উত্তরঃ

গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু

মূলভাব: জীবন মানেই প্রবাহ, পরিবর্তন ও প্রগতি। এই বিশ্বজগতের প্রতিটি কণা যেমন নিরন্তর চলমান, তেমনি মানবজীবনের সার্থকতা নিহিত তার গতির মধ্যে। যে থেমে থাকে, সে জীবনের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়; আর যে চলে, সে জয় করে নতুন দিগন্ত। তাই গতিই হলো জীবনের ধর্ম এবং স্থিতাবস্থাই হলো মৃত্যুর সমতুল্য।

সম্প্রসারিত ভাব: দার্শনিক এই উক্তিটি জীবন ও জগতের এক গভীর সত্যকে উন্মোচন করে। প্রকৃতিতে আমরা দেখি নদী যত প্রবহমান, তার জল তত স্বচ্ছ ও জীবন্ত; বায়ু যত সঞ্চরণশীল, জগৎ তত প্রাণবন্ত। কিন্তু নদীর স্রোত থমকে গেলে যেমন তাতে পচন ধরে, জীবনের গতি থেমে গেলেও তেমনি আসে স্থবিরতা। এই স্থবিরতা কেবল শারীরিক নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক পঙ্গুত্ব। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই গতি অপরিহার্য। মানুষ যখন নতুন জ্ঞান অন্বেষণ করে, নতুন উদ্ভাবনে ব্রতী হয়, কিংবা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যায়, তখনই তার জীবন অর্থবহ হয়ে ওঠে। গতি মানুষকে দেয় উদ্দীপনা, চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতি বা সমাজের অগ্রগতি সবকিছুই নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টার উপর। অলসতা, ভয়, বা গতানুগতিকতার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখলে ব্যক্তি কেবল সময়ের স্রোতে পিছিয়েই পড়ে না, বরং জীবনধারণের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যে মানুষ তার জ্ঞানকে শীলিত করে না, কর্মে নিযুক্ত থাকে না, তার জীবন ধীরে ধীরে মূল্যহীন হয়ে পড়ে, যা জীবন্ত মৃত্যুরই নামান্তর। পক্ষান্তরে, যারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে গতিশীল রাখে, তারা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলে। তারা কেবল জীবন যাপন করে না, বরং জীবনকে জয় করে। এই চলমানতাই মানুষকে নিত্য নতুন সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয় এবং জীবনের পূর্ণতা এনে দেয়।

উপসংহার: সুতরাং, জীবনের মৌল মন্ত্রই হলো সম্মুখে ধাবমান হওয়া। আমাদের মনে রাখতে হবে, থেমে যাওয়া কোনো সমাধান নয়; বরং তা বিনাশের পথ। জীবনকে সার্থক ও সফল করে তুলতে হলে সকল প্রকার জড়তা পরিহার করে কর্মের মাধ্যমে নিজেকে সর্বদা সচল রাখতে হবে। কারণ, প্রগতির পথে নিরন্তর চলাই জীবন এবং নিশ্চলতাই ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

মানুষের জীবন, সমাজ ও সভ্যতার প্রতিটি স্তরে অতীতের প্রভাব অনস্বীকার্য। অতীত কেবল গত হয়ে যাওয়া কালখণ্ড নয়, বরং এটি বর্তমানের ভিত্তি এবং ভবিষ্যতের দিশারি। উপরিউক্ত পঙ্‌ক্তিমালায় অতীতের এই গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

অতীত ভুবনে ভুবনে অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, সমাজের প্রতিটি কোণে এবং সভ্যতার প্রতিটি স্তরে গোপনে গোপনে কাজ করে চলে। এর অর্থ হলো, অতীত সরাসরি সামনে এসে বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ না করলেও, এর অদৃশ্য প্রভাব প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি ঘটনার পেছনে ক্রিয়াশীল থাকে। একটি জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রীতিনীতি, বিশ্বাস, এমনকি তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোও অতীতের ধারাবাহিকতা থেকেই গড়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বর্তমান জাতিসত্তার ভিত্তি স্থাপন করেছে, যার মূল নিহিত ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ, বঞ্চনা ও ভাষার জন্য সংগ্রামের অতীতে।

ব্যক্তিজীবনেও অতীতের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিটি মানুষের চরিত্র, অভ্যাস, মূল্যবোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গি তার শৈশব, কৈশোর ও তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ফল। অতীতের ভুল-ত্রুটি বা সাফল্য থেকেই আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি, যা আমাদের বর্তমান পথচলাকে সঠিক নির্দেশনা দেয় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে।

অতএব, অতীতকে কেবল ফেলে আসা অধ্যায় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একটি চলমান শক্তি যা নিরন্তর আমাদের জীবন ও জগতকে প্রভাবিত করে চলেছে। এর অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী প্রভাবকে উপলব্ধি করা এবং অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানকে সাজানোই বুদ্ধিমানের কাজ। এই উপলব্ধিই জাতিকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

Satt AI
Satt AI
3 months ago
উত্তরঃ

স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয় এরূপ দুটি বাংলা শব্দ হলো মণি, মাণিক।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

দম্ভোক্তি = দম্ভ ও উক্তি (দ্বন্দ্ব সমাস)

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

দিগ্বিদিক = দিক্ + বিদিকি

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'যেহেতু কোথাও পথ পেলাম না সেহেতু আপনার কাছে এসেছি'  = কোথাও পথ পেলাম না বলে আপনার কাছে এসেছি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'সর্ববিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করবে'। = সব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করবে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

সত্যবাদিতা হলো সকল গুণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ যা একজন মানুষকে সত্যিই মহান করে তোলে। যদি আমরা সত্য বলার অভ্যাস গড়ে না তুলি, তাহলে আমরা কখনই অন্যদের সম্মান অর্জন করতে পারব না। মিথ্যা কখনও বেশিক্ষণ লুকিযে থাকে না। আজ হোক কাল হোক তা প্রকাশ্যে আসে। তখন মিথ্যাবাদীর আসল চরিত্র উন্মোচিত হয এবং কেউ তাকে বিশ্বাস করে না।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
234

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে

ABDUL MALEK
ABDUL MALEK
3 years ago
4.9k

"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।" 

এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ। 

**ভাব-সম্প্রসারণ:** 

এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।

উত্তরঃ

আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।

এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।

এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।

Shamim Hossan
Shamim Hossan
2 years ago
2.3k
উত্তরঃ

“যত মত তত পথ” – এই প্রবাদটি মানব সমাজের বৈচিত্র্য, চিন্তার স্বাধীনতা এবং সত্য উপলব্ধির বহুবিধ পন্থাকে নির্দেশ করে। জগৎ ও জীবনের জটিলতা এত গভীর যে, একটি মাত্র দৃষ্টিকোণ থেকে এর সম্পূর্ণতা অনুধাবন করা অসম্ভব। মানুষ যেহেতু স্বতন্ত্র সত্তা, তাদের চিন্তাভাবনা, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাস এবং মূল্যবোধ ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। এই ভিন্নতা থেকেই জন্ম নেয় বহুমুখী মতাদর্শ।

সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই রয়েছে বৈচিত্র্য। জীবজগৎ থেকে শুরু করে সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম, দর্শন – সবকিছুতেই এই বৈচিত্র্যের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। মানুষ নিজেদের পারিপার্শ্বিকতা, শিক্ষা ও রুচি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নেয় তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য। আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে যেমন বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ ঈশ্বর বা পরম সত্যে পৌঁছানোর ভিন্ন ভিন্ন পথ নির্দেশ করে, তেমনই সামাজিক বা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় একটি সমস্যার সমাধানে একাধিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

একক মতবাদ বা পথকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে অন্য সব মত ও পথকে অস্বীকার করা এক সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচায়ক। বস্তুত, যত বেশি মত থাকবে, ততই চিন্তার ক্ষেত্র প্রসারিত হবে, নতুন নতুন ধারণার উন্মোচন হবে এবং সমাজের প্রগতি ত্বরান্বিত হবে। সুস্থ সমাজ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে পরমতসহিষ্ণুতা এবং ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ অত্যন্ত জরুরি। ভিন্ন মতের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিলেই কেবল মানবিক মূল্যবোধ ও সহাবস্থান সম্ভব। এই প্রবাদটি মূলত সহনশীলতা, উদারতা এবং বহুত্ববাদের মহিমাকে তুলে ধরে।

Satt AI
Satt AI
3 months ago
976
উত্তরঃ

গতিময়তাই জীবনের ধর্ম। যে ব্যক্তি বা জাতি গতিহীন ও নিষ্ক্রিয়, সে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না। কর্মহীন জীবন যেমন অর্থহীন, তেমনি গতিহীন জাতিও একসময় স্থবির হয়ে পড়ে। পঙ্কিলতা ও শৈবাল যেমন নদীর স্রোতধারাকে রুদ্ধ করে দেয়, তেমনি প্রাচীন ও জীর্ণ লোকাচার বা অন্ধ বিশ্বাস একটি জাতির অগ্রগতিকে পদে পদে ব্যাহত করে।

নদী তার স্বাভাবিক ধর্মেই বহমান থাকে। কিন্তু যখন তার স্রোত কমে যায়, তখন চারপাশ থেকে আসা শৈবাল ও আবর্জনা জমে তার গতিকে সম্পূর্ণ থামিয়ে দেয়। এর ফলে নদী তার নিজস্বতা হারায় এবং একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। একইভাবে, যে জাতি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না, নতুন জ্ঞান ও প্রগতিকে গ্রহণ করতে অনীহা দেখায়, তারাই ধীরে ধীরে জীবনশক্তি হারিয়ে ফেলে। জীর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় লোকাচার, কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাস তখন সেই জাতির অগ্রগতির পথে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সমাজ ও জীবনের জন্য কল্যাণকর নয় এমন প্রথা বা বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে থাকলে কোনো জাতিই উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। জাতির প্রাণশক্তি ও মননশীলতা সচল না থাকলে তা স্থবির হয়ে পড়ে এবং কালের বিবর্তনে পিছিয়ে যায়। তাই জাতীয় জীবনে গতিশীলতা বজায় রাখা এবং কুসংস্কার ও জীর্ণ লোকাচারকে পরিহার করা অপরিহার্য। এর মাধ্যমেই একটি জাতি প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

Satt AI
Satt AI
3 months ago
1.3k
উত্তরঃ

কবির কাছে কবিতা কেবল ছন্দ, সুর বা কল্পনার বিলাসিতা নয়, বরং তা জীবনের প্রতিচ্ছবি। যখন জীবন কঠিন সংগ্রামে আচ্ছন্ন হয়, ক্ষুধার জ্বালা যখন সমস্ত সৌন্দর্যবোধকে গ্রাস করে, তখন সুন্দরের প্রতি মন উদাসীন হয়ে পড়ে। কবির উল্লেখিত পঙক্তিটি এই নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরে।

পূর্ণিমার চাঁদ আবহমানকাল ধরে সৌন্দর্য, স্নিগ্ধতা ও প্রেমের প্রতীক। কিন্তু যখন জীবন রুক্ষ ও কঠিন হয়, যখন অভাব ও দারিদ্র্য গ্রাস করে, তখন সেই পরম সুন্দর চাঁদকেও পোড়া রুটির মতো মনে হয়। এখানে 'ঝলসানো রুটি' প্রতীকী অর্থে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও জীবনের কঠোর বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। একসময় যা মনকে মুগ্ধ করত, তা এখন আর মনকে টানতে পারে না। কারণ জীবন যখন খাদ্যসংস্থান ও মৌলিক চাহিদার সংগ্রামে নিমজ্জিত, তখন মানুষের কাছে শিল্প-সাহিত্য বা কল্পনার জগতের আবেদন গৌণ হয়ে পড়ে।

এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি দেখাতে চেয়েছেন যে, চরম অভাব ও ক্ষুধা মানুষের সংবেদনশীলতা ভোঁতা করে দেয়। শিল্প বা কবিতার বিমূর্ত সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ মন প্রয়োজন। কিন্তু যখন মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা আসে, তখন মানুষের মন থেকে সকল কাব্যিকতা ও রোমান্টিকতা বিদায় নেয়, এবং বাস্তবতার কঠোর আঘাত সমস্ত কল্পনাকে চূর্ণ করে দেয়। তাই কবি কবিতার প্রতি সাময়িক ছুটি ঘোষণা করে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে পূর্ণিমার চাঁদও তার রূপ হারিয়ে 'ঝলসানো রুটি'তে রূপান্তরিত হয়। এই লাইনটি বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কঠোর প্রকাশ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের এক মর্মান্তিক চিত্র।

Satt AI
Satt AI
3 months ago
795
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews