্মপ্রকাশিত, সর্বজনীন ও জীবনদায়িনী প্রাণশক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই অপরিহার্য।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের আত্মশক্তির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।’ এই সত্যই তার কাছে একমাত্র পাথেয়, যা তাকে অন্য কারো প্রবর্তিত পথ বা মতের অধীন হতে দেয় না। উদ্দীপকে বর্ণিত সত্যের ‘প্রাণশক্তি’ ঠিক এই আত্মশক্তিরই প্রতিরূপ। প্রবন্ধটিতে নজরুল যেমন মিথ্যা, ভীরুতা ও পরনির্ভরশীলতাকে প্রত্যাখ্যান করে আপন সত্যকে আবিষ্কারের কথা বলেছেন, তেমনি উদ্দীপকও সত্যের আত্মনির্ভরশীল ও সার্বজনীন শক্তির কথা তুলে ধরেছে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে সকল ভয়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে এবং সত্যের অনুশীলনকে মানবজীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সুতরাং, উদ্দীপকে প্রকাশিত সত্যের এই অপরাজেয় ও আত্মনির্ভরশীল প্রাণশক্তি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল সুরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রবন্ধটি যেমন মানুষকে নিজের ভেতরের সত্যকে আবিষ্কার করে নির্ভয়ে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি উদ্দীপকও সত্যের সেই শাশ্বত ও শক্তিশালী রূপকে তুলে ধরে, যা মানবজীবনকে সার্থক ও সুন্দর করতে সক্ষম। এই প্রাণশক্তিই সকল সংকীর্ণতা ও মিথ্যাচার থেকে মুক্তি দিয়ে এক নতুন আলোর পথে নিয়ে যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

যে অন্যের উপর নির্ভরশীল, সে বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পায় না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'আমি সে দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত' - এই উক্তিটি সত্যের স্বাবলম্বিতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং পরাধীনতামুক্ত অবস্থাকে নির্দেশ করে। সত্য তার নিজস্ব শক্তিতেই প্রতিষ্ঠিত এবং কারো অধীন নয়, তাই এটি মিথ্যা, প্রবঞ্চনা বা অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তির দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, 'সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান' এবং 'কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়'। এই বিষয়টিই আলোচ্য উক্তির মূল ভিত্তি। যখন একজন ব্যক্তি সত্যকে ধারণ করে, তখন সে মিথ্যাচার, পরনির্ভরশীলতা এবং অন্যায়ের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে এক স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে লেখক সত্যকে স্বাবলম্বী, আত্মনির্ভরশীল ও সর্বজনীন শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রবন্ধটিতে বলা হয়েছে, সত্যকে প্রকাশ করতে কারও মুখাপেক্ষী হতে হয় না, সত্য স্বয়ং তার নিজের শক্তিতে বলীয়ান। এটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের পথকে নির্ভীকভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানুষকে নিজের ভেতরের ‘আমি’কে চিনতে হবে এবং তার নির্দেশিত পথেই চলতে হবে। সত্যের পথে চলার জন্য দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও সাহস প্রয়োজন। সত্যের শক্তি এতই প্রবল যে তা সমাজের সকল অসত্য ও ভন্ডামিকে দূর করে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে।

উদ্দীপকের মূলভাবও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অনুরূপ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।" এই বাক্যটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সেই মূল ধারণাকেই সমর্থন করে যেখানে বলা হয়েছে সত্যের জন্য বাহ্যিক সমর্থনের প্রয়োজন নেই, এটি তার নিজস্ব গুণেই শক্তিশালী। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে সার্বজনীন শক্তি হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে যা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধে আত্মশক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সত্যের সাধনার মাধ্যমে জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার প্রাণশক্তি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকেও সত্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তি, সার্বজনীনতা ও নির্ভলশীলতার কথা বলা হয়েছে, যা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার সঙ্গে একাত্ম।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।" এই বাক্যটি সত্যের অন্তর্নিহিত শক্তি ও স্বকীয়তার প্রতি ইঙ্গিত করে। উদ্দীপকের এই "প্রাণশক্তি" হলো আত্মপ্রতিষ্ঠিত সত্যের অবিচল ক্ষমতা, যা কোনো বাহ্যিক নির্ভরতা ছাড়াই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। 'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল যে আত্মোপলব্ধি ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন, যেখানে মানুষের অন্তরের সত্যই তার চলার পথের নির্দেশক, উদ্দীপকের সত্যের এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা তারই প্রতিধ্বনি। মিথ্যা ও অসত্যের বিপরীতে সত্যের এই টিকে থাকার ক্ষমতা এবং জীবনকে সার্থক করে তোলার শক্তিই উদ্দীপকে প্রকাশিত প্রাণশক্তি।

'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন, “আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।” এই সত্যই হলো মানুষের ভেতরের প্রাণশক্তি। উদ্দীপকে সত্যকে "নিজের শক্তিতে বলীয়ান" এবং "সার্বজনীন" বলে যে উল্লেখ করা হয়েছে, তা নজরুলের এই আত্মপ্রত্যয়ী চেতনারই প্রতিফলন। নজরুল সত্যকে নির্ভর করে নির্ভীকভাবে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারকে প্রত্যাখ্যান করতে শিখিয়েছেন। উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী, "সত্যের সাধনা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে," যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের এই আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সত্যের এই দৃঢ় প্রাণশক্তিই ব্যক্তিকে সমাজ ও প্রচলিত কুসংস্কারের শেকল ভাঙতে সাহস জোগায়।

সুতরাং, উদ্দীপকে প্রকাশিত সত্যের আত্মশক্তি, নির্ভলশীলতা এবং জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলার ক্ষমতা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আত্মবিশ্বাস ও সত্যনিষ্ঠার প্রাণশক্তিরই প্রতিচ্ছবি। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যের সার্বজনীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিকে ভিত্তি করে নির্ভীকভাবে জীবনপথে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মানবজীবনকে আলোকিত ও পূর্ণতা দান করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ ১৯৭৫ সালের ১৪ই আগস্ট রাতে শেখ মুজিবুর রহমানের এই বোধ হয়েছিল।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

শেখ মুজিবুর রহমান 'তবে আমার লাশ মুক্তি পেয়ে যাবে'— এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন কারণ তিনি তাঁর জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তি ছাড়া আর কোনো আপস মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর জীবন উৎসর্গ হলেও তা বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও তীব্র করবে এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করবে।

এই উক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অবিচল দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতি তাঁর সুদৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ পায়। তিনি তাঁর জীবনকে বাংলাদেশের নিয়তির সঙ্গে একীভূত দেখেছিলেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে তাঁর শারীরিক অবসান ঘটলেও তা কেবল একটি প্রতীকী মুক্তি, যা দেশকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার লক্ষ্যের দিকে চালিত করবে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'বিশ্ব ভ্রমণ' একটি গভীর অনুসন্ধান ও পরম লক্ষ্য অর্জনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে ব্যক্তি পৃথিবীর সকল প্রান্ত ছুঁয়ে তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়। এই যাত্রা কেবল ভৌগোলিক নয়, বরং আত্মিক উপলব্ধির এক নিরন্তর প্রচেষ্টা। ঠিক একইভাবে, শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনও ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির অন্বেষণে এক বিশাল পথপরিক্রমা, যা ছিল পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অবিচারের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ এবং ব্যাপক সংগ্রাম।

উদ্দীপকের কবি যেমন 'সকল নিসর্গ ছুঁয়ে' এবং 'পৃথিবীর শেষপ্রান্তে গিয়ে' তার আরাধ্যকে খুঁজে পেয়েছেন, তেমনি শেখ মুজিবুর রহমান তার জীবনের সিংহভাগ উৎসর্গ করেছেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য। তার সংগ্রামী জীবন ছিল জেল, জুলুম, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এক দীর্ঘ পথচলা। তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করেছেন এবং স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের স্বপ্ন বুনেছেন। তার এই সংগ্রাম ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতিকে মুক্ত করার এক মহাযাত্রা, যা বিশ্বের বিভিন্ন মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

অতএব, উদ্দীপকের 'বিশ্ব ভ্রমণ' যেমন এক মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্য অদম্য প্রচেষ্টার প্রতীক, তেমনি শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের জন্য এক অবিচল ও ব্যাপক সংগ্রাম। উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, নিরলস প্রচেষ্টা এবং পথ পরিক্রমার বিশালতা ও গভীরতা পরিলক্ষিত হয়, যা তাদের তাৎপর্যকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

স্বদেশ চেতনা মানব মনের এক গভীর অনুভূতি যা ব্যক্তিকে তার জন্মভূমি, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট করে। উদ্দীপকে বর্ণিত কবির বিশ্ব ভ্রমণের অন্তরালে স্বদেশ ও স্বজাতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে, যা 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূল সুরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকের কবি বিশ্ব পরিভ্রমণ করলেও তার লক্ষ্য ছিল "তোমার কাছে যাওয়া", "তোমাকে খুঁজে পাওয়া" এবং "তোমার মুখ" দেখা। এখানে 'তুমি' বলতে কবি জন্মভূমিকে বোঝাতে চেয়েছেন। পৃথিবীর শেষপ্রান্তে গিয়েও কবির মনে স্বদেশ-চেতনা প্রবলভাবে জাগ্রত ছিল। এই বিশ্ব ভ্রমণ কেবলি নিজ ভূমির প্রতি ফিরে আসার, নিজ পরিচয় খুঁজে পাওয়ার এক প্রতীকী যাত্রা। কবির এই অনুভূতি জন্মভূমির প্রতি অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসারই প্রতিফলন।

অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার এক মরণপণ সংগ্রাম, যা ছিল তাদের স্বদেশ চেতনার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বঙ্গবন্ধু নিজের জীবন বিপন্ন করে ভাষাকে বাঁচানোর জন্য সংগ্রাম করেছেন, যা তাঁর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত। উদ্দীপকের কবির আবেগ যেমন ব্যক্তিগত স্বদেশের প্রতি, তেমনি 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটি সামগ্রিক বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার এক মহাকাব্যিক প্রতিচ্ছবি।

সুতরাং, উদ্দীপকের কবির বিশ্ব ভ্রমণের মধ্যেও যেমন নিজ ভূমির প্রতি গভীর আকর্ষণ ও স্বদেশপ্রেমের ছোঁয়া বিদ্যমান, তেমনি 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনাটিও ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বকীয়তা ও স্বদেশের প্রতি অবিচল ভালোবাসাকে মূর্ত করে তুলেছে। উভয় ক্ষেত্রেই স্বদেশ চেতনার গভীরতা ও যথার্থতা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়। এদিক থেকে উক্তিটি যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

বোধ হয় আর দু-একদিন বাঁচতে পারি— শেখ মুজিবুর রহমানের এই বোধ ২৭ তারিখে হয়েছিল। 

Fahmida
Fahmida
2 years ago
উত্তরঃ

শেখ মুজিবুর রহমানের 'তবে আমার লাশ মুক্তি পেয়ে যাবে'— এমন কঠোর অবস্থানের মূল কারণ ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ে তাঁর আপসহীন মনোভাব এবং ছয় দফা দাবির প্রতি অবিচল আস্থা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালির স্বাধিকার ও মুক্তি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ; তাই তিনি যেকোনো মূল্যে এই লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর ছিলেন, এমনকি নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন।

তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে, বাঙালির ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না, এমনকি তাঁর মৃত্যুও এই সংগ্রামকে দমাতে পারবে না। তিনি জানতেন যে, তাঁর আত্মত্যাগ বাঙালির মনে আরও তীব্রভাবে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে এবং মুক্তির পথকে ত্বরান্বিত করবে। এটি ছিল তাঁর অদম্য সাহসিকতা, দৃঢ় সংকল্প এবং বাঙালির প্রতি অগাধ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের 'বিশ্ব ভ্রমণ' দ্বারা যেমন কোনো একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা আদর্শের প্রতি নিরন্তর সাধনা ও পথচলার গভীরতা বোঝানো হয়েছে, তেমনি শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনও ছিল একটি মহৎ আদর্শ—বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতা—অর্জনের পথে অবিরাম পথচলা ও অদম্য সংগ্রাম। উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও অসীম প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।

উদ্দীপকের 'বিশ্ব ভ্রমণ কেবলি তোমার কাছে যাওয়া' এবং 'সকল নিসর্গ ছুঁয়ে তোমাকে খুঁজে পাওয়া' পঙ্‌ক্তিগুলো এক অন্বেষণমূলক যাত্রার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে ব্যক্তি পৃথিবীর সকল প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তার আকাঙ্ক্ষিত 'তুমি'-কে খুঁজে পেতে চায়। 'পৃথিবীর শেষপ্রান্তে গিয়ে দেখেছি তোমার মুখ' এই পঙ্‌ক্তি চরম ধৈর্যের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চিত্র তুলে ধরে। শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনও ছিল এমনই এক অবিরাম যাত্রা, যেখানে তিনি বাঙালি জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নকে 'তুমি'-এর মতো ধারণ করে নিরন্তর সংগ্রাম করেছেন, দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটেছেন এবং অসংখ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ঠিক একইভাবে, শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন পরাধীন বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে। তাঁর সংগ্রামী জীবনে অসংখ্যবার কারাবরণ, জনগণের মাঝে জনমত গঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন পরিচালনা এবং দেশকে স্বাধীন করার জন্য নেতৃত্ব দেওয়া—এ সবই ছিল তাঁর 'বিশ্ব ভ্রমণের' সমতুল্য। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি ভাষণ, প্রতিটি আন্দোলনই ছিল একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যে গন্তব্য ছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। উদ্দীপকের ভ্রমণ যেমন একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত, শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামও তেমনি বাংলার স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছিল।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

‘বায়ান্নর দিনগুলো’ বাঙালির জাতীয় জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচিতি ও স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করেছিল। উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্ব ভ্রমণের মধ্য দিয়ে 'তোমাকে খুঁজে পাওয়া' এবং 'তোমার মুখ' দেখার যে আকুতি প্রকাশ পেয়েছে, তা মূলত জাতিসত্তা ও স্বদেশ চেতনার গভীর অন্বেষণকেই নির্দেশ করে।

উদ্দীপকের কবি তাঁর বিশ্ব ভ্রমণের সকল নিসর্গ ও শেষপ্রান্ত ছুঁয়ে যাকে খুঁজে পেয়েছেন, সে হলো তাঁর আপন সত্তা, তাঁর দেশ, তাঁর ভাষা ও সংস্কৃতি। 'পৃথিবীর শেষপ্রান্তে গিয়ে দেখেছি তোমার মুখ'—এই পঙ্‌ক্তিটি ব্যক্ত করে যে, শত অন্বেষণ ও অভিজ্ঞতার পর নিজস্ব জাতিসত্তার আবিষ্কারই প্রকৃত আনন্দ ও আত্মোপলব্ধি। এটি কেবল একটি ভৌগোলিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আত্মিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক শেকড়ের প্রতি গভীর অনুরাগ। এই পঙক্তিগুলো পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা, তারই শৈল্পিক প্রতিচ্ছবি।

'বায়ান্নর দিনগুলো' ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম, যেখানে মাতৃভাষা বাংলার সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। এই আন্দোলন কেবল ভাষার দাবি ছিল না, এটি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির সম্মিলিত স্বদেশ চেতনার বিস্ফোরণ। উদ্দীপকের 'তোমার কাছে যাওয়া' বা 'তোমাকে খুঁজে পাওয়া' এবং 'আরম্ভ বিন্দুতে দাঁড়ানো আমি সেই বিস্মিত, উজবুক' পঙ্‌ক্তিগুলো ভাষা আন্দোলনের সেই আত্মোপলব্ধি ও বিস্ময়ের সঙ্গে তুলনীয়। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগই বাঙালির জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করে। এভাবে উদ্দীপকের মর্মার্থ এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো' একে অপরের পরিপূরক হিসেবে স্বদেশ চেতনার ধারক ও বাহক হিসেবে প্রতিভাত হয়।

সুতরাং, উদ্দীপকের আত্মিক অন্বেষণ এবং 'বায়ান্নর দিনগুলো'র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উভয়ই স্বদেশ চেতনার ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ হলেও, তাদের মূল সুর এক ও অভিন্ন। একটি কাব্যের মাধ্যমে নিজস্ব আত্মপরিচয় ও দেশকে আবিষ্কারের আকুতি, অন্যটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ভাষিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়। উভয়ই বাঙালির স্বকীয়তা ও আত্মমর্যাদাবোধের প্রতীক এবং স্বদেশপ্রেমের অনির্বাণ শিখা রূপে যুগ যুগ ধরে জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্দীপকে অফিসের জন্য কয়টি আলমারি কেনা হয়েছিল সে সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঠাণ্ডা হাওয়ার ধাক্কা সত্ত্বেও রেইনকোটের ভেতরের অংশ গরম থাকার মূল কারণ হলো রেইনকোটের তাপ অপরিবাহী বৈশিষ্ট্য এবং শরীরের উৎপন্ন তাপকে ভেতরে ধরে রাখার ক্ষমতা। রেইনকোট নিজে তাপ উৎপন্ন করে না, বরং বাইরের ঠাণ্ডা বাতাসকে সরাসরি শরীরে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং একই সাথে শরীরের উষ্ণতাকে বাইরে বেরোতে দেয় না।

রেইনকোট সাধারণত এমন সব উপাদান, যেমন পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC) বা নাইলন, দিয়ে তৈরি হয় যা তাপের কুপরিবাহী। এই উপাদানগুলো বাইরের শীতল পরিবেশ এবং শরীরের উষ্ণতার মাঝে একটি অন্তরক (insulator) স্তর তৈরি করে। ফলে, শরীরের উৎপন্ন তাপ রেইনকোটের ভেতরের বায়ুস্তরে আটকে যায় এবং তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এর মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং ঠাণ্ডা বাতাসের মধ্যেও শরীর উষ্ণ অনুভূত হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কলিমদ্দি দফাদার ও 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদার বৈসাদৃশ্য হলো, কলিমদ্দি সরাসরি পাক সেনাদের ভুল পথে পরিচালিত করে প্রতিরোধের অংশীদার হলেও, নুরুল হুদা প্রাথমিকভাবে ভীত ও নিষ্ক্রিয় একজন সাধারণ নাগরিক থেকে একটি প্রতীকি বস্তুর প্রভাবে মানসিক দৃঢ়তা অর্জন করেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত কলিমদ্দি দফাদার ষাটোর্ধ্ব একজন সরকারি কর্মচারী, যাকে মানুষ রাজাকার বলে মনে করে কারণ তার ডিউটি ছিল পাক-সেনাদের পথ দেখানো। কিন্তু তিনি মনে মনে মুক্তিযোদ্ধা এবং সুযোগ পেয়ে পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলেন। দেশের পক্ষে এভাবে কাজ করতে পেরে তিনি স্বস্তি পান। অর্থাৎ, তিনি বাহ্যিকভাবে পাকিস্তানিদের সহায়ক হলেও গোপনে দেশের জন্য কাজ করেন, যা তার পূর্বপ্রস্তুত প্রতিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা একজন ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক অধ্যাপক ছিলেন, যিনি যুদ্ধ ও রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। কিন্তু তার শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট পরার পর এবং পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি পরিবর্তিত হন। রেইনকোটের প্রভাবে তার মধ্যে প্রতিবাদী সত্তা জাগ্রত হয় এবং তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের সামনে সাহসিকতার পরিচয় দেন, যা তার ব্যক্তিগত সত্তার এক বিরাট পরিবর্তন নির্দেশ করে। এটি তার পারিপার্শ্বিকতা ও একটি প্রতীকি বস্তুর প্রভাবে সৃষ্ট এক মানসিক রূপান্তর।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও তাদের সকলের মধ্যেই প্রবল দেশপ্রেমের চেতনা ছিল। এই দেশপ্রেমই তাদের দেশের জন্য কাজ করতে এবং বিপদ মোকাবিলায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা প্রদত্ত উক্তিটিকে যথার্থ প্রমাণ করে।

উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারকে বাহ্যিকভাবে রাজাকার মনে হলেও তার ভেতরের সত্তা ছিল একজন দেশপ্রেমিকের। পাক-সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া তার সরকারি ডিউটি ছিল, যার কারণে মানুষ তাকে রাজাকার ভাবত। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামে সরাসরি অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ তার মনে গভীরভাবে প্রোথিত ছিল। এই আক্ষেপ থেকেই সুযোগ পেয়ে তিনি পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলেছিলেন। তার এই কৌশলগত কাজটিই ছিল দেশের প্রতি তার প্রচ্ছন্ন ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং এর মাধ্যমেই তিনি দেশের জন্য কিছু করতে পেরে স্বস্তি লাভ করেন।

অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পের অধ্যাপক নুরুল হুদা প্রথমদিকে একজন ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তার শ্যালক মিন্টু, একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা, এবং মিন্টুর রেইনকোটের প্রতীকী প্রভাব তার মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। একপর্যায়ে তিনি পাকবাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে বীরত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কথা বলেন, এমনকি নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েও দেশের প্রতি তার আনুগত্য ত্যাগ করেননি। মিন্টু তো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করা একজন সাহসী দেশপ্রেমিক। এভাবে দেখা যায়, কলিমদ্দি কৌশলে দেশপ্রেম দেখিয়েছেন, আর নুরুল হুদা ও মিন্টু দেখিয়েছেন সাহসিকতার সাথে, কিন্তু তাদের সকলেরই মূল চালিকাশক্তি ছিল দেশপ্রেম।

অতএব, ঘটনার প্রেক্ষাপট, প্রকাশের ধরন এবং চরিত্রগুলোর পরিণতি ভিন্ন হলেও কলিমদ্দি দফাদার এবং 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে একইরকম তীব্র দেশপ্রেম বিদ্যমান ছিল। তাদের সকলেরই লক্ষ্য ছিল দেশকে মুক্ত করা এবং জাতির অস্তিত্বকে রক্ষা করা, যা তাদের কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ উদ্দীপকে অফিসের জন্য কয়টি আলমারি কেনা হয়েছিল সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঠাণ্ডা হাওয়ার ধাক্কা রেইনকোটের তাপে গরম হয়ে ওঠার প্রধান কারণ হলো রেইনকোটের ভেতরের আবদ্ধ বাতাস শরীরের তাপ দ্বারা উষ্ণ হওয়া এবং রেইনকোটের অন্তরক (insulating) ধর্ম।

রেইনকোট সাধারণত সিন্থেটিক বা জলরোধী উপাদান দিয়ে তৈরি হয় যা শরীরের উৎপন্ন তাপকে বাইরে যেতে বাধা দেয়। এই অন্তরক গুণাগুণের কারণে রেইনকোটের ভেতরের বাতাস শরীরের তাপে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এই উষ্ণ বাতাসকে আটকে রাখে। যখন ঠাণ্ডা বাতাস রেইনকোটের ভেতর প্রবেশ করে, তখন এই উত্তপ্ত বাতাসের সংস্পর্শে এসে ঠাণ্ডা বাতাসও উষ্ণতা লাভ করে, যার ফলে উষ্ণতা অনুভূত হয় এবং ঠাণ্ডা বাতাস গরম মনে হয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কলিমদ্দি দফাদার ও 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা—উভয়েই বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপটে দেশপ্রেমের পরিচয় দিলেও তাদের চরিত্র ও কর্মপদ্ধতিতে মৌলিক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। কলিমদ্দি যেখানে বাহ্যত পাকিস্তানপন্থী সেজে গোপনে দেশের কাজ করেন, সেখানে নুরুল হুদা প্রথমে ভীত থাকলেও পরবর্তীতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদারকে মানুষ রাজাকার মনে করে কারণ তিনি সরকারি চাকরি করেন এবং পাক-সেনাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর ডিউটি। কিন্তু অন্তরে তিনি গভীর দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিসংগ্রামে যেতে না পারার দুঃখ তাঁর মনে কাজ করে। সুযোগ পেয়ে তিনি একদল পাক হানাদার বাহিনীকে ভুল পথে নিয়ে গিয়ে বিপদে ফেলেন, যা তার প্রচ্ছন্ন দেশপ্রেম ও পরোক্ষ প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত। অর্থাৎ, তাঁর দেশপ্রেম ছিল ছদ্মবেশে, লোকচক্ষুর আড়ালে এবং তাঁর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি তাকে সরাসরি অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছিল।

অন্যদিকে, 'রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা ছিলেন একজন ভীতু, ঘরকুনো ও আত্মকেন্দ্রিক কলেজের শিক্ষক। স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে তিনি প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু ভাতিজা মিন্টুর রেইনকোট পরার পর তার মধ্যে এক অদ্ভুত সাহস ও দেশপ্রেমের সঞ্চার হয়। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের মুখেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি, বরং সাহসিকতার সাথে তাদের প্রতিরোধ করেন। সুতরাং, নুরুল হুদার দেশপ্রেম ছিল প্রস্ফুটিত ও প্রত্যক্ষ, যেখানে তিনি নিজের ভয়কে জয় করে প্রকাশ্য প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত কলিমদ্দি দফাদার এবং আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর প্রেক্ষাপট ও কর্মপদ্ধতিতে বৈপরীত্য থাকলেও তাদের অন্তরে দেশকে ভালোবাসার এক প্রবল ও গভীর অনুভূতি সর্বদা সজীব ছিল। এই দেশপ্রেমই তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উদ্দীপকের কলিমদ্দি দফাদার বাহ্যিকভাবে পাক-সেনাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত হলেও তাঁর অন্তর ছিল দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে পাক-সেনাদের পথ দেখাতে বাধ্য হলেও, অন্তরে তিনি মুক্তিসংগ্রামে অংশ নিতে না পারার দুঃখবোধ করতেন। এই দুঃখবোধই তাকে একবার হানাদার বাহিনীকে ভুল পথ দেখিয়ে বিপদে ফেলার মতো দুঃসাহসিক কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। দেশের পক্ষে এমন কৌশলী কাজ করতে পেরেই তিনি স্বস্তি লাভ করেন, যা তার সুপ্ত দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এই কাজ প্রমাণ করে যে বাহ্যিক আচরণ ভিন্ন হলেও তার অন্তরে দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিল।

অন্যদিকে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'রেইনকোট' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরুল হুদা একজন ভীতু ও সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তাঁর মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মন্টুর রেইনকোট পরিধান করে তিনি যেন মন্টুর দেশপ্রেমের আত্মাকে ধারণ করেন। রেইনকোট গায়ে দিয়ে তিনি পাক-সেনাদের সামনে নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা হয়ে ওঠেন এবং নিজের দেশকে স্বাধীন করার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠে। যদিও কলিমদ্দি প্রকাশ্য সহযোগীর ভূমিকায় থেকে কৌশলে শত্রুদের ক্ষতি করেন এবং নূরুল হুদা রেইনকোটের প্রভাবে সাহসিকতা দেখান, উভয় চরিত্রই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে দেশের মুক্তির জন্য কাজ করেছেন। তাদের কাজ করার ধরন ভিন্ন হলেও, মূল চালিকাশক্তি ছিল মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেম।

সুতরাং, একদিকে কলিমদ্দি দফাদারের ছদ্মবেশী দেশপ্রেম এবং অন্যদিকে নূরুল হুদার সাহসী প্রতিরোধ—দুইয়ের মধ্যেই দেশের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট। আপাতদৃষ্টিতে ঘটনার বৈপরীত্য থাকলেও, উদ্দীপক ও 'রেইনকোট' গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে প্রখর দেশপ্রেমই ছিল তাদের মূল প্রেরণা, যা তাদের সকল কর্মের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং এটিই ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
380


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ

‘বায়ান্নর দিনগুলো’ প্রবন্ধটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে সংকলিত।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
406
উত্তরঃ

"মানুষের যখন পতন আসে তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে" - এই উক্তিটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যখন কোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থার অধঃপতন বা খারাপ সময় শুরু হয়, তখন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একের পর এক ভুল কাজ সংঘটিত হতে থাকে। এই ভুলগুলো তার পতনের ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করে।

মূলত, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ফলে বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং সঠিক পথে চালিত হওয়ার পরিবর্তে ভুল পথে ধাবিত হয়। এই ভুলগুলো আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও, সামগ্রিকভাবে তা পতনের কারণ হিসেবে কাজ করে এবং চূড়ান্ত বিপর্যয় ডেকে আনে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
515
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শেষ বাক্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমান নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন, যা উদ্দীপকের এই ভাবেরই প্রতিচ্ছবি।

'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময়কার ঘটনা ও নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কারাবরণ করেন। কারাবাসে থাকাকালীন তিনি দীর্ঘ অনশন ধর্মঘট পালন করেন, যা তার শারীরিক ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়েছিল। তার এই আত্মত্যাগই দেশের প্রতি ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে "এই দেশকে ভালোবেসে এদেশের প্রতিবাদী মানুষ ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন" বলা হয়েছে। 'বায়ান্নর দিনগুলো' প্রবন্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অনশন ধর্মঘট পালনের ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি মুক্তির জন্য নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের কর্মীদের মুক্তি ও বাংলা ভাষার মর্যাদার জন্য অনশন চালিয়ে যান। এমনকি তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ডাক্তাররা তাকে স্যালাইন দিতে চান, তখনো তিনি প্রতিবাদস্বরূপ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও শারীরিক আরাম বিসর্জন দিয়েছিলেন শুধু দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
522
উত্তরঃ

“বায়ান্নর দিনগুলো” রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা, ভাষার জন্য বাঙালির সংগ্রাম এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকটিতে একজন বিজয়ী বীরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও জন-উল্লাসের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা “বায়ান্নর দিনগুলো” রচনার মূল বক্তব্যের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে পরোক্ষভাবে তার সংগ্রামের ফসল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

উদ্দীপকের প্রথম কয়েকটি চরণ – “সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহান বিজয়ী বীর দূর দেশে থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে। শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস; পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত” – পঙ্‌ক্তিগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দীর্ঘ কারাবাস শেষে স্বাধীন দেশে তাঁর ফিরে আসা ছিল বাঙালি জাতির জন্য এক অবিস্মরণীয় আনন্দঘন মুহূর্ত, যেখানে তিনি 'বিজয়ী বীর' ও 'মুক্তিদূত' হিসেবে বরণীয় হয়েছিলেন।

তবে, "বায়ান্নর দিনগুলো" রচনার মূল প্রতিপাদ্য হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, কারাগারে বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ভাষাসৈনিকদের আত্মত্যাগ, এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এই রচনায় কারাবন্দী অবস্থায় লেখকের দিনলিপি, তাঁর অনশন ধর্মঘট, এবং আন্দোলনের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ প্রধান্য পেয়েছে। উদ্দীপকের আনন্দঘন বিজয় ও প্রত্যাবর্তনের চিত্রটি ভাষা আন্দোলনের সংগ্রামময় সময়ের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং তা ভাষা আন্দোলনের মতো দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে।

সুতরাং, উদ্দীপকটিতে বর্ণিত "বিজয়ী বীরের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন" ও "জন-উল্লাস" ভাষা আন্দোলনের সরাসরি বক্তব্য প্রতিফলিত করে না। বরং এটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের সফল পরিণতি হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম এবং তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা “বায়ান্নর দিনগুলো” রচনার মূল ঘটনাপ্রবাহের পরবর্তী অধ্যায়। তাই, উদ্দীপকটি “বায়ান্নর দিনগুলো”র বক্তব্যকে সরাসরি প্রতিফলিত করে না, বরং এর প্রেক্ষাপট সৃষ্টিকারী সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
291
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews