জন্মভূমি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।
সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে॥
জানি নে তোর ধন রতন আছে কি না রানির মতন,
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে ॥
কোন্ বনেতে জানি নে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল,
কোন্ গগনে ওঠে রে চাঁদ এমন হাসি হেসে ॥
আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতে নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে ॥
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না'কো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি।'
সার্থক - সফল।
জনম - জন্ম শব্দটির 'ন্ম' যুক্তাক্ষর ভেঙে 'ন'ও 'ম' আলাদা করা হয়েছে । এর আরও দৃষ্টান্ত আছে। যেমন, 'রত্ন' থেকে রতন, 'যত্ন' থেকে যতন।
আকুল - উৎসুক। ব্যগ্র। অধীর।
মুদব - বুজব। বন্ধ করব।
এই গীতবাণীতে জন্মভূমির প্রতি কবির মমত্ববোধ ও গভীর দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই কবি তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। কবির জন্মভূমি অজস্র ধনরত্নের আকর কি না, তাতে তাঁর কিছু আসে যায় না। কারণ, তিনি এই মাতৃভূমির স্নেহছায়ায় যে সুখ ও শান্তি লাভ করেছেন তা অতুলনীয়। জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে কবি মুগ্ধ। জন্মভূমির বিচিত্র সৌন্দর্যের অফুরন্ত উৎস হচ্ছে বাগানের ফুল, চাঁদের জ্যোৎস্না, সূর্যের আলো। এসব কবির মনকে আকুল করে।
মাতৃভূমির সূর্যালোকে কবির চোখ পরিপূর্ণভাবে জুড়িয়েছে। তাই কবির একান্ত ইচ্ছা জন্মভূমির মাটিতেই যেন তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার সুযোগ পান।
এশীয়দের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম নোবেল-বিজয়ী কবি। 'গীতাঞ্জলি' নামের ইংরেজি কবিতার সংকলনের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। কেবল কবিতা নয়, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, গান- বাংলা সাহিত্যের সকল শাখাই তাঁর একক অবদানে ঐশ্বর্যমণ্ডিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর হয় নি। সতের বছর বয়সে বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়েছিলেন। সে পড়াও শেষ না হতেই দেশে ফিরে আসেন তিনি। কিন্তু স্বশিক্ষা ও সাধনায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এনে দেন অতুলনীয় সমৃদ্ধি। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, সুরকার, গীতিকার, নাট্যকার, নাট্য-নির্দেশক, অভিনেতা এবং চিত্রশিল্পী। বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তিনি শিক্ষায় নতুন ধারা সৃষ্টি করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে- 'সোনার তরী', 'গীতাঞ্জলি', 'বলাকা' ইত্যাদি কাব্য; 'ঘরে বাইরে', 'গোরা', 'যোগাযোগ', 'শেষের কবিতা' ইত্যাদি উপন্যাস; গল্পসংকলন 'গল্পগুচ্ছ'; 'বিসর্জন', 'রাজা', 'ডাকঘর', 'রক্তকরবী' ইত্যাদি নাটক। তিনি ছোটদের জন্য লিখেছেন 'শিশু ভোলানাথ', 'খাপছাড়া' ইত্যাদি। তাঁর রচিত 'আমার সোনার বাংলা' গানটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই আগস্ট (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের বাইশে শ্রাবণ) কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১. দেশপ্রেমমূলক ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ রচনা করে একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি কর (শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর কাজ)।
২. বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের দেশপ্রেমমূলক ছড়া, কবিতা, গল্প ও গান নির্বাচন করে একটি দেয়াল পত্রিকা তৈরি কর (শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর কাজ)।
Read more