খলিফা ওমর (রা) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে কোন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

খলিফা ওমর (রা) সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের' আদলে 'দেওয়ান' বা 'দেওয়ানুল খারাজ' নামক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এটি ছিল একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো যা মুসলিম সাম্রাজ্যের ভূমি রাজস্ব (খারাজ), জিজিয়া এবং অন্যান্য কর যেমন যাকাত, উশর ইত্যাদি বিভিন্ন উৎস থেকে কর আদায়, হিসাব সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার 'বাইতুল মাল' ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে খলিফা ওমর (রা) বিশাল সাম্রাজ্যের আর্থিক স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' যেমন দেশের রাজস্ব নির্ধারণ ও আদায়ের প্রধান সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং আয়কর, ভ্যাট, আমদানি-রপ্তানি কর ইত্যাদি খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করে, তেমনি খলিফা ওমর (রা)-এর সময়ে প্রতিষ্ঠিত 'দেওয়ান' বা 'দেওয়ানুল খারাজ' ছিল বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজস্ব ব্যবস্থা পরিচালনার মূল ভিত্তি। 'দেওয়ানুল খারাজ' ভূমি জরিপ ও রাজস্ব নির্ধারণের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে কর আদায় করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করত, যা আধুনিক রাজস্ব বোর্ডের কার্যকারিতারই প্রতিফলন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
100

Related Question

View All
উত্তরঃ

বায়তুল মাল (Baytul Mal) একটি আরবি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হলো 'সম্পদের ঘর' বা 'জনগণের সম্পদ'। ইসলামের ইতিহাসে এটি ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোষাগার বা পাবলিক ফান্ড হিসেবে পরিচিত, যেখানে মুসলিম জনসাধারণের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্রের সকল আয় জমা রাখা হতো এবং নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা হতো।

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বায়তুল মাল একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতো। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের সকল শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে তহবিল ব্যবহার করা। যাকাত, উশর, জিজিয়া, খারাজ, গণিমতের মাল, খনিজ সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় ইত্যাদি ছিল বায়তুল মালের আয়ের প্রধান উৎস। এই তহবিল থেকে দরিদ্র, এতিম, বিধবা, ঋণগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও উন্নয়নের মতো বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করা হতো।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
101
উত্তরঃ

ভূমিকা: খলিফা উমর (রা)-এর শাসনামলে মুসলিম সাম্রাজ্য অভূতপূর্ব প্রসার লাভ করে এবং এর ফলস্বরূপ একটি সুসংগঠিত ও ন্যায়ভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তিনি রাষ্ট্রের আর্থিক সুশাসন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত ও দূরদর্শী রাজস্ব ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা ইসলামী অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করে।

উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: উদ্দীপকে বাংলাদেশের 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড' (NBR) এর কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং রাজস্ব আদায়ের উৎস সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। NBR-এর প্রধান কাজ হলো রাজস্ব নির্ধারণ, আদায়, হিসাব সংরক্ষণ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ সম্পাদন করা, যার প্রধান খাতগুলো হলো আয়কর, ভ্যাট, আমদানি ও রপ্তানি কর ইত্যাদি। খলিফা উমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থাও রাষ্ট্রের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর নির্ধারণ ও আদায়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে, তাঁর ব্যবস্থার মূলনীতি ছিল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ন্যায়পরায়ণতা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা, যা আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থার লক্ষ্যগুলোর সাথে তুলনীয় হলেও পদ্ধতিগত পার্থক্য বিদ্যমান।

খলিফা উমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থার পর্যালোচনা: খলিফা উমর (রা) বাইতুল মালের অর্থ ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং বেশ কিছু নতুন রাজস্ব খাত প্রবর্তন করেন, যেমন—

        
  • খারাজ (ভূমি রাজস্ব): বিজিত অঞ্চলের অনাবাদি জমি এবং মুসলিমদের মালিকানাধীন সকল আবাদি জমির ওপর ধার্যকৃত ভূমি কর। তিনি জমিসমূহের উৎপাদন ক্ষমতা ও সেচ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে খারাজের হার নির্ধারণ করেন, যা ছিল খুবই বিজ্ঞানসম্মত।
  •     
  • জিজিয়া (নিরাপত্তা কর): অমুসলিম নাগরিকদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তা প্রদানের বিনিময়ে তাদের ওপর ধার্যকৃত কর। এর ফলে অমুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রের অধীনে নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা ভোগ করতো।
  •     
  • উশর (শস্য কর): মুসলিমদের মালিকানাধীন উর্বর জমিতে উৎপাদিত শস্যের ওপর ধার্যকৃত ১/১০ অংশ কর।
  •     
  • সাদকা ও যাকাত: মুসলিমদের ওপর আরোপিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর, যা গরিব ও অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করা হতো।
  •     
  • গণিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ): যুদ্ধ জয়ের পর প্রাপ্ত সম্পদ, যার ১/৫ অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো।
  •     
  • ফাই (যুদ্ধ ছাড়া লব্ধ সম্পদ): যুদ্ধ ব্যতীত মুসলিমদের হস্তগত হওয়া ভূ-সম্পত্তি বা অন্যান্য সম্পদ, যা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছিল।

খলিফা উমর (রা) রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও ন্যায়পরায়ণ ছিলেন। তিনি 'দিওয়ান' প্রবর্তন করে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ওপর করের বোঝা চাপানো নয়, বরং রাষ্ট্রের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং এই অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা, যা উদ্দীপকের NBR-এর কার্যক্রমের মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার সময়ে সেচ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট নির্মাণ, সামরিক ব্যয় নির্বাহ, পেনশন প্রদান ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কাজে রাজস্বের অর্থ ব্যয় করা হতো, যা আধুনিক রাষ্ট্রের বাজেট ব্যবস্থার অনুরূপ।

উপসংহার: খলিফা উমর (রা)-এর রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল তৎকালীন প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সুসংগঠিত, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী। উদ্দীপকের NBR-এর মতো তাঁর সময়েও রাজস্ব নির্ধারণ, আদায় ও হিসাব সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল, যা একটি আধুনিক রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনার মৌলিক নীতিগুলো ধারণ করে। তাঁর প্রবর্তিত ব্যবস্থা পরবর্তী মুসলিম শাসকদের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ হয়ে ছিল এবং আজও এর নীতিগুলো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রাসঙ্গিক।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
83
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews