'বুনিয়াদ' শব্দের অর্থ ভিত্তি।
'একই রবি শশী মোদের সাথি'- কবির এ বক্তব্যের কারণ পৃথিবীর সব প্রাণীই একই চাঁদ ও একই সূর্যের আলো গ্রহণ করে।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আলোর প্রয়োজন। আর বাঁচার প্রয়োজনে আমরা একই চাঁদ-সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করি। বিশেষ ব্যক্তি বা বিশেষ জাতির জন্য পৃথিবীতে আলোর বিশেষ কোনো উৎস নেই। পৃথিবীর সব মানুষই একই রবি-শশী থেকে আলো পায়।
সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'মানুষ জাতি' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
পৃথিবীতে মানুষ বুদ্ধিবৃত্তি ও নিজ বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ। পৃথিবীতে মানুষ শ্রেষ্ঠ জাতি হওয়ার পরও মানুষের মাঝে রয়েছে নানা ধরনের শ্রেণিবৈষম্য, যা কখনো মানবসভ্যতার কাম্য নয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মানুষকে বড় করে দেখে সাম্যের কথা বলা হয়েছে। দেশ-কাল-পাত্র, ধর্মজাতির ঊর্ধ্বে রয়েছে মানুষ জাতি। এ জন্যই কবি সব ভেদাভেদ ভুলে উদ্দীপকের কবিতাংশে সাম্যের গান গেয়েছেন। 'মানুষ জাতি' কবিতায়ও কবির চেতনায় এমন মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। কবি সাম্যের কথা বলতে গিয়ে একই পৃথিবীতে মানুষের বেড়ে ওঠা, বাস করা এবং বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন। কবিতায় কবির সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে মানুষের আসল পরিচয় সে মানুষ এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই এ কথা ফুটে উঠেছে। কবিমনের এই চেতনার সঙ্গেই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকটি 'মানুষ জাতি' কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করেনি।"- উক্তিটি যথার্থ।
পৃথিবীতে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে তা কৃত্রিম। দেশে দেশে ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য মানুষই সৃষ্টি করেছে। তবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে 'মানুষ' পরিচয়ই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির সাম্যবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। পৃথিবীর কোনোকিছুই মানুষের চেয়ে মহীয়ান নয়। কারণ পৃথিবীতে মানুষই সবচেয়ে বড়। তাই কবি দেশ, কাল, ধর্ম, গোত্র, বর্ণ ইত্যাদি ভুলে মানুষের জয়গান গেয়েছেন। 'মানুষ জাতি' কবিতায়ও কবি বলতে চেয়েছেন সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। মানুষে মানুষে চেহারায় অমিল থাকলেও অনুভূতির দিকে থেকে সব মানুষই এক। তাই সব ভেদাভেদ ভুলে কবি সাম্যের গান গেয়েছেন।
'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ-গোত্র ইত্যাদির ঊর্ধ্বে মানুষ পরিচয়কেই বড় করে দেখেছেন। নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন পৃথিবীর সব মানুষ এক। তাদের মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। আর উদ্দীপকে শুধু মানুষের মাঝে বিরাজমান কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে সাম্যের জয়গান গাওয়া হয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!