খ বিভাগ-আকাইদ 

(যে কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও) 

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

ইসলামের শাব্দিক পরিচয়:

'ইসলাম' শব্দটি আরবি 'سلم' (সালাম) ধাতু থেকে এসেছে, যার আভিধানিক অর্থ হল আত্মসমর্পণ করা, বশ্যতা স্বীকার করা, আনুগত্য করা, শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সোপর্দ করা।

ইসলামের পারিভাষিক পরিচয়:

ইসলামের পারিভাষিক অর্থ হলো, আল্লাহ তা’আলার নিকট নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দেওয়া এবং তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পথে জীবন পরিচালনা করা। অর্থাৎ, মানুষের সকল কর্ম ও বিধান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী হওয়া এবং তাঁর হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালিত করা।

"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দীন ইসলাম"-ব্যাখ্যা:

এই পবিত্র আয়াতটি (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯) ইসলামের এক মৌলিক বিশ্বাসকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, মানবজাতির জন্য আল্লাহ তা’আলার মনোনীত ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনবিধান হলো ইসলাম। আল্লাহ তা’আলা মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং সকল নবী-রাসূলের মূল দাওয়াত ছিল আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, যা ইসলামেরই মর্মকথা।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে এবং পূর্ববর্তী সকল আসমানী কিতাব ও শরীয়তকে রহিত করে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে এসেছে। তাই, কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য সফলতা ও মুক্তির একমাত্র পথ হলো ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করা। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম বা জীবনব্যবস্থা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, এবং যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তা কখনোই কবুল করা হবে না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

মু'জিযা (معجزة) কাকে বলে?

মু'জিযা হলো আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক তাঁর মনোনীত নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে প্রদর্শিত অলৌকিক ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে ঘটানো অসম্ভব। নবী-রাসূলগণ তাঁদের নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতা প্রমাণের জন্য এবং অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য আল্লাহর নির্দেশে এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন করতেন। এটি তাদের নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

৩ জন নবি ও রসুলের ১টি করে মু'জিযার বর্ণনা:

        
  • হযরত মূসা (আঃ) এর মু'জিযা: আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হযরত মূসা (আঃ) তাঁর লাঠি দ্বারা নীল নদকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন, যার ফলে ইসরাঈলীরা পার হতে পেরেছিল এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী ডুবে গিয়েছিল।
  •     
  • হযরত ঈসা (আঃ) এর মু'জিযা: আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হযরত ঈসা (আঃ) জন্মগত অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে তুলতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন।
  •     
  • হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মু'জিযা: নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার পরও আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে রক্ষা করেছিলেন। আগুন তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং এটি তাঁর জন্য বাগান হয়ে গিয়েছিল।

মুহাম্মাদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ চিরস্থায়ী মু'জিযা:

মুহাম্মাদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ চিরস্থায়ী মু'জিযা হলো আল-কুরআনুল কারীম

ব্যাখ্যা:

আল-কুরআন অন্যান্য নবীদের মু'জিযার মতো নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন ও জীবন্ত মু'জিযা। এর সাহিত্যিক শৈলী, ভাষার অলঙ্কার, ভবিষ্যদ্বাণী, বিজ্ঞানের বিভিন্ন ইঙ্গিত, আইন-কানুন, নৈতিক শিক্ষা এবং এর অভ্রান্ততা ও নির্ভুলতা এটিকে এক অনন্য মু'জিযা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কুরআন নিজেই মানুষকে চ্যালেঞ্জ করেছে যে, তারা যেন এর মতো একটি সূরা বা আয়াতও তৈরি করে দেখায়, যা আজ পর্যন্ত কেউ পারেনি এবং পারবেও না। এর প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ সংরক্ষিত এবং অপরিবর্তিত। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য আল-কুরআনকে নবি মুহাম্মাদ (সা)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চিরস্থায়ী মু'জিযা হিসেবে প্রমাণ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
557

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইসলামের শাব্দিক পরিচয়:

'ইসলাম' শব্দটি আরবি 'سلم' (সালাম) ধাতু থেকে এসেছে, যার আভিধানিক অর্থ হল আত্মসমর্পণ করা, বশ্যতা স্বীকার করা, আনুগত্য করা, শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সোপর্দ করা।

ইসলামের পারিভাষিক পরিচয়:

ইসলামের পারিভাষিক অর্থ হলো, আল্লাহ তা’আলার নিকট নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সোপর্দ করে দেওয়া এবং তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত পথে জীবন পরিচালনা করা। অর্থাৎ, মানুষের সকল কর্ম ও বিধান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী হওয়া এবং তাঁর হুকুম-আহকাম ও বিধি-নিষেধ মেনে জীবন পরিচালিত করা।

"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত দীন ইসলাম"-ব্যাখ্যা:

এই পবিত্র আয়াতটি (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯) ইসলামের এক মৌলিক বিশ্বাসকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এটি প্রমাণ করে যে, মানবজাতির জন্য আল্লাহ তা’আলার মনোনীত ও একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনবিধান হলো ইসলাম। আল্লাহ তা’আলা মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং সকল নবী-রাসূলের মূল দাওয়াত ছিল আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, যা ইসলামেরই মর্মকথা।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছে এবং পূর্ববর্তী সকল আসমানী কিতাব ও শরীয়তকে রহিত করে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে এসেছে। তাই, কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য সফলতা ও মুক্তির একমাত্র পথ হলো ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করা। এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম বা জীবনব্যবস্থা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, এবং যারা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন তালাশ করবে, তা কখনোই কবুল করা হবে না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
493
উত্তরঃ

মু'জিযা (معجزة) কাকে বলে?

মু'জিযা হলো আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক তাঁর মনোনীত নবী ও রাসূলগণের মাধ্যমে প্রদর্শিত অলৌকিক ঘটনা, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে ঘটানো অসম্ভব। নবী-রাসূলগণ তাঁদের নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতা প্রমাণের জন্য এবং অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য আল্লাহর নির্দেশে এ ধরনের অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শন করতেন। এটি তাদের নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

৩ জন নবি ও রসুলের ১টি করে মু'জিযার বর্ণনা:

        
  • হযরত মূসা (আঃ) এর মু'জিযা: আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হযরত মূসা (আঃ) তাঁর লাঠি দ্বারা নীল নদকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন, যার ফলে ইসরাঈলীরা পার হতে পেরেছিল এবং ফেরাউন ও তার বাহিনী ডুবে গিয়েছিল।
  •     
  • হযরত ঈসা (আঃ) এর মু'জিযা: আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হযরত ঈসা (আঃ) জন্মগত অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করে তুলতেন এবং মৃতকে জীবিত করতেন।
  •     
  • হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মু'জিযা: নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার পরও আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে রক্ষা করেছিলেন। আগুন তাঁর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং এটি তাঁর জন্য বাগান হয়ে গিয়েছিল।

মুহাম্মাদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ চিরস্থায়ী মু'জিযা:

মুহাম্মাদ (সা) এর উপর অবতীর্ণ চিরস্থায়ী মু'জিযা হলো আল-কুরআনুল কারীম

ব্যাখ্যা:

আল-কুরআন অন্যান্য নবীদের মু'জিযার মতো নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য এক চিরন্তন ও জীবন্ত মু'জিযা। এর সাহিত্যিক শৈলী, ভাষার অলঙ্কার, ভবিষ্যদ্বাণী, বিজ্ঞানের বিভিন্ন ইঙ্গিত, আইন-কানুন, নৈতিক শিক্ষা এবং এর অভ্রান্ততা ও নির্ভুলতা এটিকে এক অনন্য মু'জিযা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কুরআন নিজেই মানুষকে চ্যালেঞ্জ করেছে যে, তারা যেন এর মতো একটি সূরা বা আয়াতও তৈরি করে দেখায়, যা আজ পর্যন্ত কেউ পারেনি এবং পারবেও না। এর প্রতিটি অক্ষর ও শব্দ সংরক্ষিত এবং অপরিবর্তিত। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য আল-কুরআনকে নবি মুহাম্মাদ (সা)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং চিরস্থায়ী মু'জিযা হিসেবে প্রমাণ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
540
উত্তরঃ

طهارة শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা বা শুদ্ধতা।

وضوء ভঙ্গের কারণসমূহ প্রধানত ৭টি। সেগুলো হলো:

        
  • পেশাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া (যেমন: বায়ু, পেশাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি)।
  •     
  • মুখ ভরে বমি হওয়া (অর্থাৎ, বমি ধরে রাখতে কষ্ট হয় এমন পরিমাণে)।
  •     
  • শুয়ে বা কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে ঘুমানো, যার ফলে শরীরের জোড়া ঢিলা হয়ে যায় এবং ঘুম গভীর হয়।
  •     
  • বেহুশ হওয়া, পাগল হওয়া বা নেশাগ্রস্ত হওয়া (অর্থাৎ, জ্ঞান হারানো)।
  •     
  • শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বা হলুদ পানি বের হয়ে এমন স্থানে গড়িয়ে পড়া, যা পবিত্র করা ফরয (যেমন: কোনো জখম থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়া)।
  •     
  • নামাজে রুকু-সিজদাসহ উচ্চস্বরে হাসা (যদি পাশের ব্যক্তি শুনতে পায়)।
  •     
  • মহিলাদের মাসিক ঋতুস্রাব বা নিফাস (সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব) শুরু হওয়া (এগুলো গোসলেরও কারণ)।

যেসব পানি দ্বারা طهارة (পবিত্রতা) অর্জন করা জায়েয, সেগুলো হলো:

        
  • বৃষ্টির পানি।
  •     
  • নদী, সমুদ্র বা হ্রদের পানি।
  •     
  • কূয়া বা ঝর্ণার পানি।
  •     
  • বরফ বা শিলা গলার পানি।
  •     
  • বড় পুকুর বা জলাশয়ের পানি, যা নড়াচড়া করলে তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় না (অর্থাৎ, যেখানে অপবিত্রতা মিশে পুরো পানি নাপাক হয় না)।

যেসব পানি দ্বারা طهارة (পবিত্রতা) অর্জন করা জায়েয নয়, সেগুলো হলো:

        
  • নাপাক বা অপবিত্র পানি (যেমন: কোনো নাপাকি পড়ার কারণে যা অপবিত্র হয়ে গেছে)।
  •     
  • মুস্তামাল পানি (একবার ওযু বা গোসলের কাজে ব্যবহৃত পানি, যা বিশুদ্ধ হলেও পুনরায় পবিত্রতার জন্য ব্যবহার করা যায় না)।
  •     
  • মিশ্রিত পানি (এমন পানি যার সাথে অন্য কোনো পবিত্র জিনিস মিশে পানির মৌলিক গুণাবলী, যেমন- স্বাদ, গন্ধ, রঙ পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং তাকে আর 'পানি' বলা যায় না, যেমন- ফলের রস, গোলাপ জল)।

ইসলামে طهارة বা পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা অপরিহার্য। এই পবিত্রতা মূলত দুই প্রকার: অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা (আত্মার পবিত্রতা) এবং বাহ্যিক পবিত্রতা (শারীরিক ও পোশাকের পবিত্রতা)। বাহ্যিক পবিত্রতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো وضوء বা অজু, যা নামাজের পূর্বে সম্পন্ন করা ফরয।

وضوء ভঙ্গের কারণগুলো মূলত শারীরিক অবস্থা পরিবর্তন বা শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস বের হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। এর কারণ হলো, وضوء একটি আনুষ্ঠানিক পবিত্রতা, যা এই ধরনের ঘটনাগুলোর মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যায়। তাই একজন মুসলিমকে নিয়মিতভাবে অজু করে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।

পবিত্রতার জন্য ব্যবহৃত পানির উৎস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে পবিত্রতার জন্য যেসব পানি ব্যবহার করা জায়েয, সেগুলোকে সাধারণত 'তাহূর' পানি বলা হয়, অর্থাৎ যে পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকেও পবিত্র করতে সক্ষম। প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত পানি, যেমন বৃষ্টি, নদী, সমুদ্র ইত্যাদির পানি এই শ্রেণীতে পড়ে। তবে, যেসব পানি অপবিত্র হয়ে গেছে বা যার মৌলিক গুণাবলী এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যে তাকে আর 'পানি' বলা যায় না, তা পবিত্রতার কাজে ব্যবহার করা যায় না। একইভাবে, একবার ওজু বা গোসলে ব্যবহৃত পানি (মুস্তামাল পানি) পবিত্র হলেও, তা দিয়ে পুনরায় ওজু বা গোসল করা যায় না, তবে তা অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা যায়। এই বিধানগুলো মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
456
উত্তরঃ

উসূলুল ফিকহ (فقہ) পরিভাষায় 'عام' (আম) এমন শব্দকে বোঝায় যা তার সমস্ত অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি বা বস্তুকে কোনো নির্দিষ্টতা বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পরিবেষ্টন করে। অর্থাৎ, যে শব্দ তার সমজাতীয় সকল সদস্যের ওপর প্রযোজ্য হয়, তাকে 'আম' বলে। এটি ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা নির্দেশ করে।

আম (عام) মূলত তিন প্রকারের হতে পারে। যথা:

        
  • আম বাকা আলা ইত্বলাকিহি (عام باق على إطلاقه)
  •     
  • আম উরিদা বিহিল খুসুস (عام أريد به الخصوص)
  •     
  • আম মুখাসসাস (عام مخصوص)

১. আম বাকা আলা ইত্বলাকিহি (عام باق على إطلاقه): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দকে বোঝায় যা তার আভিধানিক ব্যাপক অর্থেই অবশিষ্ট থাকে এবং কোনো প্রকারের সীমাবদ্ধতা দ্বারা নির্দিষ্ট হয় না। এটি তার অন্তর্ভুক্ত সকল সদস্যের ওপর সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হয়।

উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "কূল্লু নাফসিন যাইকাতুল মাউত" (كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ) - অর্থাৎ "প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।" এখানে 'নাফস' (প্রাণী) শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর ব্যাপকতায় কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

২. আম উরিদা বিহিল খুসুস (عام أريد به الخصوص): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দ যা আভিধানিকভাবে ব্যাপক হলেও এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো কিছু উদ্দেশ্য হয়। অর্থাৎ, শব্দটি ব্যাপক হলেও ব্যবহারিক অর্থে এর দ্বারা বিশেষ বা সীমিত কোনো বিষয় বোঝানো হয়।

উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "আল্লাযীনা কালু লিন্না-সি ইন্নান-না-সা ক্বাদ জামা'উ লাকুম ফাকশাউহুম" (الَّذِينَ قَالُوا لِلنَّاسِ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ) - "যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে লোকেরা (শত্রুবাহিনী) সমবেত হয়েছে, সুতরাং তাদের ভয় করো।" এখানে 'নাস' (লোক) শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক হলেও এর দ্বারা মক্কাবাসীদের একটি নির্দিষ্ট দলকে বোঝানো হয়েছে, সকল মানুষ উদ্দেশ্য নয়।

৩. আম মুখাসসাস (عام مخصوص): এই প্রকারের 'আম' এমন শব্দকে বোঝায় যার ব্যাপকতা কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (দলিল) বা অন্য কোনো বিশেষ নির্দেশ (খাস) দ্বারা সীমিত বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। শব্দটি নিজেই ব্যাপক হলেও অন্য দলিলের কারণে এর প্রয়োগক্ষেত্র সংকীর্ণ হয়ে যায়।

উদাহরণ: আল্লাহ তায়া'লার বাণী, "লিল্লাহি আলা-ন-নাসি হিজ্জুল বাইতি মানিসতাত্বা'আ ইলাইহি সাবীলা" (وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا) - "মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ফরয, যে সে পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।" এখানে 'নাস' (মানুষ) শব্দটি ব্যাপক হলেও 'মানিসতাত্বা'আ ইলাইহি সাবীলা' (যে সামর্থ্য রাখে) দ্বারা এর ব্যাপকতাকে সীমিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, হজ্জ সকল মানুষের জন্য ফরয হলেও শুধু সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য তা ফরয।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews