খাদ্যনিরাপত্তা হলো খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়।
পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে নাগরিকতা ও পৌরনীতির সম্পর্ক, নাগরিকতার ধারণা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের সাথে সরকার ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। এসব ধারণা ব্যবহার করে বর্তমান অধ্যায়ে আমরা নাগরিক জীবনে নানাবিধ সমস্যা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব ।
এ অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে আমরা -
• আমাদের নাগরিক জীবনের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারব
• জনসংখ্যা সমস্যার কারণ ও এর প্রভাব এবং সমাধানের উপায় বিশ্লেষণ করতে পারব
• নিরক্ষরতার কারণ, প্রভাব ও সমাধানের উপায় বর্ণনা করতে পারব
• খাদ্য নিরাপত্তাজনিত সংকটের কারণ ও প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব
• পরিবেশগত দুর্যোগের ধারণা বর্ণনা করতে পারব • পরিবেশগত দুর্যোগ মোকাবেলার উপায় বর্ণনা করতে পারব
• সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের উৎস, সমাজ জীবনে এর প্রভাব এবং তা নিরসনের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব
• নারী নির্যাতনের কারণ ও প্রতিকারের উপায় বর্ণনা করতে পারব
• নাগরিক সমস্যা সমাধানে নাগরিকের ভূমিকা নির্ণয় করতে পারব ।
আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। শহর অথবা গ্রাম যেখানেই বসবাস করিনা কেন নাগরিক হিসেবে আমরা বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নানারকম অসুবিধা বা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি। এছাড়া জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমরা পরিবার ও সমাজের সাথে যুক্ত থাকার ফলে কিছু পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যারও সম্মুখীন হয়ে থাকি । নাগরিক জীবনের এ ধরনের কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো ।
Related Question
View Allবর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭।
খাদ্যনিরাপত্তা বলতে খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি এই তিনটি বিষয়কে বোঝানো হয়।
কোনো রাষ্ট্রে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের মজুদ থাকে এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় তখন সেই রাষ্ট্রে খাদ্যনিরাপত্তা আছে বলে মনে করা হয়। খাদ্যনিরাপত্তার ফলে নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা থাকে না। খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য সঠিক খাদ্যনীতি বা খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
সুমির জীবনে প্রথম সমস্যাটি যৌতুক প্রথাকে চিহ্নিত করে।
নারী নির্যাতনের অন্যতম ধরন হচ্ছে যৌতুক। পাত্র বা পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রীকে বা পাত্রকে প্রদেয় অর্থ-সম্পত্তি বা অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীকে যৌতুক বলা হয়। যৌতুক উভয়পক্ষকে প্রদানের রীতি থাকলেও আমাদের সমাজে যৌতুক প্রধানত পাত্রীপক্ষ, পাত্রপক্ষকে বা পাত্রকে প্রদান করে। যৌতুক একটি সামাজিক কু-প্রথা। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে বিয়ের পর পারিবারিক কলহ, স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা, বিবাহ-বিচ্ছেদ ইত্যাদি ঘটে। নারীদের আত্মহত্যার পেছনে যৌতুকপ্রথা অনেকাংশে দায়ী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমির বিয়ের সময় তার স্বামীকে যে টাকা-পয়সা দেওয়ার কথা ছিল তা দিতে না পারার কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। যা যৌতুক প্রথার একটি কুফল।
সুমির মতো নারীদের যৌতুক প্রথার সমস্যা থেকে রক্ষা করতে উদ্দীপকে বর্ণিত কাজটি অর্থাৎ অর্থনৈতিক কাজ যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ নারী পরিবারের পুরুষ সদস্যের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংসারের যেকোনো বিষয়ে তাদেরকে বাবা, ভাই ও স্বামীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরশীলতার কারণে সংসারের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তারা মতামত দিতে পারে না বা তাদের মতামত গ্রহণ করা হয় না। অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারীর অবস্থানকে সমাজে ও পরিবারে মর্যাদাসম্পন্ন করে। একজন উপার্জনক্ষম নারী শুধু নিজের ওপর নির্ভরশীল নয়, সংসারের বিভিন্ন বিষয়েও তার সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমি তার স্বামীর ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ছিল বিধায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই তার সাথে খারাপ আচরণ করত। যখন সে সেলাই কাজ করে পরিবারের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শুরু করে, তখন পরিবারের সবাই তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
আমাদের দেশে যেসব নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল, তারাই নির্যাতনের শিকার বেশি হয়। তবে আত্মনির্ভরশীল নারীরা নির্যাতনের শিকার কম হয়। কেননা তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকে। সুতরাং বলা যায়, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারী নির্যাতন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের নতুন জনসংখ্যানীতি গৃহীত হয় ২০০৪ সালে।
সন্ত্রাসের অন্যতম ধরন হলো রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
রাজনীতির নামে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা গোষ্ঠীবিশেষ যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে তাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে। সন্ত্রাসীরা, শ্রেণি সংগ্রামের নামে আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!