জন্মভূমি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥
জানি নে তোর ধন রতন আছে কি না রানির মতন,
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে ॥
কোন্ বনেতে জানি নে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে ॥
আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতে নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ॥
Related Question
View Allজন্মভূমির স্নেহচ্ছায়ায় কবির অঙ্গ জুড়ায়।
কবির শেষ ইচ্ছা হলো, তিনি জন্মভূমির মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।
এ দেশে জন্মগ্রহণ করে এবং জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই কবি তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। এ দেশের মাটিতে জন্ম নিয়ে, এর সূর্যালোকে চোখ জুড়িয়ে এবং মাতৃভূমির স্নেহচ্ছায়ায় কবি সুখ ও শান্তি লাভ করেছেন। জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবির শেষ ইচ্ছা, এ দেশের মাটিতেই তিনি যেন চিরনিদ্রায় শায়িত হতে পারেন।
জন্মভূমিকে শ্রেষ্ঠ মনে করার দিক দিয়ে উদ্দীপকটি 'জন্মভূমি' কবিতার সাথে মিল লক্ষ করা যায়।
প্রকৃতিগতভাবেই মানুষের জন্মভূমির প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হয়। জন্মভূমির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠার কারণে আরও আপন মনে হয় এবং জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাকে সব দেশের চেয়ে সেরা মনে হয়।
'জন্মভূমি' কবিতায় কবি এদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে জীবনকে সার্থক মনে করেছেন। জন্মভূমির সবকিছু কবিকে মুগ্ধ করে। তাই তিনি এদেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চান। উদ্দীপকে কবি স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের দেশকে সব দেশের মধ্যে সেরা মনে করেছেন। কবির কাছে তার জন্মভূমিকে অন্য সব দেশের রানি মনে হয়েছে। ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে 'জন্মভূমি' কবিতার কবি ও উদ্দীপকের কবির মধ্যে মাতৃভূমিকে শ্রেষ্ঠ মনে করার দিক থেকে মিল রয়েছে।
উদ্দীপক ও 'জন্মভূমি' কবিতায় জন্মভূমিকে রানি সম্বোধন করার পেছনে যৌক্তিকতা রয়েছে। কারণ রানি যেমন নানা ধনসম্পদে ও সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ থাকে তেমনি আমাদের দেশও শস্য-শ্যামল ও সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ।
আমাদের এ দেশ নানা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদে পরিপূর্ণ। বাংলা প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যের জন্য এ দেশ পৃথিবীর সকল দেশের সেরা।
উদ্দীপকের প্রথমে পৃথিবীর বন্দনা করা হয়েছে। এই পৃথিবীর সকল দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। এদেশের মতো আর কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে কবি মনে করেন। 'জন্মভূমি' কবিতায়ও কবি এদেশে জন্মগ্রহণ করাতে জীবন সার্থক মনে করেছেন। জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যে কবি মুগ্ধ। কবি জন্মভূমির স্নেহচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠাকেই বড় বলে মনে করেন।
আমাদের দেশে রয়েছে সৌন্দর্য ও শস্য-শ্যামলের প্রাচুর্য যা রানির সাথে সাদৃশ্য তৈরি করে। তাই উদ্দীপক ও কবিতায় জন্মভূমিকে রানি বলা যৌক্তিক হয়েছে।
জন্মভূমির আলোয় কবির চোখ জুড়িয়েছে।
মাতৃভূমির শীতলতায় কবির হৃদয় জুড়ায়। এ বিষয়টিই আলোচ্য অংশে কবি প্রকাশ করেছেন।
মাতৃভূমি গভীর মমতায় কবিকে আগলে রেখেছে। স্বদেশের স্নেহচ্ছায়া কবির প্রাণকে শীতল করে। পরম এক শান্তি প্রবাহিত হয় কবির মনে-প্রাণে। প্রশ্নোক্ত চরণে এই ভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!