গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।

উত্তরঃ

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।

উত্তরঃ

রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।

উত্তরঃ

পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।

উত্তরঃ

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা এবং মাল পাহাড়ি প্রধান নৃগোষ্ঠী। তারা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী এবং পাবনা অঞ্চলে বসবাস করে। এরা কৃষিকাজ, পশুপালন-এবং মৎস্যশিকার পেশায় নিয়োজিত। এদের জীবনধারায় গ্রামীণ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব রয়েছে।

উত্তরঃ

চাকমারা মূলত বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে। এছাড়াও ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশেও চাকমাদের দেখা যায়। তারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

চাকমা সমাজে পরিবার হলো মূল অংশ। কয়েকটি পরিবার নিয়ে 'আদাম' বা 'পাড়া' গঠিত হয়, যার প্রধান কার্বারি। কয়েকটি পাড়া নিয়ে মৌজা হয়, যার প্রধান হেডম্যান। মৌজাগুলো মিলে চাকমা সার্কেল তৈরি করে, যার নেতৃত্বে থাকেন বংশানুক্রমিক চাকমা রাজা।

উত্তরঃ

চাকমাদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকাজ। তারা 'জুম' পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে, যেখানে জমি ঘুরিয়ে চাষ করা হয়। আধুনিককালে তারা হালচাষ ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিতেও যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা জীবিকার আরও উন্নত পথ গ্রহণ করছে।

উত্তরঃ

চাকমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের অধিকাংশ গ্রামে কিয়াং বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। বৈশাখী পূর্ণিমা তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির স্মরণে উদ্যাপিত হয়। এছাড়া মাঘী পূর্ণিমায় তারা ফানুস উড়িয়ে বুদ্ধের সম্মান করে।

উত্তরঃ

চাকমারা নিজেদের তৈরি পোশাক পরিধান করে, যেমন পিনোন ও হাদি। তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে ঝুড়ি, পাখা এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে। বিজু তাদের প্রধান উৎসব, যা বাংলা নববর্ষে পালন করা হয়। এই উৎসব তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণ।

উত্তরঃ

চাকমা নারীদের তৈরি পোশাকের মধ্যে 'ফুলগাদি' এবং বিভিন্ন ধরনের ওড়না বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এগুলো তাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের পরিচায়ক। দেশি-বিদেশি অনেকেই এই পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট।

উত্তরঃ

চাকমাদের প্রধান খাদ্য হলো ভাত। তারা বাঁশ কোড়ল দিয়ে বিভিন্ন রকম পদ রান্না করে এবং মাছ, মাংস ও শাকসবজি খেতে ভালোবাসে। তাদের খাবারে গ্রামীণ স্বাদ

উত্তরঃ

বিজু উৎসব বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে পালিত হয়। চাকমারা এদিন পিঠা তৈরি, নাচ-গান এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব উদ্যাপন করে। এটি তাদের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব।

উত্তরঃ

গারোরা প্রধানত ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরে বাস করে। এছাড়াও সিলেট জেলায় কিছু গারো রয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে তারা ভারতের মেঘালয়সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাস করে।

উত্তরঃ

গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারের প্রধান মাতা এবং সন্তানেরা মায়ের উপাধি গ্রহণ করে। পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকার পায় সর্বকনিষ্ঠ কন্যা। পিতা বা মায়ের ভাই সংসার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উত্তরঃ

গারো সমাজে মাতা পরিবারের প্রধান। সন্তানেরা মায়ের উপাধি গ্রহণ করে এবং সর্বকনিষ্ঠ কন্যা পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে।

উত্তরঃ

মাহারি বা মাতৃগোত্র গারোদের সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তির ভোগদখলে মাহারির ভূমিকা অপরিসীম। একই মাহারির মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ, বর ও কনেকে ভিন্ন মাহারির হতে হয়।

উত্তরঃ

গারোদের অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কৃষিকাজ। পূর্বে তারা জুম চাষ করলেও বর্তমানে ধান, শাকসবজি ও আনারস উৎপাদনে অভ্যস্ত। সমতলের কৃষিকাজে তারা হাল চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে।

উত্তরঃ

গারোদের আদি ধর্ম 'সাংসারেক', যেখানে তারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত। তাদের প্রধান দেবতার নাম 'তাতারা রাবুগা'। এছাড়াও গারোরা সালজং ও সুসিমে দেবতার পূজা করত। নাচ-গান ও পশু বলিদানের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত।

উত্তরঃ

গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো 'দকমান্দা' ও 'দকশাড়ি' এবং পুরুষদের পোশাক 'গান্দো'। তারা নিজেদের তাঁতে এসব পোশাক তৈরি করে। পোশাকগুলো তাদের ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার পরিচায়ক। এই পোশাকগুলোর মাধ্যমে গারোরা তাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে রঙিন করে তোলে।

উত্তরঃ

গারোরা ভাতের সাথে মাছ, শাকসবজি এবং কচি বাঁশের গুঁড়ি 'মেওয়া' খেয়ে থাকে। তাদের খাদ্য তালিকায় কলাপাতায় মোড়ানো পিঠা, মেরা পিঠা এবং তেলের পিঠার বিশেষ জায়গা রয়েছে। গারোদের এই খাদ্যাভ্যাস তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ।

উত্তরঃ

গারোদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসব হলো 'ওয়ানগালা'। এটি একটি কৃষিকেন্দ্রিক উৎসব, যেখানে তারা নাচ-গান ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে মেতে ওঠে। এই উৎসব তাদের সামাজিক ঐক্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে।

উত্তরঃ

গারোদের ভাষা 'আচিক', যা তিব্বতীয়-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। যদিও এ ভাষার কোনো নিজস্ব বর্ণমালা নেই। গারো ভাষা তাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

উত্তরঃ

'ওয়ানগালা' গারোদের সবচেয়ে বড় সামাজিক ও কৃষি উৎসব। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে জোরদার করে। এটি তাদের আনন্দ-উৎসব এবং সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

উত্তরঃ

সাঁওতালরা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় বাস করে। ধারণা করা হয়, তাদের পূর্বপুরুষরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে এদেশে এসেছিল। পার্শ্ববর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডেও সাঁওতালদের বসবাস রয়েছে। তারা অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীভুক্ত।

উত্তরঃ

সাঁওতাল সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং গ্রাম-পঞ্চায়েত এর মূল ভিত্তি। পঞ্চায়েতে সাধারণত পাঁচজন সদস্য থাকেন: মাঞ্জহি হারাম, জগমাঞ্জহি, জগপরানিক, ঈদ্গাডেৎ ও নায়কি। নায়কি পঞ্চায়েত সদস্য না হলেও ধর্মগুরু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিতার সূত্র ধরে সন্তানের দল ও গোত্র নির্ধারিত হয়।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষি, যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়ই কাজ করে। তারা ধান, সরিষা, তামাক, মরিচ ও ইক্ষুর চাষ 'করে। তাছাড়া বাঁশ, বেত ও শালপাতা দিয়ে মাদুর, ঝাড়ু প্রভৃতি তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মেটায় এবং হাটে বিক্রি করে। কৃষিশ্রমিক হিসেবেও তারা কাজ করে।

উত্তরঃ

সাঁওতালরা মূলত প্রকৃতি পূজারি। তারা বিভিন্ন প্রকৃতি দেবতার পূজা করে। তবে তাদের একটি অংশ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে এবং খ্রিস্টীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। তাদের ধর্মীয় জীবনে প্রকৃতির প্রতি গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধা বিদ্যমান।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের সাংস্কৃতিক জীবনে 'সোহরাই' ও 'বাহা' উৎসব উল্লেখযোগ্য। তাদের ঐতিহ্যবাহী 'ঝুমুর নাচ' ও বিবাহ অনুষ্ঠানে 'দোন' ও 'ঝিকা' নাচের প্রচলন রয়েছে। তারা সাধারণত মাটির ঘরে বাস করে এবং ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। সাঁওতালরা শাড়ি, ধৃতি ও অলঙ্কার ব্যবহার করে এবং তাদের সংস্কৃতিতে নৃত্য ও গীত বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

উত্তরঃ

সাঁওতাল মেয়েরা সাধারণত শাড়ি পরে এবং গলায় ও হাতে পিতলের বা কাঁসার অলংকার ব্যবহার করে। পুরুষরাও ধুতি পরে এবং ইদানীং লুঙ্গি পরিধান শুরু করেছে। অনেক পুরুষ গলায় মালা ও হাতে বালা পরে। অলংকারপ্রিয় সাঁওতালদের পোশাক তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের মধ্যে শিক্ষিতের হার কম হলেও বর্তমানে তাদের পরিবারগুলো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা তাদের সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে সচেষ্ট। শিক্ষার প্রতি এই নতুন আগ্রহ সাঁওতাল সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

উত্তরঃ

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন সংঘটিত সাঁওতাল বিদ্রোহ ছিল ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক বিদ্রোহ। এর নায়ক ছিলেন দুই ভাই সিধু ও কানু। সাঁওতালরা তাদের বীর হিসেবে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করে।

উত্তরঃ

মারমা নৃগোষ্ঠীর অধিকাংশ বাসিন্দা বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে। 'মারমা' শব্দটি 'ম্রাইমা' থেকে এসেছে, যা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী নামের পরিবর্তিত রূপ। মারমারা পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অন্যতম ধারক।

উত্তরঃ

মারমা সমাজে প্রত্যেক গ্রামকে 'রোয়া' এবং গ্রামের প্রধানকে 'বোয়াজা' বলা হয়। গ্রামবাসী নিজেরা একজন প্রধান নির্বাচন করেন, যিনি গ্রামের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রত্যেক মৌজায় অনেক গ্রাম থাকে, যা একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

উত্তরঃ

মারমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হলেও নারীদের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পারিবারিক কাজে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের মতামত সম্মানিত হয়। এটি তাদের সমাজে নারীদের অবস্থানকে তুলে ধরে.।

উত্তরঃ

মারমাদের প্রধান জীবিকা কৃষি, যেখানে তারা 'জুম' পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে। এই পদ্ধতিতে পাহাড়ি জমিতে ফসল ফলানো হয়, যা তাদের খাদ্য ও জীবিকার প্রধান উৎস। বর্তমানে তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সবজি ও অন্যান্য ফসলও উৎপাদন করে।

উত্তরঃ

মারমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাঁরা বৈশাখী পূর্ণিমা, আশ্বিনী পূর্ণিমা ও মাঘী পূর্ণিমা উদ্যাপন করেন। তাঁদের গ্রামে বৌদ্ধবিহার এবং ভান্তেরা উপস্থিত থাকেন। চিৎমরম বৌদ্ধবিহার তাঁদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান।

উত্তরঃ

মারমাদের ঘরবাড়ি বাঁশ, কাঠ ও ছনের তৈরি এবং খুঁটির ওপর মাটি থেকে ৬-৭ ফুট উঁচুতে নির্মিত। এ ধরনের ঘর পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানানসই। তাঁদের ঘরবাড়ি নির্মাণে পরিবেশরান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়।

উত্তরঃ

মারমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, যা তাঁরা মাছ, মাংস এবং নানা ধরনের শাকসবজির সাথে খায়। তাঁরা স্থানীয় উপকরণ দিয়ে রান্না করা খাবার পছন্দ করে, যা তাঁদের সংস্কৃতির অংশ।

উত্তরঃ

সাংগ্রাই উৎসব মারমাদের পুরাতন বর্ষ বিদায় ও নববর্ষ বরণের অন্যতম প্রধান উৎসব। তাঁরা পানিখেলার মাধ্যমে এই উৎসব উদ্যাপন করে। এপ্রিল 'মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ উৎসব অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়।

উত্তরঃ

রাখাইনরা বাংলাদেশের পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় বসবাস করে। এরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের মুখমণ্ডল গোলাকার, চুল সোজা এবং দেহের রং ফরসা। 'রাখাইন' শব্দটি পালি ভাষার 'রাক্ষাইন' থেকে এসেছে, যার অর্থ রক্ষণশীল জাতি।

উত্তরঃ

রাখাইন পরিবার পিতৃতান্ত্রিক হলেও নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব বজায় থাকে। পরিবারের প্রধান পিতা, তবে পারিবারিক কাজে মায়েরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাখাইন গ্রামে 'রোয়া' নামে পরিচিত বসতি এবং এর প্রধানকে 'বোয়াজা' বলা হয়।

উত্তরঃ

রাখাইনদের অর্থনীতি প্রধানত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাঁরা ধান চাষসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে। এছাড়া তাঁরা হস্তচালিত তাঁত ব্যবহার করে কাপড় বোনার কাজেও দক্ষ।

উত্তরঃ

রাখাইনরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং ধর্মীয় শিষ্টাচার মেনে চলে। রাখাইন শিশু-কিশোরদের বৌদ্ধ মন্দিরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের হাতে ধর্মীয় শিষ্টাচারে দীক্ষিত করা হয়।

উত্তরঃ

রায়াইনদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে বৈশাখী পূর্ণিমা, বসন্ত উৎসব' এবং গৌতম বুদ্ধের জন্ম-বার্ষিকী উল্লেখযোগ্য। এসময় তাঁরা বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা করে এবং ধর্মীয় আচার পালন করে।

উত্তরঃ

রাখাইনদের ঘর মাচার ওপর নির্মিত হয় এবং ছাউনিতে টিন বা গোলপাতা. ব্যবহার করা হয়। পুরুষেরা লুঙ্গি ও ফতুয়া এবং নারীরা লুঙ্গি ও ব্লাউজ পরে। তাঁরা সাংগ্রাই উৎসবসহ বৈশাখী পূর্ণিমা ও বসন্ত উৎসব উদ্যাপন করে।

উত্তরঃ

রাখাইনদের ঘর মাচার ওপর তৈরি হয়, যা বন্যা বা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করে। ঘরের ছাউনি সাধারণত টিন বা গোলপাতার দিয়ে নির্মিত হয়। এই নির্মাণশৈলী পরিবেশের সাথে সহজেই খাপ খায়।

উত্তরঃ

রাখাইনদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই উৎসব, যা চৈত্র-সংক্রান্তিতে উদ্‌যাপিত হয়। এ উৎসবে তাঁরা 'জলোৎসব' আয়োজন করে এবং আনন্দ-উদ্দীপনায় মেতে ওঠে। এটি তাঁদের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত।

উত্তরঃ

রাখাইন পুরুষরা লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে এবং অনুষ্ঠানে পাগড়ি ব্যবহার করে। নারীরা লুঙ্গির সাথে ব্লাউজ পরে। পাগড়ি তাঁদের ঐতিহ্যের প্রতীক।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে বাঙালিদের সাথে বসবাস করছে, ফলে পারস্পরিক সংমিশ্রণের মাধ্যমে একটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। যেমন- নবান্ন উৎসব এবং বৈসাবি উৎসবের মিল বাঙালি ও নৃগোষ্ঠীর আন্তঃসম্পর্কের দৃষ্টান্ত।

উত্তরঃ

ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সাথে মিথস্ক্রিয়ার ফলে বাংলা ভাষা অনেক শব্দ ধারণ করেছে। যেমন, 'কুড়ি,' 'গোলমাল,' এবং 'ঠন-ঠন' প্রভৃতি শব্দ নৃগোষ্ঠীর ভান্ডার থেকে এসেছে। চাকমা ভাষার সাথে বাংলা, পালি এবং ওড়িয়া ভাষার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এভাবে ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ভাষার প্রভাব বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

উত্তরঃ

চাকমাদের বিজু উৎসব ও গারোদের ওয়ানগালা উৎসবের সাথে বাঙালির নবান্ন ও পহেলা বৈশাখের মিল রয়েছে। নতুন ধান মাড়াই যা নতুন বছর উদ্যাপনের এই রীতিগুলো পারস্পরিক সংস্কৃতির বিনিময়ের উদাহরণ। এভাবে ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর উৎসবগুলো বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলাধুলায় ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের জাতীয় মহিলা ফুটবল ও হকি দলে পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীর নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালিদের সংমিশ্রণ ও বিনিময়কেই তুলে ধরে।

উত্তরঃ

বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর উৎপাদিত শস্য ও দ্রব্য যেমন খাসিয়াদের পান, গারোদের আনারস এবং সিলেটের মণিপুরি শাড়ি সারা দেশের চাহিদা পূরণ করে। এগুলো স্থানীয় অর্থনীতি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে। নৃগোষ্ঠীর এসব পণ্য বাঙালিদের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে।

উত্তরঃ

মণিপুরি নাচ, সাঁওতালদের ঝুমুর নাচ এবং চাকমাদের বাঁশ নৃত্য প্রভৃতি বাঙালির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ধরনের নাচ পারস্পরিক মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে। বাঙালি ও নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিনিময় তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

উত্তরঃ

নৃগোষ্ঠীর প্রিয়, খাদ্য বাঁশ কোড়ল, মেওয়া এবং তাদের রান্নার পদ্ধতি বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব ফেলেছে। বাঙালিদের ভাত, মাছ, এবং কোমল পানীয়ও নৃগোষ্ঠীর জীবনে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এভাবে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাসে সংমিশ্রণ ঘটেছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং অনেকেই শহিদ হয়েছেন। এই অবদান বাঙালি ও নৃগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংমিশ্রণের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

উত্তরঃ

কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে নিয়ে গঠিত সমাজকে 'আদাম' বা 'পাড়া' বলে।

উত্তরঃ

যে পদ্ধতিতে চাকমারা পাহাড়ে চাষাবাদ করে তা-ই 'জুম'।

উত্তরঃ

চাকমাদের মৌজার প্রধানকে হেডম্যান বলে।

উত্তরঃ

মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে যে উৎসব পালন করে তাকে সাংগ্রাই উৎসব বলে।

উত্তরঃ

গারোদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসবের নাম হলো 'ওয়ানগালা'।

উত্তরঃ

মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা।

উত্তরঃ

কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে আদাম বা পাড়া গঠিত হয়।

উত্তরঃ

বৈসাবি হলো চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীদের বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব।

উত্তরঃ

চাকমাদের জনপ্রিয় উৎসবের নাম হলো 'বিজু'।

উত্তরঃ

পঞ্চায়েত হলো সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি।

উত্তরঃ

মারমা নৃগোষ্ঠীর গ্রামপ্রধানকে রোয়াজা বলে।

উত্তরঃ

বিজু হলো চাকমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব।

উত্তরঃ

গ্রাম পঞ্চায়েত হলো সাঁওতাল সমাজের মূল ভিত্তি।

উত্তরঃ

রাখাইন শব্দের অর্থ হচ্ছে রক্ষণশীল জাতি।

উত্তরঃ

চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় হচ্ছে কৃষিকাজ।

উত্তরঃ

রাখাইনদের গ্রামগুলো নদীর পাড় ও সমুদ্র উপকূলের সমতল ভূমিতে অবস্থিত।

উত্তরঃ

গারোদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের প্রধান জীবিকা হলো কৃষি।

উত্তরঃ

সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি হচ্ছে গ্রাম-পঞ্চায়েত।

উত্তরঃ

সাঁওতালরা অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীর লোক।

উত্তরঃ

গারোদের আদি বাসস্থান ছিল তিব্বতে।

উত্তরঃ

চাকমা সমাজের মূল অংশ হলো পরিবার।

উত্তরঃ

১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়।

উত্তরঃ

রাখাইনদের সবচেয়ে বড় উৎসবের নাম হলো সাংগ্রাই।

উত্তরঃ

গারোদের আদি বাসস্থান ছিল তিব্বত।

উত্তরঃ

মারমাদের প্রিয় উৎসব 'পানিখেলা'।

উত্তরঃ

সাঁওতাল সমাজ পিতৃসূত্রীয় এবং সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি হচ্ছে গ্রাম-পঞ্চায়েত।

উত্তরঃ

চাকমা সমাজে পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি।

উত্তরঃ

চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।

উত্তরঃ

মারমারা গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রধান একটি অংশ বাস করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়।

উত্তরঃ

রাখাইনরা কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বাস করে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের প্রধান নৃগোষ্ঠীর নাম চাকমা।

উত্তরঃ

চাকমারা সাধারণত বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে।

উত্তরঃ

মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।

উত্তরঃ

কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয়।

উত্তরঃ

চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

উত্তরঃ

চাকমা সমাজে মৃতদেহ দাহ করা অর্থাৎ পোড়ানো হয়।

উত্তরঃ

চাকমা মেয়েদের পরনের কাপড়ের নাম 'পিনোন' এবং 'হাদি'।

উত্তরঃ

বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে চাকমারা বিজু উৎসব পালন করে।

উত্তরঃ

গারো নৃগোষ্ঠীর আদি বাসস্থান ছিল তিব্বত।

উত্তরঃ

গারোরা সাধারণত 'মান্দি' নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে।

উত্তরঃ

গারো সমাজে সন্তানেরা মায়ের উপাধি ধারণ করে।

উত্তরঃ

গারো সমাজে পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা পরিবারের সমুদয় সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে থাকে।

উত্তরঃ

গারোদের প্রধান দেবতার নাম ছিল 'তাতারা রাবুগা'।

উত্তরঃ

গারো পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'গান্দো'।

উত্তরঃ

গারোদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উত্তরঃ

সাঁওতালরা বাংলাদেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় বাস করে।

উত্তরঃ

সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী প্রধানত দুটি ধর্মের অনুসারী। তাদের এক অংশ সনাতন হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করে এবং অপর অংশ খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের নিজস্ব উৎসবাদির মধ্যে 'সোহরাই' এবং 'বাহা' উল্লেখযোগ্য।

উত্তরঃ

সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক দুই ভাই সিধু ও কানু।

উত্তরঃ

মারমাদের চাষাবাদের প্রধান পদ্ধতিকে জুম বলা হয়।

উত্তরঃ

মারমারা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।

উত্তরঃ

'চিৎমরম বৌদ্ধবিহার' কাপ্তাইয়ের অনতিদূরে চন্দ্রঘোনার কাছে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।

উত্তরঃ

রাখাইনদের সবচেয়ে বৃহৎ ও সর্বজনীন আনন্দ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।

উত্তরঃ

'রাখাইন' শব্দটির উৎপত্তি পালি ভাষার 'রাক্ষাইন' থেকে।

উত্তরঃ

পিতাই রাখাইন পরিবারের প্রধান।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ বহুকাল থেকে বাঙালিদের সাথে একই ভূখণ্ডে বাস করে আসছে। জীবনের প্রয়োজনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা বাঙালি সংস্কৃতির অনেক উপাদান গ্রহণ করেছে। ফলে সকলের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে যা বাংলাদেশকে একটি বহু সংস্কৃতির দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে আলাদা পরিচিতি দান করেছে।

উত্তরঃ

চাকমাদের ধর্মীয় জীবন বৈচিত্র্যময়। চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের অধিকাংশ গ্রামে কিয়াং বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। তারা গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বৃদ্ধত্ব প্রাপ্তির দিনটি সাড়ম্বরে 'বৈশাখি পূর্ণিমা' হিসেবে পালন করে। মাঘী পূর্ণিমার রাতে কিয়াং বা প্যাগোডার প্রাঙ্গণে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে ফানুস উড়ায়। চাকমারা মৃতদেরকে পোড়ায়।

উত্তরঃ

চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় হচ্ছে কৃষিকাজ। তাদের কৃষি পদ্ধতিকে জুম চাষ বলা হয়। তবে চাকমারা বর্তমান সময়ে হালচাষেও অভ্যস্ত হয়েছে। এ সমাজে নারী-পুরুষ সকলেই কৃষিকাজে অংশগ্রহণ করে। কৃষিকাজ ব্যতীত তারা শিকার ও মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। চাকমা অর্থনীতির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মোরগ-মুরগি ও শুল্কর পালন।

উত্তরঃ

গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। সমাজে তারা পরিচিত হয় মায়ের গোত্র বা বংশ পরিচয়। আর এটাই 'মাহারি'। তাদের সমাজিক জীবনে বিশেষত বিয়ে, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির ভোগ-দখল ইত্যাদিতে মাহারির গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ের ক্ষেত্রে বর ও কনে একই মাহারির হতে পারবে না। তাই বলা যায়, গারোদের সমাজব্যবস্থা 'মাহারি' কে কেন্দ্রকে করে পরিচালিত হয়।

উত্তরঃ

সাঁওতালদের সমাজ ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য পঞ্চায়েত গঠন করা হয়। তাদের সমাজের মূলভিত্তি হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাধারণত পাঁচজন সদস্য থাকেন। এরা হলো মাঞ্জহি হারাম, জগমাঞ্জহি, জগপরানিক, গোডেৎ ও নায়কি। নায়কি হলো ধর্মগুরু।

উত্তরঃ

সাঁওতাল সমাজ পরিচালিত হয় গ্রাম-পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাধারণত পাঁচ জন সদস্য থাকেন। তারা হলো মাঞ্জহি হারাম, জগমাঞ্জাহি, জগপরানিক, গোডেৎ ও নায়কি। নায়কিকে তারা পঞ্চায়েত সদস্য নয়, বরং ধর্মগুরু হিসেবে গণ্য করে। তাই গ্রাম পঞ্চায়েতকে সাঁওতাল সমাজের মূলভিত্তি বলা হয়ে থাকে।

উত্তরঃ

মারমাদের সামাজিক জীবন বৈচিত্র্যময়। পার্বত্য অঞ্চলে বোমাং সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত মারমা সমাজের প্রধান হলেন বোমাং চিফ বা বোমাং রাজা। প্রত্যেক নৌজায় কতগুলো গ্রাম রয়েছে। গ্রামবাসী গ্রামের প্রধান মনোনীত করে। মারমারা গ্রামকে তাদের ভাষায় 'রোয়া' এবং গ্রামের প্রধানকে 'রোয়াজা' বলে। মারমা পরিবারে পিতার স্থান সর্বোচ্চ হলেও পারিবারিক কাজকর্মে মাতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

উত্তরঃ

মারমা অর্থনীতি মূলত কৃষিভিত্তিক। পূর্বের একচেটিয়া জুম চাষ কমে গিয়ে হালচাষ প্রচলিত হয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়ই কৃষিকাজ ও বাজার-সদাই করে। এমনকি মেয়েরাই বেশি কৃষিকাজ, গৃহস্থালি ও সন্তান প্রতিপালন করে। ধান, মসলা (আদা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ইত্যাদি), ফলমূল, সবজি প্রভৃতি উৎপাদন, মাছ ধরা, কাপড়, নকশা করা শাল, চুরুট ইত্যাদি তৈরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে।

উত্তরঃ

জল উৎসব বা 'পানিখেলা' হলো মারমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব বা খেলা। মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ করা উপলক্ষে সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন করে। এ সময় তারা 'পানিখেলা' বা জলোৎসবে মেতে ওঠে। এই উৎসবে পানিখেলার নির্দিষ্ট স্থানে নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রাখা হয়। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উৎসব বেশ আনন্দ-উদ্দীপনার সাথে উদযাপিত হয়।

উত্তরঃ

মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে। এ সময় তারা পানিখেলা বা জলোৎসবে মেতে ওঠে। এ উৎসবে পানিখেলার নির্দিস্ট স্থানে নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রাখা হয়। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে এ উৎস বেশ আনন্দ-উদ্দীপনার সাথে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।

উত্তরঃ

রাখাইন শব্দটি উৎপত্তি পালি ভাষার 'রাক্ষাইন' থেকে। এর অর্থ হচ্ছে রক্ষণশীল জাতি। যারা নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কৃষ্টিসমূহকে রক্ষা করতে সচেষ্ট। যেহেতু রাখাইনরা তাদের সংস্কৃতি রক্ষায় দৃঢ়। তাই তাদেরকে রক্ষণশীল জাতি বলা হয়।

উত্তরঃ

'রাখাইন' শব্দটির উৎপত্তি পালিভাষার 'রাক্ষাইন' থেকে। এর অর্থ হচ্ছে রক্ষণশীল জাতি; যারা নিজেদের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কৃষ্টিসমূহকে রক্ষা করতে সচেষ্ট। বর্তমান মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চল রাখাইনদের আদিবাস। রাখাইনরা এক সময় আরাকান থেকে এদেশে এসেছিল। এ কারণেই তারা নিজেদের রাক্ষাইন নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসে।

উত্তরঃ

প্রত্যেক ভিন্ন জাতিসত্তার নিজস্ব পোশাক রয়েছে। ভিন্ন জাতিসত্তার মেয়েরা এখন নিজস্ব পোশাকের পাশাপাশি বাঙালিদের মতো শাড়ি, সেলোয়ার-কামিজ পরে। পুরুষেরা নিজেদের পরিবেশে নিজস্ব স্টাইলের পোশাক পরে। তবে বাইরে গেলে লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট, পায়জামা, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ইত্যাদি পরে।

165

বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন : চাকমা, গারো, সাঁওতাল, মারমা ও রাখাইনদের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনধারা, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানব। 

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা- 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং মানচিত্রে শনাক্ত করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ব্যাখ্যা করতে পারব; 

• বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

286
উত্তরঃ

সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।

121
উত্তরঃ

বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।

142
উত্তরঃ

রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।

128
উত্তরঃ

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।

208
উত্তরঃ

পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।

137
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews