সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়। সত্যের শক্তি না থাকলে পৃথিবী এতদিন টিকে থাকতো না। সমাজের পরতে পরতে যে অসত্য লুকিয়ে আছে তার চিত্র বাস্তবায়িত হতো। বাস্তব জীবনে সত্যের সাধনা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে। তাই সত্যের শক্তি সার্বজনীন।”

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

যারা সত্যের শক্তিতে বলীয়ান নয়, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পায় না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উক্ত বাক্যে অসত্য, অন্যায়, ভীরুতা, পরনির্ভরশীলতা বা বাহ্যিক প্রলোভনের শৃঙ্খল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। এখানে ‘দাসত্ব’ বলতে মূলত আত্মিক ও নৈতিক পরাধীনতা বোঝানো হয়েছে, যা অসত্য বা অন্যায়ের আশ্রয় নিলে ব্যক্তির ওপর চেপে বসে।

উদ্দীপকের মূলভাব অনুযায়ী, সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান এবং এটি মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে। যখন কোনো ব্যক্তি সত্যের সাধনা করে, তখন সে অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং মিথ্যাচার, অন্যায়, দুর্বলতা বা অন্যের চাপিয়ে দেওয়া বাধ্যবাধকতা—এই সকল মানসিক ও নৈতিক দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সত্যের যে আত্মশক্তি ও সার্বজনীনতার কথা বলা হয়েছে, তা কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূলভাবের সঙ্গে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে চূড়ান্ত অবলম্বন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা মানবজীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে এবং সকল প্রকার ভীরুতা ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দেয়।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম আত্মসত্যকে একমাত্র পথ হিসেবে গ্রহণ করার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, নিজের সত্যকে চিনতে পারাই মানুষের সবচেয়ে বড় আত্মোপলব্ধি এবং এই সত্যের ওপর নির্ভর করেই নির্ভীকভাবে পথ চলতে হয়। তিনি মিথ্যা, ভণ্ডামি ও পরাধীনতাকে প্রত্যাখ্যান করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্যের জয়গান গেয়েছেন। এই প্রবন্ধে নজরুল সত্যের শক্তিকে অপ্রতিরোধ্য এবং সকলের জন্য অবশ্যপালনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, “সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।” এই বাক্যটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আত্মনির্ভরশীলতা ও সত্যের স্বকীয় শক্তির ধারণাকে প্রতিফলিত করে। উভয় রচনাতেই সত্যকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা কোনো বাহ্যিক শক্তি বা মিথ্যার কাছে নত হয় না। উদ্দীপকের “সত্যের শক্তি সার্বজনীন” উক্তিটি নজরুলের সত্যের প্রতি অটল বিশ্বাস এবং এর সর্বজনীন উপযোগিতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সত্যের যে প্রাণশক্তি ও স্বকীয়তা প্রকাশিত হয়েছে, তা কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে বর্ণিত আত্মনির্ভরশীলতা, নির্ভীকতা ও সত্যের জয়গানকে মূর্ত করে তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে চূড়ান্ত শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা মানুষকে পথ দেখায় এবং সমস্ত জীর্ণতা ও মিথ্যাকে দূর করে এক নবজীবনের বার্তা দেয়।

উদ্দীপকের মূলভাব হলো, সত্য স্বীয় শক্তিতে বলীয়ান এবং এটি কারো উপর নির্ভরশীল নয়। সত্যের এই অসীম শক্তিই পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে লুকিয়ে থাকা অসত্যকে প্রকাশিত হতে বাধা দেয়। বাস্তব জীবনে সত্যের সাধনাই জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে। অর্থাৎ, এখানে সত্যকে এক আত্মপ্রকাশিত, সর্বজনীন ও জীবনদায়িনী প্রাণশক্তি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই অপরিহার্য।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম মানুষের আত্মশক্তির উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।’ এই সত্যই তার কাছে একমাত্র পাথেয়, যা তাকে অন্য কারো প্রবর্তিত পথ বা মতের অধীন হতে দেয় না। উদ্দীপকে বর্ণিত সত্যের ‘প্রাণশক্তি’ ঠিক এই আত্মশক্তিরই প্রতিরূপ। প্রবন্ধটিতে নজরুল যেমন মিথ্যা, ভীরুতা ও পরনির্ভরশীলতাকে প্রত্যাখ্যান করে আপন সত্যকে আবিষ্কারের কথা বলেছেন, তেমনি উদ্দীপকও সত্যের আত্মনির্ভরশীল ও সার্বজনীন শক্তির কথা তুলে ধরেছে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে সকল ভয়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে এবং সত্যের অনুশীলনকে মানবজীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

সুতরাং, উদ্দীপকে প্রকাশিত সত্যের এই অপরাজেয় ও আত্মনির্ভরশীল প্রাণশক্তি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল সুরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রবন্ধটি যেমন মানুষকে নিজের ভেতরের সত্যকে আবিষ্কার করে নির্ভয়ে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি উদ্দীপকও সত্যের সেই শাশ্বত ও শক্তিশালী রূপকে তুলে ধরে, যা মানবজীবনকে সার্থক ও সুন্দর করতে সক্ষম। এই প্রাণশক্তিই সকল সংকীর্ণতা ও মিথ্যাচার থেকে মুক্তি দিয়ে এক নতুন আলোর পথে নিয়ে যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

যে অন্যের উপর নির্ভরশীল, সে বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পায় না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'আমি সে দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত' - এই উক্তিটি সত্যের স্বাবলম্বিতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং পরাধীনতামুক্ত অবস্থাকে নির্দেশ করে। সত্য তার নিজস্ব শক্তিতেই প্রতিষ্ঠিত এবং কারো অধীন নয়, তাই এটি মিথ্যা, প্রবঞ্চনা বা অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তির দাসত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, 'সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান' এবং 'কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়'। এই বিষয়টিই আলোচ্য উক্তির মূল ভিত্তি। যখন একজন ব্যক্তি সত্যকে ধারণ করে, তখন সে মিথ্যাচার, পরনির্ভরশীলতা এবং অন্যায়ের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে এক স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে লেখক সত্যকে স্বাবলম্বী, আত্মনির্ভরশীল ও সর্বজনীন শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রবন্ধটিতে বলা হয়েছে, সত্যকে প্রকাশ করতে কারও মুখাপেক্ষী হতে হয় না, সত্য স্বয়ং তার নিজের শক্তিতে বলীয়ান। এটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল নয়।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যের পথকে নির্ভীকভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানুষকে নিজের ভেতরের ‘আমি’কে চিনতে হবে এবং তার নির্দেশিত পথেই চলতে হবে। সত্যের পথে চলার জন্য দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ও সাহস প্রয়োজন। সত্যের শক্তি এতই প্রবল যে তা সমাজের সকল অসত্য ও ভন্ডামিকে দূর করে সঠিক পথের দিশা দেখাতে পারে।

উদ্দীপকের মূলভাবও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অনুরূপ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।" এই বাক্যটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সেই মূল ধারণাকেই সমর্থন করে যেখানে বলা হয়েছে সত্যের জন্য বাহ্যিক সমর্থনের প্রয়োজন নেই, এটি তার নিজস্ব গুণেই শক্তিশালী। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যকে সার্বজনীন শক্তি হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে যা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধে আত্মশক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সত্যের সাধনার মাধ্যমে জীবনের সঠিক পথ খুঁজে পাওয়ার প্রাণশক্তি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকেও সত্যের অপ্রতিরোধ্য শক্তি, সার্বজনীনতা ও নির্ভলশীলতার কথা বলা হয়েছে, যা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল চেতনার সঙ্গে একাত্ম।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে, "সত্য নিজের শক্তিতে বলীয়ান। সেজন্য সত্য কখনো অন্যের ওপর নির্ভলশীল নয়।" এই বাক্যটি সত্যের অন্তর্নিহিত শক্তি ও স্বকীয়তার প্রতি ইঙ্গিত করে। উদ্দীপকের এই "প্রাণশক্তি" হলো আত্মপ্রতিষ্ঠিত সত্যের অবিচল ক্ষমতা, যা কোনো বাহ্যিক নির্ভরতা ছাড়াই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। 'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল যে আত্মোপলব্ধি ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেছেন, যেখানে মানুষের অন্তরের সত্যই তার চলার পথের নির্দেশক, উদ্দীপকের সত্যের এই স্বয়ংসম্পূর্ণতা তারই প্রতিধ্বনি। মিথ্যা ও অসত্যের বিপরীতে সত্যের এই টিকে থাকার ক্ষমতা এবং জীবনকে সার্থক করে তোলার শক্তিই উদ্দীপকে প্রকাশিত প্রাণশক্তি।

'আমার পথ' প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম আত্মনির্ভরশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন এবং বলেছেন, “আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।” এই সত্যই হলো মানুষের ভেতরের প্রাণশক্তি। উদ্দীপকে সত্যকে "নিজের শক্তিতে বলীয়ান" এবং "সার্বজনীন" বলে যে উল্লেখ করা হয়েছে, তা নজরুলের এই আত্মপ্রত্যয়ী চেতনারই প্রতিফলন। নজরুল সত্যকে নির্ভর করে নির্ভীকভাবে পথ চলতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারকে প্রত্যাখ্যান করতে শিখিয়েছেন। উদ্দীপকের বক্তব্য অনুযায়ী, "সত্যের সাধনা জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলে," যা 'আমার পথ' প্রবন্ধের এই আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সত্যের এই দৃঢ় প্রাণশক্তিই ব্যক্তিকে সমাজ ও প্রচলিত কুসংস্কারের শেকল ভাঙতে সাহস জোগায়।

সুতরাং, উদ্দীপকে প্রকাশিত সত্যের আত্মশক্তি, নির্ভলশীলতা এবং জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে তোলার ক্ষমতা 'আমার পথ' প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আত্মবিশ্বাস ও সত্যনিষ্ঠার প্রাণশক্তিরই প্রতিচ্ছবি। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যের সার্বজনীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তিকে ভিত্তি করে নির্ভীকভাবে জীবনপথে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মানবজীবনকে আলোকিত ও পূর্ণতা দান করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
150


আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি— নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ আর কোনো পথই আমার বিপথ নয় । রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তাহলে বাইরের কোনো ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সেই বাইরে ভয় পায়। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কুর্নিশ করে না— অর্থাৎ কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না । এই যে, নিজকে চেনা, আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহংকার নয় । এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি । আর যদি এটাকে কেউ ভুল করে অহংকার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো— অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয় । ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নিচু করে আনে । ও রকম বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো ।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহংকার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।
স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শেখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজি। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, “আমি আছি” এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম “গান্ধীজি আছেন” । এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে । একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কী করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তাহলে এই দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ— আর যাই হোক ভণ্ডামি নয়। এ-দম্ভ শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা ‘ডোন্ট কেয়ার’-ভাব আনে । আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।
যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে প্রয়োজন হবে আগুনের সম্মার্জনা! আমার এমন গুরু কেউ নেই, যার খাতিরে সে আগুন-সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। আমি সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত । আমি কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেব না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ আমি কোনো দিনই করব না ।
ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোনো ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেব। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তাহলে আমার আগুন সেই দিনই নিভে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই এই শিখাকে নিভাতে পারবে। তাছাড়া কেউ নিভাতে পারবে না ।
মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা আমার এ পথের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না । যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না। দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম ।

[সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ ৪৩ বছর বয়সে

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ১৯৪২ সালের দিকে তিনি পিক্‌স ডিজিজ (Pick's disease) নামক এক দুরারোগ্য নিউরোলজিক্যাল ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এই অসুস্থতার কারণে তার সাহিত্য জীবন ৪৩ বছর বয়সেই স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩৫ বছর নির্বাক থাকার পর ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই অসুস্থতা দেশের সাহিত্য অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
431
উত্তরঃ

মানুষ ধর্মকে সবচেয়ে বড় ধর্ম বলা হয়, কারণ এটি সকল প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে মানবতা, পরোপকার, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে স্থান দেয়। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও কল্যাণ করাই এর মূল ভিত্তি।

প্রকৃত ধর্ম মানুষকে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং বিপদে পাশে দাঁড়াতে শেখায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হলো মানবধর্মের সারকথা। তাই সব ধর্মীয় ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবসেবাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
672
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews