উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ষা প্রকৃতিতে আষাঢ় মাসের গভীরতা এবং বাদল দিনের চিত্র অত্যন্ত সজীব ও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে উঠেছে। এখানে নীল কালো মেঘে ঢাকা আকাশ, অবিরাম ধারায় ঝরঝর করে বৃষ্টি ঝরার শব্দ এবং আউশ খেত জলে ভরপুর হওয়ার দৃশ্য বর্ষার এক নিবিড় ও ঘনঘটাপূর্ণ রূপ তুলে ধরে। বিশেষত, "যাসনে ঘরের বাহিরে" চরণটি বর্ষার তীব্রতা ও প্রতিকূলতার এক সতর্কবাণী, যা প্রকৃতির এই রূপের মধ্যে এক ধরনের ভয় মিশ্রিত সৌন্দর্য ও শক্তি প্রকাশ করে। কালি-মাখা মেঘে ওপারে ঘনিয়ে আসা আঁধার বর্ষার গাম্ভীর্য ও ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতায় বর্ষার প্রকৃতিকে এক ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে নদী কূলে একাকী কৃষকের ফসলের বোঝা নিয়ে অপেক্ষা এবং প্রবল বর্ষণে নদীর উন্মত্ত রূপ প্রকৃতির এক সর্বগ্রাসী ও মহাকালীন দিক উন্মোচন করে। ভরা বর্ষায় কূল ছাপিয়ে ওঠা নদী, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং দিগন্তব্যাপী জলরাশি প্রকৃতির এক বিশালতা ও অপ্রতিরোধ্য শক্তিকে প্রতীকায়িত করে। এই বর্ষা এখানে কেবল একটি ঋতু নয়, বরং জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব এবং সৃষ্টির চিরন্তনতাকে ধারণ করার এক মাধ্যম হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই বর্ষার তীব্রতা, বৃষ্টি এবং মেঘের উপস্থিতি বিদ্যমান। উদ্দীপকে বর্ষার প্রকৃতি মূলত এর বাহ্যিক রূপ, সজীবতা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপর এর প্রভাবকে তুলে ধরে, যেখানে ঘরের বাইরে না যাওয়ার সাবধানবাণী প্রকৃতির ক্ষমতাকে বোঝায়। পক্ষান্তরে, 'সোনার তরী' কবিতায় বর্ষা প্রকৃতি এক গভীর দার্শনিকতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এটি মানবজীবনের একাকীত্ব, সৃষ্টিকে ধরে রাখার আকুতি এবং মহাকালের যাত্রায় ব্যক্তিগত অস্তিত্বের ক্ষুদ্রতাকে বর্ষার ভয়ঙ্কর ও সুন্দর রূপকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে। উদ্দীপকের বর্ষা যেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য, 'সোনার তরী'র বর্ষা সেখানে প্রকৃতির মধ্য দিয়ে জীবনের গভীর অর্থ অনুসন্ধানের মাধ্যম।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

'কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর' উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, অপরের কাছ থেকে কষ্ট, আঘাত বা বিরূপ আচরণ পেলেও তার প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে বরং উদারতা, ক্ষমা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করা। এর মাধ্যমে ব্যক্তির মহত্ত্ব ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় মেলে।

এই উক্তিটি মানবজীবনের এক গভীর দর্শনকে তুলে ধরে, যেখানে নিঃস্বার্থ পরোপকার ও আত্মত্যাগই প্রকৃত সুখের উৎস। জীবনের পথে প্রাপ্ত সকল প্রতিকূলতা ও নেতিবাচকতার বিপরীতেও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে অন্যের কল্যাণ সাধন করাকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল অপরের প্রতি দয়া নয়, বরং নিজের আত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধির পথও বটে, যা উদ্দীপকের 'আমিত্ব'-কে বিসর্জন দিয়ে পরহিতের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
170


গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। 
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। 
রাশি রাশি ভারা ভারা
 ধান কাটা হলো সারা,
 ভরা নদী ক্ষুরধারা 
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ৷৷ 
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা- 
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ॥ 
পরপারে দেখি আঁকা 
তরুছায়ামসী-মাখা 
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা- 
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ৷৷ 
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! 
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে । 
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে-
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ৷।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে? 
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যারে খুশি তারে দাও -
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ॥
যত চাও তত লও তরণী-পরে ।
আর আছে— আর নাই, দিয়েছি ভরে ॥
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে- 
এখন আমারে লহো করুণা করে ৷৷
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী 
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।।

Related Question

View All
উত্তরঃ

‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ অনবরত, অবিরাম, নিরবচ্ছিন্ন বা সর্বদা।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

যে কবির ঘর ভেঙেছে, সেই ঘর কবি পুনরায় বাঁধতে চান মানবতাবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের জন্য। মানুষের ভেতরের প্রেম, মমতা ও শুভবুদ্ধি দিয়ে ধ্বংস হওয়া শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই কবির মূল লক্ষ্য।

উদ্দীপকের কবিতার চরণগুলো 'সেই অস্ত্র' কবিতার অংশ, যেখানে বলা হয়েছে মহৎ কবিরা যেই সত্যের পথ ধরে হেঁটেছেন, সেই পথেই কবিও হাঁটতে চান। 'ঘর ভাঙ্গা' বলতে এখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোভের কারণে মানবতা, শান্তি ও ভালোবাসার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে প্রেমকে অস্ত্র করে মানবতাকে পুনর্গঠন করতে চান, যা "মানুষ সকল সত্য" এই বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাব এবং জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর হলো মানবপ্রেম, উদারতা ও বিশ্ব শান্তির সাধনা। উভয় রচনায় মানবতাবাদের জয়গান গাওয়া হয়েছে এবং প্রতিকূলতার মুখেও ভালোবাসার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বদলে ভালোবাসার, হিংসার বদলে প্রীতির প্রতিদান দিতে চেয়েছেন। এই কবিতায় মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক মহৎ আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শত্রুকেও মিত্ররূপে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান এবং এই পথেই প্রকৃত শান্তি নিহিত বলে কবি মনে করেন।

উদ্দীপকে মহৎ কবিদের (কালিদাস, দান্তে, হোমার, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ) দেখানো মানবতাবাদের পথ অনুসরণ করে শান্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে এবং "মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ" উচ্চারণের মাধ্যমে মানবতার শাশ্বত জয় ও অমরত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাব 'প্রতিদান' কবিতার সেই বার্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে কবি সকল প্রতিকূলতা ও হিংসা ভুলে মানবপ্রেমের মাধ্যমে এক উদার ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের প্রতি গভীর আস্থা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে জীবনের অর্থ ও শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

জসীম উদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতাটি মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে কবি ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে প্রতিদানে ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ এবং ‘মানুষ সকল সত্য’—এই দুটি বাক্য ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সফলভাবে ধারণ করেছে, যা অত্যন্ত যথার্থ।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, "যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার... সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার-তোমার।" এখানে মহৎ কবিদের পথে হেঁটে অর্জিত যে গভীর শান্তি ও প্রশান্তি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, আঘাত ও ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে অপরের জন্য শুভকামনা করেন। তিনি অন্যের ভাঙা ঘর বেঁধে দেন, নিজের কষ্ট ভুলে অপরের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। এই আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতার মাধ্যমেই কবি এক সার্বজনীন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, বিদ্বেষ নেই—কেবলই শান্তি ও ভালোবাসা বিদ্যমান। তাই ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ অংশটি ‘প্রতিদান’ কবিতার ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিধ্বনিত করে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, "শোনো তার মৃত্যুহীন গান মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।" এই লাইনটি মানবতাবাদের এক চরম অভিব্যক্তি। ‘প্রতিদান’ কবিতাও মানবতাবাদের জয়গান করে। কবি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরের যে শুভ ও কল্যাণকর সত্তা, তা-ই আসল সত্য। বাহ্যিক আঘাত, ঘৃণা বা অকল্যাণ দিয়ে সেই সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ভালোবাসা ও ক্ষমার মাধ্যমে সেই মানবীয় সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কবি শত্রুকেও বন্ধু ভেবে তার জন্য মঙ্গল কামনা করেন, কারণ তিনি জানেন মানুষের ভেতরের সত্য চিরন্তন ও অক্ষয়। তাই, ‘মানুষ সকল সত্য’ উক্তিটি ‘প্রতিদান’ কবিতার মানবিক মূল্যবোধ ও চিরন্তন সত্যের ধারণাকেই প্রকাশ করে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘এই শান্তি তোমার আমার' ও ‘মানুষ সকল সত্য' অংশই ‘প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য হিসেবে অত্যন্ত যথার্থ। এই দুটি উক্তি ‘প্রতিদান’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু—মানবতার জয়, নিঃশর্ত ভালোবাসা, ক্ষমা এবং সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার গভীর অর্থকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
285
উত্তরঃ

‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ অনবরত, অবিরাম, নিরবচ্ছিন্ন বা সর্বদা।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.7k
উত্তরঃ

যে কবির ঘর ভেঙেছে, সেই ঘর কবি পুনরায় বাঁধতে চান মানবতাবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের জন্য। মানুষের ভেতরের প্রেম, মমতা ও শুভবুদ্ধি দিয়ে ধ্বংস হওয়া শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই কবির মূল লক্ষ্য।

উদ্দীপকের কবিতার চরণগুলো 'সেই অস্ত্র' কবিতার অংশ, যেখানে বলা হয়েছে মহৎ কবিরা যেই সত্যের পথ ধরে হেঁটেছেন, সেই পথেই কবিও হাঁটতে চান। 'ঘর ভাঙ্গা' বলতে এখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোভের কারণে মানবতা, শান্তি ও ভালোবাসার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে প্রেমকে অস্ত্র করে মানবতাকে পুনর্গঠন করতে চান, যা "মানুষ সকল সত্য" এই বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাব এবং জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর হলো মানবপ্রেম, উদারতা ও বিশ্ব শান্তির সাধনা। উভয় রচনায় মানবতাবাদের জয়গান গাওয়া হয়েছে এবং প্রতিকূলতার মুখেও ভালোবাসার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বদলে ভালোবাসার, হিংসার বদলে প্রীতির প্রতিদান দিতে চেয়েছেন। এই কবিতায় মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক মহৎ আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শত্রুকেও মিত্ররূপে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান এবং এই পথেই প্রকৃত শান্তি নিহিত বলে কবি মনে করেন।

উদ্দীপকে মহৎ কবিদের (কালিদাস, দান্তে, হোমার, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ) দেখানো মানবতাবাদের পথ অনুসরণ করে শান্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে এবং "মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ" উচ্চারণের মাধ্যমে মানবতার শাশ্বত জয় ও অমরত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাব 'প্রতিদান' কবিতার সেই বার্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে কবি সকল প্রতিকূলতা ও হিংসা ভুলে মানবপ্রেমের মাধ্যমে এক উদার ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের প্রতি গভীর আস্থা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে জীবনের অর্থ ও শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
741
উত্তরঃ

জসীম উদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতাটি মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে কবি ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে প্রতিদানে ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ এবং ‘মানুষ সকল সত্য’—এই দুটি বাক্য ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সফলভাবে ধারণ করেছে, যা অত্যন্ত যথার্থ।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, "যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার... সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার-তোমার।" এখানে মহৎ কবিদের পথে হেঁটে অর্জিত যে গভীর শান্তি ও প্রশান্তি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, আঘাত ও ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে অপরের জন্য শুভকামনা করেন। তিনি অন্যের ভাঙা ঘর বেঁধে দেন, নিজের কষ্ট ভুলে অপরের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। এই আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতার মাধ্যমেই কবি এক সার্বজনীন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, বিদ্বেষ নেই—কেবলই শান্তি ও ভালোবাসা বিদ্যমান। তাই ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ অংশটি ‘প্রতিদান’ কবিতার ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিধ্বনিত করে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, "শোনো তার মৃত্যুহীন গান মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।" এই লাইনটি মানবতাবাদের এক চরম অভিব্যক্তি। ‘প্রতিদান’ কবিতাও মানবতাবাদের জয়গান করে। কবি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরের যে শুভ ও কল্যাণকর সত্তা, তা-ই আসল সত্য। বাহ্যিক আঘাত, ঘৃণা বা অকল্যাণ দিয়ে সেই সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ভালোবাসা ও ক্ষমার মাধ্যমে সেই মানবীয় সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কবি শত্রুকেও বন্ধু ভেবে তার জন্য মঙ্গল কামনা করেন, কারণ তিনি জানেন মানুষের ভেতরের সত্য চিরন্তন ও অক্ষয়। তাই, ‘মানুষ সকল সত্য’ উক্তিটি ‘প্রতিদান’ কবিতার মানবিক মূল্যবোধ ও চিরন্তন সত্যের ধারণাকেই প্রকাশ করে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘এই শান্তি তোমার আমার' ও ‘মানুষ সকল সত্য' অংশই ‘প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য হিসেবে অত্যন্ত যথার্থ। এই দুটি উক্তি ‘প্রতিদান’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু—মানবতার জয়, নিঃশর্ত ভালোবাসা, ক্ষমা এবং সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার গভীর অর্থকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
580
উত্তরঃ

অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস

Tahmid Hashem
Tahmid Hashem
2 years ago
উত্তরঃ

কবি নিজেকে মহাকাল ধূমকেতু বা স্রষ্টার শনি হিসেবে কল্পনা করে পৃথিবীতে মহাবিপ্লব ঘটাতে এসেছেন। সমাজের অন্যায়, অবিচার, পাপাচার এবং জীর্ণতা দেখে তার মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে, যা তাকে প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে এক অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল রূপে প্রকাশ করেছে।

কবি এখানে ব্যক্তিগত উচ্ছৃঙ্খলতার কথা বলছেন না, বরং তিনি সৃষ্টিজগতের সকল পাপ ও দুঃখের প্রতিচ্ছবি হয়ে এক শুদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তার এই অনিয়ম বস্তুত নতুন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথ, যা পুরাতন ও কলুষিত ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন করে গড়তে চায়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
299
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews