উত্তরঃ

'সোনার তরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

'চারিদিকে বাঁকা জল' বলতে কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার নদী-নালা, খাল-বিল ও বিস্তৃত জলাভূমির আঁকাবাঁকা গতিপথকে বুঝিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলার চিরচেনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলময় ভূ-প্রকৃতির এক নিবিড় চিত্র তুলে ধরেছেন, যা তার জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার পরিচায়ক।

এই বাক্যাংশটি কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে। কবি বাংলার রূপমুগ্ধ হয়ে বারবার ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এখানে 'বাঁকা জল' শুধু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং কবির আত্মপরিচয় এবং বাংলা মায়ের সাথে তার গভীর আত্মিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাংলার শ্যামল প্রকৃতি ও স্বকীয়তাকে ফুটিয়ে তোলে।

Satt AI
Satt AI
5 hours ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটিতে ব্যক্ত ভাব এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতার জীবনদর্শন এক ও অভিন্ন। এই দুইয়ের মধ্য দিয়ে স্রষ্টা বা ব্যক্তির নশ্বরতা এবং তার সৃষ্ট কর্মের অবিনশ্বরতার এক গভীর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি – 'চাঁদেরে কে চায়-জোছনা সবাই যাচে / গীত শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি মাঝে;' – এই ভাবটিকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এখানে 'চাঁদ' এবং 'বীণা' হলো স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তার প্রতীক, যারা একসময় অবহেলিত হয়। কিন্তু 'জোছনা' বা 'গান' তাদের সৃষ্টিকর্মের প্রতীক, যা কালের সীমা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। অর্থাৎ, সৃষ্টিকর্তা কালের গর্ভে বিলীন হলেও তার সৃষ্টি মহাকালকে জয় করে অমরত্ব লাভ করে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতাতেও একই জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতার কৃষক তার উৎপাদিত সোনালি ধান দিয়ে তরী বোঝাই করতে পারলেও নিজে স্থান পায় না। এখানে কৃষক হলো নশ্বর মানবসত্তা এবং তার ধান হলো তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বা সৃষ্টিকর্ম। প্লাবিত নদীর জলরাশি যেন মহাকাল, যা মানবজীবনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু তার মহৎ কর্মকে সুরক্ষিত রাখে। অর্থাৎ, মহৎ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মানুষ মৃত্যুর পরও অমরত্ব লাভ করে, তার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব মুছে গেলেও তার কীর্তি টিকে থাকে।

সুতরাং, উদ্দীপকের শেষ চরণ দুটি 'সোনার তরী' কবিতার এই শাশ্বত জীবনদর্শনকেই ধারণ করে যে, মানুষের দেহ ক্ষণস্থায়ী হলেও তার সৃষ্ট কর্ম বা কীর্তি চিরস্থায়ী ও অমর।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য পরাধীন ভারতবর্ষের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং সমাজের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনীর মাধ্যমে অবিরাম সংগ্রাম করেছেন। তিনি যাবতীয় অসাম্য, অন্যায় ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। এই নিরন্তর সংগ্রাম এবং জনমানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তাঁর জীবনে যে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি এনেছিল, তাকে বোঝাতেই তিনি নিজেকে 'বিদ্রোহী রণক্লান্ত' বলেছেন।

তাঁর এই আত্ম-উপাধি প্রকাশ করে যে তিনি শুধু একজন বিপ্লবী কবিই ছিলেন না, বরং সংগ্রামের পথচলায় অর্জিত শ্রান্তিও তাঁর ছিল। তবে এই ক্লান্তি তাঁর বিপ্লবী চেতনাকে দুর্বল করতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছিল এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছিল।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
উত্তরঃ

কবির বুকে যে কবর বেঁধেছে তার বুক তিনি ভালোবাসা ও স্নেহ দিয়ে ভরেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

"আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর" - পংক্তিটির মাধ্যমে ব্যক্তি এমন একজন মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যে তাকে আঘাত করেছে বা দূরে ঠেলে দিয়েছে। এখানে পর করে দেওয়া ব্যক্তিটিকেও আপন করে নেওয়ার জন্য হৃদয়ের আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে প্রতিশোধ বা ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসাই মুখ্য।

এটি মূলত মানুষের মহৎ গুণাবলী যেমন – পরোপকারিতা, ক্ষমা, ধৈর্য এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়। এই উক্তিটির মধ্য দিয়ে প্রতিহিংসা ত্যাগ করে শত্রুতা ভুলে গিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের এক মানবিক আবেদন ধ্বনিত হয়েছে, যা যেকোনো বিদ্বেষপূর্ণ পরিস্থিতিকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করার সক্ষমতা রাখে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্য হলো অন্যের অপকারের বদলে উপকার করা বা ক্ষতিসাধন না করে ক্ষমা ও ভালোবাসার দ্বারা মহত্ত্ব প্রকাশ করা। উদ্দীপকে বর্ণিত মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর তায়েফবাসীর প্রতি ক্ষমা ও ভালোবাসার প্রকাশ এই কবিতার মূল বার্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

কবি জসীমউদ্দীনের 'প্রতিদান' কবিতায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতিসাধন করে বা অমঙ্গল কামনা করে, তার প্রতি ঘৃণা বা প্রতিশোধপরায়ণতা না দেখিয়ে বরং ভালোবাসা ও উপকার দিয়ে প্রতিদান দেওয়া উচিত। এই কবিতা মানবতাকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষমা ও মানবিকতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানায়। এটি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা) যখন তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে যান, তখন তায়েফবাসী তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করে। এই চরম প্রতিকূল ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতেও নবিজি তাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেননি। বরং তিনি আল্লাহর কাছে তাদের হেদায়েত ও ক্ষমার জন্য দোয়া করেছেন, "এদের জ্ঞান দাও প্রভু এদের ক্ষমা করো।" মহানবীর (সা) এই আচরণ 'প্রতিদান' কবিতার সেই মহৎ বার্তারই প্রতিচ্ছবি, যেখানে অপকারের প্রতিদানে ক্ষমা ও কল্যাণের মাধ্যমে মানবজাতির জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ক্ষমা, ভালোবাসা ও প্রতিশোধহীনতার আদর্শ অতীব জরুরি। জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল ভাব এবং উদ্দীপকে বর্ণিত মহানবি (সা)-এর উদারতা ও ক্ষমাশীলতা এই আদর্শকেই তুলে ধরে। তাই সুস্থ সমাজ গঠনে এই দুটি ভাবার্থের সমন্বয়সাধন অপরিহার্য।

উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা) তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তায়েফবাসীর নিষ্ঠুর আচরণ ও পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হন। কিন্তু এত চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তাদের ওপর প্রতিশোধ নেননি। বরং তাদের জন্য ক্ষমা ও হেদায়েতের দোয়া করেছেন, যা মানবপ্রেম ও সর্বোচ্চ ক্ষমার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি মানবতা ও সহানুভূতির চরম পরাকাষ্ঠা, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়নে অপরিহার্য।

'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীনও অনুরূপ এক মহৎ আদর্শের কথা বলেছেন। এই কবিতায় প্রকাশ পায় যে, কেউ ক্ষতি করলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা দেখানো উচিত। যারা উপকার করে তাদের প্রতিদান দেওয়া সহজ, কিন্তু যারা আঘাত করে তাদের প্রতিও ভালোবাসা প্রদর্শন করাই প্রকৃত মহত্ত্ব। উদ্দীপকের মহানবির আচরণ 'প্রতিদান' কবিতার এই ভাবার্থের বাস্তব প্রতিফলন। যেখানে আঘাতের বদলে ক্ষমা, হিংসার বদলে ভালোবাসা এবং প্রতিশোধের বদলে কল্যাণকামনার কথা বলা হয়েছে। সমাজ থেকে হানাহানি ও বিদ্বেষ দূর করতে এই পারস্পরিক সহানুভূতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুতরাং, 'প্রতিদান' কবিতার মূল বার্তা এবং উদ্দীপকে মহানবি (সা)-এর ক্ষমা ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত একই সুতোয় গাঁথা। এই দুইয়ের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও সুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যখন সমাজে প্রতিটি মানুষ একে অপরের প্রতি ক্ষমার মানসিকতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং প্রতিদানের পরিবর্তে কল্যাণ কামনার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসবে, তখনই পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
200


গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। 
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা। 
রাশি রাশি ভারা ভারা
 ধান কাটা হলো সারা,
 ভরা নদী ক্ষুরধারা 
খরপরশা-
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা ৷৷ 
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা- 
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা ॥ 
পরপারে দেখি আঁকা 
তরুছায়ামসী-মাখা 
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা- 
এপারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা ৷৷ 
গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে! 
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে । 
ভরা পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু ধারে-
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে ৷।
ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে? 
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যারে খুশি তারে দাও -
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে ॥
যত চাও তত লও তরণী-পরে ।
আর আছে— আর নাই, দিয়েছি ভরে ॥
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে- 
এখন আমারে লহো করুণা করে ৷৷
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী 
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি-
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী ।।

Related Question

View All
উত্তরঃ

‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ অনবরত, অবিরাম, নিরবচ্ছিন্ন বা সর্বদা।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

যে কবির ঘর ভেঙেছে, সেই ঘর কবি পুনরায় বাঁধতে চান মানবতাবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের জন্য। মানুষের ভেতরের প্রেম, মমতা ও শুভবুদ্ধি দিয়ে ধ্বংস হওয়া শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই কবির মূল লক্ষ্য।

উদ্দীপকের কবিতার চরণগুলো 'সেই অস্ত্র' কবিতার অংশ, যেখানে বলা হয়েছে মহৎ কবিরা যেই সত্যের পথ ধরে হেঁটেছেন, সেই পথেই কবিও হাঁটতে চান। 'ঘর ভাঙ্গা' বলতে এখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোভের কারণে মানবতা, শান্তি ও ভালোবাসার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে প্রেমকে অস্ত্র করে মানবতাকে পুনর্গঠন করতে চান, যা "মানুষ সকল সত্য" এই বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাব এবং জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর হলো মানবপ্রেম, উদারতা ও বিশ্ব শান্তির সাধনা। উভয় রচনায় মানবতাবাদের জয়গান গাওয়া হয়েছে এবং প্রতিকূলতার মুখেও ভালোবাসার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বদলে ভালোবাসার, হিংসার বদলে প্রীতির প্রতিদান দিতে চেয়েছেন। এই কবিতায় মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক মহৎ আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শত্রুকেও মিত্ররূপে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান এবং এই পথেই প্রকৃত শান্তি নিহিত বলে কবি মনে করেন।

উদ্দীপকে মহৎ কবিদের (কালিদাস, দান্তে, হোমার, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ) দেখানো মানবতাবাদের পথ অনুসরণ করে শান্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে এবং "মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ" উচ্চারণের মাধ্যমে মানবতার শাশ্বত জয় ও অমরত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাব 'প্রতিদান' কবিতার সেই বার্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে কবি সকল প্রতিকূলতা ও হিংসা ভুলে মানবপ্রেমের মাধ্যমে এক উদার ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের প্রতি গভীর আস্থা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে জীবনের অর্থ ও শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
উত্তরঃ

জসীম উদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতাটি মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে কবি ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে প্রতিদানে ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ এবং ‘মানুষ সকল সত্য’—এই দুটি বাক্য ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সফলভাবে ধারণ করেছে, যা অত্যন্ত যথার্থ।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, "যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার... সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার-তোমার।" এখানে মহৎ কবিদের পথে হেঁটে অর্জিত যে গভীর শান্তি ও প্রশান্তি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, আঘাত ও ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে অপরের জন্য শুভকামনা করেন। তিনি অন্যের ভাঙা ঘর বেঁধে দেন, নিজের কষ্ট ভুলে অপরের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। এই আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতার মাধ্যমেই কবি এক সার্বজনীন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, বিদ্বেষ নেই—কেবলই শান্তি ও ভালোবাসা বিদ্যমান। তাই ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ অংশটি ‘প্রতিদান’ কবিতার ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিধ্বনিত করে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, "শোনো তার মৃত্যুহীন গান মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।" এই লাইনটি মানবতাবাদের এক চরম অভিব্যক্তি। ‘প্রতিদান’ কবিতাও মানবতাবাদের জয়গান করে। কবি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরের যে শুভ ও কল্যাণকর সত্তা, তা-ই আসল সত্য। বাহ্যিক আঘাত, ঘৃণা বা অকল্যাণ দিয়ে সেই সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ভালোবাসা ও ক্ষমার মাধ্যমে সেই মানবীয় সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কবি শত্রুকেও বন্ধু ভেবে তার জন্য মঙ্গল কামনা করেন, কারণ তিনি জানেন মানুষের ভেতরের সত্য চিরন্তন ও অক্ষয়। তাই, ‘মানুষ সকল সত্য’ উক্তিটি ‘প্রতিদান’ কবিতার মানবিক মূল্যবোধ ও চিরন্তন সত্যের ধারণাকেই প্রকাশ করে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘এই শান্তি তোমার আমার' ও ‘মানুষ সকল সত্য' অংশই ‘প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য হিসেবে অত্যন্ত যথার্থ। এই দুটি উক্তি ‘প্রতিদান’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু—মানবতার জয়, নিঃশর্ত ভালোবাসা, ক্ষমা এবং সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার গভীর অর্থকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
285
উত্তরঃ

‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ অনবরত, অবিরাম, নিরবচ্ছিন্ন বা সর্বদা।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.7k
উত্তরঃ

যে কবির ঘর ভেঙেছে, সেই ঘর কবি পুনরায় বাঁধতে চান মানবতাবিরোধী ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণের জন্য। মানুষের ভেতরের প্রেম, মমতা ও শুভবুদ্ধি দিয়ে ধ্বংস হওয়া শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাই কবির মূল লক্ষ্য।

উদ্দীপকের কবিতার চরণগুলো 'সেই অস্ত্র' কবিতার অংশ, যেখানে বলা হয়েছে মহৎ কবিরা যেই সত্যের পথ ধরে হেঁটেছেন, সেই পথেই কবিও হাঁটতে চান। 'ঘর ভাঙ্গা' বলতে এখানে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা-বিদ্বেষ ও লোভের কারণে মানবতা, শান্তি ও ভালোবাসার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তাকে বোঝানো হয়েছে। কবি এই ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে প্রেমকে অস্ত্র করে মানবতাকে পুনর্গঠন করতে চান, যা "মানুষ সকল সত্য" এই বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
1.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাব এবং জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর হলো মানবপ্রেম, উদারতা ও বিশ্ব শান্তির সাধনা। উভয় রচনায় মানবতাবাদের জয়গান গাওয়া হয়েছে এবং প্রতিকূলতার মুখেও ভালোবাসার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বদলে ভালোবাসার, হিংসার বদলে প্রীতির প্রতিদান দিতে চেয়েছেন। এই কবিতায় মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক মহৎ আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে শত্রুকেও মিত্ররূপে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান এবং এই পথেই প্রকৃত শান্তি নিহিত বলে কবি মনে করেন।

উদ্দীপকে মহৎ কবিদের (কালিদাস, দান্তে, হোমার, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ) দেখানো মানবতাবাদের পথ অনুসরণ করে শান্তি অর্জনের কথা বলা হয়েছে এবং "মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ" উচ্চারণের মাধ্যমে মানবতার শাশ্বত জয় ও অমরত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এই ভাব 'প্রতিদান' কবিতার সেই বার্তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে কবি সকল প্রতিকূলতা ও হিংসা ভুলে মানবপ্রেমের মাধ্যমে এক উদার ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের প্রতি গভীর আস্থা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে জীবনের অর্থ ও শান্তি খুঁজে পাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
741
উত্তরঃ

জসীম উদ্‌দীনের ‘প্রতিদান’ কবিতাটি মানবপ্রেম, ক্ষমা ও উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে কবি ঘৃণা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে প্রতিদানে ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ এবং ‘মানুষ সকল সত্য’—এই দুটি বাক্য ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে সফলভাবে ধারণ করেছে, যা অত্যন্ত যথার্থ।

উদ্দীপকের প্রথম অংশে বলা হয়েছে, "যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার... সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার-তোমার।" এখানে মহৎ কবিদের পথে হেঁটে অর্জিত যে গভীর শান্তি ও প্রশান্তি সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সুরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, আঘাত ও ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে অপরের জন্য শুভকামনা করেন। তিনি অন্যের ভাঙা ঘর বেঁধে দেন, নিজের কষ্ট ভুলে অপরের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। এই আত্মত্যাগ ও পরার্থপরতার মাধ্যমেই কবি এক সার্বজনীন শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই, বিদ্বেষ নেই—কেবলই শান্তি ও ভালোবাসা বিদ্যমান। তাই ‘এই শান্তি আমার-তোমার’ অংশটি ‘প্রতিদান’ কবিতার ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিধ্বনিত করে।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, "শোনো তার মৃত্যুহীন গান মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।" এই লাইনটি মানবতাবাদের এক চরম অভিব্যক্তি। ‘প্রতিদান’ কবিতাও মানবতাবাদের জয়গান করে। কবি বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরের যে শুভ ও কল্যাণকর সত্তা, তা-ই আসল সত্য। বাহ্যিক আঘাত, ঘৃণা বা অকল্যাণ দিয়ে সেই সত্যকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ভালোবাসা ও ক্ষমার মাধ্যমে সেই মানবীয় সত্যকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কবি শত্রুকেও বন্ধু ভেবে তার জন্য মঙ্গল কামনা করেন, কারণ তিনি জানেন মানুষের ভেতরের সত্য চিরন্তন ও অক্ষয়। তাই, ‘মানুষ সকল সত্য’ উক্তিটি ‘প্রতিদান’ কবিতার মানবিক মূল্যবোধ ও চিরন্তন সত্যের ধারণাকেই প্রকাশ করে।

উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘এই শান্তি তোমার আমার' ও ‘মানুষ সকল সত্য' অংশই ‘প্রতিদান' কবিতার মূল বক্তব্য হিসেবে অত্যন্ত যথার্থ। এই দুটি উক্তি ‘প্রতিদান’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু—মানবতার জয়, নিঃশর্ত ভালোবাসা, ক্ষমা এবং সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার গভীর অর্থকে চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
580
উত্তরঃ

অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস

Tahmid Hashem
Tahmid Hashem
2 years ago
উত্তরঃ

কবি নিজেকে মহাকাল ধূমকেতু বা স্রষ্টার শনি হিসেবে কল্পনা করে পৃথিবীতে মহাবিপ্লব ঘটাতে এসেছেন। সমাজের অন্যায়, অবিচার, পাপাচার এবং জীর্ণতা দেখে তার মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে, যা তাকে প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে এক অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল রূপে প্রকাশ করেছে।

কবি এখানে ব্যক্তিগত উচ্ছৃঙ্খলতার কথা বলছেন না, বরং তিনি সৃষ্টিজগতের সকল পাপ ও দুঃখের প্রতিচ্ছবি হয়ে এক শুদ্ধিকরণের উদ্দেশ্যে বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তার এই অনিয়ম বস্তুত নতুন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথ, যা পুরাতন ও কলুষিত ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন করে গড়তে চায়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
299
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews