গাজায় শান্তি চুক্তি বিষয়ে জাতিসংঘের কী ধরনের ভূমিকা ছিল?

Updated: 1 week ago
উত্তরঃ

গাজায় শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি স্থাপনে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল মূলত কূটনৈতিক প্রস্তাব অনুমোদন ও মানবিক সহায়তা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভেটো জটিলতা ও ভূরাজনৈতিক কারণে এর কার্যকারিতা প্রায়শই সীমিত হলেও, নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে সংস্থাটি যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী শান্তি ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালায়।

গাজা শান্তি প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের ভূমিকাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা ও সমর্থন: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) সংকট শুরুর পর থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাশ করে গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি এবং নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের যৌথ নেতৃত্বে হওয়া শান্তি পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তিগুলোকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতি অনুযায়ী তা মেনে চলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।

২. সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি ও অবস্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ প্রদানের পক্ষে অত্যন্ত জোরালো অবস্থান নিয়েছে। গত ৯ মে সাধারণ পরিষদে বিপুল ভোটে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ হয়, যেখানে নিরাপত্তা পরিষদকে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এই রাজনৈতিক, আইনি ও প্রতীকী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের অনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার ভিত্তি মজবুত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৩. মানবিক সহায়তা ও সংকট মোকাবিলা: যেকোনো শান্তি চুক্তির মূল ও অপরিহার্য শর্ত হিসেবে গাজায় বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক মহলে সবসময় সামনে নিয়ে এসেছে। গাজায় চলমান নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও জাতিসংঘের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা (যেমন- ইউএনআরডবি- উএ এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডবি- উএফপি) গাজার অবরুদ্ধ মানুষের মাঝে খাদ্য, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রেখেছে।

৪. যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের সম্ভাব্য ভূমিকা: চলমান সংকট নিরসনে যেসব শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির বাস্তবসম্মত রূপরেখা ও খসড়া প্রণীত হয়েছে (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা পরিকল্পনা), সেখানে মাঠপর্যায়ে শান্তি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলোর রূপরেখা অনুযায়ী, জাতিসংঘের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল বা মিশনের মাধ্যমে গাজায় সংঘাত-পরবর্তী নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন রোধ ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে।

৫. শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন: গাজা সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা গাজা শান্তি পরিকল্পনা এবং ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন দেয়। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধ করে টেকসই শান্তি ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াটি একটি দৃঢ় বৈশ্বিক আইনি ভিত্তি লাভ করে।

৬. সংস্থা ও বাহিনী গঠন: অনুমোদিত শান্তি পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগ ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার আওতায় গাজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী (ওঝখ ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঝঃধনরষরধঃরড়হ ঋড়ৎপব) এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য 'বোর্ড অফ পিস' নামক একটি শক্তিশালী অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 days ago
11

Related Question

View All
উত্তরঃ

NATO (North Atlantic Treaty Organization) তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলির সম্মিলিত সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধ, এর প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জোটটি বর্তমানে নতুন ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ, অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানোর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ন্যাটোর বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ:

        
  • সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যয় বিভাজন: অনেক সদস্য দেশ ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা (জিডিপি-এর ২%) পূরণে ব্যর্থ। এটি জোটের সংহতি ও সক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে।
  •     
  • রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন: ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার (আর্টিকেল ৫) প্রতিশ্রুতির উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
  •     
  • চীনের উত্থান: চীনকে ন্যাটোর কৌশলগত হুমকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, হাইব্রিড যুদ্ধ এবং চীনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ন্যাটোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
  •     
  • অভ্যন্তরীণ বিভাজন: তুরস্কের মতো সদস্য দেশের ভিন্ন নীতি, যেমন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে প্রাথমিক আপত্তি, ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে চ্যালেঞ্জ করে।
  •     
  • নতুন হুমকি: জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ, সাইবার আক্রমণ এবং মহাকাশ নিরাপত্তা এখন ন্যাটোর বিবেচনাধীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ন্যাটোর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা:

        
  • পুনরুজ্জীবিত সম্মিলিত প্রতিরক্ষা: ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোর মূল লক্ষ্য, সম্মিলিত প্রতিরক্ষা, পুনরুজ্জীবিত করেছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের মতো নিরপেক্ষ দেশগুলোর সদস্যপদ লাভের আগ্রহ জোটের সম্প্রসারণ ও শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
  •     
  • প্রযুক্তিগত অভিযোজন: ন্যাটো সাইবার প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
  •     
  • বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব: ন্যাটো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
  •     
  • স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজন ক্ষমতা: স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে ন্যাটো তার কৌশলগত ধারণা একাধিকবার পরিবর্তন করে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা এর ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক।

উপসংহার:

একটি আন্তর্জাতিক জোট হিসেবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ একাধিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার সংমিশ্রণ। রাশিয়ার আগ্রাসন এর মূল উদ্দেশ্যকে পুনরায় কেন্দ্রবিন্দুতে এনেছে এবং এর সংহতিকে শক্তিশালী করেছে। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা, নতুন ভূ-রাজনৈতিক হুমকি মোকাবিলা করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বিভাজন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা এর দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। ন্যাটো যদি এই চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারে এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সাথে মানিয়ে নিতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় একটি অপরিহার্য শক্তি হিসেবে টিকে থাকবে এবং এর প্রাসঙ্গিকতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
10
উত্তরঃ পঞ্চম শিল্প বিপ্লব হলো মানবীয় বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি টেকসই, মানব-কেন্দ্রিক এবং পরিবেশ-বান্ধব ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রক্রিয়া।

পঞ্চম শিল্প বিপ্লব (Fifth Industrial Revolution - 5IR) চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) প্রযুক্তিগত ভিত্তি, যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), বিগ ডেটা, রোবোটিক্স এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও এর মূল দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। যেখানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মূলত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং স্বয়ংক্রিয়তার ওপর জোর দিয়েছিল, সেখানে পঞ্চম শিল্প বিপ্লব মানবীয় বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির মধ্যে এক গভীরতর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে আরও মানবিক, টেকসই এবং মানবকল্যাণমুখী করে তোলা।

পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

        
  • মানব-এআই সহযোগিতা: এই বিপ্লবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবীয় ক্ষমতাকে প্রতিস্থাপন না করে বরং এটিকে বর্ধিত করতে কাজ করে। মানব ও রোবটের মধ্যে নির্বিঘ্ন সহযোগিতা (Human-Robot Collaboration - HRC) উৎপাদনশীলতা, সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনকে নতুন স্তরে উন্নীত করে।
  •     
  • টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিস্থাপকতা: পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এটি জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশ দূষণের মতো বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের জন্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করার দিকে মনোনিবেশ করে।
  •     
  • মানব-কেন্দ্রিকতা: প্রযুক্তির নকশা এবং প্রয়োগে মানুষের চাহিদা, সুস্থতা এবং নৈতিকতা কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নিশ্চিত করে যে প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
  •     
  • ব্যক্তিগতকরণ: ডেটা ও এআই ব্যবহার করে পণ্য, পরিষেবা এবং অভিজ্ঞতাকে আরও ব্যক্তিগতকৃত এবং উপযোগী করে তোলা হয়, যা প্রতিটি ব্যক্তির স্বতন্ত্র চাহিদা পূরণ করে।
  •     
  • নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা: এআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড, ডেটা গোপনীয়তা এবং অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়, যাতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা যায়।

সংক্ষেপে, পঞ্চম শিল্প বিপ্লব কেবল প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, বরং এটি মানবতা এবং প্রযুক্তির সহাবস্থানের একটি দর্শন, যা একটি আরও ন্যায়সঙ্গত, টেকসই এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
7
উত্তরঃ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনীতির অধ্যয়নে 'আন্তর্জাতিক সম্পদ' এবং 'আন্তর্জাতিক রাজনীতি' দুটি অত্যন্ত মৌলিক ও বহুল আলোচিত প্রত্যয়। আপাতদৃষ্টিতে এদের একটির সাথে অপরটির গভীর যোগসূত্র থাকলেও তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক থেকে এদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচের সারণিতে আলোচনা করা হলো:

পার্থক্যের বিষয়আন্তর্জাতিক সম্পদআন্তর্জাতিক রাজনীতি
১. মূল সংজ্ঞাএটি বলতে পৃথিবীর এমন সব প্রাকৃতিক বা বস্তুগত উপাদানকে বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের সীমানায় নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির যৌথ মালিকানাধীন।এটি হলো সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ক্ষমতা, কূটনীতি, জাতীয় স্বার্থ, দ্বন্দ্ব, সহযোগিতা ও চুক্তি পরিচালনার সামগ্রিক প্রক্রিয়া।
২. প্রকৃতির ধরনএটি একটি ভৌগোলিক বা ভৌত উপাদান।এটি একটি প্রক্রিয়া বা মনস্তাত্ত্বিক ব্যবস্থা
৩. মূল লক্ষ্যএই সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও বণ্টন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ উদ্ধার এবং বিশ্বমঞ্চে ক্ষমতা ও প্রভাব সুসংহত করা।
৪. পারস্পরিক সম্পর্কআন্তর্জাতিক সম্পদগুলো কীভাবে ভাগ বা রক্ষা করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রয়োজন হয়।আন্তর্জাতিক সম্পদ ও তার আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বন্দ্বের প্রধান কারণ হয়ে নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় দাঁড়ায় (যেমন: আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ নিয়ে রাজনীতি)।
৫. উদাহরণঅ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ, গভীর সমুদ্রের তলদেশ, বায়ুমণ্ডল, ওজোন স্তর এবং মহাকাশ।পরাশক্তিদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ন্যাটোর সম্প্রসারণ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বা জাতিসংঘের সম্মেলনসমূহ।
Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 days ago
6
উত্তরঃ

উন্নয়নশীল দেশ বলতে সাধারণত সেইসব দেশগুলোকে বোঝায়, যাদের অর্থনীতি এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি এবং জীবনযাত্রার মান তুলনামূলকভাবে কম। এই দেশগুলো উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।

উন্নয়নশীল দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

  • নিম্ন মাথাপিছু আয়: এই দেশগুলোর জনগণের মাথাপিছু আয় সাধারণত উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম থাকে।
  • কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি: অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল থাকে, যেখানে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান তুলনামূলকভাবে কম।
  • উচ্চ দারিদ্র্য ও বেকারত্ব: ব্যাপক দারিদ্র্য এবং উচ্চ বেকারত্বের হার এই দেশগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
  • পুঁজি ও প্রযুক্তির অভাব: বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব এবং আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার উন্নয়নের অন্যতম বাধা।
  • নিম্ন জীবনযাত্রার মান: শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্ন হয়।
  • জনসংখ্যা বৃদ্ধি: সাধারণত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি থাকে, যা সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
  • আয় বৈষম্য: ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে আয়ের ব্যাপক বৈষম্য দেখা যায়।
  • দুর্বল অবকাঠামো: সড়ক, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় দুর্বল হয়।
  • বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীলতা: উন্নয়নের জন্য প্রায়শই বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো একটি দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং উন্নয়নের স্তর নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
6
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews